হোম / আহতদের তালিকা / আবসার হোসেন
  আবসার হোসেন

আবসার হোসেন

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

পেশা: ড্রাইভার

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা

জন্ম পরিচয়
আবসার হোসেন একজন সাধারণ কিন্তু পরিশ্রমী মানুষ, যার জন্ম ১৯৮৫ সালের ১০ই এপ্রিল ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলার ফতেহপুর গ্রামে। তাঁর পিতা মৃত শাহাদাৎ হোসেন, যিনি জীবদ্দশায় পরিবারের প্রধান অবলম্বন ছিলেন। মাতা হালিমা আক্তার একজন গৃহিণী হিসেবে সন্তানের লালন-পালন ও পরিবারের দায়িত্ব সামলেছেন নিষ্ঠার সঙ্গে। পারিবারিকভাবে সাদামাটা পরিবেশে বেড়ে ওঠা আবসার হোসেন ছোটবেলা থেকেই কর্মঠ, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং পরিশ্রমী চরিত্রের পরিচয় দেন।
শিক্ষাজীবন শেষ করার পর তিনি জীবিকা নির্বাহের জন্য পেশাগত জীবনে প্রবেশ করেন। তিনি বর্তমানে পেশায় একজন ড্রাইভার এবং ফেনী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে ড্রাইভিং পেশায় নিয়োজিত আছেন। তাঁর কাজের প্রতি আন্তরিকতা এবং পরিশ্রম তাঁকে সমাজে একজন বিশ্বাসযোগ্য ও পরিশ্রমী মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। জীবনের নানা চড়াই-উতরাই এবং আর্থিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও তিনি নিজের পেশাকে ভালোবাসেন এবং পরিবারকে সহায়তা করার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছেন।
স্থায়ী ঠিকানা ফতেহপুর ইউনিয়নের ৯নং নবাবপুর, সোনাগাজী, ফেনী হলেও বর্তমানে তিনি ফতেহপুর, সোনাগাজীর খলিল গার্ডের বাড়িতে বসবাস করছেন। পারিবারিক জীবনে তিনি মায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও যত্নশীল এবং মাকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রেরণা হিসেবে দেখেন। সামাজিকভাবে তিনি পরিচিত একজন সৎ, পরিশ্রমী ও দায়িত্ববান মানুষ হিসেবে। স্থানীয় সমাজে তাঁর অবদান পরোক্ষ হলেও তা গুরুত্ববহ, কারণ তিনি নিজের কাজের মাধ্যমে পরিবারকে যেমন সহযোগিতা করছেন, তেমনি শ্রমের মর্যাদা বজায় রেখে সমাজেও উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন।
জীবনের প্রতিটি ধাপে তিনি সংগ্রামের মধ্য দিয়েই এগিয়ে চলেছেন। পরিশ্রম, সততা এবং অধ্যবসায় তাঁর জীবনের মূল ভিত্তি, আর এ গুণাবলীর কারণেই তিনি আত্মমর্যাদা রক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। ভবিষ্যতেও তিনি একইভাবে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সমাজে এবং পরিবারে অবদান রাখতে বদ্ধপরিকর।


আন্দোলনে অংশগ্রহণ
২০২৪ সালের ৪ঠা আগস্ট ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের একদফা পতনের দাবিতে সারাদেশে যে গণআন্দোলন শুরু হয়, তারই অংশ হিসেবে আমি ও আমার সহপাঠীরা শান্তিপূর্ণভাবে ফেনীর বড় মসজিদে এলাকায় সমবেত হই খুনি হাসিনার পদত্যাগের দাবিতে। গুলি করে ছাত্র হত্যার মতো জঘন্য ঘটনা স্বয়ং হাসিনার নির্দেশে হ।আন্দোলন চলাকালীন সময়ে আকস্মিকভাবে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে আমাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। তারা চারদিক থেকে ঘেরাও করে নির্বিচারে গুলি চালাতে থাকে, যার ফলে মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকা রক্তাক্ত ও আতঙ্কজনক পরিবেশে পরিণত হয়। গুলির আঘাতে আমি মারাত্মকভাবে আহত হই এবং আমার বুকের ডান পাশে গুলি লাগে। সেই মুহূর্তে প্রচণ্ড যন্ত্রণা ও প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হলে আমি মাটিতে লুটিয়ে পড়ি। পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠলেও উপস্থিত সহযোদ্ধা বন্ধুরা জীবনবাজি রেখে আমাকে দ্রুত উদ্ধার করে ফেনী সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়।
ফেনী সদর হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা আমার শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করে তাৎক্ষণিকভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন এবং ক্ষতস্থানের রক্তক্ষরণ বন্ধ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু আমার শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় এবং উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়ায় আমাকে জরুরি ভিত্তিতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর ডাক্তাররা আমাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখেন এবং গুলিবিদ্ধ স্থানের চিকিৎসার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। দীর্ঘ সময় ধরে চিকিৎসা গ্রহণের পরও আমি সম্পূর্ণ সুস্থ হতে পারিনি এবং এখনও সেই দিনের গুলিবিদ্ধ ক্ষত আমাকে প্রচণ্ড যন্ত্রণা দেয়।
এই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করতে গিয়ে আমি শুধু আমার ব্যক্তিগত ক্ষতির সম্মুখীন হইনি, বরং আমার পরিবারও গভীর দুঃখ-কষ্ট ও আর্থিক সংকটে পড়েছে। শিক্ষাজীবন বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে আমি বর্তমানে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছি না। তবুও দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে পেরেছি—এটিই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ত্যাগ ও গৌরবের বিষয়।

