হোম / আহতদের তালিকা / রিয়াদ সুলতানা নূরী
রিয়াদ সুলতানা নূরী

রিয়াদ সুলতানা নূরী

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

পেশাঃ ছাত্রী
প্রতিষ্ঠানঃ চট্টগ্রাম মহিলা কলেজ

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা

“রক্তে ভিজে থাকা পথেও আমরা থেমে থাকি না; স্বাধীনতার লড়াই জিতব আমরা।”
জন্মপরিচয়ঃ
রিয়াদ সুলতানা নূরী ১৯৯৮ সালের ২০শে জুন কক্সবাজার জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার শৈশব ও বেড়ে ওঠা কক্সবাজার জেলার মহেশখালী থানার কালার ঘার ছড়া ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামে। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রামের হালিশহর এলাকার ছোটপুল চিনা বাড়িতে পরিবারসহ বসবাস করছেন। পিতা নূরুছ ছবি (৫৫) একজন কর্মজীবী মানুষ এবং মাতা ইসমোতারা বেগম (৪৫) একজন গৃহিণী। সাত সদস্যের এ পরিবারে নূরীর আরও দুই ছোট বোন রয়েছে—রিত্তিকা আফরিন ও মিত্তিকা মেহেরিন, যারা ইন্টারমিডিয়েট শ্রেণিতে অধ্যয়নরত।
নূরী বর্তমানে চট্টগ্রাম মহিলা কলেজের ছাত্রী হিসেবে শিক্ষাজীবন অতিক্রম করছেন। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে দেশব্যাপী ছাত্র আন্দোলন যখন “বাংলা ব্লকেড” কর্মসূচির মধ্য দিয়ে তীব্র রূপ নেয়, তখন সেই আন্দোলনের ভেতর দিয়েই তিনি প্রত্যক্ষ করেন হাসিনার দমন-পীড়ন। রংপুরে আবু সাঈদ নামের এক শিক্ষার্থীর পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনা নূরীর মনে গভীর দাগ কাটে এবং তার সংগ্রামী চেতনায় নতুন অনুপ্রেরণা জোগায়।
আন্দলনে অংশগ্রহণঃ
বাংলাদেশের ইতিহাসে ২০২৪ সালের জুলাই ছিল রক্তে ভেজা এক অধ্যায়। ঘাতক আওয়ামী লীগ সরকার যখন ছাত্র-জনতার ন্যায্য আন্দোলনকে দমন করতে রাস্তায় নেমে গুলি, দা, ছুরি আর কারফিউ দিয়ে ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ চালায়, তখন সেই রক্তস্রোতে দাঁড়িয়ে ছিলেন এক সাহসী কন্যা—রিয়াদ সুলতানা নূরী। পড়াশোনার পাশাপাশি দেশের জন্য স্বপ্ন বুনেছিলেন, তাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে তিনি নির্ভীকভাবে রাজপথে নামেন।
এই আন্দোলন কেবল কোটার সংস্কারের জন্য ছিল না, বরং শেখ হাসিনার দীর্ঘ ১৫–১৬ বছরের ঘাতক শাসনের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর ডাক ছিল। দুর্নীতি, গুম-খুন, বিচারহীনতা আর বৈষম্যের পাহাড়ের ভেতর থেকে যখন ন্যায়বিচারের আলো নিভে যাচ্ছিল, তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছড়িয়ে পড়া আন্দোলনেই নূরীর মতো হাজারো শিক্ষার্থী সমান অধিকার আর ন্যায়ের স্বপ্নে বুক বাঁধে।
১৬ জুলাই ২০২৪, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদ পুলিশের গুলিতে নিহত হলে আন্দোলন দ্রুত দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে
৪ জুলাই আপিল বিভাগ, ৯ জুন হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের ওপর শুনানি না করে সরকারি চাকরির প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা পদ্ধতি বাতিলের সরকারি সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় আপাতত বহাল রাখে।
২৯ জুলাই জামালখানে নূরী পুলিশ ও আওয়ামী লীগের হাতে নির্যাতনের শিকার হন। এরপরও তিনি পিছু হটেননি। ৪ আগস্ট নিউমার্কেট মোড়ে ছাত্রলীগের গুলিবর্ষণ ও ঘাতক আওয়ামী লীগের দা-ছুরির আঘাতে রক্তাক্ত হয়ে পড়েন। দুপুর ১টার সেই মুহূর্তে রাস্তাজুড়ে রক্ত, চিৎকার আর আর্তনাদ প্রমাণ করেছিল—শাসকগোষ্ঠী ছাত্রদের ন্যায্য অধিকারকে কতটা নির্মমভাবে রক্তে ডুবিয়ে দিতে পারে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪ বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী ঘটনা। এটি ছিল তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার এক ঐতিহাসিক প্রচেষ্টা। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অব্যবস্থাপনা, বৈষম্য, এবং দমননীতির বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার সম্মিলিত প্রতিরোধের ফলে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে
