আব্দুর রহমান খান
জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
চানখারপুল লেন, ঢাকা, নলছিটি, ঝালকাঠি
🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা
জুলাইয়ের গুলিবিদ্ধ বুকগুলো সাক্ষ্য দেয় ন্যায় কখনো নিঃশব্দে মরে না
আব্দুর রহমান খান
জন্ম পরিচয় ও জীবনের প্রেক্ষাপট আব্দুর রহমান খান ১৯৯৯ সালের ১৪ জুলাই ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলায় এক সাধারণ কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা হোসেন আলী খান একজন কৃষক এবং মাতা মেহেন নেগা বেগম একজন গৃহিণী। শৈশব থেকে সংগ্রামের মধ্য দিয়েই বেড়ে ওঠা আব্দুর রহমান পরিশ্রম, দায়িত্ববোধ ও আত্মসম্মানের শিক্ষা নিয়ে বড় হয়েছেন। জীবিকার প্রয়োজনে তিনি রাজধানী ঢাকার চানখারপুল লেন এলাকায় বসবাস শুরু করেন। লেখাপড়ায় তিনি দাখিল, আলিম ও ফাযিল শেষ করেছেন। এরপর চাকরি না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হিসেবে ড্রাইভিং পেশায় নিয়োজিত হয়ে সংসারের ভার কাঁধে তুলে নিয়েছেন। স্ত্রী ও দুই বছরের একমাত্র পুত্র হুযাইফাকে নিয়ে গড়ে তুলেছেন একটি শান্তিপূর্ণ জীবন। যেখানে অল্প আয়ের মধ্যেও পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে কখনো ক্লান্ত হননি তিনি। মানবিক মূল্যবোধ ও সমাজ সচেতনতায় বিশ্বাসী আব্দুর রহমান বরাবরই অন্যায়, বৈষম্য ও অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। দেশের কোটা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র ও গণআন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা জানিয়ে নিয়মিত অংশ নেন তিনি। একজন সাধারণ নাগরিক হয়েও তিনি নিজের দায়িত্ববোধ থেকে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। যা স্বৈরাচারের মন:পুত হয়নি, যে কারণে তার শান্তিপূর্ণ জীবনকে তারা রহিত করেছে।
পারিবারিক অবস্থা ও সংকট আব্দুর রহমান খানের পরিবারের সদস্য সংখ্যা মোট পাঁচজন, যার মধ্যে স্ত্রী, পুত্র সন্তান এবং পিতা-মাতা রয়েছেন। তিনি ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। কিন্তু আন্দোলনের সময় আহত হওয়ার পর তিনি ড্রাইভিং পেশা সাময়িকভাবে চালিয়ে যেতে অক্ষম হয়ে পড়েন। চিকিৎসা ব্যয়, বাসা ভাড়া, সংসার চালানোর খরচ মিলিয়ে তাকে পড়তে হয় তীব্র আর্থিক সংকটে। বাধ্য হয়ে ধার দেনা করতে হয় নিকটজনদের কাছ থেকে। কিন্তু সংকট এত গভীর যে, সে ঋণ মেটানোর উপায়ও ক্রমশ ফুরিয়ে আসছে। এই মুহূর্তে আব্দুর রহমানের পরিবার এক চরম অনিশ্চয়তা ও আর্থিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। পরিবারের খরচ, সন্তানের ভরণ পোষণ, ওষুধ ও চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া প্রতিদিনই কঠিন হয়ে উঠছে। একসময় যে মানুষটি নিজের শ্রমে একটি পরিবার টিকিয়ে রেখেছিলেন, আজ তিনি নিজেই একটি ভঙ্গুর অবস্থার শিকার। প্রয়োজন তাঁর পাশে দাঁড়ানো, যাতে তিনি আবারও ঘুরে দাঁড়িয়ে পরিবারকে আগের মতো নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ জীবন দিতে পারেন। ঘটনার বিবরণ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজধানীর গুলিস্তান গোলাপশাহ মাজারের নিকট চলমান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছিলেন আব্দুর রহমান খান। শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনে অংশ নেয়ার সময় সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ করে পুলিশ ও ছাত্রলীগের একদল কর্মী আব্দুর রহমান খান ও তার ১৫ জন সহযোদ্ধাকে পুলিশ হোডকোয়ার্টারে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যায়। এরপর তাদের উপর নির্মম অত্যাচার চলে। এই বর্বর হামলায় তার ডান চোখের নিচে গুরুতর জখম হয় এবং তা থেকে প্রচুর রক্তপাত হতে থাকে এবং ডান পায়ের হাটুতে মারাত্মক জখম হন। শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন স্পষ্ট ছিল, বিশেষ করে পিঠ, কাঁধ ও মুখমণ্ডলে। হামলার তীব্রতায় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং চরম শারীরিক যন্ত্রণা সহ্য