ফজল করিম
জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
পেশা:বেকার
🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা
জন্ম পরিচয়
ফজল করিম ২০০০ সালের ৭ই ডিসেম্বর বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত সুন্দর ও ঐতিহাসিক জেলা কক্সবাজারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একটি ছয় সদস্যের পরিবারের সদস্য, যেখানে আর্থিক সংকট থাকলেও পারিবারিক বন্ধন দৃঢ়। তার বাবা, আকতার হোসেন, বর্তমানে বেকারত্বের কারণে পরিবারের আর্থিক দায়িত্ব পালনে অক্ষম। অন্যদিকে, তার মা, মনোয়ারা বেগম, একজন গৃহিণী হিসেবে পরিবারের সদস্যদের দেখভাল এবং গৃহস্থালির সকল কাজ সামলান।
ফজল করিমের পরিবারে তার চেয়ে ছোট আরও দুই ভাই-বোন রয়েছে। তার ছোট ভাই, আলাউদ্দিন, বর্তমানে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত, এবং তার বোন, সুমাইয়া আক্তার, দশম শ্রেণির একজন শিক্ষার্থী। তারা পড়াশোনায় মনোযোগী এবং তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিবার আশাবাদী।
বর্তমানে ফজল করিম একজন বেকার যুবক। তার কোনো নির্দিষ্ট পেশা বা আয়ের উৎস নেই, যা তার এবং তার পরিবারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি তার পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন কি না, তা জানা না গেলেও তিনি কর্মসংস্থানের অভাবে জীবন সংগ্রামে লিপ্ত।
আন্দোলনে অংশগ্রহণ
২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন যখন একটি গণআন্দোলনে রূপান্তরিত হয়, তখন সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের অংশ হতে পেরে আমি নিজেকে গর্বিত মনে করেছিলাম। ৫ই আগস্টের সেই দিনটি আমার জীবনে এক গভীর ক্ষতচিহ্ন এঁকে দিয়েছে, যা আজও শারীরিক ও মানসিকভাবে আমাকে পীড়িত করে। সেদিন আন্দোলনের পক্ষ থেকে 'মার্চ টু ঢাকা' কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়, যা ছিল জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। একই সময়ে সরকারের পক্ষ থেকে জারি করা হয়েছিল অনির্দিষ্টকালের কারফিউ এবং তিন দিনের সাধারণ ছুটি। চারপাশের থমথমে পরিবেশ সত্ত্বেও, গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষায় হাজার হাজার মানুষ রাজপথে নেমে আসে, যা এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছিল।
আন্দোলনের সেই উত্তাল মুহূর্তে হঠাৎ করেই খবর আসে যে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রী হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের মধ্যে এক বিজয়োল্লাস ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু সেই আনন্দ ছিল ক্ষণস্থায়ী। আমি যখন বদ্দারহাট এলাকায় ছিলাম, তখন কিছু উচ্ছৃঙ্খল ও দুষ্কৃতকারী ব্যক্তি অতর্কিতে আমার ওপর হামলা চালায়। তারা আমাকে নির্মমভাবে মারধর করে এবং একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আমার ডান হাতে গভীর আঘাত করে। সেই আঘাত এতটাই ভয়ংকর ছিল যে আমার হাতের তিন থেকে চারটি শিরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এই আঘাতের পর থেকে আমার জীবনযাত্রায় এক বড় পরিবর্তন এসেছে। আমার ডান হাত দিয়ে কোনো সূক্ষ্ম কাজ করতে পারি না, যা আমাকে স্বাভাবিক জীবনযাপন থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে। এই অভিজ্ঞতা আমাকে শুধু শারীরিক কষ্টই দেয়নি, মানসিকভাবেও আমি বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছি। কিন্তু এই কষ্টের মধ্যেও আমি বিশ্বাস করি, দেশের বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ার আন্দোলনে আমার অংশগ্রহণ বৃথা যায়নি। আমার এই আত্মত্যাগ যদি ভবিষ্যতের প্রজন্মকে আরও একটি সুন্দর ও বৈষম্যমুক্ত সমাজ উপহার দিতে পারে, তবে এই ক্ষতচিহ্ন আমার কাছে এক গর্বের প্রতীক হয়ে থাকবে।
চিকিৎসা
