মো. শুভ হোসেন
জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
পেশা : ছাত্র
🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা
জন্ম ও বেড়ে ওঠা
মো. শুভ হোসেন ২০০০ সালের ১২ ডিসেম্বর লক্ষ্মীপুর জেলার সদর উপজেলার ধর্মপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। গ্রামবাংলার নিসর্গ প্রকৃতির কোলে তার শৈশব কেটেছে। ধানের ক্ষেত, খালের পানি আর গ্রামের খেলার মাঠই ছিল তার জীবনের প্রথম শিক্ষা। ছোটবেলা থেকেই শুভ ছিল শান্ত-স্বভাবের, মেধাবী ও স্বপ্নবাজ। গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু করে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের প্রতিটি ধাপেই তিনি ভালো ফলাফল করেছেন। শুভের বাবা মাওলানা আকবর জীবিকার জন্য বহু বছর ধরে প্রবাসে আছেন। সংসারের দায়িত্ব একাই বহন করেছেন মা রাবেয়া আক্তার। মায়ের স্নেহ, বাবার প্রবাসী জীবনের ত্যাগ আর বড় ভাই শরীফ হোসেনের উৎসাহেই শুভ উচ্চশিক্ষার জন্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। গ্রামের সাধারণ পরিবার হলেও শুভর স্বপ্ন ছিল অনেক বড়। তিনি চেয়েছিলেন মেধা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে এবং সমাজে অবদান রাখতে। পরিবারের আট সদস্যের ভরসা হয়ে উঠতে চাইতেন তিনি।
আন্দোলনের প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশে সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে কোটার অসঙ্গতি বিদ্যমান ছিল। ২০১৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা দেশের শিক্ষার্থীরা এই কোটা সংস্কারের দাবিতে রাস্তায় নেমেছিল। সেসময় ছাত্রদের রক্তে ভিজেছিল রাজপথ। যদিও সরকার অস্থায়ীভাবে কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তবে স্থায়ী সমাধান হয়নি। ২০২৪ সালে আবারও শিক্ষার্থীরা ন্যায্য দাবিতে আন্দোলনে নেমে আসে। আন্দোলনের মূল দাবি ছিল একটাই—“মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ”। কিন্তু সরকার এই দাবি মেনে না নিয়ে বরং দমননীতির আশ্রয় নেয়। পুলিশ, বিজিবি, ছাত্রলীগ-যুবলীগ মিলে শিক্ষার্থীদের উপর চড়াও হয়। স্বৈরাচারী সরকার ছাত্রদের ওপর সরাসরি গুলি,রাবার বুলেট এবং টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে সরাসরি পুলিশ সামনে থেকে গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা করে। এতে ক্ষোভে ফেটে পড়েন শিক্ষার্থীরা এবং তাদের সাথে যোগদান করেন সাধারণ কর্মজীবী, কৃষক, শ্রমজীবী এবং ব্যবসায়ী সহ সকল পেশার মানুষ। ১৬ই জুলাই চট্টগ্রামেও ব্যাপকভাবে ছাত্রদের সাথে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশ সরাসরি গুলি চালায়। পুলিশকে সার্বিকভাবে সহায়তা করে আওয়ামী লীগ যুবলীগ এবং ছাত্রলীগের কর্মীরা। ১৬ জুলাই ২০২৪ সাল। সেদিন চট্রগ্রামের ছাত্রজনতা ৯ দফা দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। সকাল থেকেই বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা একত্র হতে থাকে। শুধু শিক্ষার্থীই নয়, শ্রমিক, কৃষক, দিনমজুর, এমনকি সাধারণ মানুষও এই মিছিলে যোগ দেয়। আন্দোলনের মূল স্লোগান ছিল ৯ দফা দাবি মেনে নেওয়া।
আহত হওয়ার ঘটনাবলি
