হোম / আহতদের তালিকা / সাখাওয়াত হোসেন
সাখাওয়াত হোসেন

সাখাওয়াত হোসেন

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

পেশাঃ ছাত্র

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা

সাখাওয়াত-র জন্ম ও শৈশব পরিচিতি-
অদম্য ও টগবগে এক জুলাই যোদ্ধা সাখাওয়াত হোসেন।সাখাওয়াত ০৯-এ মার্চ ২০০৬ সালে ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলাধীন মতিগঞ্জ ইউনিয়নের স্বরাজপুর নামক একটি সবুজ-শ্যামল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।গ্রামে বেড়ে ওঠা একটি ছেলের শৈশব সাধারণত সরলতা, নির্ভেজাল আনন্দ আর প্রকৃতির সান্নিধ্যে কাটে। চারপাশে সবুজ ধানক্ষেত, গাছের ছায়া আর মাটির গন্ধে ভরা সেই শৈশব অনেকটা ভিন্ন শহুরে জীবনের থেকে। সকালে পাখির ডাক শোনা, স্কুলে যাওয়ার আগে খালি পায়ে দৌড়ে পুকুর ঘাটে যাওয়া, বন্ধুদের সঙ্গে গাছের ডালে চড়া কিংবা কাদায় খেলাধুলা সবই তার শৈশবের অংশ। বিকেলে খেলার মাঠ না থাকলেও, গ্রামীণ মাটির রাস্তা, পুকুর পাড়, ধানের ক্ষেত কিংবা খোলা আকাশের নিচে খেলার আনন্দ অন্যরকম।যদিও পড়াশোনা জন্য গ্রামে বেশি সময় কাটানো হয়নি সাখাওয়াতের তবুও গ্রামের প্রতি আলাদা টান তার।
সাখাওয়াতের পরিবার একটি সুন্দর, স্নেহময় ও সুসংগঠিত পরিবার। তার বাবা মোহাম্মদ দুলাল একজন চাকুরিজীবী। সংসারের সকল দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে তিনি প্রতিদিন অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। পরিবারের আর্থিক স্থিতি নিশ্চিত করা এবং সন্তানদের ভবিষ্যৎকে উজ্জ্বল করে তোলার লক্ষ্যে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন। জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে তিনি চেষ্টা করেন পরিবারকে সচ্ছল ও স্বাবলম্বী করে তুলতে।
তার মা গোল নাহার একজন গৃহিণী। নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, ধৈর্য আর মমতার মধ্য দিয়ে তিনি সংসারকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। সন্তানদের সঠিকভাবে মানুষ করার ব্রতকে তিনি জীবনের মূল দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করেছেন। ঘরের নিয়মিত কাজের পাশাপাশি তিনি সন্তানদের পড়াশোনা, আচার-আচরণ ও চরিত্র গঠনে নিবিড়ভাবে যত্নশীল।
তিন ভাই-বোনের মধ্যে সাখাওয়াত বড়। পরিবারের জ্যেষ্ঠ সন্তান হিসেবে তিনি বাবা-মায়ের আশা-আকাঙ্ক্ষার একটি বড় অংশ বহন করছেন। তার ছোট ভাই শারাফাত হোসেন বর্তমানে নবম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। পড়াশোনার পাশাপাশি পরিবারের কাজে সে-ও সহযোগিতা করে থাকে। ছোট বোন জান্নাতুল নাইম অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। পড়াশোনার প্রতি আগ্রহী এই কিশোরী মায়ের স্নেহে বড় হয়ে উঠছে।
ভাই-বোনদের মধ্যে রয়েছে পারস্পরিক ভালোবাসা, বোঝাপড়া ও সহযোগিতার সম্পর্ক। সংসারে ছোটখাটো বিষয়গুলোতে তারা একে অপরকে সাহায্য করে, আবার একসঙ্গে আনন্দ-উল্লাসও ভাগাভাগি করে নেয়।
তাদের পরিবারটি ছোট হলেও সুন্দরভাবে সাজানো, পরিপাটি ও গোছানো। বাবা-মায়ের শ্রম, ত্যাগ ও ভালোবাসা মিলিয়ে গড়ে উঠেছে একটি সুখী সংসার। পরিবারের প্রতিটি সদস্যের কাছে সন্তানদের স্বপ্ন পূরণই মূল লক্ষ্য। এভাবেই সাখাওয়াতের পারিবারিক পরিবেশ তার বেড়ে ওঠায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে এবং তাকে দায়িত্বশীল জীবনের জন্য প্রস্তুত করছে।
সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
রক্তে লেখা এক আত্মত্যাগের গল্প-
