হোম / আহতদের তালিকা / মো: কামরুল হাসান
 মো: কামরুল হাসান

মো: কামরুল হাসান

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

মো. কামরুল হাসান একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক ও মানবিক মানুষ, যিনি শিক্ষার্থীদের উন্নয়ন এবং সমাজের ন্যায়বিচারের পক্ষে সবসময় সোচ্চার ছিলেন। ৪ আগস্ট ২০২৪ সাইন্সল্যাব এলাকায় শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে অংশ নিতে গিয়ে ছাত্রলীগ-যুবলীগ ও পুলিশের যৌথ সশস্ত্র হামলায় তিনি গুলিবিদ্ধ হন এবং গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হন। অপারেশনের মাধ্যমে বাঁচলেও সেই ঘটনার শারীরিক ব্যথা আজও তাকে বহন করতে হয়। পরিবারে বৃদ্ধ বাবা ও অসুস্থ মায়ের চিকিৎসার ভারও তার ওপর পড়েছে, যা বর্তমান পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে। তিনি জুলাই যোদ্ধা কার্ড ও পারিবারিক চিকিৎসা সহায়তা পেলে পুনরায় স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন।

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা

একজন শিক্ষকের নিবেদিত প্রাণ
মো: কামরুল হাসান
ক্রমিক: ০০৭
আইডি: ঢাকা সিটি ০০৭
জন্ম পরিচয়
মো: কামরুল হাসান একজন শান্তিপ্রিয়, আদর্শবান ও দায়িত্বশীল মানুষ। যিনি জীবনের প্রতিটি পরতে পরিশ্রম, নিষ্ঠা ও মানবিকতার ছাপ রেখে চলেছেন। তার জন্ম ঢাকায় হলেও, তিনি কেবল শহুরে জীবনের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ ছিলেন না সমাজ ও মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিবেদিত করছেন প্রতিনিয়ত। পেশাগতভাবে তিনি একজন শিক্ষক। কামরুল হাছান ঢাকা কলেজ থেকে ইংরেজি বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করে নিজেকে গড়ে তুলেছেন এক দক্ষ ও জ্ঞানসম্পন্ন মানুষ হিসেবে। ইংরেজি ভাষায় তার দক্ষতা প্রখর, যা শিক্ষাদান এবং সমাজে সেবামূলক কাজেও কার্যকর ভূমিকা রাখছে। তিনি বরাবরই দেশপ্রেমে উজ্জীবিত একজন মানুষ, যিনি শিক্ষা, নৈতিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধকে জীবনের মূল দর্শন হিসেবে গ্রহণ করেছেন। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গড়ায়, সমাজের উন্নয়নে ও মানবতার সেবায় কাজ করাই তার জীবনের প্রধান লক্ষ্য।
জীবনের প্রেক্ষাপট
কামরুল হাসানের জীবন শুরু হয় একটি মধ্যবিত্ত ধর্মভীরু পরিবারে। ছয় সদস্যের এই পরিবারে তিনি পঞ্চম। সংসারে তিনি বড় না হলেও, দায়িত্ব পালনে ছিলেন সবচেয়ে অগ্রগামী। বড় দুই বোন বিয়ের পর সংসারী হয়েছেন, দূরে থাকলেও পরিবারের খোঁজ খবর রাখেন নিয়মিত। বড় ভাই ব্যবসায়ী কিন্তু বর্তমানে বড় অঙ্কের টাকার ব্যবসায়িক ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে বর্তমানে ঋনগ্রস্ত অবস্থায় আছেন। মেঝো ভাই ছোট পরিসরে একটি ব্যবসা পরিচালনা করেন। ছোট ভাই একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করেন। পিতা খোরশেদ আলম, যিনি একজন কোরআনে হাফেজ এখন বার্ধক্য ও স্ত্রীর অসুস্থতার কারণে বাইরে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। মা রওশন আরা দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিসে ভুগছেন। ২০২৪ সালে তার শরীরে শুরু হয় কিডনি জটিলতা। ধীরে ধীরে কিডনি থেকে ছড়িয়ে পড়ে হার্টে। এখন তাকে নিয়মিত ডায়ালাইসিস করাতে হয়। প্রতিদিনের ওষুধের খরচও বেশ ব্যয়বহুল।
