হোম / আহতদের তালিকা / ফারহান সাদিক নূর
ফারহান সাদিক নূর

ফারহান সাদিক নূর

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

পেশা : ছাত্র

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা

পরিচয় ফারহান সাদিক নূর, এক উদ্যমী ও প্রতিভাসম্পন্ন তরুণ। যিনি ২০০৬ সালের ১৩ অক্টোবর ঢাকার মিরপুর ১১ নম্বর এলাকায় এক শিক্ষিত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব থেকেই তিনি ছিলেন ব্যতিক্রমী চিন্তাধারার অধিকারী নতুন কিছু জানার আগ্রহ, বিশ্লেষণী। তিনি দৃষ্টিভঙ্গি ও কঠোর পরিশ্রমে অটুট ছিলেন সবসময়। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাজীবনে ধারাবাহিকভাবে অসাধারণ ফলাফল করে তিনি পরিবার, শিক্ষক ও সহপাঠীদের মধ্যে হয়ে ওঠেন অনুপ্রেরণার এক নাম। তার জ্ঞানপিপাসা তাকে দেশীয় গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের দিকে নিয়ে যায়। অল্প বয়সেই বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে সাফল্যের সাক্ষর রাখেন তিনি। ফারহানের লক্ষ্য ছিল উচ্চশিক্ষা অর্জনের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা। আর সে লক্ষ্যে আজ তিনি পড়াশোনা করছেন ইন্দোনেশিয়ার মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান “মোহাম্মদিয়া ইউনিভার্সিটি অব জোগ্যাকার্তা” তে, সম্পূর্ণ স্কলারশিপে।
এই স্কলারশিপ শুধু তার একাডেমিক দক্ষতা নয়, বরং তার নেতৃত্বগুণ, সৃজনশীলতা ও বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গিরও স্বীকৃতি। তার এই অর্জন কেবল তার ব্যক্তিগত সাফল্য নয় বরং দেশের তরুণ সমাজের জন্য একটি উদাহরণ যেখানে সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়া যায়। ভবিষ্যতে ফারহান নিজেকে মানবতার সেবায় নিয়োজিত করতে চান, বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নাম আরও উজ্জ্বল করতে চান। পারিবারিক প্রেক্ষাপট ফারহান সাদিক নূরের পারিবারিক পরিবেশ ছিল আদর্শ ও অনুপ্রেরণামূলক যা তার ব্যক্তিত্ব ও মূল্যবোধ গঠনে গভীর প্রভাব ফেলেছে। তার বাবা মো: কিবরিয়া, একজন ৫৩ বছর বয়সী সৎ ও নিষ্ঠাবান সরকারি কর্মকর্তা। যিনি দীর্ঘদিন ধরে সততা, আদর্শ এবং দায়িত্ববোধের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করে আসছেন। কর্মজীবনের পাশাপাশি তিনি একজন দৃঢ় নীতিবান পিতা, যিনি সন্তানদের নৈতিক ও মানবিক শিক্ষায় প্রতিনিয়ত উদ্বুদ্ধ করে আসছেন। মা ফাতিমা ফরিদ একজন স্নেহশীলা ও পরিপূর্ণ গৃহিণী। তিনি শুধু সংসার সামলাননি, বরং সন্তানদের নৈতিক শিক্ষা, শৃঙ্খলা ও আদর্শবান মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য মমতা ও ধৈর্যের সঙ্গে সবসময় পাশে থেকেছেন। মায়ের সেই কোমল মমতা ও শিক্ষণীয় দৃষ্টিভঙ্গিই ফারহানের মননকে আরও সংবেদনশীল করে তোলে। পরিবারের অন্যান্য সদ মধ্যে রয়েছে ফারহানের ছোট বোন হুমাইরা মাহজাবিন ফারিহা, যিনি নবম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। এবং ছোট ভাই ফুরকান, যিনি চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র। তারা সবাই মিলে এক বন্ধনময়, সহযোগিতাপূর্ণ ও মূল্যবোধে গড়া পরিবেশে বসবাস করে। এই পরিবারটি তিনটি ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে আছে, সামাজিক মূল্যবোধ, শিক্ষা ও নৈতিকতা। এই আদর্শিক পরিবেশেই বেড়ে উঠেছে ফারহান, যে ছোটবেলা থেকেই সত্য, ন্যায় এবং মানবিকতা এ তিনটি মূলনীতিকে নিজের জীবনের চালিকাশক্তি হিসেবে গ্রহণ করেছে।
