মো: রুহুল আমিন
জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
পেশা : অটো রিক্সা চালক
🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা
মো: রুহুল আমিন ১৯৮৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার বাইকান্দি ইউনিয়নের ইকরকান্দি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন একজন চিন্তাশীল ও অনুভূনশীল মানুষ। সমাজের অন্যায়-অবিচার এবং বৈষম্য তার মনে গভীরভাবে নাড়া দিতো। কৈশোর থেকেই তিনি সমাজের অসংগতি ও অবিচারের বিরুদ্ধে নিজের মধ্যে এক তীব্র প্রতিক্রিয়া অনুভব করতেন।
পারিবারিক জীবন রুহুল আমিনের বাবা মো: সেকেন্দার একজন দিনমজুর, যিনি কঠোর পরিশ্রম করে সংসার চালাতেন এবং সন্তানদের আদর্শিকভাবে গড়ে তোলার চেষ্টা করতেন। তাঁর মা নূরজাহান এক মমতাময়ী গৃহিণী, যিনি পরিবারের মাঝে নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ ও আত্মবিশ্বাসের শিক্ষা দিতেন। রুহুল আমিনের তিন সন্তান-বড় মেয়ে রুনা (১৮) এসএসসি পর্যন্ত পড়েছেন, দ্বিতীয় মেয়ে বর্ষা আক্তার (১৬) অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত এবং ছোট ছেলে রুহান খান (১০) পঞ্চম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। তবে বাবার গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তার কন্যারা আর পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেনি। কর্মজীবন পেশায় মো: রুহুল আমিন ছিলেন একজন অটোরিকশাচালক। এই অটোরিকশাই ছিল তার একমাত্র জীবিকা ও সংসার চালানোর অবলম্বন। অতি সাধারণ এই পেশার মধ্য দিয়েও তিনি নিজের আত্মমর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখেছেন এবং সৎভাবে জীবিকা নির্বাহ করেছেন। সংগ্রামী জীবন রুহুল আমিনের সংগ্রামী জীবন শুরু হয় যখন তিনি ফ্যাসিবাদী দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে দেশের রাজপথে নেমে আসেন। তিনিরাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীরভাবে ভাবতেন এবং ন্যায়ের পক্ষে নিজের অবস্থান কখনো আড়াল করতেন না। ভয়, নির্যাতন, রক্তপাত-কোনো কিছুই তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। তাঁর সাহস, আত্মত্যাগ ও দৃঢ় মানসিকতা শুধু এক প্রজন্ম নয়, বহু প্রজন্মের জন্যই অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। জুলাই আন্দোলনে তার অংশগ্রহণ তাকে পরিণত করেছে এক অপ্রতিরোধ্য যোদ্ধায়, যার নাম ইতিহাসে গৌরবের সাথে উচ্চারিত হবে। সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ আওয়ামী বর্বরতার নির্মম শিকার এক সাহসী নাগরিক: মো: রুহুল আমিন। ২১ জুলাইয়ের শান্তিপূর্ণ ছাত্র-জনতার আন্দোলনে একজন সাধারণ, নিরীহ নাগরিক হিসেবে অংশগ্রহণ করেছিলেন মো: রুহুল আমিন। জন্মসূত্রে তিনি কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের অধিকারী না হলেও, ন্যায়বিচারের প্রশ্নে তিনি ছিলেন আপসহীন। সকাল থেকেই তিনি রায়েরবাগ এলাকায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ান।