ঘটনার বিবরণ
২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ছিল এক রক্তাক্ত সকাল। সাইন্সল্যাব মোড় যেন এক যুদ্ধক্ষেত্র। কামরুল হাছান অন্যান্য দিনের মতো সেদিনও প্রতিবাদের ভাষ্য নিয়ে নেমেছিলেন রাস্তায়। বৈষম্যের বিরুদ্ধে, নিপীড়নের বিরুদ্ধে, আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে। সকাল ১০টার পরপরই পিলখানার দিক থেকে এক সশস্ত্র হামলা আসে সরকারের মদদপুষ্ট বাহিনীর তরফ থেকে। গুলির শব্দে কেঁপে ওঠে সাইন্সল্যাব। একজন শিক্ষক, এক শিক্ষিত প্রতিবাদী মানুষ হিসেবে কামরুল পিছু হটেননি। তিনি আরও কিছু সাহসী ছাত্র ও তরুণকে নিয়ে সংগঠিত করেন এবং এগিয়ে যান পিলখানার দিকে। লক্ষ্য একটাই অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াবেন। স্টার কাবাবের সামনে পৌঁছেই নরকে নেমে আসা মুহূর্তটি ঘটে। ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সশস্ত্র বাহিনী তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। সেই গুলিতে কামরুল হাসান নিজেও গুলিবিদ্ধ হন। তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন, সঙ্গে থাকা আরও কয়েকজনও রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে যান। মানুষ ছুটে আসে, তাকে তুলে দ্রুত ধানমন্ডির পপুলার হাসপাতালে নিয়ে যায়।
চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য
হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরপরই অপারেশন করা হয়। সেই মুহূর্তে পরিবারের পক্ষ থেকে যতটা সম্ভব খরচ বহন করা হয়। পরবর্তীতে সরকার চিকিৎসার খরচ ফেরত দিলেও, ক্ষতস্থান তার শরীরে এক স্থায়ী যন্ত্রণা রেখে দিয়েছে। সেই দিনটির পর থেকে প্রায় তার শরীরে ব্যথার ছায়া নামে। যেন শরীর স্মরণ করিয়ে দেয় ৪ আগস্টের সেই গুলিবিদ্ধ সময়ের কথা। তবুও তিনি হাল ছাড়েননি। তার চোখে এখনো স্বপ্ন জ্বলজ্বল করে। একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক সমাজব্যবস্থা, যেখানে শিক্ষকের গুলি খেতে হয় না, যেখানে প্রতিবাদ মানেই মৃত্যু নয়।
প্রস্তাবনা
১. জুলাই যোদ্ধা বিশেষ কার্ড প্রদান।
২. বাবা-মায়ের চিকিৎসা ভাতা উপহার।

এক নজরে মো: কামরুল হাসান
নাম: মো: কামরুল হাসান
জন্ম তারিখ: ০৪-০৪-১৯৯২
পেশা: শিক্ষক, তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসা, টঙ্গী শাখা
বর্তমান ঠিকানা: কোতোয়ালি, ঢাকা
স্থায়ী ঠিকানা: কোতোয়ালি, ঢাকা
পারিবারিক তথ্য
পরিবারে সদস্য সংখ্যা: ৪ জন
পিতার নাম বয়স: খোরশেদ আলম, বয়স: ৭০, হাফেজে কুরআন
মাতা নাম বয়স: রওশন আরা, বয়স ৬৩
আহত হওয়ার সময়: ৪ আগস্ট ২০২৪, দুপুর ০১.০০টা
আক্রমণকারী: ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও পুলিশ বাহিনী
আহত হওয়ার স্থান: সাইন্সল্যাব, ঢাকা

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