হোম / আহতদের তালিকা / মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল সাহেদ
 মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল সাহেদ

মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল সাহেদ

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

পেশাঃ ছাত্র
প্রতিষ্ঠানঃ আন্তর্জাতিক ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা

“আমার রক্ত যদি বৈষম্যের মাটিতে ঝরে পড়ে, তবে তা নতুন প্রজন্মের জন্য ন্যায়ের বীজ হয়ে অঙ্কুরিত হবে। ঘাতকের গুলি আমার শরীর বিদ্ধ করেছে, কিন্তু আমার স্বপ্নকে কখনোই হত্যা করতে পারবে না।”
জন্মপরিচয়
মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল সাহেদ ১৯৯৯ সালের ১লা জানুয়ারি কক্সবাজার জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। গ্রামের শৈশব কাটানো এই তরুণ বর্তমানে আন্তর্জাতিক ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামে অধ্যয়নরত একজন ছাত্র। তাঁর স্থায়ী নিবাস কক্সবাজারের দক্ষিণ ঘোনার পাড়া হলেও বর্তমানে তিনি চট্টগ্রামের বায়েজিদ থানার ফটিক ছড়ি আবাসিক এলাকায় বসবাস করছেন। সাহেদের পিতা মোঃ সারয়ার কামাল একজন পল্লি চিকিৎসক (বয়স ৭০) এবং মা ফরিদা বেগম সিকদার (বয়স ৫৮) একজন গৃহিণী। সাধারণ পরিবারের সন্তান সাহেদ তিন ভাইয়ের মধ্যে ছোট; বড় ভাই মোঃ আব্দুল্লাহ আল রাশেদ (৩৪) এবং মোঃ আব্দুল্লাহ আল জাহেদ (৩২) চাকুরিজীবী হিসেবে কর্মরত। পরিবারের আয়ের মূল উৎস ছোট একটি দোকান, যার মাসিক আয় প্রায় আঠারো হাজার টাকা।
সাম্প্রতিক সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে ঢাকাসহ ১৯টি জেলায় তাজা বুলেট, ছররা ও রাবার বুলেট ব্যবহৃত হয় এবং অন্তত ২৯ জন প্রাণ হারান। হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রী যখন আন্দোলনে যোগ দেয়, তখন সাহেদও তার অংশ নেন। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন কেন্দ্র, মহাসড়কের টোল প্লাজাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে আগুন লাগার ঘটনাও ঘটে। সেই উত্তাল সময়ের রক্তক্ষয়ী আন্দোলনে সাহেদ আহত হন। তবে তাঁর বিশ্বাস, এই রক্ত-ঘামে একদিন ন্যায়ের বিজয় নিশ্চিত হবে এবং দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি সুন্দর সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।
আন্দলনে অংশগ্রহণঃ
মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল সাহেদ (জন্ম: ০১ জানুয়ারি ১৯৯৯, কক্সবাজার) একজন তীক্ষ্ণচেতন, পড়াশোনায় মনোনিবেশী তরুণ যে আন্তর্জাতিক ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রামে ছাত্র হিসেবে অধ্যয়নরত। ১৮ জুলাই ২০২৪ এ তিনি বায়েজিদের বহদ্দারহাট এলাকায় অনুষ্ঠিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে দুপুর থেকেই অংশ নেন; আন্দোলন ছিল কোটা সংষ্কার ও সরকারের দীর্ঘকালীন ক্ষমতার