হোম / আহতদের তালিকা / মোঃ জাকারিয়া
মোঃ জাকারিয়া

মোঃ জাকারিয়া

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

পেশা: শিক্ষার্থী

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা


জন্ম পরিচয়

মোঃ জাকারিয়া ১৩ সেপ্টেম্বর ২০০৩ সালে কুমিল্লার জয়নগর আলিশ্বর ওয়ার্ড-৫-এ জন্মগ্রহণ করেন। তার শৈশব কুমিল্লার গ্রামীণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কেটেছে, যেখানে পরিবার তার শিক্ষাজীবনের প্রতি গভীর যত্ন এবং নৈতিক দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন।
বর্তমানে তিনি কুমিল্লা পলিটেকনিকের একজন শিক্ষার্থী হিসেবে তার জ্ঞানভাণ্ডার ও দক্ষতা বৃদ্ধি করছেন, নিজের আগ্রহ ও পরিশ্রমের মাধ্যমে জীবনকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেওয়ার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার স্থায়ী ঠিকানা হলো জয়নগর আলিশ্বর, বাগমারা দক্ষিণ, লালমাই, কুমিল্লা, যা তার বর্তমান ঠিকানাও। পিতা আবু তৈয়ব একজন কৃষক, যিনি পরিশ্রম ও নৈতিকতার মাধ্যমে পরিবারের আশা ও স্বপ্নকে ধারণ করছেন, এবং মাতা সাবিনা ইয়াসমিন, গৃহিণী হিসেবে, নিঃস্বার্থভাবে সন্তান ও পরিবারকে স্নেহময় যত্নে আবৃত করেছেন।

