আবু মনসুর
জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
পেশা / পদবি: ছাত্র
🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা
আহত জুলাই যোদ্ধা: আবু মনসুর
ফেনী জেলার সোনাগাজীর ৩নং মঙ্গলকান্দি ইউনিয়নের এক সাধারণ পরিবারে জন্ম নিয়েছিলেন এক সাহসী তরুণ—আবু মনসুর। জন্ম ২০০৩ সালের ১ আগষ্ট। এখন তিনি ফেনী সরকারি কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্র। ছোটবেলা থেকেই ছিলেন প্রতিবাদী, সত্যের পথে অটল। বাবা আবু তাহের চাকরিজীবী, মা লায়লা বেগম গৃহিনী। পরিবারের চার সদস্যের মধ্যে মনসুর ছিলেন সবার প্রাণ। শৈশব থেকেই মনসুর ছিলেন নির্ভীক। বইয়ের পাতায় তিনি খুঁজতেন জ্ঞান, আর জীবনের পথে খুঁজতেন ন্যায়। অন্যায়-অত্যাচার দেখলেই তার হৃদয় বিদ্রোহে ফেটে পড়ত। তাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে তিনি শুধু অংশগ্রহণই করেননি, বরং অন্যদেরও উদ্বুদ্ধ করেছিলেন।
যেভাবে সংগ্রামের সূচনাঃ
স্বৈরাচার শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশকে ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে পরিণত করে এবং জনগণকে মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করে। আলেম সমাজ, ইসলামপন্থী জনগণ ও বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের উপর ভয়াবহ দমন-পীড়ন চালায়। শাপলা চত্বর গণহত্যা, খুন-গুম, আয়নাঘর, বিনা ভোটের নির্বাচন ও কোটা জুলুম মানুষের ক্ষোভ আরও বাড়ায়।
২০১৮ সালে আন্দোলনের মুখে কোটা প্রথা বাতিল ঘোষণা করা হলেও ২০২৪ সালে প্রহসনমূলক রায়ের মাধ্যমে তা পুনরায় চালু করা হয়। হাসিনা সরকারের দীর্ঘ ১৭ বছরের জুলুম নির্যাতনে দেশের মানুষ ছিল চরম অতিষ্ঠ। ফলে কোটা নিয়ে তাদের প্রহসনের রায়ের বিরুদ্ধে ১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু হয় কোটা বিরোধী আন্দোলন। এ আন্দোলন দ্রুত সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। ছাত্রলীগ ও পুলিশের হামলায় ১৫ ও ১৬ জুলাইয়ের রক্তক্ষয়ী ঘটনার পর আন্দোলন কেবল কোটা-বিরোধী নয়, বরং সর্বস্তরের মানুষের মুক্তির আন্দোলনে রূপ নেয়।
ছাত্র-জনতা হত্যার বিচারের দাবিতে দেশব্যাপী প্রতিবাদ শুরু হয়। ফেনী-নোয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামীলীগ ও পুলিশের সম্মিলিত হামলায় বহু মানুষ শহীদ ও আহত হন। জুলাই বিপ্লবের এই দিনগুলোতে কোটা প্রথা বিলোপ এবং ছাত্র জনতা হত্যার বিচারের দাবিতে অসংখ্য তরুণ আত্মত্যাগ করে। তাদের ত্যাগ-তিতিক্ষার ধারাবাহিকতায় এ আন্দোলন শেষ পর্যন্ত হাসিনা সরকারের পতনের একদফা আন্দোলনে রূপ নেয়।
আন্দোলনের পথে
জুলাই আন্দোলনের প্রতিটি মিছিল-সংগ্রামে ছিলেন আবু মনসুর। বৈষম্যের বিরুদ্ধে তিনি শুধু নিজেই দাঁড়াননি, বরং তার বন্ধু-ভাইদেরও আন্দোলনে যোগ দিতে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। তার দৃঢ় কণ্ঠে প্রতিধ্বনিত হতো অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ।
তার কণ্ঠে উচ্চারিত হতো প্রতিবাদের ধ্বনি—
