হোম / আহতদের তালিকা / মোঃ পারভেজ
মোঃ পারভেজ

মোঃ পারভেজ

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

পেশাঃ ছাত্র,গৌরীপুর মুন্সি ফজলির রহমান ডিগ্রী কলেজ

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা

খুনি ফ্যাসিস্ট হাসিনার স্বৈরশাসনের ভয়াবহতা
খুনি হাসিনার স্বৈরশাসনের দিনগুলো সব সময়ই ইতিহাসে কলঙ্কিত অধ্যায় হিসেবে রয়ে যাবে। যখন খুনি হাসিনার বাহিনীর মাধ্যমে গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করা হয়,ভিন্নমতকে দমন করা হয় এবং মানুষের ন্যায্য অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়-তখন শাসনব্যবস্থা রূপ নেয় ভয়াবহ দমন–পীড়নের যন্ত্রে। রাস্তাঘাটে ভয়,আতঙ্ক আর রক্তের স্রোত বইতে শুরু করে। শিক্ষার্থী থেকে শ্রমিক-সবাই হয়ে ওঠে নির্যাতনের শিকার। সংবাদমাধ্যম,আদালত,মতপ্রকাশের অধিকার-সবকিছু ধীরে ধীরে সীমাবদ্ধ হয়ে আসে। এ সময়ের দমননীতি শুধু রাজনৈতিক নয়;সমাজের প্রতিটি স্তরকে আঘাত করে,মানুষকে নিস্তব্ধ ও ভীতসন্ত্রস্ত করে রাখে। ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে,এ ধরনের স্বৈরতান্ত্রিক শাসন চিরস্থায়ী হয় না;মানুষের মুক্তির আকাঙ্ক্ষাই শেষ পর্যন্ত সব শৃঙ্খল ভেঙে ফেলে।
মোঃ পারভেজ : জুলাই আন্দোলনের এক নির্ভীক সাহসী যোদ্ধা
জন্ম
মোঃ পারভেজ ২০০৩ সালের ২ জানুয়ারি কুমিল্লা জেলার তিতাস উপজেলার মজিদপুর ইউনিয়নের মজিদপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। গ্রামীণ মাটির ঘ্রাণ ও প্রকৃতির স্নিগ্ধতায় বেড়ে ওঠা এই তরুণ শৈশব থেকেই স্বপ্ন দেখতেন দেশ ও সমাজের জন্য কিছু করার।
পারিবারিক জীবন
তাঁর পিতা আসর আলী -এক পরিশ্রমী কৃষক,বর্তমানে প্রবাসে থেকে পরিবারের ভবিষ্যৎ গড়তে নিরলস সংগ্রাম করছেন। তাঁর উপার্জনের শক্তিতেই সংসার চলছে আর সন্তানদের গড়ে উঠছে আদর্শের আলোয়।মা মাকসুদা বেগম -এক মমতাময়ী ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ নারী,যিনি পরিবারে নৈতিকতা,দায়িত্ববোধ ও আত্মবিশ্বাসের বীজ বপন করে যাচ্ছেন নীরবে। তিন ভাইবোনের মধ্যে পারভেজ বড়। ছোট ভাই মুহাম্মদ সাইমুম (বয়স ১১) ৩য় শ্রেণিতে পড়ছে এবং বোন সাদিয়া আক্তার (বয়স ১৮) দশম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত।
কর্মজীবন
মোঃ পারভেজ গৌরীপুর মুন্সি ফজলির রহমান ডিগ্রি কলেজের ছাত্র ছিলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি সমাজের অসঙ্গতি ও বৈষম্য তাঁকে ভাবিয়ে তুলত। অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা,ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানো-এসব ছিল তাঁর নিত্যদিনের চর্চা। আহত হওয়ার পর তাঁর পড়াশোনা বাধাগ্রস্ত হয়,কিন্তু ন্যায়ের পথে তাঁর বিশ্বাস এক মুহূর্তের জন্যও ভঙ্গুর হয়নি।
সংগ্রামী জীবন
শৈশব থেকেই পারভেজ সমাজের অসঙ্গতি,বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক তীব্র প্রতিবাদী মন গড়ে তোলেন। রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার গভীর বিশ্লেষণ তাঁকে সাহসী করে তোলে। জীবনের শ্রেষ্ঠ অধ্যায় শুরু হয় যখন তিনি রাজপথে দাঁড়িয়ে ফ্যাসিবাদী দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেন। ভয়,নিপীড়ন,রক্ত-কোনো কিছুই তাঁর অগ্রযাত্রা থামাতে পারেনি। তাঁর সাহস,আত্মত্যাগ ও দৃঢ় মানসিকতা কেবল একটি প্রজন্ম নয়,বহু প্রজন্মের জন্য এক অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
জুলাই আন্দোলনের ভয়াবহতা শুনুন যোদ্ধার নিজস্ব জবানীতে
আমি পারভেজ। জুলাই আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী। ছোটবেলা থেকেই বৈষম্য আর অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমার মনের ভেতর তীব্র প্রতিক্রিয়া কাজ করত। তাই ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের দিনটি আমার জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয়-আর সবচেয়ে ভয়াবহ দিনও।সেদিন আমরা তিতাস থানার সামনে অবস্থান নিয়েছিলাম। আমাদের দাবি ছিল সবার জন্য সমান অধিকার,ন্যায়বিচার আর বৈষম্যহীন সমাজ। আমরা স্লোগান তুলছিলাম শান্তিপূর্ণভাবে।
কিন্তু হঠাৎ করেই পরিস্থিতি বদলে গেল।পুলিশ চারদিক ঘিরে ফেলল। মুহূর্তের মধ্যে আঘাত শুরু হলো। প্রথমে টিয়ার গ্যাস,তারপর লাঠিচার্জ,আর কিছু বোঝার আগেই গুলি ছুটে এলো। চারপাশ যেন অন্ধকার হয়ে গেল।
আমি তীব্র যন্ত্রণা অনুভব করলাম। প্রায় ২৫টা ছররা গুলি আমার চোখে,মুখে,হাতে,মাথায় বিদ্ধ হলো। রক্ত আমার শরীর ভিজিয়ে দিল,আমি দাঁড়িয়ে থাকতে পারলাম না।মাটিতে পড়ে গেলামআর কানে শুধু শুনতে পেলাম সহযোদ্ধাদের আর্তনাদ।তারপর আমি আর কিছু মনে করতে পারি না। সহযোদ্ধারা আমাকে ধরে তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে চোখ খুলে দেখি আমি এখনও বেঁচে আছি।
সেদিন আমি শুধু নিজের শরীরের যন্ত্রণা অনুভব করিনি;অনুভব করেছি অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর মাশুল কত ভয়াবহ হতে পারে। কিন্তু এই রক্ত,এই যন্ত্রণা আমাকে থামাতে পারবে না-বরং আমার বিশ্বাসকে আরও শক্ত করবে। ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানো আমার জীবনের উদ্দেশ্য হয়ে থাকবে।