মোঃ জাকারিয়ার জীবন যেন এক ধারাবাহিক শিক্ষা, নৈতিকতা, পরিশ্রম এবং মানবিক মূল্যবোধের মিলনস্থল, যা তাকে গড়ে তুলেছে কেবল জ্ঞানী নয়, বরং নৈতিক ও কর্মঠ মানুষ হিসেবে, যিনি সমাজে অনুপ্রেরণার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে সক্ষম।
আন্দোলনে অংশগ্রহণ
মোঃ জাকারিয়া ২৮ জুলাই অনুষ্ঠিত ছাত্র আন্দোলনে একজন সমন্বয়কের ভূমিকায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। আন্দোলনের সময় ছাত্ররা রাষ্ট্রীয় সহিংসতার বিচার দাবি করে বিভিন্ন তীব্র স্লোগান দিতে থাকে, যেমন—‘তোর কোটা তুই নে, আমার ভাই ফিরিয়ে দে’ এবং ‘লাশের ভিতর জীবন দে, নইলে গদি ছেড়ে দে’। দীর্ঘদিন ধরে এই ন্যারেশন মাঠে বজায় থাকলেও ২৫ তারিখ থেকে ছাত্রদের মধ্যে বিকল্প চেতনা এবং স্লোগান জন্ম নেয়, যেমন—‘তুমি কে? আমি কে? বিকল্প বিকল্প’।
এতে বোঝা যায় যে, রাষ্ট্র কখনো এক ব্যক্তির ওপর নির্ভর করবে না, বরং একটি শক্তিশালী সিস্টেমের ওপর নির্ভর করবে। অথচ গত ১৫ বছর ধরে দেশের মানুষ শুনছে, বিকল্প কেউ নেই, যা ১৮ কোটি মানুষের দেশে ক্ষমতার কেন্দ্রকেন্দ্রীকরণ ও দুর্বলতার ইঙ্গিত বহন করে।অভ্যুত্থানকারীরা পুলিশ ও সন্ত্রাসী আওয়ামী সংগঠনের সহিংসতার বিরুদ্ধে সরব থাকলেও তাদের প্রতিবাদকে দমন করতে লাঠিচার্জ, টিয়ার শেল, রাবার বুলেট ও গরম
পানিতে অমানবিকভাবে অতিষ্ঠ করা হয়। তবে ছাত্রদের হাতে অস্ত্র ছিল না, ছিল কেবল মুখের ভাষা ও স্লোগান। মোঃ জাকারিয়ার দায়িত্ব ছিল ২০–২৫টি লাঠি সংগ্রহ করে আন্দোলনকারী ছাত্রদের মাঝে বিতরণ করা, যা আত্মরক্ষার উদ্দেশ্যে ছিল।হঠাৎ ওই সময় ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী একটি দল আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর আক্রমণ চালায়। হামলার সময় জাকারিয়া বার্ডের পূর্ব পাশে এবং কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের পশ্চিম পাশের রাস্তায় অবস্থান করছিলেন। আক্রমণের পর আন্দোলনকারীরা চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে, জাকারিয়া তার ছোট ভাইকে সঙ্গে নিয়ে একটি রিকশায় উঠে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে রওনা হন। সেই সময় তার হাতে থাকা হ্যান্ড মাইক ব্যবহার করে তিনি মিছিল চলাকালে ছাত্রদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিচ্ছিলেন। ছাত্রলীগের কর্মীরা মাইক দেখে জাকারিয়াকে রিকশা থেকে নামিয়ে মারধর করে এবং তার ছোট ভাইকেও একইভাবে আক্রান্ত করে।পরে জাকারিয়াকে পুলিশে হেফাজতে রাখা হয়।
পুলিশি হেফাজতের সময় তার শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন লক্ষ্য করা যায়। জাকারিয়া ব্যথার কারণে চিকিৎসা ও ওষুধ চাইলেও পুলিশ তাকে কোনো চিকিৎসা বা ওষুধ দেয়নি। এই ঘটনার ফলে তার শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি হয়েছে, যা আন্দোলনে তার সাহসিকতা ও ভূমিকার প্রমাণ হিসেবে ইতিহাসে চিহ্নিত হয়েছে।
চিকিৎসা
মোঃ জাকারিয়া ও তার ছোট ভাই আন্দোলনের সময় পুলিশি হেফাজতে শারীরিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার পর দীর্ঘ সময় রাতে অন্যান্য সমন্বয়কারীদের মাধ্যমে মুক্তি পান। মুক্তি পাওয়ার পর তারা বাসায় ফিরে ব্যথা উপশমের জন্য ওষুধ গ্রহণ করেন। ব্যস্ত আন্দোলনের কারণে তখন তারা ডাক্তার দেখাতে পারেননি, ফলে প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা সীমিত ছিল।পরবর্তীতে আন্দোলনের সাফল্যের পর, জাকারিয়া কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে পরিপূর্ণ চিকিৎসা গ্রহণ করেন।
সেখানে ডাক্তারদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ওষুধ গ্রহণ ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়া চালু রাখা হয়। চিকিৎসার ফলে তার শরীরে সৃষ্ট আঘাত ও ব্যথা ধীরে ধীরে কমতে থাকে এবং শারীরিক সুস্থতার দিকে ধাপান্তর ঘটে। চিকিৎসা প্রক্রিয়ার সময় ডাক্তাররা তাকে পর্যবেক্ষণ ও নির্দিষ্ট ঔষধ প্রদান করেন, যা তার সুস্থতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এই চিকিৎসা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জাকারিয়া পুনরায় আন্দোলনে অংশগ্রহণ করার সক্ষমতা অর্জন করেন এবং তার শরীর ও মন দুইই সুস্থ থাকার দিকে এগিয়ে যায়।
কর্মসংস্থান প্রস্তাবনা
আন্দোলনের সাফল্যের পর কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়ে পূর্ণ চিকিৎসা গ্রহণ করেছি। ডাক্তারদের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছি। চিকিৎসার ফলে শরীরে সৃষ্ট আঘাত ও ব্যথা ধীরে ধীরে কমছে এবং শারীরিক সুস্থতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। চিকিৎসার সময় ডাক্তাররা পর্যবেক্ষণ ও ঔষধ প্রদান করেছেন, যা সুস্থতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।এই চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের কারণে অনেক অর্থ ব্যয় হয়েছে, যা আমার আর্থিক অবস্থাকে প্রভাবিত করেছে। সেজন্য, শিক্ষাগত উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য একটি স্কলারশিপ পাওয়ার প্রয়োজন অনুভব করছি।







একনজরে:

• নাম:মোঃ জাকারিয়া
• জন্মতারিখ: ১৩-৯-২০০৩
• জন্মস্থান: জয়নগর আলিশ্বর ওয়ার্ড-৫,কুমিল্লা
• পেশা: শিক্ষার্থী
• প্রতিষ্ঠানের নাম: কুমিল্লা পলিটেকনিক
• স্থায়ী ঠিকানা: জয়নগর আলিশর,বাগমারা দক্ষিণ,লালমাই,কুমিল্লা
• বর্তমান ঠিকানাঃ একই
• পিতাঃ আবু তৈয়ব (কৃষক)
• মাতা: সাবিনা ইয়াসমিন(গৃহিণী)
• যোগাযোগঃ ০১৮৫৫১৭৭৭৩৮
• আয়:১০,০০০ টাকা
• পরিবারের সদস্য সংখ্যা:৫
• ভাইঃ মোঃ জাবের,শিক্ষার্থী,কলেজ
• মোঃ জুনায়েদ
• বোন: আকছিরে জাহানারাদি,শিক্ষার্থী ৬ষ্ঠ শ্রেণি
• ঘটনার স্থানঃ কুমিল্লা কোটবাড়ি বিশ্বরোড
• আক্রমণকারীঃ সন্ত্রাসী ছাত্রলীগ
• আহত হওয়ার সময়ঃ ২৮ই জুলাই ২০২৪, দুপুর ১.১৫

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