করতে বাধ্য হন। পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ হয়ে উঠলে সেনাবাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আব্দুর রহমানকে হামলাকারীদের হাত থেকে উদ্ধার করে। আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তাকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ ঘটনা দেশের সাধারণ জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি করে। চিকিৎসা সংক্রান্ত বিবরণ আহতের পর আব্দুর রহমান খানকে তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর জরুরি বিভাগে তাকে দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। চিকিৎসকরা তার চোখের নিচের গুরুতর জখম শরীরের বিভিন স্থানের আঘাত পরীক্ষা করেন। প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রদান করেন এবং ব্যথা উপশমে ব্যথানাশক ও অ্যান্টিবায়োটিক দেন। সেই সাথে চিকিৎসকরা তাকে সম্পূর্ণ শারীরিক বিশ্রামের পরামর্শ দিয়ে আপাতত বাসায় পাঠান।
এরপর তার ব্যথা আরও বেড়ে যায় এবং জখম স্থানে ফোলা ও জটিলতা দেখা দিলে পরিবার তাকে রাজধানীর শান্তিনগর অরোরা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে বিশ্লেষণমূলক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা বুঝতে পারেন যে, তার অভ্যন্তরীণ আঘাত রয়েছে, বিশেষ করে পিঠ ও কোমরের কাছে। বর্তমানে তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং নিয়মিত ফিজিওথেরাপি ও ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসা চলছে। প্রস্তাবনা ১. কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। ২. ছেলের পড়াশুনার খরচ বহন করা যেতে পারে।
এক নজরে আব্দুর রহমান খান
নাম : আব্দুর রহমান খান
পিতা : হোসেন আলী খান, বয়স ৭৫
মাতা : মেহেন নেগা বেগম, বয়স ৫৫ ছেলে : হুযাইফা, বয়স ২ পরিবারে সদস্য সংখ্যা : ৫ জন
বর্তমান ঠিকানা : চানখারপুল লেন, ঢাকা স্থায়ী ঠিকানা : নলছিটি, ঝালকাঠি
আহত হওয়ার সময় : ৫ আগস্ট ২০২৪, সকাল ১০:১৫ মিনিট
আক্রমণকারী : পুলিশ ও ছাত্রলীগ বাহিনী আহত হওয়ার স্থান : গুলিস্তান, গোলাপ শাহের মাজার, ঢাকা
আব্দুর রহমান খান
জন্ম পরিচয় ও জীবনের প্রেক্ষাপট আব্দুর রহমান খান ১৯৯৯ সালের ১৪ জুলাই ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলায় এক সাধারণ কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা হোসেন আলী খান একজন কৃষক এবং মাতা মেহেন নেগা বেগম একজন গৃহিণী। শৈশব থেকে সংগ্রামের মধ্য দিয়েই বেড়ে ওঠা আব্দুর রহমান পরিশ্রম, দায়িত্ববোধ ও আত্মসম্মানের শিক্ষা নিয়ে বড় হয়েছেন। জীবিকার প্রয়োজনে তিনি রাজধানী ঢাকার চানখারপুল লেন এলাকায় বসবাস শুরু করেন। লেখাপড়ায় তিনি দাখিল, আলিম ও ফাযিল শেষ করেছেন। এরপর চাকরি না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হিসেবে ড্রাইভিং পেশায় নিয়োজিত হয়ে সংসারের ভার কাঁধে তুলে নিয়েছেন। স্ত্রী ও দুই বছরের একমাত্র পুত্র হুযাইফাকে নিয়ে গড়ে তুলেছেন একটি শান্তিপূর্ণ জীবন। যেখানে অল্প আয়ের মধ্যেও পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে কখনো ক্লান্ত হননি তিনি। মানবিক মূল্যবোধ ও সমাজ সচেতনতায় বিশ্বাসী আব্দুর রহমান বরাবরই অন্যায়, বৈষম্য ও অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। দেশের কোটা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র ও গণআন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা জানিয়ে নিয়মিত অংশ নেন তিনি। একজন সাধারণ নাগরিক হয়েও তিনি নিজের দায়িত্ববোধ থেকে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। যা স্বৈরাচারের মন:পুত হয়নি, যে কারণে তার শান্তিপূর্ণ জীবনকে তারা রহিত করেছে।
