মো: রহমত উল্যাহ সজিব
জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
পেশা: ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী
🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা
মুক্তির লড়াই
২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ জনগণের সেবা ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার নিয়ে ক্ষমতায় আসে। মানুষ বিশ্বাস করেছিল নতুন এক সূর্যোদয় ঘটবে, যেখানে তাদের ভোটের মূল্যায়ন হবে, বিচার ও সমতার ভিত্তিতে শান্তি প্রতিষ্ঠা পাবে।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই আশার আলো দ্রুত ম্লান হয়ে যায়। আওয়ামী লোক দেখানে প্রতিশ্রুতির জায়গায় দেখা মেলে একচ্ছত্র ক্ষমতার দৌরাত্ম্য, দুর্নীতি, দলীয়করণ ও ভয়ঙ্কর দমননীতি। সংবিধান ও আইন ধীরে ধীরে রূপ নেয় ক্ষমতা ধরে রাখার হাতিয়ারে। দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিণত হয় ভীতির রাজনীতিতে, যেখানে বিরোধী কণ্ঠস্বরকে দমন করা হয়, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সংকুচিত হয়, আর সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হতে থাকে।
২০১৪ সালের একতরফা নির্বাচন এবং ২০১৮ সালের কারচুপিপূর্ণ ভোট প্রমাণ করে যে ভোটাধিকার আর জনগণের হাতে নেই। নির্বাচনী প্রহসনের মাধ্যমে সন্ত্রাসী আওয়ামী গোষ্ঠীর ক্ষমতায় টিকে থাকার প্রবণতা মানুষের মনে হতাশা গভীর করে তোলে। মানুষ দেখল, বিচার ও প্রশাসন জনগণের জন্য নয়; বরং আওয়ামী দখলদারদের স্বার্থ রক্ষায় ব্যবহৃত হচ্ছে। একইসঙ্গে গুম, খুন, মিথ্যা মামলা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দমননীতি সমাজে আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করে। বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, রাস্তাঘাট কিংবা জনসভা - সব জায়গায় বিরোধী মতকে রুদ্ধ করা হয়। সাধারণ মানুষ বুঝতে শুরু করে যে, স্বাধীন দেশে স্বাধীনভাবে কথা বলা এখন বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। এই দীর্ঘ নীরবতা ও ভয়ের আবহাওয়া এক সময় দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে নিঃশব্দ বন্দিশালায় পরিণত করে।
কিন্তু ইতিহাসের মোড় ঘুরে যায় ২০২৪ সালে। কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। প্রথমদিকে দাবি ছিল চাকরিতে ন্যায্য সুযোগ নিশ্চিত করা। কিন্তু সরকারের দমন-পীড়ন এবং তরুণ প্রজন্মের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ এই আন্দোলনকে দ্রুত রূপ দেয় এক মহাস্রোতে। এটি আর শুধু চাকরির দাবিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং হয়ে ওঠে দমননীতি, বৈষম্য, অবিচার ও অগণতান্ত্রিক শাসনের বিরুদ্ধে জনঅভ্যুত্থান। জুলাই থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন রক্ত ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে বিস্তৃত হয় সারা দেশে। রাজপথে ঝরে পড়ে তরুণদের রক্ত, গুলি আর লাঠিচার্জে বিদ্ধ হয় হাজারো শিক্ষার্থী, যুবক-যুবতী ও সাধারণ মানুষ। তবুও তারা পিছপা হয়নি। কারণ তাদের বিশ্বাস ছিল স্বাধীন দেশে স্বাধীনভাবে শ্বাস নিতে হলে ভয় ভেঙে রাস্তায় নামতে হবে।
খুনী হাসিনা বিরোধী এই আন্দোলনের প্রতিটি দিন নতুন ইতিহাস রচনা করেছে। প্রতিটি ক্ষত, প্রতিটি শহীদ, প্রতিটি প্রতিবাদ রক্তাক্ত অঙ্গনে গড়ে তুলেছে বাংলাদেশের নব অধ্যায়। ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন কেবল একটি সামাজিক দাবি ছিল না। এটি হয়ে ওঠে জাতির ন্যায়, মর্যাদা ও মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। তরুণ প্রজন্ম দেখিয়ে দিয়েছে অত্যাচার ও ভয়ের শাসন যত শক্তিশালী হোক, ভারতীয় দালাল স্বৈরাচারের শেষ ঠিকানা দিল্লীর দরবারেই হয়।
