হোম / আহতদের তালিকা / মো: মাসুদ রানা
  মো: মাসুদ রানা

মো: মাসুদ রানা

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

পেশা:ছাত্র
প্রতিষ্ঠানের নাম: খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা

জন্মপরিচয়
মো: মাসুদ রানা ২০০৩ সালের ২৭ মার্চ বাংলাদেশের পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর জন্মস্থান খাগড়াছড়ি শহরটি পাহাড়, বন ও সংস্কৃতির অপূর্ব মেলবন্ধনে গঠিত একটি অঞ্চল, যেখানে প্রকৃতির ছোঁয়ায় মানুষ বেড়ে ওঠে এক অনন্য পরিবেশে। মাসুদ রানা সেই পরিবেশেই শৈশব কাটিয়েছেন, সবুজবাগ এলাকায়, যা খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার অন্তর্গত। তাঁর পরিবার একটি সাধারণ কিন্তু সংগ্রামী পরিবার, যেখানে পরিশ্রম ও ভালোবাসা জীবনের মূল ভিত্তি।
তাঁর পিতা, জামাল উদ্দিন, একজন রাজমিস্ত্রী হিসেবে কঠোর পরিশ্রম করে সংসার চালান। প্রতিটি ইট-সিমেন্টের সঙ্গে তিনি গড়ে তুলেছেন পরিবারের স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ। মা ছকিনা বেগম একজন গৃহিণী, যিনি সংসারের প্রতিটি দায়িত্ব নিষ্ঠা ও মমতায় পালন করেন। তাঁদের স্নেহ, ত্যাগ ও উৎসাহে মাসুদ রানা গড়ে উঠেছেন একজন আত্মপ্রত্যয়ী তরুণ হিসেবে।
বর্তমানে তিনি খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজে অধ্যয়নরত, যেখানে তিনি উচ্চশিক্ষার মাধ্যমে নিজের ভবিষ্যৎ নির্মাণে ব্রতী হয়েছেন। তাঁর অধ্যবসায়, সততা ও আত্মবিশ্বাস তাঁকে একজন সম্ভাবনাময় ছাত্র হিসেবে গড়ে তুলছে। স্থায়ীভাবে তিনি সবুজবাগ, খাগড়াছড়ি সদর এলাকায় বসবাস করেন, যদিও বর্তমানে তাঁর ঠিকানা ২নং সবুজবাগ, একই উপজেলার অন্তর্গত।
মাসুদ রানার জীবন শুরু হয়েছে এক সাধারণ পরিবেশে, কিন্তু তাঁর চিন্তা, স্বপ্ন ও প্রচেষ্টা তাঁকে অসাধারণ করে তুলছে। তিনি বিশ্বাস করেন, শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধের মাধ্যমে একজন মানুষ নিজের জীবনকে যেমন আলোকিত করতে পারে, তেমনি সমাজেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। তাঁর যাত্রা এখনো চলমান, এবং এই যাত্রা একদিন তাঁকে নিয়ে যাবে তাঁর কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে—একজন সৎ, শিক্ষিত ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে।
আন্দোলনে অংশগ্রহণ
২০২৪ সালের জুলাই মাসে শুরু হওয়া কোটা সংস্কার আন্দোলন ফাসিস্ট হাসিনার দমননীতির কারণে আগস্ট মাসে বাংলাদেশের শিক্ষাঙ্গনে শুরু হয় এক অভূতপূর্ব ছাত্র-নাগরিক আন্দোলন, যার কেন্দ্রবিন্দু ছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একদফা সরকার পতনের দাবি। ৩ আগস্ট শহীদ মিনারে আয়োজিত সমাবেশে আন্দোলনের সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান নেন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য হল ও ক্যাম্পাস খুলে দেওয়ার ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন। পরদিন, ৪ আগস্ট থেকে শুরু হয় সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলন, যা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনকারীরা সরকারের সংলাপের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে জানিয়ে দেন—সংলাপে বসার মতো পরিবেশ আর নেই।
২০২৪ সালের আগস্ট মাসে কোটা সংস্কার আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় যখন সারাদেশে ছাত্র-নাগরিক আন্দোলন যখন সরকার পতনের দাবি তীব্র আকার ধারণ করে, তখন আমি খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজের একজন ছাত্র হিসেবে সক্রিয়ভাবে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করি। ৪ আগস্ট দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে খাগড়াছড়ির ভাঙা ব্রিজ এলাকায় সহপাঠীদের সঙ্গে ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতনের একদফা দাবিতে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সময় সন্ত্রাসী ছাত্রলীগের কর্মী নাফিজ, ফখরুল ও নিলয় আমার ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। সেই মুহূর্তে আমি গুরুতরভাবে আহত হই এবং রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়দের সহায়তায় খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়।
আমার আহত হওয়ার ঘটনা শুধু ব্যক্তিগত দুর্ভাগ্য নয়, বরং তা রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের একটি জ্বলন্ত উদাহরণ। আমি একজন সাধারণ ছাত্র, যিনি শিক্ষা ও ন্যায়ের পথে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার চেষ্টা করছিলাম, অথচ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হতে হলো। আমার রক্ত যেন সেই সময়ের দমননীতির নীরব সাক্ষী হয়ে রইল। এই ঘটনার পর আন্দোলন আরও তীব্র হয়ে ওঠে, এবং আমি বুঝতে পারি—যেখানে ন্যায়ের দাবি ওঠে, সেখানে নিপীড়নের হাত থেমে থাকে না; কিন্তু প্রতিরোধও থেমে থাকে না।
মাসুদ রানার মতো তরুণদের ওপর হামলা এই আন্দোলনকে আরও দৃঢ় করে তোলে। তাঁর সাহস, ত্যাগ ও প্রতিবাদ আজও খাগড়াছড়ির ছাত্রসমাজের মধ্যে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে আছে। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়—যেখানে ন্যায়ের দাবি ওঠে, সেখানে নিপীড়নের হাত থেমে থাকে না; কিন্তু প্রতিরোধও থেমে থাকে না।
চিকিৎসা
আন্দোলনের সময় ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পর মো: মাসুদ রানাকে দ্রুত খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ৪ আগস্ট ২০২৪, দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে ভাঙা ব্রিজ এলাকায় সংঘটিত হামলায় তাঁর শরীরে একাধিক আঘাত লাগে, যার ফলে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয় ছাত্ররা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। জরুরি বিভাগে চিকিৎসকরা তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন এবং পর্যবেক্ষণে রাখেন। মাথা ও পিঠে আঘাতজনিত কারণে তাঁকে কয়েক ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়, এবং পরে এক্স-রে ও অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়।
কর্মসংস্থান প্রস্তাবনা
মো: মাসুদ রানা একজন সচেতন, শিক্ষিত এবং সাহসী তরুণ, যিনি ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের সময় খাগড়াছড়িতে সন্ত্রাসী হামলায় আহত হয়েও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেন। তাঁর এই অভিজ্ঞতা শুধু ব্যক্তিগত সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি নয়, বরং নেতৃত্ব, দায়িত্ববোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতার বাস্তব উদাহরণ। এমন একজন তরুণকে কর্মসংস্থানের সুযোগ প্রদান করা হলে প্রতিষ্ঠানটি পাবে একজন নিষ্ঠাবান, পরিশ্রমী এবং নীতিবান কর্মী। তাঁর জন্য একটি দায়িত্বশীল পদে নিয়োগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান যেমন দক্ষতা অর্জন করবে, তেমনি পাবে একজন মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন সহকর্মী।