“বৈষম্যের শিকল ভাঙব, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াব।”
নির্মম হামলার রাত
২৭ জুলাই ২০২৪, রাত আনুমানিক আটটা। এশার নামাজ শেষে মামার দোকানে ফিরছিলেন মনসুর। ধলিয়া বাজারের অন্ধকারে ওঁত পেতে ছিল একদল সন্ত্রাসী। সন্ত্রাসী আওয়ামীলীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের ২০ জনের মতো বাহিনী তাকে ধরে নিয়ে যায় নির্জন স্থানে।
শুরু হয় নির্মম নির্যাতন। লোহার পাইপ দিয়ে আঘাতে আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত করে তার শরীর। ব্যথায় কাতর হয়ে মনসুরের শরীর নিস্তেজ হয়ে যাচ্ছিল ।
পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে ফেনী সাইকা হাসপাতালে নিয়ে যান। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে পাঠানো হয় চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট জেনারেল হাসপাতালে। সেখানে কিছু চিকিৎসা করানো হয় । আজও তিনি ব্যথা ও শারীরিক দুর্বলতায় ভুগছেন।
আহতের জবানিতের নির্মমতার বিবরণ-
আহত আবু মনসুর বলেন,
“ গত বছর জুলাই আন্দোলনে আমি সক্রিয় ভূমিকা পালন করি এবং আন্দোলনের পক্ষে অনলাইনে লেখালিখি চালিয়ে যাই। আন্দোলনরত অবস্থায় কিছু ছাত্রলীগ-যুবলীগ কর্মীরা আমাকে দেখে চিহ্নিত করে রাখে । এবং আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেয়।
২৭ জুলাই আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে রাত ৮:০০টার সময় আমাকে ৮নং ধলিয়া ইউনিয়ন এর আওয়ামীলীগের অবৈধ চেয়ারম্যান আনোয়ার আহম্মেদ মুন্সীর গুন্ডাবাহিনীর ২০-২৫ মিলে মটর সাইকেল করে তুলে নিয়ে যায় একটা নির্জন জায়গায়। সেখানে নিয়ে প্রথমে আমার মোবাইল চেক করে আমার আন্দোলনের সকল ছবি এবং ফেসবুক পোষ্ট ডিলেট করে। তারপর আমার মোবাইলটা ভেঙে ফেলে। এমন ভাবে ভাঙে যা আর ঠিক করা সম্ভব না।
তারপর শুরু করে চরম মারধর ও নির্যাতন। আমাকে মারতে মারতে মাটিতে ফেলে দেয়। তারপর উঠিয়ে আবার মারে । কেউ বুকে লাথি মারে ,কেউ এসএস পাইপ দিয়ে মেরুদণ্ডে পায়ে আঘাত করে। তাদের প্রত্যেক এর হাতে ছিলো অস্ত্র এবং এসএস পাইপ। আমি মনে মনে ভাবতেছি হয়তো আজকে আমার জীবনের শেষ দিন। তাদের উদ্দেশ্য ছিল মেরে ফেলবে হয়ত আল্লাহ্ হায়াত রেখেছেন। তাই হয়তো এখনও পৃথিবীর আলো দেখতে পারতেছি।
নিজাম হাজারী পুরো ফেনী জেলায় কোটা আন্দোলনে কারা কারা জড়িত ছিলো তাদের তালিকা তৈরি করে নির্যাতন করার পর পুলিশে দিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
বাজারের কিছু লোকের অনুরোধের কারনে হামলাকারীরা আমাকে পুলিশে দেয় নাই। ঐখান থেকে আমাকে নিয়ে যাওয়া হয় আমার আন্টির বাসায় । পরে সেখানে নিয়ে বাসায় ডাক্তার এনে আমাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। কারন ঐ সময় পুলিশের ভয়ে হাসপাতালে যেতে পারি নাই। ঐ সময়ও আওয়ামীলীগ সন্ত্রাসী বাহিনীরা আমাকে বাড়িতে এসে খোঁজ করতো । হাসিনা পদত্যাগ করার পর ফেনী সাইকা তে গিয়ে চিকিৎসা নিয়ে থাকি। কিন্তু