পরিচিতি
মো: রহমত উল্যাহ সজিব, একজন তরুণ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, নোয়াখালীর সন্তান। জন্ম বেগমগঞ্জ উপজেলার ছোট্ট গ্রাম কাদিরপুরে। ছোটবেলায় হারিয়েছেন মা-বাবাকে, বোনই তার একমাত্র আপনজন। পরিবারের হাল ধরে জীবনের প্রতিটি দিন সংগ্রাম করে কাটিয়েছেন তিনি। হাজারো প্রতিকূলতা আর সীমিত আয়ের মধ্যেও জীবন থেমে থাকেনি।
তবে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে তিনি শুধুই একজন ব্যবসায়ী ছিলেন না, ছিলেন রক্তে-গড়া আন্দোলনের একজন অংশীদার। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার দাবির প্রতি সংহতি জানাতে তিনি নামেন রাস্তায়। গুলির তাণ্ডব, লাঠির আঘাত আর দমন-পীড়নের ভয়কে উপেক্ষা করে দাঁড়িয়ে ছিলেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে। তার এই গল্প শুধু একজন তরুণের নয়, বরং হাজারো সংগ্রামী যুবকের প্রতিচ্ছবি, যারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে জীবন বাজি রেখেছে।
চট্টগ্রামের জুলাই
২০২৪ সালের জুলাই মাস, বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অগ্নিঝরা সময়। সারাদেশের ন্যায় চট্টগ্রামের রাজপথ থেকে শুরু করে অলিতে-গলিতে ছড়িয়ে পড়ে শিক্ষার্থীদের কোটাবিরোধী আন্দোলন। তবে জুলাই এর মাঝামাঝি এসে তৎকালীন স্বৈরাচার হাসিনা সরকার ও তার পোষা গুন্ডা বাহিনী আন্দোলনকারীদের উপর নির্মমভাবে ঝাপিয়ে পড়ে। গুলি, লাঠি আর ধারালো দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে আহত হন চট্টগ্রামের ছাত্ররা, অনেকেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
১৯ জুলাই
২০২৪ সালের ১৯ জুলাই। অন্যান্য দিনের ন্যায় চট্টগ্রামের কাজীর দিউড়ি মোড়ে পুলিশের বক্সের সামনে জমায়েত হয়েছিলো জনতার ঢল। সারাদেশে নির্মম হামলার বিচারের দাবিতে রাস্তায় নেমেছিলেন হাজারো মানুষ। তাদের মধ্যে ছিলেন এক তরুণ, রহমত উল্যাহ সজিব; যিনি প্রতিদিনের মতোই আন্দোলনের মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন। জনতার মিছিল শান্তিপূর্ণভাবে এগিয়ে চলছিল।
নগ্ন হামলা
হঠাৎ করেই শুরু হয় পুলিশের নির্বিচার গুলি আর ছাত্রলীগের হামলা। মুহূর্তের মধ্যে চারপাশ ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। রাবার বুলেটের আঘাতে অনেকেই আহত হন। সন্ত্রাসী ছাত্রলীগ আবার কারও কারও উপর লাঠি দিয়ে আক্রমন চালায়। ঠিক তখনই এক রাবার বুলেট এসে লাগে রহমত উল্যাহর চোখের কোণে। প্রচণ্ড ব্যথায় ছটফট করতে করতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
অনিরাপদ হাসপাতাল
সহযোদ্ধারা জীবন ঝুঁকি নিয়ে তাকে দ্রুত চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিন্তু হাসপাতালেও নিরাপত্তা মেলেনি, হঠাৎ করেই দুর্বৃত্ত ছাত্রলীগের হাসপাতালে হানা দেওয়ার খবর আসে। সন্ত্রাসীর আন্দোলনে অংশ নেওয়াদের খুঁজছিল হাসপাতালের প্রতিটি ওয়ার্ডের বেডে বেডে। বাধ্য হয়ে তিনি হাসপাতাল ছেড়ে চলে আসেন রহমত উল্যাহ।
চিকিৎসা সংগ্রাম
এরপর শুরু হয় বাড়িতে থেকে চিকিৎসার সংগ্রাম। ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনে, স্থানীয় ডাক্তারদের পরামর্শে চলতে থাকে চিকিৎসা। কিন্তু চোখের কোণে রাবার বুলেটের ক্ষত আজও তাকে ব্যথিত করে। মাঝে মাঝে সেই জায়গায় প্রচণ্ড যন্ত্রণা হয়। অর্থনৈতিক টানাপোড়েন এই সংগ্রামকে করেছে আরও কঠিন। চিকিৎসা খরচ, ওষুধ কেনা, আর অস্থায়ী জীবনের চাপ তাকে অসহায় করে তুলেছে।