একনজরে:

নাম: মো: মাসুদ রানা
জন্মতারিখ: ২৭/০৩/২০০৩
জন্মস্থান:খাগড়াছড়ি
পেশা:ছাত্র
প্রতিষ্ঠানের নাম: খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ
স্থায়ী ঠিকানা:সবুজবাগ,খাগড়াছড়ি সদর,খাগড়াছড়ি
বর্তমান ঠিকানাঃ ২নং সবুজবাগ, খাগড়াছড়ি সদর,খাগড়াছড়ি
পিতাঃ জামাল উদ্দিন (রাজমিস্ত্রী)
মাতা:ছকিনা বেগম (গৃহিণী)
যোগাযোগঃ ০১৬১৭৫৪৯৩৩৩
আয়: ৩০,০০০ টাকা
আয়ের উৎস: রাজমিস্ত্রী
পরিবারের সদস্য সংখ্যা:৮
ভাই:জুয়েল রানা,শিক্ষার্থী,একাদশ
সোহেল রানা,শিক্ষার্থী,ডিগ্রি
সাজ্জাদ,শিক্ষার্থী,৭ম শ্রেণি
ঘটনার স্থানঃ ভাঙা ব্রিজ
আক্রমণকারীঃ সন্ত্রাসী ছাত্রলীগের কর্মী নাফিজ,ফখরুল ও নিলয়
আহত হওয়ার সময়ঃ ৪ আগস্ট ২০২৪, দুপুর ১২ টা ৪৫ মিনিট

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