চিকিৎসা
২০২৪ সালের ৪ঠা আগস্ট ফেনীর বড় মসজিদ এলাকায় আন্দোলনে গুরুতর আহত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা আমার শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে জরুরি ভিত্তিতে অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেন। দীর্ঘ সময় ধরে অপারেশন পরিচালিত হলেও বুকের ভেতরে প্রবেশ করা বুলেট সম্পূর্ণভাবে বের করা সম্ভব হয়নি। চিকিৎসকরা ক্ষতস্থান পরিষ্কার করে আংশিক চিকিৎসা প্রদান করেন এবং অবশিষ্ট বুলেট শরীরে থেকেই যায়। এর ফলে এখনো শরীরে অসহনীয় ব্যথা ও জটিলতা অনুভূত হচ্ছে। অপারেশনের পর আমাকে কিছুদিন হাসপাতালে ভর্তি রেখে ওষুধ, ড্রেসিং এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে আঘাতের প্রকটতা ও বুলেট সম্পূর্ণ বের না হওয়ার কারণে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা আজও রয়ে গেছে।





উন্নত চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রস্তাবনা
আমি, আবসার হোসেন, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট আন্দোলনের সময় গুরুতরভাবে আহত হই। আঘাতের প্রকটতা এবং বুলেট সম্পূর্ণভাবে বের না হওয়ার কারণে বর্তমানে আমার স্বাভাবিক জীবনযাপন কার্যত অচল। দেশের সীমিত চিকিৎসা সুবিধার কারণে আমার চিকিৎসা সম্পূর্ণভাবে সম্ভব হয়নি।
বর্তমানে আঘাতজনিত জটিলতা ও স্বাস্থ্যগত সমস্যার কারণে আমার শারীরিক সক্ষমতা সীমিত, এবং পরিবারের প্রতিদিনের জীবনযাত্রা চালানো অত্যন্ত কষ্টকর। এই অবস্থায়, উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে নেওয়া অপরিহার্য। উন্নত চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে বুলেট সম্পূর্ণভাবে নিরাময়, আঘাতজনিত জটিলতা নিরসন এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন পুনঃপ্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।
অতএব, সম্মানিত কর্তৃপক্ষের কাছে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি যে, আমার দ্রুত এবং পূর্ণাঙ্গ উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা দেশের বাইরে করা হোক, যাতে শারীরিক ও মানসিক পুনর্বাসন সম্ভব হয় এবং আমি স্বাভাবিকভাবে পরিবার ও সমাজের জন্য কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারি।

একনজরে

• নাম: আবসার হোসেন
• জন্মতারিখ: ১০/০৪/১৯৮৫
• জন্মস্থান: ফতেহপুর,ফেনী
• পেশা: ড্রাইভার
• প্রতিষ্ঠান:ফেনীতে ড্রাইভিং
• স্থায়ী ঠিকানা: ফতেহপুর,৯নং নবাবপুর,সোনাগাজী,ফেনী
• বর্তমান ঠিকানাঃ খলিল গার্ডের বাড়ি, ফতেহপুর ,সোনাগাজী,ফেনী
• পিতাঃ মৃত শাহাদাৎ হোসেন
• মাতা: হালিমা আক্তার(গৃহিণী)
• যোগাযোগঃ ০১৩১৯২২০২২৩
• আয়: ১৫০০০ টাকা
• পরিবারের সদস্য সংখ্যা:১১
• ঘটনার স্থানঃ ফেনী বড় মসজিদের পাশে
• আক্রমণকারীঃ আওয়ামী সন্ত্রাসী, সন্ত্রাসী ছাত্রলীগ,যুবলীগ ও পুলিশ বাহিনী
• আহত হওয়ার সময়ঃ ৪ আগস্ট ২০২৪, দুপুর ১২:০০ মিনিট