মিছিল শান্তিপূর্ণভাবেই শুরু হয়েছিল। শিক্ষার্থীরা ব্যানার-ফেস্টুন হাতে নিয়ে অগ্রসর হতে থাকে। শুভও তার সহপাঠীদের সঙ্গে মিছিলে যোগ দিয়েছিল। বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে সে মনে মনে ভাবছিল—“এই আন্দোলন যদি সফল হয়, তাহলে ভবিষ্যতে মেধার সঠিক মূল্যায়ন হবে।” কিন্তু হঠাৎ করেই পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। আওয়ামী লীগের ছাত্রলীগ-যুবলীগ ক্যাডাররা দেশি-বিদেশি অস্ত্র হাতে মিছিলে হামলা চালায়। সাথে যোগ দেয় পুলিশ ও বিজিবি। টিয়ারশেল নিক্ষেপ, লাঠিচার্জ আর গুলিবর্ষণ শুরু হয়। ভীতিকর সেই মুহূর্তে রাজপথ পরিণত হয় রক্তক্ষেত্রে। শুভ বুঝে ওঠার আগেই মাথার কাছে বিকট শব্দ হয়, চোখে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করে। গুলি তার বাম চোখের ভেতর দিয়ে প্রবেশ করে। চারপাশ অন্ধকার হয়ে আসে। রক্তে ভেসে যায় মুখমণ্ডল। বন্ধুরা দৌড়ে এসে তাকে তুলে নেয় এবং দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যায়।
সেদিন অসংখ্য ছাত্র নিহত ও আহত হয়। আর শুভর জীবনও অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়।
চিকিৎসা
শুভকে প্রথমে ঢাকার চক্ষু ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। ১৬ জুলাই তার প্রথম অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। ডাক্তাররা সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও বাম চোখ সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে যায়। চিকিৎসকরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন—“বাম চোখে আর কোনোদিন দৃষ্টি ফিরে আসবে না।” পরে তাকে সিএমএইচে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে কনসালটেন্সি ও ফলোআপ চিকিৎসা চলতে থাকে। চিকিৎসকরা সতর্ক করেন যে, ডান চোখেও ভবিষ্যতে জটিলতা দেখা দিতে পারে। সারাজীবন ওষুধ ও আই ড্রপ ব্যবহার করতে হবে। একজন তরুণ, যে সদ্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছিল, যার স্বপ্ন ছিল শিক্ষক হয়ে সমাজ গড়ে তোলা—সে এখন আংশিক অন্ধত্ব নিয়ে জীবনযুদ্ধে নামতে বাধ্য হলো।
পুনর্বাসনের সংগ্রাম
চিকিৎসার পর শুভর জীবন থমকে যায়নি। যদিও তার চোখের আলো নিভে গেছে আংশিকভাবে, তবে মনের আলো এখনো জ্বলছে। সে এখনো পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। পরিবার তাকে শিক্ষকতা করার পরামর্শ দিয়েছে—যাতে তার সীমিত শারীরিক অবস্থাতেও জীবনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়। কিন্তু সমাজে তার জন্য সুযোগ পাওয়া সহজ নয়। চোখের সমস্যার কারণে স্বাভাবিকভাবে পড়াশোনা ও লেখাপড়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবুও শুভ চেষ্টা করছে হার না মানতে।
আজও তার মায়ের চোখে অশ্রু ঝরে, বাবার প্রবাসী কষ্ট বেড়ে যায়, ভাইবোনেরা শঙ্কায় থাকে। কিন্তু শুভ মনে মনে প্রতিজ্ঞা করেছে—“যত বাধাই আসুক, আমি হার মানব না। আমার চোখের আলো নিভলেও আমার ভেতরের আলো নিভবে না।”
তথ্য কণিকা
নাম : মো. শুভ হোসেন
জন্ম তারিখ : ১২ ডিসেম্বর ২০০১
জন্মস্থান : লক্ষ্মীপুর
পেশা : ছাত্র
প্রতিষ্ঠান : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
নিজ জেলা : লক্ষ্মীপুর
স্থায়ী ঠিকানা ও বর্তমান ঠিকানা :
গ্রাম : ধর্মপুর
ইউনিয়ন : তেওয়ারীগঞ্জ
থানা : সদর
জেলা : লক্ষ্মীপুর
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম : মাওলানা আকবর হোসেন
মায়ের নাম : রাবেয়া আক্তার
পিতার পেশা ও বয়স : প্রবাসী (৭০ বছর)
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী
মাসিক আয়: ২ লক্ষ
আয়ের উৎস : প্রবাস
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৮ জন
ভাইবোনের বিবরণ
১. শরীফ হোসেন, বয়স ৪০, ব্যাংকার, সম্পর্ক : ভাই
২. রুহী, বয়স ২০, ৫ম শ্রেণি, সম্পর্ক : বোন
ঘটনার স্থান : চট্টগ্রাম
আহত হওয়ার সময়কাল : ১৬ জুলাই ২০২৪