২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের কেন্দ্রস্থলগুলোর মধ্যে শাহবাগ অন্যতম। ১৬ জুলাই থেকে শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি নিয়ে শাহবাগে সমবেত হতে শুরু করে। সেদিন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও স্কুলের হাজারো ছাত্র-ছাত্রী স্লোগান, গান ও পোস্টার হাতে শাহবাগের রাস্তাগুলো দখল করে নেয়। টিএসসি থেকে ঢাকা মেডিকেল পর্যন্ত পুরো এলাকাটি যেন এক বিশাল আন্দোলনকেন্দ্রে রূপ নেয়।
শাহবাগে দিনরাত একই চিত্র মাইকে প্রতিবাদী গান, বক্তৃতা, ব্যারিকেড বসিয়ে সড়ক অবরোধ, এবং শিক্ষার্থীদের ঐক্য। শুধু তরুণ-তরুণী নয়, সাধারণ মানুষ, দোকানি, পথচারী, এমনকি অভিভাবকরাও এসে দাঁড়াতেন। শাহবাগকে তখন অনেকে আখ্যা দিতেন আন্দোলনের হৃদয় হিসেবে।
তবে এই শান্তিপূর্ণ আন্দোলন দমন করতে বারবার পুলিশি দমন-পীড়ন চালানো হয়। টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড, রাবার বুলেট এমনকি গুলিও ব্যবহার করা হয়। আহতদের মধ্যে অনেকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি হয়। কিন্তু প্রতিবার ছত্রভঙ্গ হলেও শিক্ষার্থীরা শাহবাগে ফিরে এসে নতুন করে মিছিল গড়ে তোলে।
________________________________________
৪ই আগস্টের ঘটনা
৪ই আগস্ট আন্দোলন নতুন এক ভয়াবহ মোড় নেয়। সেদিন সকাল থেকেই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অবরোধ কর্মসূচি চলছিল। দুপুরের দিকে ঢাকার শাহবাগ ও তার আশেপাশের এলাকায় প্রচণ্ড উত্তেজনা তৈরি হয়। পুলিশ ও আওয়ামী স্বৈরাচার সমর্থক গোষ্ঠী আন্দোলনকারীদের ওপর চড়াও হয়।সেদিন আমিও ঢাকা শাহবাগ জলিল হোটেলের সামনে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা আমাকে এবং আমাদেরকে অতর্কিত গুলি করে । এমতাবস্থায় চারটা গুলি বিদ্ধ হয়ে আমি রাস্তায় পড়ে যাই। একটা গুলি আমার বুকের বাম পাশে লাগে। বাকি তিনটি পিছনের দিকে লাগে। বুকের বাম পাশেরটাও পেছন দিক দিয়ে ঢুকে বুকের বাম পাশ অর্থাৎ সামনের দিয়ে বের হয়ে যায়।
ট্রাংক রোডসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে খবর আসতে থাকে যে ছাত্রদের ওপর দেশীয় অস্ত্র, বোমা, এমনকি আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। শাহবাগে পুলিশের টিয়ারশেল ও গুলির মুখে অনেকেই আহত হয়, কয়েকজন প্রাণ হারায়। সেদিনের সহিংসতা সারাদেশকে কাঁপিয়ে তোলে।
৪ আগস্টকে অনেকে জুলাই আন্দোলনের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী দিনগুলোর একটি বলে অভিহিত করেন। কারণ, শুধু শাহবাগ নয় ফেনী, সিলেট, রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, চট্টগ্রামসহ একাধিক স্থানে একই ধরনের হামলা চালানো হয়। এতে অসংখ্য তরুণ আহত হয়ে হাসপাতালের শয্যায় যায়।
________________________________________
সারাদেশের প্রেক্ষাপট
ঢাকা কেন্দ্রিক এই আন্দোলন খুব দ্রুত সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিটি বিভাগীয় শহর, জেলা শহর এমনকি উপজেলা পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা মিছিল ও অবরোধ কর্মসূচি চালায়। মহাসড়কগুলোতে অবরোধের কারণে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে।
পুলিশি দমননীতি ও সহিংস হামলার কারণে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে থাকে। ঢাকায় শাহবাগ যেমন আন্দোলনের প্রতীক হয়ে ওঠে, তেমনি ফেনীর মহিপাল, রাজশাহীর সাহেববাজার, চট্টগ্রামের জিইসি মোড়, সিলেটের চৌহাট্টা, খুলনার শিববাড়ী সবগুলো জায়গাই স্থানীয়ভাবে আন্দোলনের কেন্দ্র হয়ে দাঁড়ায়।
দেশের গ্রামাঞ্চলেও এর প্রতিধ্বনি ছড়িয়ে পড়ে। অনেক জায়গায় স্কুল-কলেজপড়ুয়া কিশোররাও মিছিল বের করে। ফলে আন্দোলনটি কেবল নগরভিত্তিক নয়, বরং সর্বস্তরের মানুষের আন্দোলনে রূপ নেয়।

