হোম / আহতদের তালিকা / উম্মে সালমা
উম্মে সালমা

উম্মে সালমা

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

পেশা: ছাত্রী
প্রতিষ্ঠান: হাজিগঞ্জ মডেল কলেজ

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা

জন্মপরিচয়
উম্মে সালমা ১৯৯৯ সালের ১লা এপ্রিল চাঁদপুর জেলার হাজিগঞ্জ থানার মকিমাবাদ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকেই তিনি পড়াশোনায় মনোযোগী ও মেধাবী ছিলেন। বর্তমানে তিনি হাজিগঞ্জ মডেল কলেজের ছাত্রী হিসেবে শিক্ষা জীবনের পথচলা অব্যাহত রেখেছেন। তাঁর স্থায়ী ঠিকানা চাঁদপুর জেলার হাজিগঞ্জ থানার মকিমাবাদ গ্রাম হলেও পড়াশোনার সুবিধার্থে তিনি বর্তমানে শহরে অবস্থান করছেন।
পারিবারিকভাবে উম্মে সালমা একটি সাধারণ পরিবারের সন্তান। তাঁর পিতা মমতাজ উদ্দিন অবসরপ্রাপ্ত (বয়স ৭৫ বছর) এবং মাতা জোছনা আক্তার একজন গৃহিণী (বয়স ৭০ বছর)। পরিবারে ছয় ভাই-বোন মিলে তাঁদের সংসার গড়ে উঠেছে। বড় বোন রাশেদা (৩৬) গৃহিণী হিসেবে নিজের সংসার সামলাচ্ছেন, বড় ভাই মামুন (৩৪) অবসরপ্রাপ্ত, অপর ভাই মোরশেদ (৩১) ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত এবং তাঁর উপার্জন থেকেই পরিবারের প্রধান খরচ বহন করা হয়। পরিবারের মাসিক আয় প্রায় ১০,০০০ টাকা। ছোট বোন মাকসুদা (২৭) ছাত্রী এবং ছোট ভাই তাওহিদ (২০) এখনো ছাত্রজীবনে রয়েছে।
শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি উম্মে সালমা সামাজিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ছিলেন। বিশেষত ২০২৪ সালে বাংলাদেশে সংঘটিত ঐতিহাসিক কোটা সংস্কার আন্দোলনে তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে সাহসিকতার পরিচয় দেন। এই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় অসহযোগ আন্দোলন গড়ে ওঠে, যা ছাত্রসমাজকে ঐক্যবদ্ধ করে একটি ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সূচনা করে। শেষ পর্যন্ত আন্দোলনের চাপের মুখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগে বাধ্য হন। এই আন্দোলনে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা উম্মে সালমার জীবনে এক অনন্য অধ্যায় হিসেবে স্থান করে নিয়েছে।