কিছু দিন যাওয়ার পর শরীর আরো বেশি খারাপ হতে শুরু করে। পরে চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট গিয়ে ডাঃ মেজর (অবঃ) মনির আহম্মেদ স্যার থেকে চিকিৎসা নিয়ে থাকি। এরপর কিছু দিন ভালো ছিলাম। কিন্তু আবার শরীর খারাপ হতে শুরু করলো। পিঠেও মেরুদণ্ডে আবারও প্রচণ্ড ব্যাথা শুরু হয়। বসতে পারি না , দাড়াতে পারি না এবং বুকে প্রচণ্ড ব্যাথা করে। গত ৩০-৮-২৫ তারিখে আবার ডাক্তার দেখাই চিকিৎসা এখনও চলমান।’’
অসমাপ্ত চিকিৎসা, অব্যাহত যন্ত্রণা
আজও আবু মনসুর দীর্ঘ সময় বসে থাকতে পারেন না। শারীরিক কষ্ট তাকে গ্রাস করছে প্রতিদিন। কিন্তু টাকার অভাবে ভালো চিকিৎসা করাতে পারেননি। তার স্বপ্ন এখনো আছে—চিকিৎসা নিয়ে তিনি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবেন ।
সংগ্রামের উত্তরাধিকার
আবু মনসুর কেবল একজন আহত তরুণ নন; তিনি জুলাই আন্দোলনের এক জীবন্ত দলিল। তার শরীরের ক্ষত প্রমাণ করছে শেখ হাসিনার রাষ্ট্রীয় এবং রাজনৈতিক সন্ত্রাস আর অন্যায়ের নির্মম রূপ।
হামলাকারীদের পরিচয়
ঘটনার স্থান/পয়েন্ট/এলাকা: ধলিয়া বাজার। ফেনী সদর,ফেনী।
আক্রমণকারী/আহতকারীর সুনির্দিষ্ট নাম ও তথ্য :
তার উপর হামলাকারীদের মধ্যে নোমান, রাজু, বাদশা নামের কয়েকজনকে শনাক্ত করতে পেরেছেন তিনি। বাকিদের পরিচয় অজ্ঞাত হলেও তারা সকলে আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্য।
আহত হওয়ার সময়কাল: রাত ৮টা , ২৭ জুলাই ২৪ইং
চিকিৎসা সম্পর্কিত সামগ্রিক বর্ণনাঃ
পূর্বে গৃহীত চিকিৎসা:
ফেনী সাইকা হাসপাতাল এবং চট্টগ্রাম ক্যান্টলমেন্ট জেনারেল হাসপাতালে কিছু চিকিৎসা নেওয়া হয়।
• চিকিৎসার প্রস্তাবনা:
o পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আরো উন্নত চিকিৎসা নেয়া প্রয়োজন।
o চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সহায়তা প্রয়োজন।
কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে প্রস্তাবনাঃ
• বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা
• সরকারি চাকরি।
প্রস্তাবিত বাজেট
এক নজরে সকল আহতের সকল তথ্য
আহত ব্যক্তির পূর্ণ নাম: আবু মনসুর
জন্ম তারিখ: ০১/০৮/২০০৩
জন্মস্থান: ৩নং মঙ্গলকান্দি
পেশা / পদবি: ছাত্র
নিজ জেলা: ফেনী
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: ফেনী সরকারি কলেজ
ঠিকানা সংক্রান্ত তথ্য
স্থায়ী ঠিকানা
• গ্রাম: লক্ষিপুর
• ইউনিয়ন: ৩নং মঙ্গলকান্দি
• থানা: সোনাগাজী
• জেলা: ফেনী
বর্তমান ঠিকানা
• বাসা / মহল্লা: মাঃ হাসেম সাহেবের বাড়ী
• এলাকা: লক্ষিপুর
• থানাঃ ঐ
• জেলা: ঐ
পরিবারের সংক্ষিপ্ত তথ্য
• পিতার নাম: মোঃ আবু তাহের
• পিতার পেশা ও বয়স: চাকুরীজীবী, ৫০বছর
• মায়ের নাম: লায়লা বেগম
• মায়ের পেশা ও বয়স: গৃহিণী, ৪০ বছর
• মাসিক আয়: ১৫০০০
• আয়ের উৎস: বাবার চাকরি
• মোবাইল নম্বর: ০১৮৭১৪৮৮৫৮৮ (নিজ)
• আহত ব্যক্তির সাথে সম্পর্ক: পিতা
• পরিবারের সদস্য সংখ্যা: ৪
ভাই-বোনদের তথ্যঃ
ক্রম ভাই-বোন/সন্তানের নাম বয়স পেশা / প্রতিষ্ঠান শ্রেণি সম্পর্ক
