সাহেদুল ইসলাম চৌধুরী
জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
পেশা: বেকার
🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা
সাহেদুল ইসলাম চৌধুরীর জীবন পরিচয়
সাহেদুল ইসলাম চৌধুরী জন্মগ্রহণ করেন ১ জানুয়ারি ২০০৫ সালে কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার টেংগারবাম গ্রামে। তার পিতা, মাহাবুবুল আলম, একজন শিক্ষক (বয়স ৫৬) এবং মাতার নাম মোছাঃ তানজিনা চৌধুরী, গৃহিণী (বয়স ৪৭)। সাহেদের পরিবারে মোট চারজন সদস্য রয়েছেন। তিনি এক ছোট ভাই, শরিফুল ইসলাম (২৭), এবং এক বোন, মাহফুজা চৌধুরী (২৪)। সাহেদুলের শৈশব কেটে গেছে গ্রামীণ পরিবেশে, যেখানে সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেই তিনি বড় হয়েছেন।
ছাত্রজীবন থেকেই সাহেদুল আলোর দিকে ঝুঁকেছিলেন; পড়াশোনার মাধ্যমে তিনি ভালো জীবনের স্বপ্ন দেখতেন। কিন্তু ৪ আগস্ট ২০২৪ সালে ফেনী মহিপালে ছাত্র আন্দোলনে অংশগ্রহণের সময় আওয়ামী সন্ত্রাসী বাহিনীর আক্রমণে তিনি গুরুতর আহত হন। তার শরীরে ১৮-২০ টি বুলেট লাগার ফলে তিনি গুরুতর শারীরিক কষ্ট ভোগ করেন। পরে ফেনী সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু হয়, মোট ১৪ টি বুলেট বের করা হয়েছে।
আহত অবস্থার পর সাহেদুলের চোখ, নাক ও মস্তিষ্কে সমস্যা তৈরি হয়েছে, যার জন্য উন্নত চিকিৎসা ও পুনর্বাসন অপরিহার্য। তিনি পুনরায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, শিক্ষা চালিয়ে যাওয়া এবং ভবিষ্যতে চাকুরী বা স্কলারশিপের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার আশা রাখেন। সাহেদুল ইসলাম আজও তার স্বপ্ন পূরণের সংগ্রামে অটল।
বিভীষিকাময় আন্দোলন ও আগস্টঃ
২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বাংলাদেশের ইতিহাসে এক ভয়ংকর অধ্যায় হয়ে থাকবে। সেদিন ফেনীর মহিপাল এলাকায় শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে সমবেত হয়েছিল এক দফা দাবিকে ঘিরে। হাসিনার পদত্যাগই তাাদের প্রধান দাবি ছিলো। তাদের হাতে অস্ত্র ছিল না, ছিল শুধু স্লোগান, স্বপ্ন আর সাহস। হাজারো শিক্ষার্থী বুকের ভেতর আশার প্রদীপ জ্বালিয়ে বলছিল—“এক দফা এক দাবি।” এই দৃশ্যই আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয় ক্ষমতালোভী স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারের ভেতরে।
সাহেদুল ইসলাম চৌধুরীও ছিলেন সেই সমাবেশে। কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার টেংগারবাম গ্রামের এই তরুণ সকালেই মিছিলের সঙ্গে ফেনী মহিপালে যোগ দেন। তিনি সাধারণ একজন বেকার যুবক, কিন্তু হৃদয়ে ছিল শিক্ষার আলো আর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার ইচ্ছা। দুপুর দুইটার দিকে যখন স্লোগান ক্রমে তীব্র হতে থাকে, তখনই নরপিশাচ আওয়ামী লীগ, কুখ্যাত যুবলীগ ও দাগি ছাত্রলীগের সশস্ত্র বাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়ে আন্দোলনকারীদের ওপর।