তাদের মাঝে পানি বিতরণ করেন, সাহস জোগান এবং দাবি আদায়ের এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে নিজেকে সম্পৃক্ত করে নেন। এই ভূমিকা শুধুই মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে; কিন্তু ক্ষমতালিপ্সু, স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের চোখে তা হয়ে ওঠে এক ‘অপরাধ’। বিকেল আনুমানিক ৬টা। রায়েরবাগ পুলিশ সার্কুলেট এলাকায় হঠাৎ করেই ছাত্রদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে পুলিশ বাহিনী। শুরু হয় মারাত্মক তাণ্ডব ও গুলিবর্ষণ। আন্দোলনরত ছাত্রদের পাশাপাশি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন পাশে থাকা সাধারণ নাগরিকরাও। সেই বর্বর হামলার শিকার হন মো: রুহুল আমিন।
পুলিশের ছোড়া একটি গুলি তার পায়ের হাঁটুর ভেতর দিয়ে ঢুকে অন্য পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। মুহূর্তেই রক্তাক্ত হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন তিনি। আশপাশের মানুষ ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত রয়েল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার জীবন রক্ষার চেষ্টা চলতে থাকে, তবে গুলির গভীর ক্ষত এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার অবস্থা ছিল চরম সংকটাপন্ন। এই হামলা ছিল কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি ছিল আওয়ামী সরকারের সুপরিকল্পিত রাষ্ট্রীয় দমননীতি ও বর্বরতার নগ্ন বহি:প্রকাশ। মো: রুহুল আমিনের মতো একজন সাধারণ নাগরিক, যিনি শুধু পানি বিলিয়ে এবং মানবিকতা দিয়ে ছাত্রদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন; তাকেও রেহাই দেয়নি এই ফ্যাসিস্ট শাসকগোষ্ঠী। এই ঘটনাই প্রমাণ করে, আওয়ামী সরকারের কাছে প্রতিবাদী কণ্ঠ হোক কিংবা সহমর্মিতার হাত; সবই যেন বন্দুকের নিশানা। মো: রুহুল আমিনের রক্তে রঞ্জিত রাজপথ আজ সাক্ষী হয়ে আছে এক ভয়াবহ রাষ্ট্রীয় নিষ্ঠুরতার, যার বিরুদ্ধে আজ পুরো জাতি দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছে। চিকিৎসা সম্পর্কিত সামগ্রিক বর্ণনা ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোর শাস্তি; গুলিবিদ্ধ রুহুল আমিন আজও টেনে হেঁটে বাঁচেন, চিকিৎসা বঞ্চনার নির্মম সাক্ষ্য হয়ে- মোহাম্মদ রুহুল আমিন ২১ জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় ফ্যাসিস্ট সরকারের পুলিশের ছোড়া গুলিতে গুরুতরভাবে আহত হন। একটি গুলি তার পায়ের রানের ভেতর দিয়ে ঢুকে অপর পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়, যার ফলে তার পায়ের হাড়, মাংসপেশি ও রক্তনালিতে মারাত্মক ক্ষতি হয়। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর আন্দোলনরত ছাত্ররা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে রাজধানীর ইম্পেরিয়াল রয়েল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি ভিত্তিতে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়। রক্তক্ষরণ থামাতে চিকিৎসকরা আপ্রাণ চেষ্টা করে প্রাথমিকভাবে তার জীবন রক্ষা সম্ভব হয়। তবে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক থাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, ঢাকা মেডিকেল কর্তৃপক্ষ রাজনৈতিক চাপ ও সরকারি প্রভাবের মুখে তাকে ভর্তি নিতে অস্বীকৃতি জানায়। ফলে চিকিৎসা গ্রহণের জন্য তাকে বারবার বাসা থেকে ঢাকা মেডিকেলে যাতায়াত করতে হয়েছে,যা একজন গুলিবিদ্ধ ও পঙ্গুপ্রায় মানুষের জন্য ছিল ভয়ানক কষ্টকর ও শারীরিক ঝুঁকিপূর্ণ।বর্তমানে তিনি এখনো পুরোপুরি সুস্থ নন। গুলির আঘাতে তার পায়ের স্বাভাবিক গঠন এবং কার্যক্ষমতা চিরতরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হাঁটার সময় তাকে পা টেনে টেনে চলতে হয়। তিনি স্বাভাবিক জীবনযাপন থেকে অনেক দূরে অবস্থান করছেন, প্রতিনিয়ত তাকে সহ্য করতে হচ্ছে ব্যথা ও সীমাবদ্ধতার নির্মম যন্ত্রণা। চিকিৎসা এখনো চলমান রয়েছে, তবে উন্নত চিকিৎসার অভাবে তার আরোগ্যের সম্ভাবনা দিনদিন ক্ষীণ হয়ে আসছে। একজন সাধারণ মানুষের ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোর এই মূল্য যেখানে রাষ্ট্র তাকে চিকিৎসার সুযোগও দেয়নি; তা বর্তমান বর্বর শাসনব্যবস্থার নির্মম চিত্র তুলে ধরে। মো: রুহুল আমিনের চিকিৎসা কাহিনি শুধু শারীরিক যন্ত্রণার নয়, বরং রাষ্ট্রীয় নিষ্ঠুরতা ও মানবিক অবহেলার এক জীবন্ত দলিল। বর্তমান অবস্থা: তিনি ভারী কোন কাজ করতে পারেন না। সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপনে ফিরে যেতে হলে নিয়মিত ওষুধ এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম অত্যন্ত জরুরি। অর্থনৈতিক অবস্থা: তার পরিবারে স্ত্রী, দুই কন্যা এবং এক পুত্র রয়েছে, অভাবের কারণে আহত হওয়ার পরে মেয়েদের পড়াতে পারেন নি; ছেলে এখনও পড়ালেখা করছে। তারা ঢাকায় একটি ভাড়া বাড়িতে বসবাস করেন। পরিবারটির অর্থনৈতিক অবস্থা খুব ভালো নয়। তিনি অটোরিকশা চালিয়ে পরিবার পরিচালনা করতেন। বর্তমানে পায়ে গুলিবিদ্ধ হওয়ার কারণে কোনো কাজ করতে পারেন না। চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা পূর্ণ চিকিৎসার জন্য সরকারি সহায়তা,দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সুবিধা, চিকিৎসা ব্যয়ের আর্থিক সহায়তা, নিয়মিত ফলোআপ ও মেডিকেল মনিটরিং। কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা স্থায়ী ও নিরাপদ চাকরির ব্যবস্থা, চাকরির মাধ্যমে চিকিৎসা ও জীবিকা নিশ্চিতকরণ, পারিবারিক দায়িত্ব বিবেচনায় মানবিক সহায়তা।
এক নজরে মো: রুহুল আমিন
নাম : মো: রুহুল আমিন
জন্ম তারিখ : ১৫-০৯-১৯৮৬
জন্মস্থান : দাউদকান্দি, কুমিল্লা
পেশা : অটো রিক্সা চালক
স্ত্রীর নাম : শাহনাজ দেওয়ান
স্ত্রীর পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৩৭
স্থায়ী ঠিকানা : গ্রাম: ইকরাকান্দি, ইউনিয়ন: বাইকান্দি, থানা: ভেদরগঞ্জ, জেলা: শরীয়তপুর
বর্তমান ঠিকানা : ৩নং পলাশপুর, শনিরআখড়া, কদমতলী, ঢাকা পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম : মো: সেকেন্দার
পিতার পেশা ও বয়স : দিনমজুর, ৬০
মায়ের নাম : নুর জাহান
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৪৫
মাসিক আয় : ১০০০০
আয়ের উৎস : দিনমজুর
বাড়ির বিবরণ : টিনের বাড়ি
সম্পদের পরিমাণ : ৫ শতক
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৫ জন
সন্তানদের নাম
১. রুনা আক্তার, বয়স: ১৮, পেশা: ছাত্রী, শ্রেণি: ১০ম, সম্পর্ক: মেয়ে ২. বর্ষা আক্তার, বয়স: ১৬, পেশা: ছাত্রী, শ্রেণি: ৮ম, সম্পর্ক: মেয়ে
৩. রুহান খান, বয়স: ১০, পেশা: ছাত্র, শ্রেণি: ৫ম, সম্পর্ক: ছেলে আহত হওয়ার স্থান : ঢাকার যাত্রাবাড়ী রায়েরবাগ, শনিরআখড়া এলাকায় তারিখ ও সময় : ২১ জুলাই ২০২৪, সন্ধ্যা ৬.০০ টা আক্রমণকারী : পুলিশ ও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী কর্তৃক আঘাতের ধরন : হাটুতে গুলি লেগে হাড়ের রগ ছিড়ে ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে চিকিৎসা : প্রথমে রয়েল হাসপাতাল এবং পরে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতাল
পারিবারিক জীবন রুহুল আমিনের বাবা মো: সেকেন্দার একজন দিনমজুর, যিনি কঠোর পরিশ্রম করে সংসার চালাতেন এবং সন্তানদের আদর্শিকভাবে গড়ে তোলার চেষ্টা করতেন। তাঁর মা নূরজাহান এক মমতাময়ী গৃহিণী, যিনি পরিবারের মাঝে নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ ও আত্মবিশ্বাসের শিক্ষা দিতেন। রুহুল আমিনের তিন সন্তান-বড় মেয়ে রুনা (১৮) এসএসসি পর্যন্ত পড়েছেন, দ্বিতীয় মেয়ে বর্ষা আক্তার (১৬) অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত এবং ছোট ছেলে রুহান খান (১০) পঞ্চম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। তবে বাবার গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তার কন্যারা আর পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেনি। কর্মজীবন পেশায় মো: রুহুল আমিন ছিলেন একজন অটোরিকশাচালক। এই অটোরিকশাই ছিল তার একমাত্র জীবিকা ও সংসার চালানোর অবলম্বন। অতি সাধারণ এই পেশার মধ্য দিয়েও তিনি নিজের আত্মমর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখেছেন এবং সৎভাবে জীবিকা নির্বাহ করেছেন। সংগ্রামী জীবন রুহুল আমিনের সংগ্রামী জীবন শুরু হয় যখন তিনি ফ্যাসিবাদী দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে দেশের রাজপথে নেমে আসেন। তিনিরাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীরভাবে ভাবতেন এবং ন্যায়ের পক্ষে নিজের অবস্থান কখনো আড়াল করতেন না। ভয়, নির্যাতন, রক্তপাত-কোনো কিছুই তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। তাঁর সাহস, আত্মত্যাগ ও দৃঢ় মানসিকতা শুধু এক প্রজন্ম নয়, বহু প্রজন্মের জন্যই অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। জুলাই আন্দোলনে তার অংশগ্রহণ তাকে পরিণত করেছে এক অপ্রতিরোধ্য যোদ্ধায়, যার নাম ইতিহাসে গৌরবের সাথে উচ্চারিত হবে। সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ আওয়ামী বর্বরতার নির্মম শিকার এক সাহসী নাগরিক: মো: রুহুল আমিন। ২১ জুলাইয়ের শান্তিপূর্ণ ছাত্র-জনতার আন্দোলনে একজন সাধারণ, নিরীহ নাগরিক হিসেবে অংশগ্রহণ করেছিলেন মো: রুহুল আমিন। জন্মসূত্রে তিনি কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের অধিকারী না হলেও, ন্যায়বিচারের প্রশ্নে তিনি ছিলেন আপসহীন। সকাল থেকেই তিনি রায়েরবাগ এলাকায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ান।তাদের মাঝে পানি বিতরণ করেন, সাহস জোগান এবং দাবি আদায়ের এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে নিজেকে সম্পৃক্ত করে নেন। এই ভূমিকা শুধুই মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে; কিন্তু ক্ষমতালিপ্সু, স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের চোখে তা হয়ে ওঠে এক ‘অপরাধ’। বিকেল আনুমানিক ৬টা। রায়েরবাগ পুলিশ সার্কুলেট এলাকায় হঠাৎ করেই ছাত্রদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে পুলিশ বাহিনী। শুরু হয় মারাত্মক তাণ্ডব ও গুলিবর্ষণ। আন্দোলনরত ছাত্রদের পাশাপাশি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন পাশে থাকা সাধারণ নাগরিকরাও। সেই বর্বর হামলার শিকার হন মো: রুহুল আমিন।