বদ্দারহাট এলাকায় হামলার শিকার হয়ে মারাত্মকভাবে আহত হওয়ার পর আমাকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে আমার ডান হাতের গুরুতর আঘাতের জন্য পরপর দু'বার অস্ত্রোপচার করা হয়। এই অস্ত্রোপচারগুলো আমার হাতের ক্ষত সারানোর জন্য অপরিহার্য ছিল, কারণ ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আমার হাতের একাধিক শিরা ও টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
চট্টগ্রামে প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য আমাকে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ট্রমাটোলজি অ্যান্ড অর্থোপেডিক রিহ্যাবিলিটেশন (নিটোর)-এ স্থানান্তর করা হয়। নিটোর-এ আমার হাতে আরও একটি জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। অস্ত্রোপচার শেষে চিকিৎসকরা আমাকে জানান যে সম্পূর্ণ সুস্থ হতে হলে আমাকে কমপক্ষে এক বছর নিয়মিত ফিজিওথেরাপি নিতে হবে। এই থেরাপির মাধ্যমে আমার হাতের কার্যকারিতা ধীরে ধীরে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
আঘাতের পর থেকে এখন পর্যন্ত এই দীর্ঘ চিকিৎসা প্রক্রিয়া আমার জীবনকে অনেক প্রভাবিত করেছে। শারীরিক যন্ত্রণা এবং মানসিক ধকলের পাশাপাশি নিয়মিত থেরাপি চালিয়ে যাওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে আমি আশা করি, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিকভাবে থেরাপি চালিয়ে গেলে এক বছর পর আমার হাত আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।
উন্নত চিকিৎসার প্রস্তাবনা
২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহত হওয়ার পর আমার চিকিৎসা একটি জটিল প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গেছে। বদ্দারহাট এলাকায় সন্ত্রাসী হামলায় আমার ডান হাতে গুরুতর জখম হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে আমাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে দুইবার জরুরি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য আমাকে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ট্রমাটোলজি অ্যান্ড অর্থোপেডিক রিহ্যাবিলিটেশন (নিটোর)-এ স্থানান্তর করা হয়, যেখানে আরও একটি জটিল অস্ত্রোপচার করা হয়।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আমার হাতের সম্পূর্ণ কার্যকারিতা ফিরে পেতে হলে এক বছরব্যাপী নিবিড় ফিজিওথেরাপি প্রয়োজন। তবে বর্তমানে যে চিকিৎসা ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়া চলছে, তা আমার সম্পূর্ণ সুস্থতার জন্য যথেষ্ট নয় বলে মনে হচ্ছে। হাতের স্নায়ু ও পেশি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আরও উন্নত ও বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের চিকিৎসা প্রয়োজন।
কর্মসংস্থান প্রস্তাবনা
২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার পর থেকে ফজল করিমের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়েছে। ডান হাতে গুরুতর জখমের কারণে তিনি এখন পর্যন্ত সম্পূর্ণ সুস্থ নন এবং স্বাভাবিক শারীরিক শ্রমের কাজ করতে অক্ষম। এই পরিস্থিতিতে, আর্থিক স্বাবলম্বী হওয়া তার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ফজল করিমের এই পরিস্থিতিতে, তার জন্য এমন একটি কর্মসংস্থান প্রয়োজন যা তার শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে সম্মান করে এবং তাকে নতুন করে জীবন শুরু করার সুযোগ দেয়। এ ক্ষেত্রে, অফিস সহকারী পদটি একটি উপযুক্ত বিকল্প হতে পারে। এই পদে কাজ করার জন্য সাধারণত শারীরিক পরিশ্রমের চেয়ে দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক দক্ষতার প্রয়োজন হয়।
একনজরে:
নাম:ফজল করিম
জন্মতারিখ: ০৭/১২/২০০০
জন্মস্থান: কক্সবাজার
পেশা:বেকার
স্থায়ী ঠিকানা: মরিচ্যাদিয়া,মগনামা,পেকুয়া,কক্সবাজার
বর্তমান ঠিকানাঃ বশর চেয়ারম্যানের বাড়ি,পুরাতন চাঁদগাও,চাঁদগাও থানা,চট্টগ্রাম
পিতাঃ আকতার হোসেন (বেকার)
মাতা:মনোয়ারা বেগম(গৃহিণী)
যোগাযোগঃ ০১৮২৬৫৪১৫৬১
আয়: নাই
আয়ের উৎস: নাই
পরিবারের সদস্য সংখ্যা:৬
ভাই:আলাউদ্দিন,শিক্ষার্থী, চতুর্থ শ্রেণি
বোন:সুমাইয়া আক্তার,শিক্ষার্থী,দশম শ্রেণি
ঘটনার স্থানঃ বদ্দারহাট,চট্টগ্রাম
আক্রমণকারীঃ সন্ত্রাসী আওয়ামী লীগ, যুবলীগ
