হোম / আহতদের তালিকা / মো: সুজন
মো: সুজন

মো: সুজন

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

মো: সুজন এক সময় ছিলেন অনলাইন অফিসের পরিশ্রমী কর্মচারী যার স্বপ্ন ছিল পরিবারের অভাব ঘুচিয়ে এগিয়ে যাওয়ার। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট নয়াবাজারে আন্দোলনের মিছিলে গুলিবিদ্ধ হয়ে তাঁর যুবক জীবন থমকে যায়। বুকে বিধে থাকা সেই গুলিই আজ তাকে রিকশার হ্যান্ডেলে বাঁচার লড়াই শিখিয়েছে। অসহায় পরিবারের একমাত্র ভরসা হয়ে সুজন এখনো সংগ্রামে অটল, একটি ছোট দোকানের স্বপ্নে খুঁজছেন নতুন জীবনের আলো। তাঁর গল্প সাহস, ক্ষত ও অদম্য প্রত্যয়ের মিশ্রণে এক নীরব বীরের প্রতিচ্ছবি।

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা

মো: সুজন
ক্রমিক: ০৫৯
আইডি: ঢাকা সিটি ০৫৯
পরিচিতি
সাহসিকতা, সংগ্রাম আর আত্মত্যাগের প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠে এসেছেন এক তরুণ সুজন। জীবনের অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আজ তিনি দাঁড়িয়ে আছেন মৃত্যুর মুখোমুখি, কিন্তু হার মানেননি এখনো। সুজনের জন্ম দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, ঢাকার মদিনা নগর এলাকার এক সাধারণ পরিবারে। গ্রামের ধর্মীয় শিক্ষার কেন্দ্র কারগেন্ডারিয়া খেজুরবাগ দীনিয়া মাদ্রাসাতে তার পড়ালেখা শুরু। তারপর পেশাগত জীবনে তিনি কাজ করেছেন সাউথ কে অনলাইন, চুনকুটিয়া চৌরাস্তা, শুভাড্ডা অফিসে। একসময়ের ইন্টারনেট অফিস ম্যানেজার ছিলেন যিনি, সেই সুজনই আজ গুলিবিদ্ধ হয়ে জীবন ও জীবিকার তাগিদে রিকশা চালিয়ে বেঁচে থাকার লড়াই করছেন।
পারিবারিক পটভূমি
সুজনের পরিবারে এখন অবলম্বনের মতো কেউ নেই। তার মা জোসনা বেগম প্রয়াত হয়েছেন অনেক আগেই, আর বাবা হালিম (বয়স ৫৮) স্ট্রোকের পর থেকে সম্পূর্ণভাবে অক্ষম। ভারী কাজ তো দূরের কথা, নিজের শরীরের ভারই তিনি টানতে পারেন না। সুজনের সাথে থাকেন তার স্ত্রী, একজন ছোট বোন মোসা: সুমি, এবং বোনের ছেলে মোস্তাকিম। ভাগ্নে ও বোন তার সাথেই থাকে। কারণ তার বোনের সংসার ভেঙে গেছে, স্বামীও খোঁজ রাখে না। পরিবারের প্রতিটি সদস্য এক প্রকার নির্ভর করে আছেন সুজনের ওপর, অথচ তিনিই আজ বেঁচে আছেন বুকে গুলি নিয়ে।
আহত হওয়ার ঘটনা