ঘটনার বিবরণ ২০২৪ সালের আগস্টে, বাংলাদেশজুড়ে চলছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উত্তাল ঢেউ। শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে আসে ন্যায়ের দাবিতে, একটি সুবিচারভিত্তিক সমাজের স্বপ্নে। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে ৩ আগস্ট, ফারহান সাদিক ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের সামনে আন্দোলনে সংহতি জানাতে যান। তবে গিয়ে জানতে পারেন, কর্মসূচি ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক মনে করে তিনি ও তার এক বন্ধু বাড়ির পথে রওনা দেন। কিন্তু সরকারি সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজের সামনে হঠাৎ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কিছু সদস্য তাদের জোরপূর্বক আটকে ফেলে। শুরু হয় মানসিক নির্যাতন। ফারহানকে বাধ্য করা হয় একটি মিথ্যা স্বীকারোক্তিমূলক ভিডিওতে অংশ নিতে, যেখানে বলা হয়, তিনি মাত্র ১,০০০ টাকার বিনিময়ে জামায়াত বিএনপির কথায় আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। এই ভিডিও ছিল সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক অপপ্রচারের অংশ। শুধু ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নেয়ায় কিশোর ফারহানকে এমন অপমানজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। ভিডিও ধারণের পর তাদের ছেড়ে দেয়া হয়, কিন্তু অপমান, আতঙ্ক ও মানসিক আঘাতের ভারে নত হয়ে ফারহান বাসায় ফিরে আসেন। ঘটনাটি তার মনে গভীর ক্ষত তৈরি করে। চিকিৎসা সংক্রান্ত বিবরণ শারীরিকভাবে গুরুতর আহত না হলেও, মানসিক আঘাত ছিল গভীর ও চেপে রাখা যন্ত্রণার মতো। বাসায় ফিরে তিনি প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেন। কিছু ঘুমের ওষুধ, স্নায়ুর ব্যথা প্রশমক এবং মানসিক চাপ কমানোর ওষুধ ব্যবহার করা হয়। সময়ের সঙ্গে শারীরিকভাবে কিছুটা সুস্থ হলেও, তার মন এখনও মুক্ত হয়নি সেই অপমান ও ভীতিকর অভিজ্ঞতার স্মৃতি থেকে। বর্তমানে, তিনি তার পাঠক্রমে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন, তবে মাঝে মাঝে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েন। তিনি প্রশ্ন করেন “ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানো কি অপরাধ?” তার চোখে আজও ভাসে সেই অন্ধকার মুখগুলো, যারা অন্যায়ের হয়ে ন্যায়ের কণ্ঠকে চেপে ধরেছিল।
বিশেষ স্বীকৃতি ফারহান সাদিকের ‘মার্চ ফর গাজা’ আন্দোলনের ইংরেজি ও আরবীতে দেয়া একটি বক্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। ভিডিওটি ফিলিস্তিনি ওয়েবসাইট ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় প্রকাশ পেয়েছে। ফারহান সাদিক শুধুমাত্র একজন শিক্ষার্থী নন, তিনি বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের প্রতিনিধি। একজন আন্তর্জাতিক মানের স্কলারশিপধারী ছাত্রকে এভাবে মিথ্যা ও রাজনৈতিক হীন চক্রান্তের শিকার হতে দেখাটা অত্যন্ত দুঃখজনক। রাষ্ট্র এবং সমাজের দায়িত্ব এই তরুণকে যথাযথ সম্মান, নিরাপত্তা এবং প্রয়োজনীয় মনস্তাত্ত্বিক সেবা প্রদান করা। ফারহান সাদিক নূর একটি নাম, যা কেবল একটি শিক্ষার্থীর প্রতীক নয় বরং সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোর সাহসিকতার প্রতিচ্ছবি। আমরা যেন তাকে ভুলে না যাই, যেন এমন আর কোনো তরুণ এই অন্যায় অপমানের শিকার না হয়। আমরা চাই, তার চোখের ভাষা যেন আবার জ্বলে ওঠে আত্মবিশ্বাসে, যেন পৃথিবীকে বলে “আমি ছিলাম, আছি এবং থাকব ন্যায়ের পক্ষে, মানুষের পাশে।”
এক নজরে ফারহান সাদিক নূর
নাম : ফারহান সাদিক নূর
পেশা : ছাত্র
পিতা : মো: কিবরিয়া, বয়স ৫৩
মাতা : ফাতিমা ফরিদ, বয়স ৪৭
বোন : হুমাইরা মাহজাবিন ফারিহা, নবম শ্রেণি
ভাই : ফুরকান, চতুর্থ শ্রেণি
পরিবারে সদস্য সংখ্যা : ৫ জন
বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা : মিরপুর ১১, ঢাকা
আহত হওয়ার সময় : ৩ আগস্ট ২০২৪
আক্রমণকারী : পুলিশ, ছাত্রলীগ বাহিনী আহত হওয়ার স্থান : ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের সামনে

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