আহত হওয়ার সময়ঃ ৫ আগস্ট ২০২৪
ফজল করিম ২০০০ সালের ৭ই ডিসেম্বর বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত সুন্দর ও ঐতিহাসিক জেলা কক্সবাজারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একটি ছয় সদস্যের পরিবারের সদস্য, যেখানে আর্থিক সংকট থাকলেও পারিবারিক বন্ধন দৃঢ়। তার বাবা, আকতার হোসেন, বর্তমানে বেকারত্বের কারণে পরিবারের আর্থিক দায়িত্ব পালনে অক্ষম। অন্যদিকে, তার মা, মনোয়ারা বেগম, একজন গৃহিণী হিসেবে পরিবারের সদস্যদের দেখভাল এবং গৃহস্থালির সকল কাজ সামলান।
ফজল করিমের পরিবারে তার চেয়ে ছোট আরও দুই ভাই-বোন রয়েছে। তার ছোট ভাই, আলাউদ্দিন, বর্তমানে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত, এবং তার বোন, সুমাইয়া আক্তার, দশম শ্রেণির একজন শিক্ষার্থী। তারা পড়াশোনায় মনোযোগী এবং তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিবার আশাবাদী।
বর্তমানে ফজল করিম একজন বেকার যুবক। তার কোনো নির্দিষ্ট পেশা বা আয়ের উৎস নেই, যা তার এবং তার পরিবারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি তার পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন কি না, তা জানা না গেলেও তিনি কর্মসংস্থানের অভাবে জীবন সংগ্রামে লিপ্ত।
আন্দোলনে অংশগ্রহণ
২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন যখন একটি গণআন্দোলনে রূপান্তরিত হয়, তখন সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের অংশ হতে পেরে আমি নিজেকে গর্বিত মনে করেছিলাম। ৫ই আগস্টের সেই দিনটি আমার জীবনে এক গভীর ক্ষতচিহ্ন এঁকে দিয়েছে, যা আজও শারীরিক ও মানসিকভাবে আমাকে পীড়িত করে। সেদিন আন্দোলনের পক্ষ থেকে 'মার্চ টু ঢাকা' কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়, যা ছিল জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। একই সময়ে সরকারের পক্ষ থেকে জারি করা হয়েছিল অনির্দিষ্টকালের কারফিউ এবং তিন দিনের সাধারণ ছুটি। চারপাশের থমথমে পরিবেশ সত্ত্বেও, গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষায় হাজার হাজার মানুষ রাজপথে নেমে আসে, যা এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছিল।
আন্দোলনের সেই উত্তাল মুহূর্তে হঠাৎ করেই খবর আসে যে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রী হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের মধ্যে এক বিজয়োল্লাস ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু সেই আনন্দ ছিল ক্ষণস্থায়ী। আমি যখন বদ্দারহাট এলাকায় ছিলাম, তখন কিছু উচ্ছৃঙ্খল ও দুষ্কৃতকারী ব্যক্তি অতর্কিতে আমার ওপর হামলা চালায়। তারা আমাকে নির্মমভাবে মারধর করে এবং একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আমার ডান হাতে গভীর আঘাত করে। সেই আঘাত এতটাই ভয়ংকর ছিল যে আমার হাতের তিন থেকে চারটি শিরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এই আঘাতের পর থেকে আমার জীবনযাত্রায় এক বড় পরিবর্তন এসেছে। আমার ডান হাত দিয়ে কোনো সূক্ষ্ম কাজ করতে পারি না, যা আমাকে স্বাভাবিক জীবনযাপন থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে। এই অভিজ্ঞতা আমাকে শুধু শারীরিক কষ্টই দেয়নি, মানসিকভাবেও আমি বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছি। কিন্তু এই কষ্টের মধ্যেও আমি বিশ্বাস করি, দেশের বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ার আন্দোলনে আমার অংশগ্রহণ বৃথা যায়নি। আমার এই আত্মত্যাগ যদি ভবিষ্যতের প্রজন্মকে আরও একটি সুন্দর ও বৈষম্যমুক্ত সমাজ উপহার দিতে পারে, তবে এই ক্ষতচিহ্ন আমার কাছে এক গর্বের প্রতীক হয়ে থাকবে।
চিকিৎসা
বদ্দারহাট এলাকায় হামলার শিকার হয়ে মারাত্মকভাবে আহত হওয়ার পর আমাকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে আমার ডান হাতের গুরুতর আঘাতের জন্য পরপর দু'বার অস্ত্রোপচার করা হয়। এই অস্ত্রোপচারগুলো আমার হাতের ক্ষত সারানোর জন্য অপরিহার্য ছিল, কারণ ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আমার হাতের একাধিক শিরা ও টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