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, দেশজুড়ে যখন চলছিল স্বৈরাচারবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন তখন নয়াবাজারে একটি ভয়াবহ ঘটনা ঘটে। সে দিন সুজনও ছিলেন রাজপথে, অন্যায়ের প্রতিবাদে সরব। হঠাৎ করেই আচমকা বুকে এসে আঘাত করে এক গুলি। সুজনের কলিজায় গুলি লাগে। অপারেশন করে যার তিন ভাগের দুই ভাগ কেটে ফেলতে হয়। আরেকটি গুলি ছুঁয়ে যায় ডান হাতের মাঝ বরাবর, চামড়ার ভেতর দিয়ে গলে যায়। একপর্যায়ে, স্মৃতি হারিয়ে, রক্তে ভেসে, যন্ত্রণায় কাতর অবস্থায় তাকে নেয়া হয় স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, যেখানে তিনি আড়াই মাস ধরে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
চিকিৎসা ও সংগ্রাম
চিকিৎসা শুরুর দিনগুলোতে কোনো সুনির্দিষ্ট সাহায্য ছিল না। সঙ্গে। থাকা মানুষের খরচ, খাওয়া-দাওয়া, ওষুধপথ্য সবই চলতো নিজের সামান্য জমানো অর্থ আর ধার-দেনা করে। সুজন বলেন, "আমার চিকিৎসা খরচে এ পর্যন্ত প্রায় দুই লক্ষ টাকারও বেশি ব্যয় হয়েছে। এখন টাকাও নেই, আর কোনো চিকিৎসাও নিতে পারছি না।"
বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন থাকলেও নিয়মিত ওষুধ কিনতে পারছেন না। চিকিৎসক জানিয়েছেন, আগামী তিন বছর নিয়মিত ওষুধ চালিয়ে যেতে হবে, কিন্তু বর্তমান আয় দিয়ে সেটা অসম্ভব। যন্ত্রণায় রাতের ঘুম হারাম, মানসিক ভারসাম্যও হারাতে বসেছেন তিনি।
কর্মসংস্থান ও ভবিষ্যত পরিকল্পনা
রিকশা চালিয়ে কোনোভাবে দিন চলছে, তবে শরীর আর মানছে না। সুজন এখন আশা করেন,
"আমি একটি ছোট মুদি দোকান বা ইলেকট্রনিক দোকান খুলতে চাই। তাতে করে নিজে কিছু করতে পারব, আবার পরিবারও বাঁচবে।"
প্রস্তাবনা
সুজন ও তার পরিবার আজ মানবেতর জীবন যাপন করছে।
১. যদি একটি ছোট ব্যবসার জন্য তাকে সহযোগিতা করা হয়, তাহলে হয়তো আবার উঠে দাঁড়াতে পারবেন তিনি। নিজের পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে পারবেন।
২. চিকিৎসার খরচ বহন করা।
এই দুঃসহ বাস্তবতার মাঝেও সুজনের একটাই আকাঙ্ক্ষা, "আমার পরিবারের জন্য একটা স্থায়ী উপার্জনের পথ হোক
একটা দোকান, একটা স্বপ্ন, একটা আশ্রয়।"
পরিশেষে, জীবনের সকল বাধা, যন্ত্রণা আর মৃত্যুর দুয়ার থেকেও ফিরে এসে সুজন আজও লড়ছেন, শুধু নিজের জন্য নয়, পরিবারের জন্য। যদি সমাজের সহৃদয় মানুষগুলো একটু সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়, তাহলে হয়তো তার লড়াইটা হবে কিছুটা সহজ।

এক নজরে মো: সুজন
নাম: মো: সুজন
জন্ম তারিখ: ১২-০১-২০০৭
পেশা: রিকশাচালক
স্থায়ী ঠিকানা: মাদারীপুর
বর্তমান ঠিকানা: দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ ঢাকা সাবান ফ্যাক্টরি মদীনা নগর ৩ নম্বর গলি
পিতা: হালিম
মাতা: মৃত আফরোজা বেগম
পরিবারের সদস্য সংখ্যা: ৪ জন
বোন: মোসা: সুমি, পেশা: গৃহিণী, বয়স: ২৪ বছর
আহত হওয়ার স্থান: নয়াবাজার, ঢাকা
আহত হওয়ার তারিখ: ৫ আগস্ট ২০২৪
আক্রমণকারী: পুলিশ

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