হোম / আহতদের তালিকা / সোহরাব হোসেন
  সোহরাব হোসেন

সোহরাব হোসেন

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

পেশা: ছাত্র

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা

জন্মপরিচয়ঃ
সোহরাব হোসেন ২০০১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পেশায় একজন ছাত্র এবং বর্তমানে ফেনী সরকারি কলেজে অধ্যয়নরত। তার স্থায়ী ঠিকানা ফেনী জেলার পরশুরাম থানার বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের দক্ষিণ কেতরাঙ্গা গ্রামে হলেও বর্তমানে তিনি ফেনী সদর থানার সুলতানপুর মহল্লায়, ফেনী পৌরসভা এলাকায় বসবাস করেন। তার পিতা ইব্রাহিম হোসেন, বয়স ৫০ বছর, তিনি কর্মহীন; এবং তার মাতা হোসেনা ইয়াসমিন, বয়স ৪২ বছর, একজন গৃহিণী। কৃষিকাজ পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস, যার মাধ্যমে মাসিক আয় প্রায় ২০,০০০ টাকা। তাদের পরিবারে মোট পাঁচজন সদস্য রয়েছেন। বড় ভাই শাহাদাত হোসেন সাকিব বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত, বয়স ৩২ বছর এবং অপর ভাই সাগর চাকরিজীবী, বয়স ২৮ বছর। পারিবারিকভাবে সাধারণ পরিবারের সন্তান হয়েও সোহরাব হোসেন শিক্ষা অর্জনের মাধ্যমে জীবনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে এগিয়ে চলেছেন।

আন্দলনে অংশগ্রহণঃ
নীল-সাদা প্ল্যাকার্ড কাঁধে নিয়ে ৪ আগস্ট ২০২৪, দুপুর ঠিক ২টায় মহিপাল ফ্লাইওভারের নিচে আমি দাঁড়িয়েছিলাম—শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের সারিতে। আমাদের চাওয়া খুবই সহজ ছিল: কথা বলার অধিকার, ন্যায়বিচার, নিরাপদ ভবিষ্যৎ। চারপাশে স্লোগান গর্জে উঠলেও আমাদের হাতে ছিল শুধু কাগজের পোস্টার আর বুকভরা সাহস; পাথর, লাঠি, অস্ত্র—কিছুই না। আমরা যখন মানববন্ধনের রেখা টেনে দাঁড়ালাম, মনে হচ্ছিল ট্রাঙ্ক রোডের বাতাসও যেন আমাদের সঙ্গে কথা বলছে—“ভয় পেও না, সত্যের পাশে থাকো।”
হঠাৎ–সবকিছু বদলে গেল। ট্রাঙ্ক রোডের দিক থেকে আধুনিক অস্ত্রসজ্জিত একদল লোক ঝড়ের মতো ছুঁটে এলো। চোখের পলকে শান্ত স্লোগানগুলো চিৎকারে বদলে গেল, আর কাগজের পোস্টারগুলো হয়ে উঠল ঢাল। আমি দেখলাম—ঘাতকের নিষ্ঠুর ট্রিগার টেপার সঙ্গে সঙ্গে বাতাস কেটে ছররা বুলেট সিটি বাজিয়ে উড়ে এলো; আগুনের কাঁটার মতো কয়েকটা আমার শরীরে বিঁধে গেল। কাঁধে, হাতে, পিঠে জ্বালা—মনে হলো কেউ অন্ধকারটাকে মুঠোভরে ছুড়ে দিয়েছে আমাদের দিকে। বিশৃঙ্খলার ওই সেকেন্ডগুলোতে আমি ‘কালা মোহন’ নামে পরিচিত একজনকে সেখানে দেখতে পাই—গোলমালের ঠিক মাঝখানে, ঘাতক উন্মত্ততার এক ভয়াল মুখ। কে কার সামনে ঢাল হয়ে দাঁড়াল, কে কাকে টেনে সরিয়ে নিল—সব কিছু ঝাপসা; শুধু রক্তের গন্ধ আর সাইরেনের শব্দ ভেসে আসে মনে।
আন্দোলনের প্রেক্ষাপটটা ছিল দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ আর বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ—যেখানে প্রশ্ন ছিল জীবনের, ভবিষ্যতের, নাগরিক মর্যাদার। অথচ উত্তর হিসেবে এলো গুলি, ত্রাস, তাণ্ডব। আওয়ামি পরিচয়ে সক্রিয় শক্ত কিছু লোকের হাতে তখনকার সেই নৃশংসতা আমাদের চোখের সামনে নগ্ন হয়ে দাঁড়াল—শান্তিপূর্ণ মিছিলের বুকে ঘাতকের আঘাত, উন্মত্ত শক্তির অহংকার। আমি ধপাস করে বসে পড়ার মুহূর্তে শুধু ভাবছিলাম—এদেশের পথ কি তবে ভয়কে দিয়েই বাঁক নেবে? আমরা কি তবে বুকের উপর ছররার দাগ হয়ে ইতিহাসে লেখা থাকব?
রক্তাক্ত পোশাকটা আজও হাতে নিলে মনে হয়, ট্রাঙ্ক রোডের ধুলো মিশে আছে আমার স্বপ্নের সঙ্গে। আমি আহত, তবু ভাঙিনি। ঘাতকের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা সেই বিকেল আমাকে শিখিয়েছে—আওয়াজকে চুপ করানো যায়, কিন্তু সত্যকে নয়। মহিপাল ফ্লাইওভারের নিচে আমার পড়ে থাকা প্রতিটি ছররা-পোড়া নিঃশ্বাস যেন বারবার বলছে: আমরা ন্যায় চাই, ন্যায়ের পথেই থাকব—যত ঘাতকই সামনে আসুক।

