হোম / আহতদের তালিকা / হাসিব পাটোয়ারী
হাসিব পাটোয়ারী

হাসিব পাটোয়ারী

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

পেশা: শিক্ষার্থী

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা

জন্মপরিচয়
চাঁদপুর জেলার সবুজ-শ্যামল গ্রাম তেলিসাইরের বুকে ২০০৪ সালের ১ মার্চ এক শুভক্ষণে জন্মগ্রহণ করেন হাসিব পাটোয়ারী। তাঁর জন্ম যেন এক নব আলোর আগমন, যে আলো ভবিষ্যতের সম্ভাবনার পথকে আলোকিত করবে। হাসিবের শৈশব কেটেছে তেলিসাইরের নিসর্গময় পরিবেশে, যেখানে প্রকৃতির সান্নিধ্য আর গ্রামীণ জীবনের সরলতা তাঁকে গড়ে তুলেছে এক সৎ, মেধাবী ও স্বপ্নবাজ তরুণ হিসেবে।তাঁর পিতা আবুল কাশেম একজন পরিশ্রমী ব্যবসায়ী, যিনি জীবনের প্রতিটি ধাপে পরিবারকে সাহস ও সহায়তা দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। আর তাঁর মাতা হাছিনা, একজন গৃহিণী, যিনি সংসারের প্রতিটি কোণে ভালোবাসা ও যত্নের ছোঁয়া দিয়ে হাসিবের শৈশবকে করেছেন স্নেহময় ও আদর্শবান।
এই পরিবারিক আবহে হাসিব পেয়েছেন নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ ও মানবিকতার শিক্ষা, যা তাঁর ব্যক্তিত্বে গভীর ছাপ ফেলেছে।বর্তমানে তিনি হাজিগঞ্জ কামিল মাদরাসায় অধ্যয়নরত, যেখানে তিনি ধর্মীয় জ্ঞান ও সাধারণ শিক্ষার সমন্বয়ে নিজেকে গড়ে তুলছেন একজন আলোকিত মানুষ হিসেবে। তাঁর শিক্ষাজীবন শুধু পাঠ্যবইয়ের গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং তিনি জ্ঞানের গভীরে প্রবেশ করে সমাজ ও জাতির কল্যাণে নিজেকে প্রস্তুত করছেন। তাঁর স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা একই—তেলিসাইর, ৩ নম্বর সুবিদপুর ইউনিয়ন, ফরিদগঞ্জ, চাঁদপুর—যা তাঁর শিকড়ের সঙ্গে গভীর সংযোগের প্রতীক।
আন্দোলনে অংশগ্রহণ
২০২৪ সালের ৪ আগস্ট, বাংলাদেশের ইতিহাসে এক জ্বলন্ত অধ্যায় হয়ে থাকবে। এই দিনটি ছিল গণআন্দোলনের চূড়ান্ত রূপ ধারণের মুহূর্ত, যখন ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পদত্যাগ দাবিতে ছাত্র-জনতা, শ্রমজীবী মানুষ, পেশাজীবী, সাধারণ নাগরিক—সবাই একত্রিত হয়ে রাজপথে নেমে আসে। রাজধানী থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে অসহযোগ আন্দোলনের ঢেউ। সেই উত্তাল দিনে আমি নিজেও আন্দোলনের অংশ হতে বাড়ি থেকে রওনা হই হাজিগঞ্জ বাজারের দিকে, হৃদয়ে ছিল একটাই প্রত্যয়—ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্রের জন্য দাঁড়ানো।
হাজিগঞ্জ পাইলট স্কুলের কাছে পৌঁছে আমরা কয়েকজন সহযোদ্ধা একত্রিত হই। সেখান থেকে স্লোগান, ব্যানার, প্রতিবাদী চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে আমরা এগিয়ে যাই হাজিগঞ্জ বাজারের দিকে। আমাদের কণ্ঠে ছিল একটাই দাবি—প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ। কিন্তু আন্দোলন যখন হাজিগঞ্জ ব্রিজের কাছে পৌঁছায়, তখনই সন্ত্রাসী ছাত্রলীগের কিছু সদস্য পূর্বপরিকল্পিতভাবে আমাদের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। হঠাৎ দুটি ইট আমার শরীরে এসে আঘাত করে, মুহূর্তেই রক্তে ভিজে যায় আমার জামা। ব্যথা, আতঙ্ক আর উত্তেজনার মাঝে আমি মাটিতে লুটিয়ে পড়ি।আমার দুই বন্ধু, যারা আমার সঙ্গে আন্দোলনে এসেছিল, সাহসিকতার সঙ্গে আমাকে কাঁধে করে টোরাঘর গ্রামের একটি বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে আমি সাময়িক আশ্রয় পাই, কিন্তু শরীরের যন্ত্রণা আর চোখের সামনে ঘটে যাওয়া সহিংসতার দৃশ্য আমাকে মানসিকভাবে আরও দৃঢ় করে তোলে। আমি বুঝে যাই—এই আন্দোলন শুধু একটি রাজনৈতিক দাবির জন্য নয়, এটি একটি জাতির আত্মমর্যাদা, গণতান্ত্রিক অধিকার ও ভবিষ্যতের জন্য সংগ্রাম।
সেদিন হাইকোর্টে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি না চালানোর নির্দেশনা চেয়ে করা রিট খারিজ হয়ে যায়, আর তার পরপরই নিরাপত্তা বাহিনী অতিমাত্রায় শক্তি প্রয়োগ শুরু করে। রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, রামপুরা, শাহবাগ, বাংলামোটর, ধানমন্ডি, উত্তরা, বাড্ডা ও প্রগতি সরণিসহ একাধিক এলাকায় রীতিমতো যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করে। রাস্তায় রক্ত ঝরে, চোখে ধোঁয়া, কণ্ঠে প্রতিবাদ—এই ছিল সেই দিনের বাস্তবতা।
আমার শরীরের রক্ত সেই দিন একটি প্রতীক হয়ে ওঠে—প্রতিরোধের, সাহসের, এবং গণতন্ত্রের জন্য আত্মত্যাগের। আমি আহত হয়েছিলাম, কিন্তু আমার মন ছিল অটল। আমি ছিলাম ইতিহাসের এক জীবন্ত অংশ, যেখানে প্রতিটি পদক্ষেপ ছিল একটি পরিবর্তনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সংকেত। এই অভিজ্ঞতা আমাকে শিখিয়েছে—যে জাতি অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে জানে, তার ভবিষ্যৎ কখনো অন্ধকারে হারিয়ে যায় না।
চিকিৎসা
আন্দোলনের দিন ঘটে যাওয়া সহিংস ঘটনার পর, আমার শরীর রক্তাক্ত অবস্থায় যখন টোরাঘর গ্রামের একটি বাড়িতে আশ্রয় নিই, তখন সেখানকার একজন পল্লী চিকিৎসক মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে আমাকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন। তাঁর তৎপরতায় রক্তক্ষরণ বন্ধ হয় এবং তিনি আমাকে একটি গাড়ির মাধ্যমে নিরাপদে বাড়িতে পৌঁছে দেন। বাড়িতে পৌঁছানোর পর আমার পরিবার উদ্বিগ্ন হয়ে আমাকে স্থানীয় একজন অভিজ্ঞ গ্রামীণ চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যায়। তিনি আমার আঘাতের স্থান পরীক্ষা করে দ্রুত ইঞ্জেকশন ও ব্যথানাশক ওষুধ দেন এবং রক্তাক্ত ক্ষতস্থানে তিনটি সেলাই করেন। যদিও প্রাথমিক চিকিৎসা আমাকে সাময়িক স্বস্তি দিয়েছে, তবুও এখনো সেলাইয়ের জায়গায় ব্যথা অনুভব করি, যা উদ্বেগজনক। এই অবস্থায় একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ও পূর্ণাঙ্গ চেকআপ অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো জটিলতা না দেখা দেয় এবং আমি দ্রুত সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারি।
চিকিৎসা প্রস্তাবনা
৪ আগস্ট ২০২৪ তারিখে গণআন্দোলনে অংশগ্রহণকালে আমি ছাত্রলীগের হামলায় গুরুতরভাবে আহত হই। আমার শরীরে দুটি ইটের আঘাতে রক্তপাত শুরু হলে স্থানীয় টোরাঘর গ্রামের একজন পল্লী চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রক্তক্ষরণ বন্ধ করেন এবং আমাকে একটি গাড়ির মাধ্যমে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। বাড়িতে পৌঁছানোর পর আমার পরিবার আমাকে স্থানীয় গ্রামীণ চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যায়, যিনি আমাকে ব্যথানাশক ওষুধ ও ইঞ্জেকশন প্রদান করেন এবং রক্তাক্ত স্থানে তিনটি সেলাই করেন।বর্তমানে সেলাইয়ের স্থানে ব্যথা অব্যাহত রয়েছে, যা দৈনন্দিন কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে। আঘাতের প্রকৃতি ও স্থায়িত্ব বিবেচনায়, এটি স্পষ্ট যে প্রাথমিক চিকিৎসা যথেষ্ট নয়। সেলাইয়ের স্থানে সংক্রমণ বা অভ্যন্তরীণ ক্ষতির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। আমার বর্তমান শারীরিক অবস্থার উন্নতির জন্য একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের দ্বারা পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল চেকআপ ও পরবর্তী চিকিৎসা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। বিষয়টি মানবিক ও চিকিৎসাগত দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।
কর্মসংস্থান প্রস্তাবনা
একটি কর্মসংস্থানভিত্তিক স্কলারশিপের আবেদন জানাচ্ছি, যা আমাকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ করে দেবে। এই স্কলারশিপের মাধ্যমে আমি শুধু নিজের জীবনের গতিপথ পরিবর্তন করতে পারব না, বরং সমাজে একটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে সক্ষম হব। আমি বিশ্বাস করি, আমার সংগ্রাম, সাহস ও সংকল্প এই স্কলারশিপের যথার্থ দাবিদার করে তোলে।
একনজরে:

