মোঃ তানভীরুল ইসলাম
জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
পেশা : ইলেকট্রিশিয়ান
🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা
জন্ম ও বেড়ে ওঠা
২০০০ সালের ১লা জানুয়ারি কুমিল্লার একটি সাধারণ গ্রামে জন্ম নেয় তানভীরুল ইসলাম। গ্রামের নাম খিলপাড়া। চারপাশ জুড়ে ছিল সবুজ মাঠ, কাঁচা রাস্তা আর গ্রামীণ জীবনের সরল সৌন্দর্য। শৈশবে তানভীর ছিল একেবারেই সাধারণ একটি বালক খেলাধুলা, পড়াশোনা আর বন্ধুদের সাথে মাঠে বেড়ানোতেই তার সময় কাটত। তার বাবা মোঃ আবু ইউছুফ ছিলেন একজন ইলেকট্রিশিয়ান। কষ্টের জীবন হলেও তিনি ছেলেকে শিক্ষিত করার স্বপ্ন দেখতেন। মা তাসলিমা বেগম ছিলেন গৃহিণী। সংসার সামলাতে গিয়ে তিনি সন্তানদের মানুষ করার দায়িত্বকে সবচেয়ে বড় কাজ হিসেবে নিয়েছিলেন। পরিবারে তিন ভাইবোনের মধ্যে তানভীর ছিলেন সবার ছোট। বড় বোন তানজিলা আক্তার বিয়ের পর সংসারী হয়েছেন। আরেক বোন তামান্না আক্তার তখনো স্কুলে পড়ে। গ্রামে বেড়ে ওঠার সময় থেকেই তানভীর বৈদ্যুতিক কাজের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠে। বাবার সাথে থেকে ছোটখাটো ইলেকট্রিক যন্ত্রপাতি মেরামত শিখতে থাকে। পরে পড়াশোনার পাশাপাশি এই কাজে দক্ষ হয়ে ওঠে।
আন্দোলনের প্রেক্ষাপট
২০১৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে কোটা সংস্কার আন্দোলন শুরু হয়। শিক্ষার্থীরা দাবি করে, সরকারি চাকরিতে মেধার মূল্যায়ন হতে হবে। কিন্তু সরকার দমননীতি অবলম্বন করে। তখন থেকেই তানভীরের ভেতরে ক্ষোভ জন্ম নেয়। ২০২৪ সালে আবারো আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। তানভীর তখন বিদ্যুৎ কেন্দ্রে কাজ করলেও ছাত্র-জনতার এই আন্দোলনের প্রতি গভীর সমর্থন জানায়। ছুটির দিনে বা কাজ শেষে সে বন্ধুদের সাথে আলোচনা করত, সভায় যোগ দিত। ৫ আগস্ট ২০২৪-এর আগে থেকেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল। আন্দোলনকারীরা এক দফা দাবিতে মাঠে নামে স্বৈরাচারী সরকারের পদত্যাগ। তানভীর তার কাজ বাদ দিয়ে সেদিনও যোগ দিয়েছিল মিছিলে।
আহত হওয়ার ঘটনা
৫ আগস্ট ২০২৪, দুপুর ২টা। চট্টগ্রামের জিইসি মোড়ে ছাত্র-জনতা আন্দোলনের মিছিল জমায়েত হয়। হাজারো মানুষ তখন স্লোগানে মুখরিত। তানভীরও সেখানে উপস্থিত ছিল। শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে রাস্তায় বিক্ষোভ করছিল। কিন্ত এক পর্যায়ে পুলিশ, ছাত্রলীগ এবং বিজিবি বাহিনী মিছিলে নির্বিচারে গুলি চালায়। অতর্কিত হামলায় অনেকেই গুরুতর আহত হয় অনেকে শাহাদাত বরণ করে। হঠাৎ একটি বুলেট এসে তানভীরের পেটে লাগে। গুলি তার পেট ভেদ করে পিঠে অর্ধেক বেরিয়ে যায় এবং কিডনিতে আঘাত করে। প্রচণ্ড ব্যথায় সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। চারপাশে চিৎকার-চেঁচামেচি, ধোঁয়া, গুলির শব্দ সব মিলিয়ে এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতি।সহযোদ্ধারা ঝুঁকি নিয়ে তাকে দ্রুত তুলে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
চিকিৎসা
তানভীরকে ভর্তি করা হয় CRP হাসপাতালে। সেখানে তার শরীর থেকে বুলেট বের করার জন্য জরুরি অস্ত্রোপচার করা হয়। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় চিকিৎসকরা জানান, দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার প্রয়োজন হবে।বুলেটের আঘাত তার কিডনির ক্ষতি করেছে, শরীর দুর্বল হয়ে পড়েছে। এখনো সে হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছে। পরিবার দিনরাত তার পাশে থেকে চিকিৎসার জন্য সংগ্রাম করছে।
ভবিষ্যতের সংগ্রাম ও পুনর্বাসন