চিকিৎসা সম্পর্কিত সামগ্রিক বর্ণনা
খুনি ফ্যাসিস্ট বাহিনী পুলিশ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের গুলির বৃষ্টি বর্ষন করে, গুলিবর্ষণ থামার আগেই সহযোদ্ধারা ছুটে আসে পারভেজের কাছে। রক্তে ভেজা শরীর,অচেতন দেহ-তাকে দ্রুত তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা প্রাণ বাঁচাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন। কিন্তু অবস্থার অবনতি হলে তাকে রেফার করা হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।৬ আগস্ট তাঁর চোখের প্রথম অপারেশন হয়। চিকিৎসকদের মুখের ভাষা ছিল গুরুতর আশঙ্কায় ভরা। তবুও থেমে থাকেননি তারা। চোখের উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইন্সটিটিউটে। সেখানে ২০ আগস্ট ভর্তি হওয়ার পর ২১ আগস্ট দ্বিতীয়বার চোখের অপারেশন হয়। দুদিন হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে রইলেন তিনি-রক্তক্ষরণ,ব্যথা আর অনিশ্চয়তার মধ্যে।
কিন্তু সব চেষ্টার পর চিকিৎসকরা জানালেন-তাঁর বাম চোখ আর ফিরবে না। মাথার ভেতর তখনও অনেক গুলি রয়ে গেছে। শেষপর্যন্ত সিএমএইচে (CMH) চিকিৎসা নেওয়া হয়,কিন্তু ক্ষতগুলো অমোচনীয় হয়ে থাকে।
এই দীর্ঘ চিকিৎসা পথরেখা শুধু একজন তরুণের নয়-বরং একটি সময়ের নির্মমতার সাক্ষ্য। তার শরীরের ক্ষত হয়ে আছে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর চূড়ান্ত মাশুলের এক নিদর্শন।
পূর্বে কি ধরণের পেশায় নিয়োজিত ছিলেন
ছাত্র
কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা
স্থায়ী ও নিরাপদ চাকরির ব্যবস্থা,চাকরির মাধ্যমে জীবিকা নিশ্চিতকরণ,পারিবারিক দায়িত্ব বিবেচনায় মানবিক সহায়তা।
এক নজরে মোঃ পারভেজ

ব্যক্তিগত বিবরণ
নাম : মোঃ পারভেজ
জন্ম তারি : ০২-০১-২০০৩
জন্মস্থান : তিতাস
পেশা : ছাত্র
নিজ জেলা : কুমিল্লা
পেশাগত পরিচয়/ কর্মরত প্রতিষ্ঠান : ছাত্র,গৌরীপুর মুন্সি ফজলির রহমান ডিগ্রী কলেজ
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রামঃ মজিদপুর , ইউনিয়ন: মজিদপুর , থানা: তিতাস, জেলা: কুমিল্লা
বর্তমান ঠিকানা : ঐ

আহতের চিত্র

আহত হওয়ার স্থান : কুমিল্লা তিতাস থানার সামনে
তারিখ ও সময় : ৫ আগস্ট,২০২৪ ,দুপুর ১.৩০মিনিটের দিকে।
আক্রমণকারী : পুলিশ ও আওয়ামীলীগের সন্ত্রাসী কর্তৃক
আঘাতের ধরণ : সারা শরীর গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যায়।
চিকিৎসা : প্রথমত আমি ডাক্তার থেকে চিকিৎসা নিই। তারপর দাগনভূয়া ডক্টরস পয়েন্ট থেকে;
বর্তমান অবস্থা : চিকিৎসা চলমান

পরিবার সংক্রান্ত তথ্য:
পিতার নাম : আসর আলী
পিতার পেশা ও বয়স : প্রবাসী,
মায়ের নাম : মাকসুদা
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী,
মাসিক আয় : ৩০০০০
আয়ের উৎস : রেমিটেন্স
বাড়ির বিবরণ : মাটি ও টিনের বাড়ি।
সম্পদের পরিমাণ : ১ শতক
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৫জন

ভাইবোনদের নাম

১. সাদিয়া আক্তার , বয়স: ১৮ পেশাঃ ছাত্রী , শ্রেণীঃ ১০ম, সম্পর্কঃ বোন
২. মুহাম্মদ সাইমুম , বয়স: ১১ , পেশাঃ ছাত্র , শ্রেণীঃ ৩য় সম্পর্ক : ভাই

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