পুলিশের ছোড়া একটি গুলি তার পায়ের হাঁটুর ভেতর দিয়ে ঢুকে অন্য পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। মুহূর্তেই রক্তাক্ত হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন তিনি। আশপাশের মানুষ ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত রয়েল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার জীবন রক্ষার চেষ্টা চলতে থাকে, তবে গুলির গভীর ক্ষত এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার অবস্থা ছিল চরম সংকটাপন্ন। এই হামলা ছিল কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি ছিল আওয়ামী সরকারের সুপরিকল্পিত রাষ্ট্রীয় দমননীতি ও বর্বরতার নগ্ন বহি:প্রকাশ। মো: রুহুল আমিনের মতো একজন সাধারণ নাগরিক, যিনি শুধু পানি বিলিয়ে এবং মানবিকতা দিয়ে ছাত্রদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন; তাকেও রেহাই দেয়নি এই ফ্যাসিস্ট শাসকগোষ্ঠী। এই ঘটনাই প্রমাণ করে, আওয়ামী সরকারের কাছে প্রতিবাদী কণ্ঠ হোক কিংবা সহমর্মিতার হাত; সবই যেন বন্দুকের নিশানা। মো: রুহুল আমিনের রক্তে রঞ্জিত রাজপথ আজ সাক্ষী হয়ে আছে এক ভয়াবহ রাষ্ট্রীয় নিষ্ঠুরতার, যার বিরুদ্ধে আজ পুরো জাতি দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছে। চিকিৎসা সম্পর্কিত সামগ্রিক বর্ণনা ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোর শাস্তি; গুলিবিদ্ধ রুহুল আমিন আজও টেনে হেঁটে বাঁচেন, চিকিৎসা বঞ্চনার নির্মম সাক্ষ্য হয়ে- মোহাম্মদ রুহুল আমিন ২১ জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় ফ্যাসিস্ট সরকারের পুলিশের ছোড়া গুলিতে গুরুতরভাবে আহত হন। একটি গুলি তার পায়ের রানের ভেতর দিয়ে ঢুকে অপর পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়, যার ফলে তার পায়ের হাড়, মাংসপেশি ও রক্তনালিতে মারাত্মক ক্ষতি হয়। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর আন্দোলনরত ছাত্ররা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে রাজধানীর ইম্পেরিয়াল রয়েল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি ভিত্তিতে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়। রক্তক্ষরণ থামাতে চিকিৎসকরা আপ্রাণ চেষ্টা করে প্রাথমিকভাবে তার জীবন রক্ষা সম্ভব হয়। তবে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক থাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, ঢাকা মেডিকেল কর্তৃপক্ষ রাজনৈতিক চাপ ও সরকারি প্রভাবের মুখে তাকে ভর্তি নিতে অস্বীকৃতি জানায়। ফলে চিকিৎসা গ্রহণের জন্য তাকে বারবার বাসা থেকে ঢাকা মেডিকেলে যাতায়াত করতে হয়েছে,যা একজন গুলিবিদ্ধ ও পঙ্গুপ্রায় মানুষের জন্য ছিল ভয়ানক কষ্টকর ও শারীরিক ঝুঁকিপূর্ণ।