হোম / আহতদের তালিকা / আবু ইব্রাহীম
আবু ইব্রাহীম

আবু ইব্রাহীম

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

পেশা: ছাত্র

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা

জন্মপরিচয়ঃ
আহত ব্যক্তির নাম আবু ইব্রাহিম। তিনি ১৯৯৯ সালের ১লা এপ্রিল ফেনি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি একজন ছাত্র এবং পড়াশোনার পাশাপাশি ছাত্র পরিচয়েই পরিচিত। তাঁর স্থায়ী ঠিকানা ফেনি জেলার অলিপুর গ্রাম, থানা ফেনি, ইউনিয়ন ধলিয়া। বর্তমানে তিনি একই এলাকায় (অলিপুর, থানা ফেনি, জেলা ফেনি) বসবাস করছেন। তাঁর পিতা মাহবুবুল হক, যিনি বর্তমানে মৃত; মায়ের নাম লুৎফুন নাহার, বয়স প্রায় ৫৫ বছর, তিনি একজন গৃহিণী। পরিবারের সদস্য সংখ্যা মোট ৭ জন। তাঁর ভাইদের মধ্যে মাসুম ও হাসান প্রবাসে কর্মরত, যথাক্রমে বয়স ৪০ ও ৩৫ বছর; আরেক ভাই কাওছার বেকার, বয়স ৩০ বছর।
বর্তমানে পরিবারের নির্দিষ্ট মাসিক আয় নেই; অতীতে ব্যবসা থেকেই পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস আসত। আবু ইব্রাহিম একজন সচেতন ও সংগ্রামী তরুণ হিসেবে ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন, যা সরকারের কঠোর পদক্ষেপ ও অগ্রহণযোগ্য আচরণের কারণে পরবর্তীতে সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়।
আন্দলনে অংশগ্রহণঃ
৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অংশ হিসেবে আমরা হাজারো শিক্ষার্থী ও জনতা মিলে মহিপাল জিরো পয়েন্টে জড়ো হয়েছিলাম। আমাদের একমাত্র দাবি ছিল— স্বৈরাচার হাসিনার পদত্যাগ। দীর্ঘ ১৫-১৬ বছরের হাসিনার দুঃশাসন, দমননীতি আর দুর্নীতির কুকর্মে দেশের শিক্ষা, কর্মসংস্থান, বিচারব্যবস্থা সবকিছু যখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল, তখনই আমাদের মতো সাধারণ শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নামতে বাধ্য হই। এর সূত্রপাত হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে, যখন শেখ হাসিনা ১৪ জুলাই আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের “রাজাকারের নাতি-পুতি” বলে অপমান করেছিলেন। তার এই বিষাক্ত মন্তব্যের প্রতিবাদে দেশব্যাপী ধ্বনিত হতে থাকে স্লোগান— “তুমি কে? আমি কে? রাজাকার, রাজাকার; কে বলেছে? কে বলেছে? স্বৈরাচার, স্বৈরাচার”। শিক্ষার্থীরা উচ্চারণ করেছিল— “চাইতে গেলাম অধিকার, হয়ে গেলাম রাজাকার”।
কিন্তু আওয়ামী লীগ নামের ঘাতকচক্র আন্দোলনকে দমন করতে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ছাত্রলীগ-যুবলীগ নামের সন্ত্রাসী বাহিনী লাঠি, রড, দা, বন্দুক নিয়ে নিরস্ত্র শিক্ষার্থীদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। পুলিশও রাষ্ট্রযন্ত্র হয়ে লাঠিচার্জ, রাবার বুলেট আর টিয়ার গ্যাস ছুড়ে আমাদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে রক্তে রাঙিয়ে দেয়। ১৬ জুলাই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র আবু সাঈদ পুলিশের গুলিতে শহীদ হলে আন্দোলন দাবানলের মতো সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। দরিদ্র পরিবারের সন্তান হয়েও তিনি দেশের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করলেন। অথচ বিন্দুমাত্র করুণা দেখায়নি ঘাতকরা।
এই প্রেক্ষাপটেই আমরা ৪ আগস্ট মহিপাল জিরো পয়েন্টে ন্যায়ের দাবিতে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করি। হঠাৎ করেই আওয়ামী সন্ত্রাসীরা দল বেঁধে আমাদের ওপর হামলা চালায়। গুলিবৃষ্টি শুরু হলে আমি জীবন বাঁচাতে চেষ্টা করি, তবুও আমার হাত ও পিঠে গুলি লাগে। আমার হাতে তিনটি গুলি বিদ্ধ হয়, শরীর রক্তে ভেসে যায়। চারপাশে শুধু আর্তচিৎকার, আতঙ্ক আর গুলির শব্দ— যেন মুক্তিযুদ্ধের ঘাতকদের পুনর্জন্ম আমরা চোখের সামনে প্রত্যক্ষ করছিলাম। আমাদের অপরাধ একটাই— অধিকার চাইতে গিয়েছিলাম, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে চেয়েছিলাম।
এই আন্দোলন প্রমাণ করেছে, শেখ হাসিনা ও তার ঘাতকচক্রের আসল চেহারা। তারা শিক্ষার্থীর রক্তে রাজপথ ভিজিয়ে, শহীদের রক্তে নতুন ইতিহাস রচনা করেছে। কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি, এই ত্যাগ বৃথা যাবে না। কারণ ইতিহাসে কখনো ঘাতকরা টিকে থাকতে পারেনি, জিতেছে ন্যায়ের লড়াই করা মানুষই।
চিকিৎসা সম্পর্কিত সামগ্রিক বিবরণঃ
২০২৪ সালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আমি সক্রিয়ভাবে অংশ নিই। শেখ হাসিনা যখন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের “রাজাকারের নাতি-পুতি” বলে অপমান করলেন, তখন আমাদের ভেতরের ক্ষোভ আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়ে। ন্যায়ের দাবিতে আমরা ৪ আগস্ট মহিপাল জিরো পয়েন্টে সমাবেশ করি। কিন্তু সেদিন ঘাতক আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীরা আমাদের উপর হামলা চালায়। গুলি চলতে থাকে চারদিক থেকে। আমি দৌড়াতে চাইলেও বাঁচতে পারিনি—হাত ও পিঠে গুলি লাগে, আমার হাতে তিনটি বুলেট বিদ্ধ হয়। রক্তে ভিজে মাটিতে লুটিয়ে পড়ি।
প্রাথমিক চিকিৎসায় আমার শরীর থেকে বুলেট বের করা হয়েছে, ওষুধ সেবন করেছি। তবে এখনো উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে, বিশেষত হাতে যাতে স্থায়ী অক্ষমতা না হয়। আমাদের পরিবারের অবস্থা খারাপ—তাই চিকিৎসার পাশাপাশি ভবিষ্যতে চাকরি বা স্কলারশিপের সুযোগ পেলে জীবনটাকে নতুনভাবে গড়তে পারবো।