অসাম্য ভিত্তিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে। সেই বিকেলে প্রতিবাদের জ্যামিতিক তীব্রতায় নিখুঁত শহরের রাস্তাগুলো রক্তঝরা শব্দে ভেঙে পড়েছিল সাহেদ গুরুতরভাবে আহত হন: প্রথমে পায়ে এক রাবার বুলেট, পরে দু’টি রাবার বুলেট তার ডান হাতে লাগল; সর্বশেষ বিকাল ৫:৩০ মিনিটে কোমরের মাঝামাঝি এক চায়না রাইফেলের গুলি ঢুকে ডান পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায় মোট তিনটি রাবার বুলেট ও একটি লাইভ গুলির আঘাতে সে ছিন্নভিন্ন। সাহেদের বর্ণনা অনুযায়ী আঘাতকারীরা ছিলেন পারস্পরিক গোষ্ঠীভিত্তিক আক্রমণকারীরা—যুবলীগ সমর্থক ও পুলিশ; চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট এলাকায় এক যুবলীগ সমর্থিত ব্যক্তির তরফ থেকে গণআন্দোলনের উপর গুলির ফায়ারিং-র ঘটনা নিয়ে স্থানীয় সংবাদ প্রতিবেদনে আলোকপাত করা হয়েছে।
এ ঘটনার প্রেক্ষাপট ছিল দেশের ঢেউতোলা রাজনৈতিক মণ্ডল অর্ধশত ঐতিহ্যবাহী অভিযোগ ও তরুণদের কণ্ঠসাহসের মিলিত দীর্ঘঅপেক্ষা। ১৮–১৯ জুলাইয়ের সর্বাত্মক অবরোধের দিনগুলোতে ঢাকাসহ অনেক জেলায় সংঘর্ষ ও ব্যাপক সহিংসতা ছড়ায়; বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন (BTV) ও প্রধান যাতায়াত পথের টোল প্লাজাস ওহনকারি পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত ও পুড়িয়ে দেওয়া হয় এবং দিনভর ওই দফায় বহু মানুষ আহত ও প্রাণ হারান এই ভয়াবহতার ছবি জনমনে গভীর ছাপ ফেলে।
সাহেদের মতো অসংখ্য ছাত্রের জন্য এই আন্দোলন ছিল শুধু চাকরির কোটা–বিষয় নয়; এটা ছিল ১৫–১৬ বছরের শাসনকে ঘিরে জন্ম নেওয়া অপমান, অবিচার ও প্রতিবাদের বহিঃপ্রকাশ যা অনেকই সরকারের একচেটিয়া ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের বিরুদ্ধে নীরবতম মানুষের বিদ্রোহ বলেই দেখেছিলেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমও লক্ষ্য করেছে যে আন্দোলন শীঘ্রই একটি বৃহত্তর জনবিক্ষোভে রূপ নেয়, যেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর কড়া সহ প্রতিকার এবং সরকারের প্রতি তীব্র রোষ দেখা গেছে।
সাহেদের গল্প রক্তমাখা জামা, দগ্ধ কণ্ঠস্বর, বাতাসে ভাসমান ধোঁয়া আর বন্ধুদের চূর্ণদেহের দৃশ্য, একটি ব্যক্তিগত জন্মপরিচয়ের অংশ হয়ে দাঁড়ায়; যে পরিচয়টি শুধু জন্মতারিখ আর ঠিকানাই নয়, বরং একটি দেশের ওপর চলমান অন্যায় ও নৃশংসতার সামনে দাঁড়ানো ও ত্যাগের সাক্ষ্য।
চিকিৎসা সম্পর্কিত সামগ্রিক বিবরণঃ
মো. আব্দুল্লাহ আল সাহেদকে প্রথমে গুরুতর অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেলে আনা হলে সেখানে প্রাথমিকভাবে কেবল ব্যান্ডেজ ও জরুরি ত্রাণসেবা প্রদান করা হয়। রাতেই তার অবস্থা মূল্যায়ন করে তাকে পার্ক ভিউ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় এবং সেখানে তৎক্ষণাত অপারেশন করা হয়। অপারেশনের সময় রিপোর্ট অনুযায়ী কোমরের মাঝামাঝি ঢুকে ডান পাশ দিয়ে বেরিয়ে গেছে একটি চায়না রাইফেলের গুলি; এর সাথে একই দিনে আগে পায়ে এক ও পরে দুইটি রাবার বুলেটের আঘাতও হয়েছে। অপারেশন ও ওষুধপান শেষে তিনি বাড়িতে চলে আসেন এবং বর্তমানে পরিবারের পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী বাড়িতেই চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন। কোমরে বুলেটজনিত আঘাতের কারণে এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিকভাবে চলা-ফেরা সম্ভব হচ্ছে না এবং দৈনন্দিন কাজের জন্য সীমাবদ্ধতা ও ব্যথা রয়ে গেছে।
চিকিৎসার ইতিবৃত্তে উল্লেখ করা যায়, জরুরি অপারেশন এবং নিয়মিত ওষুধ সেবন করা হয়েছে; চিকিৎসকগণ পরবর্তী পর্যায়ের চিকিৎসা হিসেবে নিয়মিত ফিজিওথেরাপি ও ফিজিক্যাল রিহ্যাবিলিটেশনকে প্রধান প্রস্তাবনা হিসেবে দিয়েছেন। পরিকল্পিত ও পর্যবেক্ষিত ফিজিওথেরাপির মাধ্যমে কোমর ও দেহের গতিশক্তি ধীরে ধীরে ফিরিয়ে আনা এবং দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা কমানো সম্ভব—তাই প্রতিবারের ডাক্তারের পরামর্শ মেনে নিয়মিত পুনর্বাসন অত্যন্ত জরুরি। তিনি বর্তমানে একজন ছাত্র হওয়ায় আর্থ-সামাজিক নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের পরামর্শ হিসেবে পরিবারের প্রস্তাবনা অনুযায়ী সরকারি চাকরির সুযোগ বজায় রাখা হলে চিকিৎসা ও পুনর্বাসন চালিয়ে যাওয়া বেশি সহজ হবে।
একনজরেঃ
নাম: মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল সাহেদ
জন্মতারিখ: ০১-০১-১৯৯৯
জন্মস্থান: কক্সবাজার
পেশা: ছাত্র
প্রতিষ্ঠান: আন্তর্জাতিক ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম
ঠিকানা সংক্রান্ত তথ্য:
• স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম – দক্ষিণ ঘোনার পাড়া, থানা – কক্সবাজার, জেলা – কক্সবাজার
• বর্তমান ঠিকানা: ফটিক ছড়ি আবাসিক, এলাকা – অক্সিজেন, থানা – বায়েজিদ, জেলা – চট্টগ্রাম
পারিবারিক তথ্য:
• পিতার নাম: মোঃ সারয়ার কামাল (পল্লি চিকিৎসক, বয়স: ৭০ বছর)
• মাতার নাম: ফরিদা বেগম সিকদার (গৃহিণী, বয়স: ৫৮ বছর)
• পরিবারের সদস্য সংখ্যা: ৩ জন
• ভাই:
o মোঃ আব্দুল্লাহ আল রাশেদ (বয়স: ৩৪, পেশা: চাকরিজীবী)
o মোঃ আব্দুল্লাহ আল জাহেদ (বয়স: ৩২, পেশা: চাকরিজীবী)
• মাসিক আয়: ১৮,০০০ টাকা (উৎস: নিজ দোকান)
• যোগাযোগ: ০১৮৯০৬৬০০৮৫
ঘটনার বিবরণ:
• ঘটনার স্থান: বহদ্দারহাট, চট্টগ্রাম
• ঘটনার তারিখ ও সময়: ১৮-০৭-২০২৪, বিকাল আনুমানিক ৫:৩০ মিনিট
• আহত হওয়ার কারণ: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গুলি ও হামলা
• আঘাতের ধরন: ৩টি রাবার বুলেট (পা ও হাত) এবং ১টি চায়না রাইফেলের গুলি (কোমরে বিদ্ধ হয়ে ডান পাশ দিয়ে বের হয়)
কর্মসংস্থানের প্রস্তাবনা:
• ভবিষ্যতে সরকারি চাকরি পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা হলে পুনর্বাসন সহজ হবে।

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