বাড়িতে আক্রমন
এরপরও থেমে থাকেনি আওয়ামী হায়েনা বাহিনীর আক্রমন। পতিত স্বৈরাচার হাসিনার দোষররা আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় পরবর্তীতে তার বাড়িতে হামলা চালায়। বাড়ির সমস্ত আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং লুট করে নিয়ে যায় তারা।
চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা:
বর্তমানে তার চোখে প্রচণ্ড ব্যথা রয়ে গিয়েছে। পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার জন্য তার উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা:
তার পারিবারিক খরচ চালানের জন্য যোগ্যতা অনুযায়ী চাকুরির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
ব্যক্তিগত বিবরণ
নাম : মো: রহমত উল্যাহ সজিব
জন্ম তারিখ : ০৫-০১-১৯৯৭
পেশা/ পদবী : ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী
নিজ জেলা : নোয়াখালী
স্থায়ী ঠিকানা : গ্রাম: কাদিরপুর, ইউনিয়ন: কাদিরপুর, ডাকঘর: সাহেবের হাটন, থানা: বেগমগঞ্জ,
জেলা: নোয়াখালী
বর্তমান ঠিকানা : মহল্লা: হাজারিলেন, এলাকা: অন্দরকিল্লাহ, থানা: কোতোয়ালি , জেলা: চট্টগ্রাম
পরিবারের তথ্য
পিতার নাম : মৃত ওহিদ উল্যাহ
পিতার পেশা ও বয়স : মৃত
মায়ের নাম : মৃত নুর জাহান বেগম
মায়ের পেশা ও বয়স : মৃত
পারিবারিক অবস্থা : মাসিক আয় ৮০০০
আয়ের উৎস : ব্যবসা
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ২ জন
ভাই/বোনদের বিবরণ:
১. ফারহানা ইয়াছমিন, বয়স- ২৩, পেশা- গৃহিণী, সম্পর্ক- বোন
আহতের চিত্র
ঘটনার স্থান: কাজীর দিউড়ি মোড়, চট্টগ্রাম
আক্রমণকারী: ছাত্রলীগ ও পুলিশ
আহত হওয়ার সময়কাল: ২৯ জুলাই ২০২৪ , বিকেল ৩.০ টা
আঘাতের ধরণ: চোখে রাবার বুলেট লাগে
চিকিৎসা: প্রাথমিক চিকিৎসা
বর্তমান অনবস্থা: উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন
২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ জনগণের সেবা ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার নিয়ে ক্ষমতায় আসে। মানুষ বিশ্বাস করেছিল নতুন এক সূর্যোদয় ঘটবে, যেখানে তাদের ভোটের মূল্যায়ন হবে, বিচার ও সমতার ভিত্তিতে শান্তি প্রতিষ্ঠা পাবে।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই আশার আলো দ্রুত ম্লান হয়ে যায়। আওয়ামী লোক দেখানে প্রতিশ্রুতির জায়গায় দেখা মেলে একচ্ছত্র ক্ষমতার দৌরাত্ম্য, দুর্নীতি, দলীয়করণ ও ভয়ঙ্কর দমননীতি। সংবিধান ও আইন ধীরে ধীরে রূপ নেয় ক্ষমতা ধরে রাখার হাতিয়ারে। দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিণত হয় ভীতির রাজনীতিতে, যেখানে বিরোধী কণ্ঠস্বরকে দমন করা হয়, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সংকুচিত হয়, আর সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হতে থাকে।
২০১৪ সালের একতরফা নির্বাচন এবং ২০১৮ সালের কারচুপিপূর্ণ ভোট প্রমাণ করে যে ভোটাধিকার আর জনগণের হাতে নেই। নির্বাচনী প্রহসনের মাধ্যমে সন্ত্রাসী আওয়ামী গোষ্ঠীর ক্ষমতায় টিকে থাকার প্রবণতা মানুষের মনে হতাশা গভীর করে তোলে। মানুষ দেখল, বিচার ও প্রশাসন জনগণের জন্য নয়; বরং আওয়ামী দখলদারদের স্বার্থ রক্ষায় ব্যবহৃত হচ্ছে। একইসঙ্গে গুম, খুন, মিথ্যা মামলা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দমননীতি সমাজে আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করে। বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, রাস্তাঘাট কিংবা জনসভা - সব জায়গায় বিরোধী মতকে রুদ্ধ করা হয়। সাধারণ মানুষ বুঝতে শুরু করে যে, স্বাধীন দেশে স্বাধীনভাবে কথা বলা এখন বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। এই দীর্ঘ নীরবতা ও ভয়ের আবহাওয়া এক সময় দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে নিঃশব্দ বন্দিশালায় পরিণত করে।