১ আবু নাছের ২৪ চাকরি ---- ভাই
ফেনী জেলার সোনাগাজীর ৩নং মঙ্গলকান্দি ইউনিয়নের এক সাধারণ পরিবারে জন্ম নিয়েছিলেন এক সাহসী তরুণ—আবু মনসুর। জন্ম ২০০৩ সালের ১ আগষ্ট। এখন তিনি ফেনী সরকারি কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্র। ছোটবেলা থেকেই ছিলেন প্রতিবাদী, সত্যের পথে অটল। বাবা আবু তাহের চাকরিজীবী, মা লায়লা বেগম গৃহিনী। পরিবারের চার সদস্যের মধ্যে মনসুর ছিলেন সবার প্রাণ। শৈশব থেকেই মনসুর ছিলেন নির্ভীক। বইয়ের পাতায় তিনি খুঁজতেন জ্ঞান, আর জীবনের পথে খুঁজতেন ন্যায়। অন্যায়-অত্যাচার দেখলেই তার হৃদয় বিদ্রোহে ফেটে পড়ত। তাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে তিনি শুধু অংশগ্রহণই করেননি, বরং অন্যদেরও উদ্বুদ্ধ করেছিলেন।
যেভাবে সংগ্রামের সূচনাঃ
স্বৈরাচার শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশকে ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে পরিণত করে এবং জনগণকে মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করে। আলেম সমাজ, ইসলামপন্থী জনগণ ও বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের উপর ভয়াবহ দমন-পীড়ন চালায়। শাপলা চত্বর গণহত্যা, খুন-গুম, আয়নাঘর, বিনা ভোটের নির্বাচন ও কোটা জুলুম মানুষের ক্ষোভ আরও বাড়ায়।
২০১৮ সালে আন্দোলনের মুখে কোটা প্রথা বাতিল ঘোষণা করা হলেও ২০২৪ সালে প্রহসনমূলক রায়ের মাধ্যমে তা পুনরায় চালু করা হয়। হাসিনা সরকারের দীর্ঘ ১৭ বছরের জুলুম নির্যাতনে দেশের মানুষ ছিল চরম অতিষ্ঠ। ফলে কোটা নিয়ে তাদের প্রহসনের রায়ের বিরুদ্ধে ১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু হয় কোটা বিরোধী আন্দোলন। এ আন্দোলন দ্রুত সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। ছাত্রলীগ ও পুলিশের হামলায় ১৫ ও ১৬ জুলাইয়ের রক্তক্ষয়ী ঘটনার পর আন্দোলন কেবল কোটা-বিরোধী নয়, বরং সর্বস্তরের মানুষের মুক্তির আন্দোলনে রূপ নেয়।
ছাত্র-জনতা হত্যার বিচারের দাবিতে দেশব্যাপী প্রতিবাদ শুরু হয়। ফেনী-নোয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামীলীগ ও পুলিশের সম্মিলিত হামলায় বহু মানুষ শহীদ ও আহত হন। জুলাই বিপ্লবের এই দিনগুলোতে কোটা প্রথা বিলোপ এবং ছাত্র জনতা হত্যার বিচারের দাবিতে অসংখ্য তরুণ আত্মত্যাগ করে। তাদের ত্যাগ-তিতিক্ষার ধারাবাহিকতায় এ আন্দোলন শেষ পর্যন্ত হাসিনা সরকারের পতনের একদফা আন্দোলনে রূপ নেয়।
আন্দোলনের পথে
জুলাই আন্দোলনের প্রতিটি মিছিল-সংগ্রামে ছিলেন আবু মনসুর। বৈষম্যের বিরুদ্ধে তিনি শুধু নিজেই দাঁড়াননি, বরং তার বন্ধু-ভাইদেরও আন্দোলনে যোগ দিতে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। তার দৃঢ় কণ্ঠে প্রতিধ্বনিত হতো অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ।
তার কণ্ঠে উচ্চারিত হতো প্রতিবাদের ধ্বনি—
“বৈষম্যের শিকল ভাঙব, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াব।”
নির্মম হামলার রাত