আক্রমণকারী : পুলিশ, বিজিবি, ছাত্রলীগ-যুবলীগ সন্ত্রাসী
মো. শুভ হোসেন ২০০০ সালের ১২ ডিসেম্বর লক্ষ্মীপুর জেলার সদর উপজেলার ধর্মপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। গ্রামবাংলার নিসর্গ প্রকৃতির কোলে তার শৈশব কেটেছে। ধানের ক্ষেত, খালের পানি আর গ্রামের খেলার মাঠই ছিল তার জীবনের প্রথম শিক্ষা। ছোটবেলা থেকেই শুভ ছিল শান্ত-স্বভাবের, মেধাবী ও স্বপ্নবাজ। গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু করে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের প্রতিটি ধাপেই তিনি ভালো ফলাফল করেছেন। শুভের বাবা মাওলানা আকবর জীবিকার জন্য বহু বছর ধরে প্রবাসে আছেন। সংসারের দায়িত্ব একাই বহন করেছেন মা রাবেয়া আক্তার। মায়ের স্নেহ, বাবার প্রবাসী জীবনের ত্যাগ আর বড় ভাই শরীফ হোসেনের উৎসাহেই শুভ উচ্চশিক্ষার জন্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। গ্রামের সাধারণ পরিবার হলেও শুভর স্বপ্ন ছিল অনেক বড়। তিনি চেয়েছিলেন মেধা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে এবং সমাজে অবদান রাখতে। পরিবারের আট সদস্যের ভরসা হয়ে উঠতে চাইতেন তিনি।
আন্দোলনের প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশে সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে কোটার অসঙ্গতি বিদ্যমান ছিল। ২০১৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা দেশের শিক্ষার্থীরা এই কোটা সংস্কারের দাবিতে রাস্তায় নেমেছিল। সেসময় ছাত্রদের রক্তে ভিজেছিল রাজপথ। যদিও সরকার অস্থায়ীভাবে কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তবে স্থায়ী সমাধান হয়নি। ২০২৪ সালে আবারও শিক্ষার্থীরা ন্যায্য দাবিতে আন্দোলনে নেমে আসে। আন্দোলনের মূল দাবি ছিল একটাই—“মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ”। কিন্তু সরকার এই দাবি মেনে না নিয়ে বরং দমননীতির আশ্রয় নেয়। পুলিশ, বিজিবি, ছাত্রলীগ-যুবলীগ মিলে শিক্ষার্থীদের উপর চড়াও হয়। স্বৈরাচারী সরকার ছাত্রদের ওপর সরাসরি গুলি,রাবার বুলেট এবং টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে সরাসরি পুলিশ সামনে থেকে গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা করে। এতে ক্ষোভে ফেটে পড়েন শিক্ষার্থীরা এবং তাদের সাথে যোগদান করেন সাধারণ কর্মজীবী, কৃষক, শ্রমজীবী এবং ব্যবসায়ী সহ সকল পেশার মানুষ। ১৬ই জুলাই চট্টগ্রামেও ব্যাপকভাবে ছাত্রদের সাথে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশ সরাসরি গুলি চালায়। পুলিশকে সার্বিকভাবে সহায়তা করে আওয়ামী লীগ যুবলীগ এবং ছাত্রলীগের কর্মীরা। ১৬ জুলাই ২০২৪ সাল। সেদিন চট্রগ্রামের ছাত্রজনতা ৯ দফা দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। সকাল থেকেই বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা একত্র হতে থাকে। শুধু শিক্ষার্থীই নয়, শ্রমিক, কৃষক, দিনমজুর, এমনকি সাধারণ মানুষও এই মিছিলে যোগ দেয়। আন্দোলনের মূল স্লোগান ছিল ৯ দফা দাবি মেনে নেওয়া।
আহত হওয়ার ঘটনাবলি