আন্দোলনে সাহসী অংশগ্রহণঃ
আমি বিশ্বরোড চৌরাস্তা, হাজীগঞ্জে (বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিছিলের অংশ হিসেবে) দাঁড়িয়ে ছিলাম; হাতে হাতে প্ল্যাকাড, গলায় স্লোগান—“সমতা চাই, ন্যায় চাই” —এই কণ্ঠগুলো একাকার করে তুলছিল চারপাশ। ৪ই আগস্ট ২০২৪ ছিল সেই দিনটি; সকালটা ছিল আর্দ্র, আমাদের বুকগুলো উত্তপ্ত আশা ও ভয়ে একসঙ্গে ধাক্কা খাচ্ছিল। আমরা সবাই জানতাম যে আমরা শুধু নিজেদের জন্য নয় — সমান অধিকার, ন্যায়ের জন্য, প্রজন্মের অধিকার অরক্ষার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছি। সবার মুখে একই স্লোগান- হাসিনার পদত্যাগ চাই, গণত্যার বিচার চাই
হঠাৎ সবদিক থেকে উচ্ছ্বাস ধরা পড়ল না, বদলে এল হিংসার এক ঢেউ। যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের কিছু লোকজন আমাদের দিকে ছুটে এলো; ইট, পাটকেল, লাঠি—সবই ছোঁড়া হলো। হঠাৎই আমার শোনার শক্তি ধাক্কা খেয়ে গেল—লাঠিছোড়ার শব্দ, মানুষের চিৎকার, রক্তের গন্ধ। আমার হাতে, পায়ে, শরীরে একের পর এক আঘাত লেগে গেল; বিশেষ করে পায়ের আঘাত ছিল ভয়াবহ—রক্ত ঝরতে লাগল, হাঁটার শক্তি কেটে গেল। সহযোদ্ধাদের হাত ধরেই আমাকে দ্রুত হাসপাতালে নেয়া হলো। হাসপাতালে যখন চোখ খুললাম, আঘাতের চিহ্নগুলোতে ছিল বিপর্যয়ের ছাপ—শরীরের ব্যথা, মনে হত একেকটি আঘাত যেন ইতিহাস হয়ে রইছে।
২০২৪ সালের কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু করা ছাত্র আন্দোলনটি অল্প সময়েই ব্যাপক আন্দোলনে রূপ নেয়; ছাত্ররা ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ নামে একজোট হয় এবং ‘বাংলা ব্লকেড’সহ বিভিন্ন কর্মসূচি চালায়। আন্দোলন শুরু হওয়ার লড়াই, বিরাট স্লোগান আর দেশের নানা প্রান্তে বিক্ষোভ।প্রতিরোধ বাড়ার সাথে সাথে আন্দোলন শান্তিভ শেষ হয়নি—বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে সরকারের সমর্থক কিছু গোষ্ঠী এবং ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সরাসরি মিছিলে থাবা বসিয়েছে; ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছাত্রদের ওপর হামলা এবং সংঘর্ষের খবর আসে। তাতে অসংখ্য আহত ও কিছু ক্ষেত্রে প্রাণহানিও ঘটেছে।
আমি ব্যক্তিগতভাবে সেই দিন হাতে-পায়ে আহত ছিলাম—কিছু জায়গায় সেলাই, কিছু জায়গায় নীল-ছোপ দাগ; কিন্তু সবচেয়ে কষ্ট ছিল– বিশ্বাসভঙ্গের। আমরা যারা পথে নেমেছিলাম, আমাদের প্রতিটি স্লোগানে মিশে ছিল দেশপ্রেম এবং ন্যায়ের আকাঙক্ষা; অথচ একই দেশের স্বজনসুলভ কিছু বাহিনী, যাদের নিজেদেরকে ‘রক্ষা’ বলে চালিয়ে আনা হয়, তারা ঘাতকভাবে আক্রমণ করেছে—ইট, পাথর আর লাঠিতে। তাদের আচরণকে আমি বলব—নৃশংস, ঘাতক এবং বানোয়াট ভয়ের দ্বারা চালিত। এটি ছিল সমান অধিকার, ন্যায়ের দাবি, আর অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সংকল্পের আন্দোলন। অপরদিকে, যারা অযথা হিংসা চালিয়েছে—তাদের নৃশংসতা, তাদের কাণ্ড, তা যেন চিরতরে আমাদের স্মৃতিতে দাগ কেটে গেল।
চিকিৎসা সম্পর্কিত সামগ্রিক বিবরণঃ