এলোপাতাড়ি গুলি, টিয়ারশেল ও লাঠিচার্জে মুহূর্তেই শান্তিপূর্ণ মিছিল পরিণত হয় রক্তাক্ত দৃশ্যে। আন্দোলনকারীরা কেউ পালানোর চেষ্টা করছে, কেউ আবার আহত সহযোদ্ধাকে বাঁচাতে জীবন বাজি রেখে এগিয়ে যাচ্ছে। সাহেদুলও প্রথমে আহতদের সাহায্য করতে চেষ্টা করেন। কিন্তু হঠাৎই রক্তপিপাসু সন্ত্রাসীদের গুলিতে তার শরীর ঝাঁজরা হয়ে যায়—১৮-২০টি বুলেট বিদ্ধ হয় তার শরীরে। তিনি পিছু হটে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু ততক্ষণে রক্তে ভিজে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
নৃশংস খুনি আওয়ামী বাহিনী শুধু গুলি চালিয়েই থেমে থাকেনি। তাদের সহযোগী হিংস্র যুবলীগ ও ভয়ংকর ছাত্রলীগ দস্যুরা লাঠি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে নিরস্ত্র তরুণদের ওপর হামলে পড়ে। কেউ মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে এসেছিল, কেউ রিকশা চালাচ্ছিল—কিন্তু কারো প্রতি দয়া দেখানো হয়নি। নির্দয় হামলায় প্রাণ হারান সাধারণ রিকশাচালকও। পুলিশের ভূমিকাও ছিল অমানবিক; জনগণের রক্ষক হয়ে তারা পরিণত হয়েছিল জনগণের জল্লাদে।
অসংখ্য পরিবার সেদিন দুঃস্বপ্নের মতো মুহূর্ত পার করেছে। মা হারিয়েছে সন্তান, বোন কেঁদেছে ভাইয়ের জন্য, আর তরুণরা আজীবনের জন্য পঙ্গুত্ব বরণ করেছে। সাহেদুলকে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেনী সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ১৪টি বুলেট বের করা হলেও শরীরে এখনও গুলি রয়ে গেছে। নাকের গুলি অপসারণের পর শ্বাসকষ্ট হচ্ছে, মাথা ব্যথা ও স্মৃতিভ্রংশ তাকে কাবু করে ফেলেছে।
এই রক্তাক্ত আগস্ট প্রমাণ করে দিয়েছে—নিষ্ঠুর আওয়ামী লীগ, নৃশংস যুবলীগ ও হিংস্র ছাত্রলীগের মতো কুখ্যাত শক্তি ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে মানুষের রক্ত ঝরাতে দ্বিধা করে না। তারা রক্তপিপাসু সন্ত্রাসী হিসেবে ইতিহাসে লিপিবদ্ধ হবে।
কিন্তু একই সঙ্গে এটি প্রমাণ করেছে—অসীম সাহসী তরুণরাই প্রকৃত ইতিহাস রচনা করে। সাহেদুলের মতো হাজারো আহত তরুণ আজও দাঁড়িয়ে আছে ন্যায়ের সংগ্রামের প্রতীক হয়ে। একদিন ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গর্ব করে বলবে—তাদের ভাইরা বুক পেতে গুলি খেয়েছিল, তাদের ত্যাগের রক্ত দিয়েই নির্মিত হয়েছিল নতুন ভোরের সূর্য।
চিকিৎসা ও আহত অবস্থারঃ
সাহেদুল ইসলাম চৌধুরী ৪ আগস্ট ২০২৪ তারিখে ফেনী মহিপালে ছাত্র আন্দোলনে অংশগ্রহণকালে নৃশংস হামলার শিকার হন। হিংস্র আওয়ামী লীগ, কুখ্যাত যুবলীগ ও দাগি ছাত্রলীগের সশস্ত্র আক্রমণে তার শরীরে একাধিক বুলেট লাগে। সেই সময় তার বাম চোখের উপরে রাবার বুলেট লাগে, যা তার দৃষ্টি শক্তি হ্রাস করে এবং স্মরণশক্তিতেও প্রভাব ফেলে। মোট ১৮–২০টি বুলেট শরীরে প্রবেশ করেছিল। তিনি আহত অবস্থায় দ্রুত ফেনী সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ৬টি বুলেট সরানো হয়, বাকি বুলেটগুলো এখনও শরীরে রয়ে গেছে।