২৭ জুলাই ২০২৪, রাত আনুমানিক আটটা। এশার নামাজ শেষে মামার দোকানে ফিরছিলেন মনসুর। ধলিয়া বাজারের অন্ধকারে ওঁত পেতে ছিল একদল সন্ত্রাসী। সন্ত্রাসী আওয়ামীলীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের ২০ জনের মতো বাহিনী তাকে ধরে নিয়ে যায় নির্জন স্থানে।
শুরু হয় নির্মম নির্যাতন। লোহার পাইপ দিয়ে আঘাতে আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত করে তার শরীর। ব্যথায় কাতর হয়ে মনসুরের শরীর নিস্তেজ হয়ে যাচ্ছিল ।
পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে ফেনী সাইকা হাসপাতালে নিয়ে যান। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে পাঠানো হয় চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট জেনারেল হাসপাতালে। সেখানে কিছু চিকিৎসা করানো হয় । আজও তিনি ব্যথা ও শারীরিক দুর্বলতায় ভুগছেন।
আহতের জবানিতের নির্মমতার বিবরণ-
আহত আবু মনসুর বলেন,
“ গত বছর জুলাই আন্দোলনে আমি সক্রিয় ভূমিকা পালন করি এবং আন্দোলনের পক্ষে অনলাইনে লেখালিখি চালিয়ে যাই। আন্দোলনরত অবস্থায় কিছু ছাত্রলীগ-যুবলীগ কর্মীরা আমাকে দেখে চিহ্নিত করে রাখে । এবং আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেয়।
২৭ জুলাই আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে রাত ৮:০০টার সময় আমাকে ৮নং ধলিয়া ইউনিয়ন এর আওয়ামীলীগের অবৈধ চেয়ারম্যান আনোয়ার আহম্মেদ মুন্সীর গুন্ডাবাহিনীর ২০-২৫ মিলে মটর সাইকেল করে তুলে নিয়ে যায় একটা নির্জন জায়গায়। সেখানে নিয়ে প্রথমে আমার মোবাইল চেক করে আমার আন্দোলনের সকল ছবি এবং ফেসবুক পোষ্ট ডিলেট করে। তারপর আমার মোবাইলটা ভেঙে ফেলে। এমন ভাবে ভাঙে যা আর ঠিক করা সম্ভব না।
তারপর শুরু করে চরম মারধর ও নির্যাতন। আমাকে মারতে মারতে মাটিতে ফেলে দেয়। তারপর উঠিয়ে আবার মারে । কেউ বুকে লাথি মারে ,কেউ এসএস পাইপ দিয়ে মেরুদণ্ডে পায়ে আঘাত করে। তাদের প্রত্যেক এর হাতে ছিলো অস্ত্র এবং এসএস পাইপ। আমি মনে মনে ভাবতেছি হয়তো আজকে আমার জীবনের শেষ দিন। তাদের উদ্দেশ্য ছিল মেরে ফেলবে হয়ত আল্লাহ্ হায়াত রেখেছেন। তাই হয়তো এখনও পৃথিবীর আলো দেখতে পারতেছি।
নিজাম হাজারী পুরো ফেনী জেলায় কোটা আন্দোলনে কারা কারা জড়িত ছিলো তাদের তালিকা তৈরি করে নির্যাতন করার পর পুলিশে দিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
বাজারের কিছু লোকের অনুরোধের কারনে হামলাকারীরা আমাকে পুলিশে দেয় নাই। ঐখান থেকে আমাকে নিয়ে যাওয়া হয় আমার আন্টির বাসায় । পরে সেখানে নিয়ে বাসায় ডাক্তার এনে আমাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। কারন ঐ সময় পুলিশের ভয়ে হাসপাতালে যেতে পারি নাই। ঐ সময়ও আওয়ামীলীগ সন্ত্রাসী বাহিনীরা আমাকে বাড়িতে এসে খোঁজ করতো । হাসিনা পদত্যাগ করার পর ফেনী সাইকা তে গিয়ে চিকিৎসা নিয়ে থাকি। কিন্তু কিছু দিন যাওয়ার পর শরীর আরো বেশি খারাপ হতে শুরু করে। পরে চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট গিয়ে ডাঃ মেজর (অবঃ) মনির আহম্মেদ স্যার থেকে চিকিৎসা নিয়ে থাকি। এরপর কিছু দিন ভালো ছিলাম। কিন্তু আবার শরীর খারাপ হতে শুরু করলো। পিঠেও মেরুদণ্ডে আবারও প্রচণ্ড ব্যাথা শুরু হয়। বসতে পারি না , দাড়াতে পারি না এবং বুকে প্রচণ্ড ব্যাথা করে। গত ৩০-৮-২৫ তারিখে আবার ডাক্তার দেখাই চিকিৎসা এখনও চলমান।’’