আহতের পর সহযোদ্ধারা আমাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যায়, যেখানে ডাঃ তৈবুল ইসলাম স্যারের অধীনে চিকিৎসা গ্রহণ করি। প্রাথমিকভাবে জখমের চিকিৎসা, বিভিন্ন ধরনের ব্যান্ডেজ এবং ঔষধ সেবন করলেও এখনো পুরোপুরি সুস্থ হতে পারিনি। বিশেষ করে পায়ে গুরুতর আঘাতের কারণে হাঁটাচলায় সমস্যা রয়ে গেছে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ব্যথা ও জটিলতা থেকে যাচ্ছে। বর্তমানে আমি শারীরিকভাবে অসুস্থ অবস্থায় আছি এবং খুব দ্রুতই উন্নত চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে।পূর্বে আমি কেবল প্রাথমিক চিকিৎসা এবং জখম সারানোর জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিয়েছি, কিন্তু তাতে আমার শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা এবং বিশেষায়িত পরিচর্যা ছাড়া পুরোপুরি সুস্থ হওয়া সম্ভব নয়। তাই উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ করা এখন আমার জন্য অপরিহার্য।
আমি মূলত একজন ছাত্রী এবং জীবনের বড় সময়টা পড়াশোনার মধ্যে কাটাচ্ছি। কিন্তু বর্তমানে চিকিৎসা ব্যয় এবং অনিশ্চয়তা আমার শিক্ষাজীবনকে বাধাগ্রস্ত করছে। এই পরিস্থিতিতে আমার জন্য প্রয়োজন চিকিৎসার পাশাপাশি একটি আর্থিক সহায়তা ব্যবস্থা। কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে স্কলারশিপ বা আর্থিক সহযোগিতা পেলে আমি আবারও শিক্ষা জীবনে মনোনিবেশ করতে পারব এবং ভবিষ্যতে সমাজের জন্য ইতিবাচক অবদান রাখতে সক্ষম হব।
একনজরেঃ
নাম: উম্মে সালমা
জন্মতারিখ: ০১-০৪-১৯৯৯
জন্মস্থান: মকিমাবাদ, হাজিগঞ্জ, চাঁদপুর
স্থায়ী ঠিকানা:
গ্রাম: মকিমাবাদ
ইউনিয়ন: হাজিগঞ্জ
থানা: হাজিগঞ্জ
জেলা: চাঁদপুর
বর্তমান ঠিকানা:
এলাকা: (তথ্য অপ্রদত্ত)
থানা: হাজিগঞ্জ
জেলা: চাঁদপুর
পারিবারিক তথ্য:
পিতার নাম: মমতাজ উদ্দিন (পেশা: অবসরপ্রাপ্ত, বয়স: ৭৫ বছর)
মাতার নাম: জোছনা আক্তার (পেশা: গৃহিণী, বয়স: ৭০ বছর)
পরিবারের সদস্য সংখ্যা: ৬ জন
ভাই-বোন:
• রাশেদা (বোন, বয়স: ৩৬, পেশা: গৃহিণী)
• মামুন (ভাই, বয়স: ৩৪, পেশা: অবসরপ্রাপ্ত)
• মোরশেদ (ভাই, বয়স: ৩১, পেশা: ব্যবসায়ী, পরিবারের আয় নির্ভরশীল)
• মাকসুদা (বোন, বয়স: ২৭, পেশা: ছাত্রী)
• তাওহিদ (ভাই, বয়স: ২০, পেশা: ছাত্র)
মাসিক আয়: ১০,০০০ টাকা
আয়ের উৎস: ভাই মোরশেদের ব্যবসা
যোগাযোগ: ০১৮৮১২৩৭৫৫৬
ঘটনার স্থান: বিশ্বরোড চৌরাস্তা, হাজিগঞ্জ, চাঁদপুর
ঘটনার তারিখ ও সময়: ০৪-০৮-২০২৪, বিকেল
আহত হওয়ার কারণ: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের ঘাতক হামলা (ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ)
আহতের ধরন: হাতে, পায়ে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত, বিশেষত পায়ে গুরুতর জখম
চিকিৎসা:
• প্রাথমিক চিকিৎসা
• হাসপাতালে ভর্তি হয়ে ডাঃ তৈবুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা
• বিভিন্ন ঔষধ সেবন
• বর্তমানে আংশিক সুস্থ হলেও পায়ে গুরুতর সমস্যার কারণে দ্রুত উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন
চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রস্তাবনা: দ্রুত উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন
পূর্ব পেশা/অবস্থা: ছাত্রী
কর্মসংস্থানের প্রস্তাবনা: স্কলারশিপ সহায়তা প্রয়োজন।

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