একনজরেঃ
নাম: আবু ইব্রাহীম
জন্মতারিখ: ০১-০৪-১৯৯৯
জন্মস্থান: ফেনি
পেশা: ছাত্র
স্থায়ী ঠিকানা:
গ্রাম: অলিপুর
ইউনিয়ন: ধলিয়া
থানা: ফেনি
জেলা: ফেনি
বর্তমান ঠিকানা:
এলাকা: অলিপুর
থানা: ফেনি
জেলা: ফেনি
পারিবারিক তথ্য:
• পিতার নাম: মাহবুবুল হক (পেশা: মৃত)
• মাতার নাম: লুৎফুন নাহার (পেশা: গৃহিণী, বয়স: ৫৫ বছর)
• পরিবারের সদস্য সংখ্যা: ৭ জন
• ভাই:
o মাসুম (প্রবাসি, বয়স: ৪০ বছর)
o হাসান (প্রবাসি, বয়স: ৩৫ বছর)
o কাওছার (বেকার, বয়স: ৩০ বছর)
যোগাযোগ: ০১৬২৭৭০২৫৭৭
মাসিক আয়: নেই (পূর্বে উৎস: ব্যবসা)
ঘটনার স্থান: ফেনী, মহিপাল জিরো পয়েন্ট
ঘটনার তারিখ ও সময়: ১৮/০৭/২০২৪ এবং ০৪/০৮/২০২৪, দুপুর আনুমানিক ১:৫০ মিনিট
আহত হওয়ার কারণ: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের গুলিবর্ষণ
আহতের ধরন: হাত ও পিঠে গুলিবিদ্ধ (হাতে ৩টি বুলেট বিদ্ধ)
চিকিৎসা:
• বুলেট অপসারণ
• প্রাথমিক চিকিৎসা
• ফেনী সদর হাসপাতালে চিকিৎসা
• ঔষধ সেবন (বর্তমানে কিছুটা সুস্থ)
চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রস্তাবনা: উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন
কর্মসংস্থান সংক্রান্ত প্রস্তাবনা: চাকরি / স্কলারশিপ।

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