কিন্তু ইতিহাসের মোড় ঘুরে যায় ২০২৪ সালে। কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। প্রথমদিকে দাবি ছিল চাকরিতে ন্যায্য সুযোগ নিশ্চিত করা। কিন্তু সরকারের দমন-পীড়ন এবং তরুণ প্রজন্মের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ এই আন্দোলনকে দ্রুত রূপ দেয় এক মহাস্রোতে। এটি আর শুধু চাকরির দাবিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং হয়ে ওঠে দমননীতি, বৈষম্য, অবিচার ও অগণতান্ত্রিক শাসনের বিরুদ্ধে জনঅভ্যুত্থান। জুলাই থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন রক্ত ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে বিস্তৃত হয় সারা দেশে। রাজপথে ঝরে পড়ে তরুণদের রক্ত, গুলি আর লাঠিচার্জে বিদ্ধ হয় হাজারো শিক্ষার্থী, যুবক-যুবতী ও সাধারণ মানুষ। তবুও তারা পিছপা হয়নি। কারণ তাদের বিশ্বাস ছিল স্বাধীন দেশে স্বাধীনভাবে শ্বাস নিতে হলে ভয় ভেঙে রাস্তায় নামতে হবে।
খুনী হাসিনা বিরোধী এই আন্দোলনের প্রতিটি দিন নতুন ইতিহাস রচনা করেছে। প্রতিটি ক্ষত, প্রতিটি শহীদ, প্রতিটি প্রতিবাদ রক্তাক্ত অঙ্গনে গড়ে তুলেছে বাংলাদেশের নব অধ্যায়। ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন কেবল একটি সামাজিক দাবি ছিল না। এটি হয়ে ওঠে জাতির ন্যায়, মর্যাদা ও মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। তরুণ প্রজন্ম দেখিয়ে দিয়েছে অত্যাচার ও ভয়ের শাসন যত শক্তিশালী হোক, ভারতীয় দালাল স্বৈরাচারের শেষ ঠিকানা দিল্লীর দরবারেই হয়।
পরিচিতি
মো: রহমত উল্যাহ সজিব, একজন তরুণ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, নোয়াখালীর সন্তান। জন্ম বেগমগঞ্জ উপজেলার ছোট্ট গ্রাম কাদিরপুরে। ছোটবেলায় হারিয়েছেন মা-বাবাকে, বোনই তার একমাত্র আপনজন। পরিবারের হাল ধরে জীবনের প্রতিটি দিন সংগ্রাম করে কাটিয়েছেন তিনি। হাজারো প্রতিকূলতা আর সীমিত আয়ের মধ্যেও জীবন থেমে থাকেনি।
তবে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে তিনি শুধুই একজন ব্যবসায়ী ছিলেন না, ছিলেন রক্তে-গড়া আন্দোলনের একজন অংশীদার। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার দাবির প্রতি সংহতি জানাতে তিনি নামেন রাস্তায়। গুলির তাণ্ডব, লাঠির আঘাত আর দমন-পীড়নের ভয়কে উপেক্ষা করে দাঁড়িয়ে ছিলেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে। তার এই গল্প শুধু একজন তরুণের নয়, বরং হাজারো সংগ্রামী যুবকের প্রতিচ্ছবি, যারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে জীবন বাজি রেখেছে।
চট্টগ্রামের জুলাই
২০২৪ সালের জুলাই মাস, বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অগ্নিঝরা সময়। সারাদেশের ন্যায় চট্টগ্রামের রাজপথ থেকে শুরু করে অলিতে-গলিতে ছড়িয়ে পড়ে শিক্ষার্থীদের কোটাবিরোধী আন্দোলন। তবে জুলাই এর মাঝামাঝি এসে তৎকালীন স্বৈরাচার হাসিনা সরকার ও তার পোষা গুন্ডা বাহিনী আন্দোলনকারীদের উপর নির্মমভাবে ঝাপিয়ে পড়ে। গুলি, লাঠি আর ধারালো দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে আহত হন চট্টগ্রামের ছাত্ররা, অনেকেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
১৯ জুলাই