ঘটনার স্থান
জালাল হোটেলের সামনে,শাহবাগ
আক্রমণকারী
আওয়ামীলীগ ও ছাত্রলীগ সন্ত্রাসী কর্তৃক
আহত হওয়ার সময়কাল
৪ই আগষ্ট, দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে
চিকিৎসা সম্পর্কিত সামগ্রিক বর্ণনা
সাখাওয়াতের জবানিতে-
২০২৪ সালের ৪ আগস্ট আন্দোলনের সময় আমি গুরুতরভাবে আহত হই। ঘটনার পর আমার সহপাঠীরাই আমাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেদিন অসংখ্য আহত শিক্ষার্থীকে সেখানে ভর্তি করা হচ্ছিল। জরুরি বিভাগে দীর্ঘ সারি, রক্তাক্ত অবস্থায় অনেককে শয্যা দেওয়া, চিকিৎসকদের টানা কাজ সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ছিল এক ধরনের যুদ্ধকালীন অবস্থার মতো।
প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর চিকিৎসকেরা আমার শারীরিক অবস্থার গুরুত্ব বিবেচনা করে আমাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশ সামরিক হাসপাতালে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করেন। সেখানে কিছুদিন চিকিৎসা নেওয়ার পর আবার আমাকে ঢাকা মেডিকেলে ফিরিয়ে আনা হয়, এবং এখনও আমি সেখানে চিকিৎসাধীন আছি।
আমার শরীর এখনও পুরোপুরি সুস্থ হয়নি। আঘাতের কারণে আমি দুর্বল, নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধ চলছে। মাঝে মাঝেই ব্যথা বাড়ে, যা আমার দৈনন্দিন জীবনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
এই অভিজ্ঞতা শুধু আমার নয়; জুলাই আন্দোলনের সময় আহত অসংখ্য শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকেই একইভাবে হাসপাতালের শয্যায় লড়াই করতে হয়েছে। ঢাকা মেডিকেলসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে প্রতিদিন নতুন নতুন আহতদের নিয়ে আসা হচ্ছিল। অনেকের শরীরে গুলি বিদ্ধ ছিল, কারও আবার গুরুতর ভাঙা হাড়ের চিকিৎসা চলছিল।

চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা
আমার শরীর এখনও পুরোপুরি সুস্থ হয়নি। আঘাতের কারণে আমি দুর্বল, নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধ চলছে। ভালো চিকিৎসার জন্য আপনাদের কাছে আবেদন পেশ করলাম।
পূর্বে কি ধরণের পেশায় নিয়োজিত ছিলেন
ছাত্র
কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা
শিক্ষা বৃত্তি
প্রস্তাবিত বাজেট
মেডিসিন চলমান থাকায় পরবর্তী চিকিৎসার ব্যবস্থা করা
একনজরে সাখাওয়াত হোসেন-
ব্যক্তিগত বিবরণ
নাম : সাখাওয়াত হোসেন
জন্ম তারিখ :০৯-০৩-২০০৬
জন্মস্থান : ফেনী
পেশা/ পদবী : ছাত্র
নিজ জেলা : ফেনী
স্থায়ী ঠিকানা : গ্রামঃস্বরাজপুর,ইউনিয়নঃমতিগঞ্জ,থানাঃসোনাগাজী,জেলাঃফেনী
বর্তমান ঠিকানা : এলাকাঃমিয়ার বাজার,থানাঃসোনাগাজী,জেলাঃফেনী

পরিবারের তথ্য:
পিতার নাম : মোহাম্মদ দুলাল
পিতার পেশা ও বয়স : চাকুরিজীবী,৪০
মায়ের নাম : গোল নাহার
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী,৩০
পারিবারিক অবস্থা : নিম্ন মধ্যবিত্ত
মাসিক আয় :১৫০০০/=
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৫জন।
আয়ের উৎস : বাবার আয়

ভাই/বোনের তথ্য-
১.ছোট ভাইয়ের নাম : শারাফাত হোসেন(১৬),৯ম শ্রেণী-র ছাত্র
২.ছোট বোনের নাম : জান্নাতুল নাইম(১৩),৮ম শ্রেণীর ছাত্রী

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