চট্টগ্রামে প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য আমাকে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ট্রমাটোলজি অ্যান্ড অর্থোপেডিক রিহ্যাবিলিটেশন (নিটোর)-এ স্থানান্তর করা হয়। নিটোর-এ আমার হাতে আরও একটি জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। অস্ত্রোপচার শেষে চিকিৎসকরা আমাকে জানান যে সম্পূর্ণ সুস্থ হতে হলে আমাকে কমপক্ষে এক বছর নিয়মিত ফিজিওথেরাপি নিতে হবে। এই থেরাপির মাধ্যমে আমার হাতের কার্যকারিতা ধীরে ধীরে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
আঘাতের পর থেকে এখন পর্যন্ত এই দীর্ঘ চিকিৎসা প্রক্রিয়া আমার জীবনকে অনেক প্রভাবিত করেছে। শারীরিক যন্ত্রণা এবং মানসিক ধকলের পাশাপাশি নিয়মিত থেরাপি চালিয়ে যাওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে আমি আশা করি, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিকভাবে থেরাপি চালিয়ে গেলে এক বছর পর আমার হাত আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।
উন্নত চিকিৎসার প্রস্তাবনা
২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহত হওয়ার পর আমার চিকিৎসা একটি জটিল প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গেছে। বদ্দারহাট এলাকায় সন্ত্রাসী হামলায় আমার ডান হাতে গুরুতর জখম হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে আমাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে দুইবার জরুরি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য আমাকে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ট্রমাটোলজি অ্যান্ড অর্থোপেডিক রিহ্যাবিলিটেশন (নিটোর)-এ স্থানান্তর করা হয়, যেখানে আরও একটি জটিল অস্ত্রোপচার করা হয়।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আমার হাতের সম্পূর্ণ কার্যকারিতা ফিরে পেতে হলে এক বছরব্যাপী নিবিড় ফিজিওথেরাপি প্রয়োজন। তবে বর্তমানে যে চিকিৎসা ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়া চলছে, তা আমার সম্পূর্ণ সুস্থতার জন্য যথেষ্ট নয় বলে মনে হচ্ছে। হাতের স্নায়ু ও পেশি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আরও উন্নত ও বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের চিকিৎসা প্রয়োজন।
কর্মসংস্থান প্রস্তাবনা
২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার পর থেকে ফজল করিমের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়েছে। ডান হাতে গুরুতর জখমের কারণে তিনি এখন পর্যন্ত সম্পূর্ণ সুস্থ নন এবং স্বাভাবিক শারীরিক শ্রমের কাজ করতে অক্ষম। এই পরিস্থিতিতে, আর্থিক স্বাবলম্বী হওয়া তার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ফজল করিমের এই পরিস্থিতিতে, তার জন্য এমন একটি কর্মসংস্থান প্রয়োজন যা তার শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে সম্মান করে এবং তাকে নতুন করে জীবন শুরু করার সুযোগ দেয়। এ ক্ষেত্রে, অফিস সহকারী পদটি একটি উপযুক্ত বিকল্প হতে পারে। এই পদে কাজ করার জন্য সাধারণত শারীরিক পরিশ্রমের চেয়ে দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক দক্ষতার প্রয়োজন হয়।
একনজরে:
নাম:ফজল করিম
জন্মতারিখ: ০৭/১২/২০০০
জন্মস্থান: কক্সবাজার
পেশা:বেকার
স্থায়ী ঠিকানা: মরিচ্যাদিয়া,মগনামা,পেকুয়া,কক্সবাজার
বর্তমান ঠিকানাঃ বশর চেয়ারম্যানের বাড়ি,পুরাতন চাঁদগাও,চাঁদগাও থানা,চট্টগ্রাম
পিতাঃ আকতার হোসেন (বেকার)
মাতা:মনোয়ারা বেগম(গৃহিণী)
যোগাযোগঃ ০১৮২৬৫৪১৫৬১
আয়: নাই
আয়ের উৎস: নাই
পরিবারের সদস্য সংখ্যা:৬
ভাই:আলাউদ্দিন,শিক্ষার্থী, চতুর্থ শ্রেণি
বোন:সুমাইয়া আক্তার,শিক্ষার্থী,দশম শ্রেণি
ঘটনার স্থানঃ বদ্দারহাট,চট্টগ্রাম
আক্রমণকারীঃ সন্ত্রাসী আওয়ামী লীগ, যুবলীগ
আহত হওয়ার সময়ঃ ৫ আগস্ট ২০২৪
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