আগের চিকিৎসা থেকে জানা যায়, সাহেদুলকে মোট ১৪টি বুলেট বের করতে হয়েছে। এছাড়া তিনি প্রয়োজনীয় ওষুধ ও মেডিসিন গ্রহণ করেছেন, যা আংশিকভাবে শারীরিক পুনর্বাসনে সহায়তা করেছে। তবু মাথা ব্যথা, নাকের শ্বাসকষ্ট ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ব্যথা এখনো তাকে কাবু করে রাখে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, উন্নত চিকিৎসা ও নিয়মিত চিকিৎসা ছাড়া পূর্ণ সুস্থতা অর্জন সম্ভব নয়। দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক ও মানসিক পুনর্বাসনের প্রয়োজন রয়েছে।
পরিবারের আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে উন্নত চিকিৎসা ও নিরাপদ পরিবেশে পর্যাপ্ত যত্ন দেওয়া এখনও সম্ভব হয়নি। পুনর্বাসন কার্যক্রম ছাড়া তার দৈনন্দিন জীবন স্বাভাবিকভাবে চালানো এবং ভবিষ্যতে কর্মজীবনে ফিরে আসা ঝুঁকিপূর্ণ। তাই উন্নত চিকিৎসা ও পর্যাপ্ত যত্ন এখন অত্যাবশ্যক।
সাহেদুল ইসলামের প্রস্তাবনাঃ
ফরহাদের শরীরে ৪ আগস্ট ২০২৪-এর হামলার সময় একাধিক বুলেট লাগে। পরে কিছু বুলেট অপসারণ করা হলেও মেরুদণ্ডে এখনও তিনটি বুলেট রয়ে গেছে। বুলেট অপসারণের পরও তাকে নিয়মিত মাথা ব্যথা ও নাকের বুলেট বের হওয়ার পর শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দিয়েছে। তাই উন্নত চিকিৎসা অত্যন্ত জরুরি, যাতে তার দৈনন্দিন জীবন স্বাভাবিকভাবে চলতে পারে এবং শারীরিক পুনর্বাসন সম্পূর্ণ হয়।
পূর্বে ফরহাদ একজন শিক্ষার্থী ছিলেন। আঘাতের কারণে তার পড়াশোনা স্থগিত হয়ে গেছে, যা তার ভবিষ্যত পরিকল্পনা ও পেশাগত জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। তাই নিরাপদ পরিবেশে শিক্ষাজীবন পুনরায় শুরু করা এবং শারীরিক পুনর্বাসনের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করা আবশ্যক।
ফরহাদ চায়, সরকার বা সংস্থা তাকে স্কলারশীপ বা চাকুরীর মাধ্যমে সহায়তা প্রদান করে, যাতে সে স্বাভাবিক জীবন ফিরে পায়, সামাজিক ও পেশাগত জীবনে পুনরায় যোগ দিতে পারে এবং তার স্বপ্ন পূরণ করতে সক্ষম হয়।
একনজরে তথ্য:
নাম: সাহেদুল ইসলাম চৌধুরী
জন্ম: ১ জানুয়ারি ২০০৫, কুমিল্লা
পেশা: বেকার
মোবাইল নম্বার: ০১৭১৫৪৫১০০১
ঘটনা: ৪ আগস্ট ২০২৪, ফেনী মহিপাল; আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সশস্ত্র হামলায় গুলিবিদ্ধ
আঘাত: বাম চোখ, মাথা, শরীরের বিভিন্ন অংশে ১৮–২০ টি বুলেট; এখনো কিছু বুলেট রয়ে গেছে
চিকিৎসা: ফেনী সরকারি হাসপাতাল; মোট ১৪ টি বুলেট বের করা হয়েছে; মেডিসিন সেবন করা হয়েছে; উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন
পরিবার: ৪ সদস্য
পিতা: মাহাবুবুল আলম, শিক্ষক, বয়স ৫৬
মা: মোছাঃ তানজিনা চৌধুরী, গৃহিণী, বয়স ৪৭
ভাই-বোন: শরিফুল ইসলাম (ভাই, বয়স ২৭, চাকুরী), মাহফুজা চৌধুরী (বোন, বয়স ২৪, গৃহিণী)