তানভীর আগে একজন কর্মক্ষম ইলেকট্রিশিয়ান ছিল। বিদ্যুৎ কেন্দ্রে কাজ করেই সংসারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছিল। কিন্তু আহত হওয়ার পর থেকে সে কর্মহীন হয়ে গেছে।তার বাবা-মা অল্প আয়ে সংসার চালাচ্ছেন। পরিবারের স্বপ্ন এখন সরকারের সহযোগিতা পাওয়া। তানভীর নিজেও আশা করে, যদি সুস্থ হয়ে ওঠে তবে আবারো কাজ শুরু করবে। তবে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সম্পূর্ণ সুস্থ হতে অনেক সময় লাগবে।
সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসন ছাড়া তার পক্ষে স্বাভাবিক জীবনে ফেরা কঠিন। তাই পরিবার ও তানভীর চান সরকার যেন তাকে চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ দেয়।
তথ্য কণিকা
নাম : মোঃ তানভীরুল ইসলাম
জন্ম তারিখ : ১ জানুয়ারি ২০০০
জন্মস্থান : কুমিল্লা
পেশা : ইলেকট্রিশিয়ান
প্রতিষ্ঠান : বিদ্যুৎ কেন্দ্র, বাংলাদেশ (কর্মী হিসাবে নিয়োজিত)
নিজ জেলা : কুমিল্লা
স্থায়ী ঠিকানা ও বর্তমান ঠিকানা:
গ্রাম : খিলপাড়া, চন্ডীপুর
ইউনিয়ন : উত্তরদা
থানা : লাকসাম
জেলা : কুমিল্লা
বর্তমান ঠিকানা :
এলাকা: টেক্সটাইল পানির কল
থানা : বাইজিদ
জেলা : চট্টগ্রাম
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য :
পিতার নাম : মোঃ আবু ইউছুপ
পিতার পেশা ও বয়স : ইলেকট্রিশিয়ান, ৫৫ বছর
মায়ের নাম : তাসলিমা বেগম
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিনী, ৩৫ বছর
মাসিক আয় : ১৫,০০০ টাকা
আয়ের উৎস : চাকরি
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৭ জন
ভাইবোন দের বিবরণ :
১. তানজিলা আক্তার, বয়স ২৫, গৃহিণী, সম্পর্ক: বোন
২. তামান্না আক্তার, বয়স ১৫, ছাত্রী, শ্রেণি: ১০ম, সম্পর্ক: বোন
ঘটনার স্থান : জিইসি মোড়, চট্টগ্রাম
আহত হওয়ার সময়কাল : ৫ আগস্ট ২০২৪, দুপুর ২টা
আক্রমণকারী : পুলিশ বাহিনী গুলি চালায়
২০০০ সালের ১লা জানুয়ারি কুমিল্লার একটি সাধারণ গ্রামে জন্ম নেয় তানভীরুল ইসলাম। গ্রামের নাম খিলপাড়া। চারপাশ জুড়ে ছিল সবুজ মাঠ, কাঁচা রাস্তা আর গ্রামীণ জীবনের সরল সৌন্দর্য। শৈশবে তানভীর ছিল একেবারেই সাধারণ একটি বালক খেলাধুলা, পড়াশোনা আর বন্ধুদের সাথে মাঠে বেড়ানোতেই তার সময় কাটত। তার বাবা মোঃ আবু ইউছুফ ছিলেন একজন ইলেকট্রিশিয়ান। কষ্টের জীবন হলেও তিনি ছেলেকে শিক্ষিত করার স্বপ্ন দেখতেন। মা তাসলিমা বেগম ছিলেন গৃহিণী। সংসার সামলাতে গিয়ে তিনি সন্তানদের মানুষ করার দায়িত্বকে সবচেয়ে বড় কাজ হিসেবে নিয়েছিলেন। পরিবারে তিন ভাইবোনের মধ্যে তানভীর ছিলেন সবার ছোট। বড় বোন তানজিলা আক্তার বিয়ের পর সংসারী হয়েছেন। আরেক বোন তামান্না আক্তার তখনো স্কুলে পড়ে। গ্রামে বেড়ে ওঠার সময় থেকেই তানভীর বৈদ্যুতিক কাজের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠে। বাবার সাথে থেকে ছোটখাটো ইলেকট্রিক যন্ত্রপাতি মেরামত শিখতে থাকে। পরে পড়াশোনার পাশাপাশি এই কাজে দক্ষ হয়ে ওঠে।
আন্দোলনের প্রেক্ষাপট
২০১৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে কোটা সংস্কার আন্দোলন শুরু হয়। শিক্ষার্থীরা দাবি করে, সরকারি চাকরিতে মেধার মূল্যায়ন হতে হবে। কিন্তু সরকার দমননীতি অবলম্বন করে। তখন থেকেই তানভীরের ভেতরে ক্ষোভ জন্ম নেয়। ২০২৪ সালে আবারো আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। তানভীর তখন বিদ্যুৎ কেন্দ্রে কাজ করলেও ছাত্র-জনতার এই আন্দোলনের প্রতি গভীর সমর্থন জানায়। ছুটির দিনে বা কাজ শেষে সে বন্ধুদের সাথে আলোচনা করত, সভায় যোগ দিত। ৫ আগস্ট ২০২৪-এর আগে থেকেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল। আন্দোলনকারীরা এক দফা দাবিতে মাঠে নামে স্বৈরাচারী সরকারের পদত্যাগ। তানভীর তার কাজ বাদ দিয়ে সেদিনও যোগ দিয়েছিল মিছিলে।