চিকিৎসা সম্পর্কিত সামগ্রিক বিবরণঃ
২০২৪ সালের ৪ আগস্ট আন্দোলনে আহত হওয়ার পর আমি ফেনী সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করি। সেখানে চিকিৎসকরা আমার শরীরে আঘাতপ্রাপ্ত স্থানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেন। বর্তমানে আলহামদুলিল্লাহ্ আমি সম্পূর্ণ সুস্থ আছি এবং অতিরিক্ত কোনো চিকিৎসার প্রয়োজন নেই। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে আমার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল এবং ভবিষ্যতে এ বিষয়ে কোনো জটিলতার আশঙ্কা নেই। আমি এর আগে কোনো পেশায় যুক্ত ছিলাম না, কেবলমাত্র ছাত্র হিসেবে পড়াশোনার সঙ্গেই জড়িত ছিলাম। তবে চিকিৎসা শেষে এখন আমার মূল চাওয়া হচ্ছে শিক্ষাজীবন নির্বিঘ্নভাবে চালিয়ে যাওয়া। এ লক্ষ্যে আমার জন্য কোনো চিকিৎসা সহায়তার বাজেট প্রয়োজন নেই, বরং শিক্ষাজীবন এগিয়ে নিতে একটি উপযুক্ত স্কলারশিপ সহায়তা প্রয়োজন। এই স্কলারশিপ আমার পড়াশোনার খরচ বহনে সহায়তা করবে এবং ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে স্থিতিশীল হওয়ার পথ প্রশস্ত করবে। অর্থাৎ, চিকিৎসার দিক থেকে আমি নিশ্চিন্ত হলেও শিক্ষা চালিয়ে যাওয়ার জন্য আর্থিক সহায়তাই আমার প্রধান প্রয়োজন।


একনজরেঃ
নাম: সোহরাব হোসেন
জন্মতারিখ: ০১-০২-২০০১
জন্মস্থান: ফেনী
পেশা: ছাত্র
প্রতিষ্ঠান: ফেনী সরকারি কলেজ
স্থায়ী ঠিকানা:
গ্রাম: দক্ষিণ কেতরাঙ্গা
ইউনিয়ন: বক্সমাহমুদ
থানা: পরশুরাম
জেলা: ফেনী
বর্তমান ঠিকানা:
মহল্লা/এলাকা: সুলতানপুর
থানা: ফেনী সদর
এলাকা: ফেনী পৌরসভা
জেলা: ফেনী
পারিবারিক তথ্য:
পিতার নাম: ইব্রাহিম হোসেন (কর্মহীন, বয়স ৫০ বছর)
মাতার নাম: হোসেনা ইয়াসমিন (গৃহিণী, বয়স ৪২ বছর)
পরিবারের সদস্য সংখ্যা: ৫ জন
ভাই:
• শাহাদাত হোসেন সাকিব (আর্মি, বয়স ৩২ বছর)
• সাগর (চাকরিজীবী, বয়স ২৮ বছর)
মাসিক আয়: ২০,০০০ টাকা (উৎস: কৃষিকাজ)
যোগাযোগ: ০১৮৪৩৭২০৫১৬
ঘটনার তথ্য:
• তারিখ ও সময়: ০৪/০৮/২০২৪, দুপুর আনুমানিক ২টা
• স্থান: ট্রাঙ্ক রোড, মহিপাল, ফেনী
• ঘটনা: শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের সময় আওয়ামী গুন্ডা কালা মোহন বাহিনী আধুনিক অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে আহত হয়ে শরীরে একাধিক ছররা বুলেট লাগে।
চিকিৎসা:
• প্রাথমিক চিকিৎসা → ফেনী সদর হাসপাতাল
• বর্তমানে সুস্থ, অতিরিক্ত চিকিৎসার প্রয়োজন নেই
প্রস্তাবনা:
• চিকিৎসার ক্ষেত্রে: কোনো চিকিৎসার প্রয়োজন নেই
• কর্মসংস্থান: স্কলারশীপ প্রয়োজন
• প্রস্তাবিত বাজেট: (তথ্য সংযোজনযোগ্য)

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