বর্তমানে তিনি এখনো পুরোপুরি সুস্থ নন। গুলির আঘাতে তার পায়ের স্বাভাবিক গঠন এবং কার্যক্ষমতা চিরতরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হাঁটার সময় তাকে পা টেনে টেনে চলতে হয়। তিনি স্বাভাবিক জীবনযাপন থেকে অনেক দূরে অবস্থান করছেন, প্রতিনিয়ত তাকে সহ্য করতে হচ্ছে ব্যথা ও সীমাবদ্ধতার নির্মম যন্ত্রণা। চিকিৎসা এখনো চলমান রয়েছে, তবে উন্নত চিকিৎসার অভাবে তার আরোগ্যের সম্ভাবনা দিনদিন ক্ষীণ হয়ে আসছে। একজন সাধারণ মানুষের ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোর এই মূল্য যেখানে রাষ্ট্র তাকে চিকিৎসার সুযোগও দেয়নি; তা বর্তমান বর্বর শাসনব্যবস্থার নির্মম চিত্র তুলে ধরে। মো: রুহুল আমিনের চিকিৎসা কাহিনি শুধু শারীরিক যন্ত্রণার নয়, বরং রাষ্ট্রীয় নিষ্ঠুরতা ও মানবিক অবহেলার এক জীবন্ত দলিল। বর্তমান অবস্থা: তিনি ভারী কোন কাজ করতে পারেন না। সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপনে ফিরে যেতে হলে নিয়মিত ওষুধ এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম অত্যন্ত জরুরি। অর্থনৈতিক অবস্থা: তার পরিবারে স্ত্রী, দুই কন্যা এবং এক পুত্র রয়েছে, অভাবের কারণে আহত হওয়ার পরে মেয়েদের পড়াতে পারেন নি; ছেলে এখনও পড়ালেখা করছে। তারা ঢাকায় একটি ভাড়া বাড়িতে বসবাস করেন। পরিবারটির অর্থনৈতিক অবস্থা খুব ভালো নয়। তিনি অটোরিকশা চালিয়ে পরিবার পরিচালনা করতেন। বর্তমানে পায়ে গুলিবিদ্ধ হওয়ার কারণে কোনো কাজ করতে পারেন না। চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা পূর্ণ চিকিৎসার জন্য সরকারি সহায়তা,দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সুবিধা, চিকিৎসা ব্যয়ের আর্থিক সহায়তা, নিয়মিত ফলোআপ ও মেডিকেল মনিটরিং। কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা স্থায়ী ও নিরাপদ চাকরির ব্যবস্থা, চাকরির মাধ্যমে চিকিৎসা ও জীবিকা নিশ্চিতকরণ, পারিবারিক দায়িত্ব বিবেচনায় মানবিক সহায়তা।
এক নজরে মো: রুহুল আমিন
নাম : মো: রুহুল আমিন
জন্ম তারিখ : ১৫-০৯-১৯৮৬
জন্মস্থান : দাউদকান্দি, কুমিল্লা
পেশা : অটো রিক্সা চালক
স্ত্রীর নাম : শাহনাজ দেওয়ান
স্ত্রীর পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৩৭
স্থায়ী ঠিকানা : গ্রাম: ইকরাকান্দি, ইউনিয়ন: বাইকান্দি, থানা: ভেদরগঞ্জ, জেলা: শরীয়তপুর
বর্তমান ঠিকানা : ৩নং পলাশপুর, শনিরআখড়া, কদমতলী, ঢাকা পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম : মো: সেকেন্দার
পিতার পেশা ও বয়স : দিনমজুর, ৬০
মায়ের নাম : নুর জাহান
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৪৫
মাসিক আয় : ১০০০০
আয়ের উৎস : দিনমজুর
বাড়ির বিবরণ : টিনের বাড়ি
সম্পদের পরিমাণ : ৫ শতক
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৫ জন
সন্তানদের নাম
১. রুনা আক্তার, বয়স: ১৮, পেশা: ছাত্রী, শ্রেণি: ১০ম, সম্পর্ক: মেয়ে ২. বর্ষা আক্তার, বয়স: ১৬, পেশা: ছাত্রী, শ্রেণি: ৮ম, সম্পর্ক: মেয়ে
৩. রুহান খান, বয়স: ১০, পেশা: ছাত্র, শ্রেণি: ৫ম, সম্পর্ক: ছেলে আহত হওয়ার স্থান : ঢাকার যাত্রাবাড়ী রায়েরবাগ, শনিরআখড়া এলাকায় তারিখ ও সময় : ২১ জুলাই ২০২৪, সন্ধ্যা ৬.০০ টা আক্রমণকারী : পুলিশ ও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী কর্তৃক আঘাতের ধরন : হাটুতে গুলি লেগে হাড়ের রগ ছিড়ে ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে চিকিৎসা : প্রথমে রয়েল হাসপাতাল এবং পরে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতাল
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