পারিবারিক অবস্থা ও সংকট আব্দুর রহমান খানের পরিবারের সদস্য সংখ্যা মোট পাঁচজন, যার মধ্যে স্ত্রী, পুত্র সন্তান এবং পিতা-মাতা রয়েছেন। তিনি ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। কিন্তু আন্দোলনের সময় আহত হওয়ার পর তিনি ড্রাইভিং পেশা সাময়িকভাবে চালিয়ে যেতে অক্ষম হয়ে পড়েন। চিকিৎসা ব্যয়, বাসা ভাড়া, সংসার চালানোর খরচ মিলিয়ে তাকে পড়তে হয় তীব্র আর্থিক সংকটে। বাধ্য হয়ে ধার দেনা করতে হয় নিকটজনদের কাছ থেকে। কিন্তু সংকট এত গভীর যে, সে ঋণ মেটানোর উপায়ও ক্রমশ ফুরিয়ে আসছে। এই মুহূর্তে আব্দুর রহমানের পরিবার এক চরম অনিশ্চয়তা ও আর্থিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। পরিবারের খরচ, সন্তানের ভরণ পোষণ, ওষুধ ও চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া প্রতিদিনই কঠিন হয়ে উঠছে। একসময় যে মানুষটি নিজের শ্রমে একটি পরিবার টিকিয়ে রেখেছিলেন, আজ তিনি নিজেই একটি ভঙ্গুর অবস্থার শিকার। প্রয়োজন তাঁর পাশে দাঁড়ানো, যাতে তিনি আবারও ঘুরে দাঁড়িয়ে পরিবারকে আগের মতো নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ জীবন দিতে পারেন। ঘটনার বিবরণ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজধানীর গুলিস্তান গোলাপশাহ মাজারের নিকট চলমান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছিলেন আব্দুর রহমান খান। শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনে অংশ নেয়ার সময় সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ করে পুলিশ ও ছাত্রলীগের একদল কর্মী আব্দুর রহমান খান ও তার ১৫ জন সহযোদ্ধাকে পুলিশ হোডকোয়ার্টারে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যায়। এরপর তাদের উপর নির্মম অত্যাচার চলে। এই বর্বর হামলায় তার ডান চোখের নিচে গুরুতর জখম হয় এবং তা থেকে প্রচুর রক্তপাত হতে থাকে এবং ডান পায়ের হাটুতে মারাত্মক জখম হন। শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন স্পষ্ট ছিল, বিশেষ করে পিঠ, কাঁধ ও মুখমণ্ডলে। হামলার তীব্রতায় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং চরম শারীরিক যন্ত্রণা সহ্য করতে বাধ্য হন। পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ হয়ে উঠলে সেনাবাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আব্দুর রহমানকে হামলাকারীদের হাত থেকে উদ্ধার করে। আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তাকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ ঘটনা দেশের সাধারণ জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি করে। চিকিৎসা সংক্রান্ত বিবরণ আহতের পর আব্দুর রহমান খানকে তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর জরুরি বিভাগে তাকে দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। চিকিৎসকরা তার চোখের নিচের গুরুতর জখম শরীরের বিভিন স্থানের আঘাত পরীক্ষা করেন। প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রদান করেন এবং ব্যথা উপশমে ব্যথানাশক ও অ্যান্টিবায়োটিক দেন। সেই সাথে চিকিৎসকরা তাকে সম্পূর্ণ শারীরিক বিশ্রামের পরামর্শ দিয়ে আপাতত বাসায় পাঠান।
এরপর তার ব্যথা আরও বেড়ে যায় এবং জখম স্থানে ফোলা ও জটিলতা দেখা দিলে পরিবার তাকে রাজধানীর শান্তিনগর অরোরা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে বিশ্লেষণমূলক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা বুঝতে পারেন যে, তার অভ্যন্তরীণ আঘাত রয়েছে, বিশেষ করে পিঠ ও কোমরের কাছে। বর্তমানে তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং নিয়মিত ফিজিওথেরাপি ও ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসা চলছে। প্রস্তাবনা ১. কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। ২. ছেলের পড়াশুনার খরচ বহন করা যেতে পারে।
এক নজরে আব্দুর রহমান খান
নাম : আব্দুর রহমান খান
পিতা : হোসেন আলী খান, বয়স ৭৫
মাতা : মেহেন নেগা বেগম, বয়স ৫৫ ছেলে : হুযাইফা, বয়স ২ পরিবারে সদস্য সংখ্যা : ৫ জন
বর্তমান ঠিকানা : চানখারপুল লেন, ঢাকা স্থায়ী ঠিকানা : নলছিটি, ঝালকাঠি
আহত হওয়ার সময় : ৫ আগস্ট ২০২৪, সকাল ১০:১৫ মিনিট
আক্রমণকারী : পুলিশ ও ছাত্রলীগ বাহিনী আহত হওয়ার স্থান : গুলিস্তান, গোলাপ শাহের মাজার, ঢাকা
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍
🔍
🔍