২০২৪ সালের ১৯ জুলাই। অন্যান্য দিনের ন্যায় চট্টগ্রামের কাজীর দিউড়ি মোড়ে পুলিশের বক্সের সামনে জমায়েত হয়েছিলো জনতার ঢল। সারাদেশে নির্মম হামলার বিচারের দাবিতে রাস্তায় নেমেছিলেন হাজারো মানুষ। তাদের মধ্যে ছিলেন এক তরুণ, রহমত উল্যাহ সজিব; যিনি প্রতিদিনের মতোই আন্দোলনের মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন। জনতার মিছিল শান্তিপূর্ণভাবে এগিয়ে চলছিল।
নগ্ন হামলা
হঠাৎ করেই শুরু হয় পুলিশের নির্বিচার গুলি আর ছাত্রলীগের হামলা। মুহূর্তের মধ্যে চারপাশ ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। রাবার বুলেটের আঘাতে অনেকেই আহত হন। সন্ত্রাসী ছাত্রলীগ আবার কারও কারও উপর লাঠি দিয়ে আক্রমন চালায়। ঠিক তখনই এক রাবার বুলেট এসে লাগে রহমত উল্যাহর চোখের কোণে। প্রচণ্ড ব্যথায় ছটফট করতে করতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
অনিরাপদ হাসপাতাল
সহযোদ্ধারা জীবন ঝুঁকি নিয়ে তাকে দ্রুত চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিন্তু হাসপাতালেও নিরাপত্তা মেলেনি, হঠাৎ করেই দুর্বৃত্ত ছাত্রলীগের হাসপাতালে হানা দেওয়ার খবর আসে। সন্ত্রাসীর আন্দোলনে অংশ নেওয়াদের খুঁজছিল হাসপাতালের প্রতিটি ওয়ার্ডের বেডে বেডে। বাধ্য হয়ে তিনি হাসপাতাল ছেড়ে চলে আসেন রহমত উল্যাহ।
চিকিৎসা সংগ্রাম
এরপর শুরু হয় বাড়িতে থেকে চিকিৎসার সংগ্রাম। ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনে, স্থানীয় ডাক্তারদের পরামর্শে চলতে থাকে চিকিৎসা। কিন্তু চোখের কোণে রাবার বুলেটের ক্ষত আজও তাকে ব্যথিত করে। মাঝে মাঝে সেই জায়গায় প্রচণ্ড যন্ত্রণা হয়। অর্থনৈতিক টানাপোড়েন এই সংগ্রামকে করেছে আরও কঠিন। চিকিৎসা খরচ, ওষুধ কেনা, আর অস্থায়ী জীবনের চাপ তাকে অসহায় করে তুলেছে।
বাড়িতে আক্রমন
এরপরও থেমে থাকেনি আওয়ামী হায়েনা বাহিনীর আক্রমন। পতিত স্বৈরাচার হাসিনার দোষররা আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় পরবর্তীতে তার বাড়িতে হামলা চালায়। বাড়ির সমস্ত আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং লুট করে নিয়ে যায় তারা।
চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা:
বর্তমানে তার চোখে প্রচণ্ড ব্যথা রয়ে গিয়েছে। পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার জন্য তার উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা:
তার পারিবারিক খরচ চালানের জন্য যোগ্যতা অনুযায়ী চাকুরির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
ব্যক্তিগত বিবরণ
নাম : মো: রহমত উল্যাহ সজিব
জন্ম তারিখ : ০৫-০১-১৯৯৭
পেশা/ পদবী : ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী
নিজ জেলা : নোয়াখালী
স্থায়ী ঠিকানা : গ্রাম: কাদিরপুর, ইউনিয়ন: কাদিরপুর, ডাকঘর: সাহেবের হাটন, থানা: বেগমগঞ্জ,
জেলা: নোয়াখালী
বর্তমান ঠিকানা : মহল্লা: হাজারিলেন, এলাকা: অন্দরকিল্লাহ, থানা: কোতোয়ালি , জেলা: চট্টগ্রাম
পরিবারের তথ্য
পিতার নাম : মৃত ওহিদ উল্যাহ
পিতার পেশা ও বয়স : মৃত
মায়ের নাম : মৃত নুর জাহান বেগম
মায়ের পেশা ও বয়স : মৃত
পারিবারিক অবস্থা : মাসিক আয় ৮০০০
আয়ের উৎস : ব্যবসা
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ২ জন
ভাই/বোনদের বিবরণ:
১. ফারহানা ইয়াছমিন, বয়স- ২৩, পেশা- গৃহিণী, সম্পর্ক- বোন
আহতের চিত্র
ঘটনার স্থান: কাজীর দিউড়ি মোড়, চট্টগ্রাম
আক্রমণকারী: ছাত্রলীগ ও পুলিশ
আহত হওয়ার সময়কাল: ২৯ জুলাই ২০২৪ , বিকেল ৩.০ টা
আঘাতের ধরণ: চোখে রাবার বুলেট লাগে
চিকিৎসা: প্রাথমিক চিকিৎসা
বর্তমান অনবস্থা: উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