• নাম: হাসিব পাটোয়ারী
• জন্ম তারিখ: ০১/০৩/২০০৪
• জন্মস্থান: তেলিসাইর, চাঁদপুর
• পেশা: শিক্ষার্থী
• প্রতিষ্ঠান: হাজিগঞ্জ কামিল মাদরাসা
• স্থায়ী ঠিকানা: তেলিসাইর,৩ নং সুবিদপুর,ফরিদগঞ্জ,চাঁদপুর
• বর্তমান ঠিকানাঃ একই
• পিতাঃ আবুল কাশেম (ব্যবসা)
• মাতা:হাছিনা (গৃহিণী)
• যোগাযোগঃ ০১৬১০০২২৬৮২
• আয়:১৫,০০০ টাকা
• পরিবারের সদস্য সংখ্যা:৮
• ভাইঃ হাসান,(ব্যবসায়ী)
• বোন: সারমিন(আলিম)
• সুমাইয়া,শিক্ষার্থী,১০ম শ্রেণি
• আয়শা (গৃহিণী)
• মাহিনুর(গৃহিণী)
• ঘটনার স্থানঃ হাজিগঞ্জ পৌরসভার সামনে,চাঁদপুর
• আক্রমণকারীঃ সন্ত্রাসী ছাত্রলীগ
• আহত হওয়ার সময়ঃ সকাল ১০.০০টা,৪ই আগষ্ট ২৪ইং

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