হোম / আহতদের তালিকা / আলাউদ্দিন ইসলাম
আলাউদ্দিন ইসলাম

আলাউদ্দিন ইসলাম

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

পেশা : ব্যবসা

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা

জন্ম ও বেড়ে ওঠা
আলাউদ্দিন ইসলাম জন্মগ্রহণ করেন ১ জানুয়ারি ১৯৮৫ সালে ফেনীর গুথুমা গ্রামে। তার পরিবার সমৃদ্ধ না হলেও আন্তরিকতা ও সহমর্মিতায় ভরা ছিল। বাবা নূর ইসলাম বেকার হলেও পরিবারের দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিয়েছিলেন। মা রিনা পারভিন গৃহিণী হয়ে পরিবারের সকল সদস্যদের যত্ন নিতেন। আলাউদ্দিন ছোটবেলা থেকেই পরিবারের ছোট ভাইবোনদের সঙ্গে মিশে বেড়ে ওঠেন। গ্রামে তার শৈশব শান্ত, তবে চ্যালেঞ্জপূর্ণ ছিল। পরিবারে নয়জন সদস্য, যার মধ্যে তিনি ছিলেন সন্তানদের মধ্যে অন্যতম। ছোটবেলা থেকেই আলাউদ্দিনে দায়িত্ববোধ, পরিশ্রম এবং মানবিক মূল্যবোধ গড়ে ওঠে। গ্রামের স্কুলে পড়াশোনা শুরু হলেও তার মন সবসময় সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং ব্যবসার প্রতি আকৃষ্ট ছিল। পরে তিনি ফেনীতে নিজের ছোট ব্যবসা শুরু করেন, যা তাকে স্বাধীনতা এবং পরিবারের সহায়তা করার সুযোগ দেয়।
আন্দোলনের প্রেক্ষাপট
২০১৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কার আন্দোলন গড়ে তোলেন। শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে মেধার যেন মূল্যায়ন হয়। সেজন্য তারা ৫৬% কোটার সংস্কারের জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু স্বৈরাচারী সরকার শিক্ষার্থীদের দাবি না মেনে বরং তাদের উপর পুলিশ নির্যাতন করে। প্রচন্ড গণআন্দোলনের মুখে সরকার কোটা ব্যবস্থা মেনে নিলেও সেটার কোন স্থায়ী সমাধান দিয়েছিলেন না। যার ফলে ২০২৪ সালে নতুন করে কোটার সংস্কারের আন্দোলন গড়ে উঠে। আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছিল। ফেনী শহরেও শিক্ষা এবং সরকারি চাকরিতে ন্যায্য সুযোগ নিশ্চিত করতে ছাত্রদের নিয়ে আন্দোলন শুরু হয়। শহরের যুবক ও শিক্ষার্থীরা মাসের পর মাস বিক্ষোভ করছেন, যাতে কোটা সংস্কারের পরিবর্তন আসে। আলাউদ্দিন তার ব্যবসার ব্যস্ততার মধ্যেও সমাজ ও যুবকদের প্রতি দায়বদ্ধতার কারণে আন্দোলনে অংশ নেন। এই আন্দোলনটি ছিল শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের মধ্য দিয়ে সরকারের কাছে দাবি জানানো। কিন্তু পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়। পুলিশ মোতায়েন করা হয়, এবং আওয়ামী সন্ত্রাসীরা পুলিশের সাথে অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তোলে। সেই সময় আলাউদ্দিনও শহরের প্রধান চত্বরে যোগ দেন, যেখানে অনেক ছাত্র ও সাধারণ মানুষ আন্দোলন করছেন।
আহত হওয়ার ঘটনা
৪ আগস্ট ২০২৪, দুপুর ২ টার সময় মহিপাল, ফেনীতে আন্দোলন চলাকালীন পুলিশের সঙ্গে ছাত্র জনতার মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। দুইপক্ষের মধ্যে ইট, পাটকিল নিক্ষেপ হয়। হঠাৎ করেই আলাউদ্দিনের মাথায় একটি ইট লাগে। পরিস্থিতি আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে, যখন পুলিশ ছোররা গুলি, টিয়ারশেল এবং গ্রেনেড ছুড়ে দিতে শুরু করে। আলাউদ্দিন ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার সময় একাধিক বার মাথায় এবং শরীরে আঘাত পান। মোট ১৭ টা ছোররা গুলি তার হাতে-পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়। আহত অবস্থায় চিৎকার করার মতো শক্তি থাকলেও আলাউদ্দিন নিজের সচেতনতা হারাননি। তিনি চেষ্টা করেন অন্যদের পাশে দাঁড়াতে এবং পরিস্থিতি সামলাতে। সেই ভয়ের মুহূর্তগুলো আজও তার মনে তীব্রভাবে বিরাজমান।
চিকিৎসা
প্রাথমিকভাবে আলাউদ্দিনকে সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে যথাযথ চিকিৎসা সম্ভব হয়নি। এরপর ঢাকা কাকরাইল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়, কিন্তু সেখানেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সম্ভব হয়নি। অবশেষে ল্যাব এইড হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়, যেখানে তার বিভিন্ন আঘাতের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শুরু হয়।
চিকিৎসার সময় আলাউদ্দিনের ধৈর্য এবং পরিবার ও বন্ধুদের সমর্থন তাকে মানসিক শক্তি যুগিয়েছে। যদিও শরীরিকভাবে তিনি আঘাতপ্রাপ্ত, তবে তার মানসিক দৃঢ়তা তাকে সুস্থ হওয়ার দিকে এগিয়ে নিয়ে গেছে। বর্তমানে আলাউদ্দিনের পুনর্বাসন চলমান, এবং তিনি আবারও সমাজ ও পরিবারে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের জন্য প্রস্তুত।
তথ্য কণিকা
নাম : আলাউদ্দিন ইসলাম
জন্ম তারিখ : ১ জানুয়ারি ১৯৮৫
জন্মস্থান : ফেনী
পেশা : ব্যবসা
নিজ জেলা: ফেনী
স্থায়ী ঠিকানা ও বর্তমান ঠিকানা:
গ্রাম: গুথুমা
ইউনিয়ন: ৭ নং ওয়ার্ড পৌর
থানা: পরশুরাম
জেলা: ফেনী
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম : নূর ইসলাম
মায়ের নাম : রিনা পারভিন
পিতার পেশা ও বয়স : বেকার, ৬৫
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৫৫
মাসিক আয় : ১৪৫০০
আয়ের উৎস: ব্যবসা
পরিবারের সদস্য সংখ্যা: ৯
ভাইবোন/সন্তানদের বিবরণ
১. সাইমুন ইসলাম, বয়স: ১৩, পেশা: ছাত্র, শ্রেণি: ৭ম, সম্পর্ক: ছেলে
২. আলমগীর, বয়স: ৪৫, পেশা: চাকুরি, সম্পর্ক: ভাই
ঘটনার স্থান: মহিপাল, ফেনী
আহত হওয়ার সময়কাল: ৪ আগস্ট ২৪, দুপুর ২ টা
আক্রমণকারী: নিজাম হাজারী, সুসেন, বাবুল (আওয়ামী সন্ত্রাসী)

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