আহত হওয়ার ঘটনা
৫ আগস্ট ২০২৪, দুপুর ২টা। চট্টগ্রামের জিইসি মোড়ে ছাত্র-জনতা আন্দোলনের মিছিল জমায়েত হয়। হাজারো মানুষ তখন স্লোগানে মুখরিত। তানভীরও সেখানে উপস্থিত ছিল। শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে রাস্তায় বিক্ষোভ করছিল। কিন্ত এক পর্যায়ে পুলিশ, ছাত্রলীগ এবং বিজিবি বাহিনী মিছিলে নির্বিচারে গুলি চালায়। অতর্কিত হামলায় অনেকেই গুরুতর আহত হয় অনেকে শাহাদাত বরণ করে। হঠাৎ একটি বুলেট এসে তানভীরের পেটে লাগে। গুলি তার পেট ভেদ করে পিঠে অর্ধেক বেরিয়ে যায় এবং কিডনিতে আঘাত করে। প্রচণ্ড ব্যথায় সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। চারপাশে চিৎকার-চেঁচামেচি, ধোঁয়া, গুলির শব্দ সব মিলিয়ে এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতি।সহযোদ্ধারা ঝুঁকি নিয়ে তাকে দ্রুত তুলে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
চিকিৎসা
তানভীরকে ভর্তি করা হয় CRP হাসপাতালে। সেখানে তার শরীর থেকে বুলেট বের করার জন্য জরুরি অস্ত্রোপচার করা হয়। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় চিকিৎসকরা জানান, দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার প্রয়োজন হবে।বুলেটের আঘাত তার কিডনির ক্ষতি করেছে, শরীর দুর্বল হয়ে পড়েছে। এখনো সে হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছে। পরিবার দিনরাত তার পাশে থেকে চিকিৎসার জন্য সংগ্রাম করছে।
ভবিষ্যতের সংগ্রাম ও পুনর্বাসন
তানভীর আগে একজন কর্মক্ষম ইলেকট্রিশিয়ান ছিল। বিদ্যুৎ কেন্দ্রে কাজ করেই সংসারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছিল। কিন্তু আহত হওয়ার পর থেকে সে কর্মহীন হয়ে গেছে।তার বাবা-মা অল্প আয়ে সংসার চালাচ্ছেন। পরিবারের স্বপ্ন এখন সরকারের সহযোগিতা পাওয়া। তানভীর নিজেও আশা করে, যদি সুস্থ হয়ে ওঠে তবে আবারো কাজ শুরু করবে। তবে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সম্পূর্ণ সুস্থ হতে অনেক সময় লাগবে।
সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসন ছাড়া তার পক্ষে স্বাভাবিক জীবনে ফেরা কঠিন। তাই পরিবার ও তানভীর চান সরকার যেন তাকে চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ দেয়।
তথ্য কণিকা
নাম : মোঃ তানভীরুল ইসলাম
জন্ম তারিখ : ১ জানুয়ারি ২০০০
জন্মস্থান : কুমিল্লা
পেশা : ইলেকট্রিশিয়ান
প্রতিষ্ঠান : বিদ্যুৎ কেন্দ্র, বাংলাদেশ (কর্মী হিসাবে নিয়োজিত)
নিজ জেলা : কুমিল্লা
স্থায়ী ঠিকানা ও বর্তমান ঠিকানা:
গ্রাম : খিলপাড়া, চন্ডীপুর
ইউনিয়ন : উত্তরদা
থানা : লাকসাম
জেলা : কুমিল্লা
বর্তমান ঠিকানা :
এলাকা: টেক্সটাইল পানির কল
থানা : বাইজিদ
জেলা : চট্টগ্রাম
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য :
পিতার নাম : মোঃ আবু ইউছুপ
পিতার পেশা ও বয়স : ইলেকট্রিশিয়ান, ৫৫ বছর
মায়ের নাম : তাসলিমা বেগম
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিনী, ৩৫ বছর
মাসিক আয় : ১৫,০০০ টাকা
আয়ের উৎস : চাকরি
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৭ জন
ভাইবোন দের বিবরণ :
১. তানজিলা আক্তার, বয়স ২৫, গৃহিণী, সম্পর্ক: বোন
২. তামান্না আক্তার, বয়স ১৫, ছাত্রী, শ্রেণি: ১০ম, সম্পর্ক: বোন
ঘটনার স্থান : জিইসি মোড়, চট্টগ্রাম
আহত হওয়ার সময়কাল : ৫ আগস্ট ২০২৪, দুপুর ২টা
আক্রমণকারী : পুলিশ বাহিনী গুলি চালায়
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