মিছিল শান্তিপূর্ণভাবেই শুরু হয়েছিল। শিক্ষার্থীরা ব্যানার-ফেস্টুন হাতে নিয়ে অগ্রসর হতে থাকে। শুভও তার সহপাঠীদের সঙ্গে মিছিলে যোগ দিয়েছিল। বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে সে মনে মনে ভাবছিল—“এই আন্দোলন যদি সফল হয়, তাহলে ভবিষ্যতে মেধার সঠিক মূল্যায়ন হবে।” কিন্তু হঠাৎ করেই পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। আওয়ামী লীগের ছাত্রলীগ-যুবলীগ ক্যাডাররা দেশি-বিদেশি অস্ত্র হাতে মিছিলে হামলা চালায়। সাথে যোগ দেয় পুলিশ ও বিজিবি। টিয়ারশেল নিক্ষেপ, লাঠিচার্জ আর গুলিবর্ষণ শুরু হয়। ভীতিকর সেই মুহূর্তে রাজপথ পরিণত হয় রক্তক্ষেত্রে। শুভ বুঝে ওঠার আগেই মাথার কাছে বিকট শব্দ হয়, চোখে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করে। গুলি তার বাম চোখের ভেতর দিয়ে প্রবেশ করে। চারপাশ অন্ধকার হয়ে আসে। রক্তে ভেসে যায় মুখমণ্ডল। বন্ধুরা দৌড়ে এসে তাকে তুলে নেয় এবং দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যায়।
সেদিন অসংখ্য ছাত্র নিহত ও আহত হয়। আর শুভর জীবনও অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়।
চিকিৎসা
শুভকে প্রথমে ঢাকার চক্ষু ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। ১৬ জুলাই তার প্রথম অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। ডাক্তাররা সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও বাম চোখ সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে যায়। চিকিৎসকরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন—“বাম চোখে আর কোনোদিন দৃষ্টি ফিরে আসবে না।” পরে তাকে সিএমএইচে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে কনসালটেন্সি ও ফলোআপ চিকিৎসা চলতে থাকে। চিকিৎসকরা সতর্ক করেন যে, ডান চোখেও ভবিষ্যতে জটিলতা দেখা দিতে পারে। সারাজীবন ওষুধ ও আই ড্রপ ব্যবহার করতে হবে। একজন তরুণ, যে সদ্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছিল, যার স্বপ্ন ছিল শিক্ষক হয়ে সমাজ গড়ে তোলা—সে এখন আংশিক অন্ধত্ব নিয়ে জীবনযুদ্ধে নামতে বাধ্য হলো।
পুনর্বাসনের সংগ্রাম
চিকিৎসার পর শুভর জীবন থমকে যায়নি। যদিও তার চোখের আলো নিভে গেছে আংশিকভাবে, তবে মনের আলো এখনো জ্বলছে। সে এখনো পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। পরিবার তাকে শিক্ষকতা করার পরামর্শ দিয়েছে—যাতে তার সীমিত শারীরিক অবস্থাতেও জীবনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়। কিন্তু সমাজে তার জন্য সুযোগ পাওয়া সহজ নয়। চোখের সমস্যার কারণে স্বাভাবিকভাবে পড়াশোনা ও লেখাপড়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবুও শুভ চেষ্টা করছে হার না মানতে।
আজও তার মায়ের চোখে অশ্রু ঝরে, বাবার প্রবাসী কষ্ট বেড়ে যায়, ভাইবোনেরা শঙ্কায় থাকে। কিন্তু শুভ মনে মনে প্রতিজ্ঞা করেছে—“যত বাধাই আসুক, আমি হার মানব না। আমার চোখের আলো নিভলেও আমার ভেতরের আলো নিভবে না।”
তথ্য কণিকা
নাম : মো. শুভ হোসেন
জন্ম তারিখ : ১২ ডিসেম্বর ২০০১
জন্মস্থান : লক্ষ্মীপুর
পেশা : ছাত্র
প্রতিষ্ঠান : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
নিজ জেলা : লক্ষ্মীপুর
স্থায়ী ঠিকানা ও বর্তমান ঠিকানা :
গ্রাম : ধর্মপুর
ইউনিয়ন : তেওয়ারীগঞ্জ
থানা : সদর
জেলা : লক্ষ্মীপুর
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম : মাওলানা আকবর হোসেন
মায়ের নাম : রাবেয়া আক্তার
পিতার পেশা ও বয়স : প্রবাসী (৭০ বছর)
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী
মাসিক আয়: ২ লক্ষ
আয়ের উৎস : প্রবাস
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৮ জন
ভাইবোনের বিবরণ
১. শরীফ হোসেন, বয়স ৪০, ব্যাংকার, সম্পর্ক : ভাই
২. রুহী, বয়স ২০, ৫ম শ্রেণি, সম্পর্ক : বোন
ঘটনার স্থান : চট্টগ্রাম
আহত হওয়ার সময়কাল : ১৬ জুলাই ২০২৪
আক্রমণকারী : পুলিশ, বিজিবি, ছাত্রলীগ-যুবলীগ সন্ত্রাসী
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