রিয়াদ সুলতানা নূরীর এই ত্যাগ কেবল একটি মেয়ের নয়; এটি হাজারো দরিদ্র, বঞ্চিত ছাত্র-ছাত্রীর রক্তের প্রতীক, যারা ঘাতক সরকারের হাত থেকে দেশের ভবিষ্যৎ বাঁচাতে রাজপথে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিল।
চিকিৎসা সম্পর্কিত সামগ্রিক বিবরণঃ
আন্দোলনের নৃশংস দমনপীড়নের সময় রিয়াদ সুলতানা নূরী গুরুতর আহত হন। বিশেষ করে ৪ আগস্ট নিউমার্কেট মোড়ে ঘাতক ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের দা–ছুরির আঘাতে এবং গুলিবর্ষণে তিনি মারাত্মকভাবে রক্তাক্ত হয়ে পড়েন। এরপর তাকে একে একে চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল, চট্টগ্রাম পপুলার হাসপাতাল এবং চট্টগ্রাম EPIC হাসপাতাল-এ চিকিৎসা দেওয়া হয়। বর্তমানে তার মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত রয়েছে, যা শারীরিক ও মানসিকভাবে তাকে ভীষণ কষ্ট দিচ্ছে। পূর্বে তিনি একজন শিক্ষার্থী ছিলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি দেশের জন্য আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। কিন্তু এই নৃশংস হামলার কারণে তার স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হয়েছে।
তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত উন্নতির জন্য এখন উন্নত চিকিৎসা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও আধুনিক চিকিৎসা সুবিধার মাধ্যমে পুনর্বাসন এবং দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা তার জন্য অপরিহার্য। শুধু চিকিৎসাই নয়, আহত হওয়ার পর তার ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানও সংকটের মুখে পড়েছে। তবে নূরীর একটি সম্ভাবনা রয়েছে—তার পরিবারের ৪ শতক জমি আছে, যেখানে মাটির ঘর রয়েছে। এই জমিকে ব্যবহার করে স্বনির্ভর হওয়ার সুযোগ তৈরি করা যেতে পারে। চিকিৎসার পাশাপাশি উপযুক্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ পেলে তিনি আবারও দাঁড়িয়ে নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে পারবেন এবং দেশকে এগিয়ে নিতে অবদান রাখতে পারবেন।
একনজরেঃ
নাম: রিয়াদ সুলতানা নূরী
জন্মতারিখ: ২০-০৬-১৯৯৮
জন্মস্থান: কক্সবাজার
পেশা: ছাত্রী
প্রতিষ্ঠান: চট্টগ্রাম মহিলা কলেজ
স্থায়ী ঠিকানা:
গ্রাম: নয়াপাড়া, ইউনিয়ন: কালার ঘার ছড়া,
থানা: মহেশখালী, জেলা: কক্সবাজার
বর্তমান ঠিকানা:
মহল্লা: ছোটপুল চিনা বাড়ি,
এলাকা: হালিশহর, জেলা: চট্টগ্রাম
পারিবারিক তথ্য:
• পিতার নাম: নূরুছ ছবি (বয়স: ৫৫ বছর)
• মাতার নাম: ইসমোতারা বেগম (বয়স: ৪৫ বছর)
• পরিবারের সদস্য সংখ্যা: ৭ জন
• বোন: রিত্তিকা আফরিন (বয়স: ১৮, ইন্টার ছাত্রি)
• বোন: মিত্তিকা মেহেরিন (বয়স: ১৭, ইন্টার ছাত্রী)
যোগাযোগ: ০১৬১২৪২৫৪০২

ঘটনার স্থান: চট্টগ্রাম, নিউমার্কেট মোড় ও কোট বিল্ডিং সংলগ্ন এলাকা
ঘটনার তারিখ ও সময়: ০৪-০৮-২০২৪, দুপুর আনুমানিক ১টা
আহত হওয়ার কারণ: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় পুলিশ ও আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের হামলা (গুলিবর্ষণ, দা-ছুরি দিয়ে আঘাত)

আহতের ধরন: মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত ও রক্তাক্ত জখম
চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রস্তাবনা: উন্নত চিকিৎসার জরুরি প্রয়োজন

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