পুনর্বাসন প্রয়োজন: উন্নত চিকিৎসা, শারীরিক পুনর্বাসন, নিরাপদ শিক্ষা ও স্কলারশীপ/চাকুরীর মাধ্যমে কর্মসংস্থান
সাহেদুল ইসলাম চৌধুরী জন্মগ্রহণ করেন ১ জানুয়ারি ২০০৫ সালে কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার টেংগারবাম গ্রামে। তার পিতা, মাহাবুবুল আলম, একজন শিক্ষক (বয়স ৫৬) এবং মাতার নাম মোছাঃ তানজিনা চৌধুরী, গৃহিণী (বয়স ৪৭)। সাহেদের পরিবারে মোট চারজন সদস্য রয়েছেন। তিনি এক ছোট ভাই, শরিফুল ইসলাম (২৭), এবং এক বোন, মাহফুজা চৌধুরী (২৪)। সাহেদুলের শৈশব কেটে গেছে গ্রামীণ পরিবেশে, যেখানে সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেই তিনি বড় হয়েছেন।
ছাত্রজীবন থেকেই সাহেদুল আলোর দিকে ঝুঁকেছিলেন; পড়াশোনার মাধ্যমে তিনি ভালো জীবনের স্বপ্ন দেখতেন। কিন্তু ৪ আগস্ট ২০২৪ সালে ফেনী মহিপালে ছাত্র আন্দোলনে অংশগ্রহণের সময় আওয়ামী সন্ত্রাসী বাহিনীর আক্রমণে তিনি গুরুতর আহত হন। তার শরীরে ১৮-২০ টি বুলেট লাগার ফলে তিনি গুরুতর শারীরিক কষ্ট ভোগ করেন। পরে ফেনী সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু হয়, মোট ১৪ টি বুলেট বের করা হয়েছে।
আহত অবস্থার পর সাহেদুলের চোখ, নাক ও মস্তিষ্কে সমস্যা তৈরি হয়েছে, যার জন্য উন্নত চিকিৎসা ও পুনর্বাসন অপরিহার্য। তিনি পুনরায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, শিক্ষা চালিয়ে যাওয়া এবং ভবিষ্যতে চাকুরী বা স্কলারশিপের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার আশা রাখেন। সাহেদুল ইসলাম আজও তার স্বপ্ন পূরণের সংগ্রামে অটল।
বিভীষিকাময় আন্দোলন ও আগস্টঃ
২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বাংলাদেশের ইতিহাসে এক ভয়ংকর অধ্যায় হয়ে থাকবে। সেদিন ফেনীর মহিপাল এলাকায় শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে সমবেত হয়েছিল এক দফা দাবিকে ঘিরে। হাসিনার পদত্যাগই তাাদের প্রধান দাবি ছিলো। তাদের হাতে অস্ত্র ছিল না, ছিল শুধু স্লোগান, স্বপ্ন আর সাহস। হাজারো শিক্ষার্থী বুকের ভেতর আশার প্রদীপ জ্বালিয়ে বলছিল—“এক দফা এক দাবি।” এই দৃশ্যই আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয় ক্ষমতালোভী স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারের ভেতরে।
সাহেদুল ইসলাম চৌধুরীও ছিলেন সেই সমাবেশে। কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার টেংগারবাম গ্রামের এই তরুণ সকালেই মিছিলের সঙ্গে ফেনী মহিপালে যোগ দেন। তিনি সাধারণ একজন বেকার যুবক, কিন্তু হৃদয়ে ছিল শিক্ষার আলো আর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার ইচ্ছা। দুপুর দুইটার দিকে যখন স্লোগান ক্রমে তীব্র হতে থাকে, তখনই নরপিশাচ আওয়ামী লীগ, কুখ্যাত যুবলীগ ও দাগি ছাত্রলীগের সশস্ত্র বাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়ে আন্দোলনকারীদের ওপর।
