হোম / আওয়ামী দুঃশাসনে শহীদ / শহীদ এমদাদুল্লাহ
শহীদ এমদাদুল্লাহ

শহীদ এমদাদুল্লাহ

আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

শহীদ এমদাদুল্লাহ ১৯৯৬ সালের ১ জানুয়ারি জামালপুরের বানিয়ার পাড় গ্রামের এক সাধারণ পরিবারে জন্ম। তিনি বড় হয়েছেন জ্ঞান, ন্যায় ও দায়িত্ববোধের স্বমন্বয়ে। ঢাকা কলেজে পরিসংখ্যান বিভাগে অনার্সের ছাত্র থাকা অবস্থায় তিনি সাংগঠনীক দায়িত্বে নিষ্ঠা, নেতৃত্ব ও সাহসিকতার পরিচয় দেন। স্বপ্ন ছিল একজন বিসিএস কর্মকর্তা হয়ে দেশের সেবা করা। ২০১৫ সালের ৩১ জানুয়ারি মিরপুরে গ্রেফতারের পর বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়ে তিনি শহীদ হন। তার অসমাপ্ত সেই স্বপ্ন আজও পরিবারকে বেদনাময় করে তোলে।

🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ

শহীদ এমদাদুল্লাহ
ঢাকা
৫
শহীদের পরিচিতি
শহীদ এমদাদুলল্লাহ ১৯৯৬ সালের ১ জানুয়ারি জামালপুর জেলার বানিয়ার পাড় গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মৃত জামাল উদ্দীন এবং মাতা আনোয়ারা বেগমের আট সন্তানের মধ্যে এমদাদুল্লাহ ষষ্ঠ। তিনি ঢাকা কলেজে পরিসংখ্যান বিষয়ে অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন। শহীদি কাফেলা বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের তিনি সদস্য প্রার্থী এবং মিরপুর শাহ আলী থানার ৯৩ নং ওয়ার্ডের সভাপতি ছিলেন।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে যান:
৩১ জানুয়ারি, ২০১৫। সন্ধ্যা ৭টার দিকে রাজধানীর মিরপুরের বাসা থেকে সন্দেহবশত গ্রেফতার করে মিরপুর থানা পুলিশ। গ্রেফতারের পর বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়ে শাহাদাত বরণ করেন, সংগঠনের সদস্যপ্রার্থী, ঢাকা কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের (পরিসংখ্যান) ছাত্র মোঃ এমদাদুল্লাহ।
সামগ্রীক ঘটনার বিবরণ:
৩১ জানুয়ারি, ২০১৫। সন্ধ্যা ৭টার দিকে রাজধানীর মিরপুরের বাসা থেকে সন্দেহবশত গ্রেফতার করে, মিরপুর থানা পুলিশ।
সাংগঠনিক মান।
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের তিনি সদস্য প্রার্থী ছিলেন এবং ঢাকা মহানগরী পশ্চিমের শাহ আলী থানার ৯৩ নং ওয়ার্ড সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন।
গণমাধ্যমে শাহাদাতের খবর
মিরপুরে 'ক্রসফায়ারে' শিবিরকর্মী নিহত
ঢাকা: রাজধানীর মিরপুরের রূপনগর এলাকায় পুলিশের কথিত 'ক্রসফায়ারে' এমদাদুল্লাহ (২০) নামে এক শিবির কর্মী নিহত হয়েছে। তার বাবার নাম মৃত জামাল উদ্দিন। গ্রামের বাড়ি জামালপুরের বানারিপাড়া। মিরপুর থানার ডিউটি অফিসার এস আই বজলার জানান, শনিবার রাতে এমাদুল্লাহকে নিয়ে মিরপুর মডেল থানার এসআই কামাল আসামী ধরতে ও বিস্ফোরক উদ্ধারে যান। রাত সাড়ে ১১টার দিকে রূপনগর বেড়িবাঁধের এনা প্রপার্টিজের সামনে পৌঁছলে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে। এসময় দুর্বৃত্তদের গুলিতে এমদাদুল্লাহর মৃত্যু হয়।
জামালপুরে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৫) জামায়াতের সকাল-সন্ধ্যা হরতাল
জামালপুর: রাজধানীর মিরপুরে পুলিশের সঙ্গে 'বন্দুকযুদ্ধ'-এ নিহত শিবিরনেতা এমদাদুল্লাহ হত্যার প্রতিবাদে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৫) জেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে জামালপুর জেলা জামায়াত।
২ ফেব্রুয়ারি দুপুরে শহরের বানারীপাড়া ফাজিল মাদ্রাসায় এমদাদুল্লাহ নামাজে জানাজা শেষে হরতালের ঘোষণা দেন জেলা জামায়াতের আমির আ ফ ম নুরুল হক।
এ সময় জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি হারুনুর রশীদসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এমদাদুল্লাহ জামালপুরের বাসিন্দা। তিনি ঢাকা কলেজের অনার্স প্রথমবর্ষের ছাত্র ও মিরপুরের শাহ আলী থানার ৯৩নং ওয়ার্ড শিবিরের সভাপতি ছিলেন।
গত শনিবার (৩১ জানুয়ারি ২০১৫) রাতে ঢাকার রূপনগর বেড়িবাধ এলাকায় পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে তিনি নিহত হন।
এক নজরে শহীদ এমদাদুল্লাহ
পুরোনাম: শহীদ এমদাদুল্লাহ
পিতা: মৃত, জামাল উদ্দীন
মাতা: আনোয়ারা বেগম
জন্ম তারিখ: ০১ জানুয়ারি, ১৯৯৬
ভাই বোন: ৩ ভাই ও ৫ বোনের মধ্যে ৬ষ্ঠ।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: বানিয়ার পাড়, ডাকঘর: বানিয়ার পাড় থানা: জামালপুর সদর, জেলা: জামালপুর।
সাংগঠনিক মান: সদস্য প্রার্থী
সর্বশেষ দয়িত্ব: ৯৩ নং ওয়ার্ড সভাপতি, মিরপুর (শাহ্ আলী) থানা।
সর্বশেষ পড়ালেখা: অনার্স ১ম বর্ষ, পরিসংখ্যান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ।
জীবনের লক্ষ্য: বি সি এস ক্যাডার।
যে ঘটনায় শহীদ: ৩১ জানুয়ারি ২০১৫, শনিবার সন্ধ্যা ৭ টার দিকে রাজধানীর মিরপুরের ৭ নম্বরের বাসা থেকে মিরপুর থানার পুলিশ সন্দেহ করে নিয়ে যান এবং গভীর রাতে রুপনগর বেড়িবাধ এলাকায় নিয়ে কথিত বন্দুক যুদ্ধের নামে পুলিশ গুলি করে নির্মম ভাবে হত্যা করে।
শাহাদাতের স্থান: মিরপুর বেড়ীবাধ। (পুলিশ কর্তৃক গুলি)
শহীদের শখ : দাওয়াতি কাজ করা।

ভাই-বোন কতজন: তিন ভাই, পাচ বোনের মধ্যে ৬ষ্ঠ।
ভাই-বোনদের পেশা : বড় দুই ভাই ইসলামী ব্যাংকে কর্মরত। তিন বোন বিবাহিত এবং গৃহিনী একজন নার্সিং কলেজ এ অধ্যায়নরত।

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