অসমাপ্ত চিকিৎসা, অব্যাহত যন্ত্রণা
আজও আবু মনসুর দীর্ঘ সময় বসে থাকতে পারেন না। শারীরিক কষ্ট তাকে গ্রাস করছে প্রতিদিন। কিন্তু টাকার অভাবে ভালো চিকিৎসা করাতে পারেননি। তার স্বপ্ন এখনো আছে—চিকিৎসা নিয়ে তিনি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবেন ।
সংগ্রামের উত্তরাধিকার
আবু মনসুর কেবল একজন আহত তরুণ নন; তিনি জুলাই আন্দোলনের এক জীবন্ত দলিল। তার শরীরের ক্ষত প্রমাণ করছে শেখ হাসিনার রাষ্ট্রীয় এবং রাজনৈতিক সন্ত্রাস আর অন্যায়ের নির্মম রূপ।
হামলাকারীদের পরিচয়
ঘটনার স্থান/পয়েন্ট/এলাকা: ধলিয়া বাজার। ফেনী সদর,ফেনী।
আক্রমণকারী/আহতকারীর সুনির্দিষ্ট নাম ও তথ্য :
তার উপর হামলাকারীদের মধ্যে নোমান, রাজু, বাদশা নামের কয়েকজনকে শনাক্ত করতে পেরেছেন তিনি। বাকিদের পরিচয় অজ্ঞাত হলেও তারা সকলে আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্য।
আহত হওয়ার সময়কাল: রাত ৮টা , ২৭ জুলাই ২৪ইং
চিকিৎসা সম্পর্কিত সামগ্রিক বর্ণনাঃ
পূর্বে গৃহীত চিকিৎসা:
ফেনী সাইকা হাসপাতাল এবং চট্টগ্রাম ক্যান্টলমেন্ট জেনারেল হাসপাতালে কিছু চিকিৎসা নেওয়া হয়।
• চিকিৎসার প্রস্তাবনা:
o পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আরো উন্নত চিকিৎসা নেয়া প্রয়োজন।
o চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সহায়তা প্রয়োজন।
কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে প্রস্তাবনাঃ
• বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা
• সরকারি চাকরি।
প্রস্তাবিত বাজেট
এক নজরে সকল আহতের সকল তথ্য
আহত ব্যক্তির পূর্ণ নাম: আবু মনসুর
জন্ম তারিখ: ০১/০৮/২০০৩
জন্মস্থান: ৩নং মঙ্গলকান্দি
পেশা / পদবি: ছাত্র
নিজ জেলা: ফেনী
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: ফেনী সরকারি কলেজ
ঠিকানা সংক্রান্ত তথ্য
স্থায়ী ঠিকানা
• গ্রাম: লক্ষিপুর
• ইউনিয়ন: ৩নং মঙ্গলকান্দি
• থানা: সোনাগাজী
• জেলা: ফেনী
বর্তমান ঠিকানা
• বাসা / মহল্লা: মাঃ হাসেম সাহেবের বাড়ী
• এলাকা: লক্ষিপুর
• থানাঃ ঐ
• জেলা: ঐ
পরিবারের সংক্ষিপ্ত তথ্য
• পিতার নাম: মোঃ আবু তাহের
• পিতার পেশা ও বয়স: চাকুরীজীবী, ৫০বছর
• মায়ের নাম: লায়লা বেগম
• মায়ের পেশা ও বয়স: গৃহিণী, ৪০ বছর
• মাসিক আয়: ১৫০০০
• আয়ের উৎস: বাবার চাকরি
• মোবাইল নম্বর: ০১৮৭১৪৮৮৫৮৮ (নিজ)
• আহত ব্যক্তির সাথে সম্পর্ক: পিতা
• পরিবারের সদস্য সংখ্যা: ৪
ভাই-বোনদের তথ্যঃ
ক্রম ভাই-বোন/সন্তানের নাম বয়স পেশা / প্রতিষ্ঠান শ্রেণি সম্পর্ক
১ আবু নাছের ২৪ চাকরি ---- ভাই
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍
🔍
🔍
🔍
🔍
🔍
🔍
🔍