এলোপাতাড়ি গুলি, টিয়ারশেল ও লাঠিচার্জে মুহূর্তেই শান্তিপূর্ণ মিছিল পরিণত হয় রক্তাক্ত দৃশ্যে। আন্দোলনকারীরা কেউ পালানোর চেষ্টা করছে, কেউ আবার আহত সহযোদ্ধাকে বাঁচাতে জীবন বাজি রেখে এগিয়ে যাচ্ছে। সাহেদুলও প্রথমে আহতদের সাহায্য করতে চেষ্টা করেন। কিন্তু হঠাৎই রক্তপিপাসু সন্ত্রাসীদের গুলিতে তার শরীর ঝাঁজরা হয়ে যায়—১৮-২০টি বুলেট বিদ্ধ হয় তার শরীরে। তিনি পিছু হটে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু ততক্ষণে রক্তে ভিজে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
নৃশংস খুনি আওয়ামী বাহিনী শুধু গুলি চালিয়েই থেমে থাকেনি। তাদের সহযোগী হিংস্র যুবলীগ ও ভয়ংকর ছাত্রলীগ দস্যুরা লাঠি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে নিরস্ত্র তরুণদের ওপর হামলে পড়ে। কেউ মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে এসেছিল, কেউ রিকশা চালাচ্ছিল—কিন্তু কারো প্রতি দয়া দেখানো হয়নি। নির্দয় হামলায় প্রাণ হারান সাধারণ রিকশাচালকও। পুলিশের ভূমিকাও ছিল অমানবিক; জনগণের রক্ষক হয়ে তারা পরিণত হয়েছিল জনগণের জল্লাদে।
অসংখ্য পরিবার সেদিন দুঃস্বপ্নের মতো মুহূর্ত পার করেছে। মা হারিয়েছে সন্তান, বোন কেঁদেছে ভাইয়ের জন্য, আর তরুণরা আজীবনের জন্য পঙ্গুত্ব বরণ করেছে। সাহেদুলকে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেনী সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ১৪টি বুলেট বের করা হলেও শরীরে এখনও গুলি রয়ে গেছে। নাকের গুলি অপসারণের পর শ্বাসকষ্ট হচ্ছে, মাথা ব্যথা ও স্মৃতিভ্রংশ তাকে কাবু করে ফেলেছে।
এই রক্তাক্ত আগস্ট প্রমাণ করে দিয়েছে—নিষ্ঠুর আওয়ামী লীগ, নৃশংস যুবলীগ ও হিংস্র ছাত্রলীগের মতো কুখ্যাত শক্তি ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে মানুষের রক্ত ঝরাতে দ্বিধা করে না। তারা রক্তপিপাসু সন্ত্রাসী হিসেবে ইতিহাসে লিপিবদ্ধ হবে।
কিন্তু একই সঙ্গে এটি প্রমাণ করেছে—অসীম সাহসী তরুণরাই প্রকৃত ইতিহাস রচনা করে। সাহেদুলের মতো হাজারো আহত তরুণ আজও দাঁড়িয়ে আছে ন্যায়ের সংগ্রামের প্রতীক হয়ে। একদিন ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গর্ব করে বলবে—তাদের ভাইরা বুক পেতে গুলি খেয়েছিল, তাদের ত্যাগের রক্ত দিয়েই নির্মিত হয়েছিল নতুন ভোরের সূর্য।
চিকিৎসা ও আহত অবস্থারঃ
সাহেদুল ইসলাম চৌধুরী ৪ আগস্ট ২০২৪ তারিখে ফেনী মহিপালে ছাত্র আন্দোলনে অংশগ্রহণকালে নৃশংস হামলার শিকার হন। হিংস্র আওয়ামী লীগ, কুখ্যাত যুবলীগ ও দাগি ছাত্রলীগের সশস্ত্র আক্রমণে তার শরীরে একাধিক বুলেট লাগে। সেই সময় তার বাম চোখের উপরে রাবার বুলেট লাগে, যা তার দৃষ্টি শক্তি হ্রাস করে এবং স্মরণশক্তিতেও প্রভাব ফেলে। মোট ১৮–২০টি বুলেট শরীরে প্রবেশ করেছিল। তিনি আহত অবস্থায় দ্রুত ফেনী সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ৬টি বুলেট সরানো হয়, বাকি বুলেটগুলো এখনও শরীরে রয়ে গেছে।
আগের চিকিৎসা থেকে জানা যায়, সাহেদুলকে মোট ১৪টি বুলেট বের করতে হয়েছে। এছাড়া তিনি প্রয়োজনীয় ওষুধ ও মেডিসিন গ্রহণ করেছেন, যা আংশিকভাবে শারীরিক পুনর্বাসনে সহায়তা করেছে। তবু মাথা ব্যথা, নাকের শ্বাসকষ্ট ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ব্যথা এখনো তাকে কাবু করে রাখে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, উন্নত চিকিৎসা ও নিয়মিত চিকিৎসা ছাড়া পূর্ণ সুস্থতা অর্জন সম্ভব নয়। দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক ও মানসিক পুনর্বাসনের প্রয়োজন রয়েছে।
পরিবারের আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে উন্নত চিকিৎসা ও নিরাপদ পরিবেশে পর্যাপ্ত যত্ন দেওয়া এখনও সম্ভব হয়নি। পুনর্বাসন কার্যক্রম ছাড়া তার দৈনন্দিন জীবন স্বাভাবিকভাবে চালানো এবং ভবিষ্যতে কর্মজীবনে ফিরে আসা ঝুঁকিপূর্ণ। তাই উন্নত চিকিৎসা ও পর্যাপ্ত যত্ন এখন অত্যাবশ্যক।
সাহেদুল ইসলামের প্রস্তাবনাঃ
ফরহাদের শরীরে ৪ আগস্ট ২০২৪-এর হামলার সময় একাধিক বুলেট লাগে। পরে কিছু বুলেট অপসারণ করা হলেও মেরুদণ্ডে এখনও তিনটি বুলেট রয়ে গেছে। বুলেট অপসারণের পরও তাকে নিয়মিত মাথা ব্যথা ও নাকের বুলেট বের হওয়ার পর শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দিয়েছে। তাই উন্নত চিকিৎসা অত্যন্ত জরুরি, যাতে তার দৈনন্দিন জীবন স্বাভাবিকভাবে চলতে পারে এবং শারীরিক পুনর্বাসন সম্পূর্ণ হয়।
পূর্বে ফরহাদ একজন শিক্ষার্থী ছিলেন। আঘাতের কারণে তার পড়াশোনা স্থগিত হয়ে গেছে, যা তার ভবিষ্যত পরিকল্পনা ও পেশাগত জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। তাই নিরাপদ পরিবেশে শিক্ষাজীবন পুনরায় শুরু করা এবং শারীরিক পুনর্বাসনের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করা আবশ্যক।
ফরহাদ চায়, সরকার বা সংস্থা তাকে স্কলারশীপ বা চাকুরীর মাধ্যমে সহায়তা প্রদান করে, যাতে সে স্বাভাবিক জীবন ফিরে পায়, সামাজিক ও পেশাগত জীবনে পুনরায় যোগ দিতে পারে এবং তার স্বপ্ন পূরণ করতে সক্ষম হয়।
একনজরে তথ্য:
নাম: সাহেদুল ইসলাম চৌধুরী
জন্ম: ১ জানুয়ারি ২০০৫, কুমিল্লা
পেশা: বেকার
মোবাইল নম্বার: ০১৭১৫৪৫১০০১
ঘটনা: ৪ আগস্ট ২০২৪, ফেনী মহিপাল; আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সশস্ত্র হামলায় গুলিবিদ্ধ
আঘাত: বাম চোখ, মাথা, শরীরের বিভিন্ন অংশে ১৮–২০ টি বুলেট; এখনো কিছু বুলেট রয়ে গেছে
চিকিৎসা: ফেনী সরকারি হাসপাতাল; মোট ১৪ টি বুলেট বের করা হয়েছে; মেডিসিন সেবন করা হয়েছে; উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন
পরিবার: ৪ সদস্য
পিতা: মাহাবুবুল আলম, শিক্ষক, বয়স ৫৬
মা: মোছাঃ তানজিনা চৌধুরী, গৃহিণী, বয়স ৪৭
ভাই-বোন: শরিফুল ইসলাম (ভাই, বয়স ২৭, চাকুরী), মাহফুজা চৌধুরী (বোন, বয়স ২৪, গৃহিণী)
পুনর্বাসন প্রয়োজন: উন্নত চিকিৎসা, শারীরিক পুনর্বাসন, নিরাপদ শিক্ষা ও স্কলারশীপ/চাকুরীর মাধ্যমে কর্মসংস্থান
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