হোম / আওয়ামী দুঃশাসনে শহীদ / শহীদ হাফেজ রাশিদুল হাসান রাশেদ
শহীদ হাফেজ রাশিদুল হাসান রাশেদ

শহীদ হাফেজ রাশিদুল হাসান রাশেদ

আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

আল্লাহ ও রাসূলকে অবমাননা করে শাহবাগী ব্লগারদের লেখার প্রতিবাদে মিছিলে পুলিশের হামলায় ছত্রভঙ্গ হয়ে নৌকায় ফেরার পথে গুলিবিদ্ধ হয়ে নৌকা থেকে পড়ে যান। চারদিন পর তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়।

🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ

শহীদ হাফেজ রাশিদুল হাসান রাশেদ
ছোটবেলা থেকে নিয়মিত তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করতেন শহীদ হাফেজ রাশিদুল হাসান। শহীদের মা জানান, ‘রাশেদ শহীদ হওয়ার পর একদিন তিনি স্বপ্ন দেখেন যে, তিনি বসে বসে কাঁদছেন। ওই সময় শহীদ রাশিদুল হাসান রাশেদ মায়ের সামনে উপস্থিত হয়ে বলেন, ‘আমি তো বেঁচে আছি। প্রতিদিন আসি তুমি কাঁদো কেন। তুমি কাঁদলে আমার কষ্ট হয়।’ জন্ম : ০২ জানুয়ারি ১৯৯৪, শাহাদাতবরণ : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৩।

শহীদের পরিচিতি চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগরের আন্দুলবাড়িয়া কলেজ পাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন শহীদ রাশিদুল হাসান রাশেদ। পরিবারে চার-ভাই তিন বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন পঞ্চম। তাঁর পিতার নাম আনোয়ারুল হক, মায়ের নাম মোছাঃ সালেহা বেগম। গ্রামের মিস্ত্রিরা পাড়া স্কুলে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশুনার পর তিনি রাজশাহী চলে যান। তাঁর পরিবারটি রাজশাহীতে বসবাস করতে শুরু করলে তাকে রাজশাহী নিউমার্কেট কাসেমিয়া কওমি মাদরাসায় ভর্তি করিয়ে দেয়া হয়। এখান থেকে তিনি পবিত্র কোরআন শরীফ হিফজ সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি তিন বছর একটানা পড়াশুনা করে মাওলানা হন। ঢাকার ফরিদাবাদ মাদরাসায়ও তিনি এক বছর লেখাপড়া করেন।

যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে যান ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৩। ওই দিন ইসলাম বিদ্বেষী শাহবাগী ব্লগার চক্রের আল্লাহর, রাসূল, কোরআন ও ইসলামী মূল্যবোধের প্রতি চরম অবমাননাকর কু-রুচিপূর্ণ লেখার বিরুদ্ধে সারাদেশের মুসলমানরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বাদ জুম্মা মসজিদগুলো থেকে প্রতিবাদ মিছিলে অংশ নিয়ে শহীদ হন হাফেজ রাশিদুল হাসান রাশেদ।

কেমন ছিলেন শহীদ হাফেজ রাশিদুল হাসান রাশেদ ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন তাহাজ্জুদগুজার। পবিত্র কোরআনের এই হাফেজ ছিলেন অসাধারণ মেধাবী। তাঁর আচার ব্যবহার আর চলাফেরা ছিলো এক কথায় ভালোদের চাইতেও ভালো। তাঁর পিতা বলেন, ‘আমার ছেলের কথা বর্ণনা করে শেষ করা যাবে না।’ তিনি বলেন, ‘এটা শুধু আমার কথা না, যারা তাকে চিনতো তাঁরা সবাই এ কথাই বলে যে, ও ছিলো সবার থেকে অনন্য।’ শহীদের পিতা বলেন, ‘আমার চারটাই সোনার টুকরা ছেলে। কিন্তু রাশেদের সঙ্গে কারোরই তুলনা করা যাইতো না। মা-বাবার প্রতি তাঁর যে শ্রদ্ধা, এক কথায় তা ধারণার বাহিরে। সে তাঁর মায়ের কাজগুলো করে দিতো। থালা-বাটি থেকে কাপড়-চোপড়ও। মায়ের
সেবা করার জন্য সে পাগল ছিলো।’ শহীদের মা জানান, ‘শহীদ রাশেদ সব সময় সাদা পোশাক পছন্দ করতেন। যেদিন তিনি শহীদ হন সেদিন তিনি নামাজ পড়ে মায়ের সঙ্গে দেখা করে ভাত না খেয়েই মিছিলে চলে যায়। তিনি বলেন, ‘ছেলে কখন কিভাবে ইসলামী ছাত্রশিবিরে যোগ দিয়েছে আমরা জানতাম না। সে কথা খুব কম বলতো। কিন্তু জানতাম সে ছাত্রশিবিরের কাজ করছে।

সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ ছিলো জুমাবার। ওই দিন ইসলাম বিদ্বেষী শাহবাগী ব্লগার চক্রের আল্লাহর, রাসূল, কোরআন ও ইসলামী মূল্যবোধের প্রতি চরম অবমাননাকর কু-রুচিপূর্ণ লেখার বিরুদ্ধে সারাদেশের মুসলমানরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বাদ জুম্মা মসজিদগুলো থেকে প্রতিবাদ মিছিল নিয়ে বের হয়ে আসে। শহীদ হাফেজ রাশিদুল হাসান রাশেদ ছিলেন এমনই একটি মিছিলে। এই মিছিলটি সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে শুরু হয়। পুলিশ মিছিলে গুলিবর্ষণ শুরু করলে একপর্যায়ে শান্তিকামী নিরস্ত্র জনগণ ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। রাশিদুল হাসান ও তাঁর বন্ধুরা নদীর দিকে চলে যায়। তাঁরা একটা নৌকা করে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় পুলিশ নৌকার যাত্রীদের দিকেও গুলি ছুঁড়তে শুরু করে। গুলিবিদ্ধ হয়ে রাশিদুল হাসানসহ অনেকেই নৌকা থেকে পড়ে যায়। জুমাবার বাদজুম্মা এই ঘটনা ঘটার পর সোমবার সকালে পাওয়া যায় রাশিদুল হাসানের লাশ। স্থানীয় একজন প্রথম তার লাশ দেখতে পায়। পানির মধ্যে শহীদের শরীর মায়ের পেটে যেভাবে ৯/১০ মাসের শিশুরা অবস্থান করে ঠিক সেভাবে বসে আছে। স্থানীয় জনগণ শহীদের লাশ উদ্ধার করে এবং শহীদ পরিবারকে খবর পাঠায়। এদিকে খবর পেয়ে শহীদের লাশ নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে পুলিশ। জনগণের প্রবল বাধার মুখে পুলিশ হাল ছেড়ে দেয়। ওইদিনই বাদ আসর শহীদের নামাজ জানাজা শেষে তাকে রাজশাহী গোরহাঙ্গা গোরস্থান মসজিদের সামনে দাফন করা হয়।

শহীদের আপনজনদের কথা শহীদের পিতা বলেন, ‘আখেরাত হচ্ছে চিরস্থায়ী জায়গা। আমার ছেলে শহীদ হয়ে সেই চিরস্থায়ী জগতের বাসিন্দা হয়ে গেছে। অথচ আমরা আজ আল্লাহর প্রতি পরিপূর্ণ বিশ্বাস হারিয়ে সব রহমত-বরকত থেকে বঞ্চিত হয়ে যাচ্ছি। আমাদের দুঃখ দুর্দশার শেষ হচ্ছে না। দোয়া করি আল্লাহ আমাদেরকে পরিপূর্ণ ঈমানদার বানিয়ে দিন।’ শহীদের মা বলেন, ‘আমার রাশেদ আমার সব কাজ করে দিতো। কিভাবে মায়ের কষ্ট একটু কমানো যায় এ নিয়ে সব সময় পেরেশান থাকতো। ও দেখতে ছিলো আমার আব্বার মতো। আমরা লাকড়িতে রান্না করতাম। শহীদ হওয়ার আগে একদিন বলল, ‘মা আমি তোমাদের একটা গ্যাসের চুলা কিনে দিবো।’ ‘তিনি বলেন ছেলের জন্য কাঁদতাম, এখন আর কাঁদি না। একদিন স্বপ্নে দেখি, ছেলে বলছে আমি তো বেঁচে আছি। প্রতিদিন আসি, তুমি কাঁদো কেনো। তুমি কাঁদলে আমার কষ্ট হয়।’

ভাই-বোনদের বিবরণ বড় ভাই : শরিফুল ইসলাম, গার্মেন্টসে চাকরি। মেঝ ভাই : রাকীবুল ইসলাম, কুরিয়ার সার্ভিসে চাকরি। ছোট ভাই : হাসিবুল ইসলাম, ক্রিকেট খেলোয়াড়, সূর্যতরুণ ক্লাব, ঢাকা। বড় বোন : আনোয়ারা বেগম, গৃহিণী। মেঝ বোন : শামীমা আক্তার, গৃহিণী। ছোট বোন : আজমিরা খাতুন, রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজ অনার্স (ইংলিশ) ফাইনাল ইয়ার।

এক নজরে শহীদ হাফেজ রাশিদুল হাসান রাশেদ
নাম : শহীদ হাফেজ রাশিদুল হাসান রাশেদ
পিতা : আনোয়ারুল হক
মাতা : সালেহা বেগম
জন্ম : ০২ জানুয়ারি ১৯৯৪
ঠিকানা : গ্রাম- আন্দুলবাড়িয়া কলেজ পাড়া, জীবন নগর, চুয়াডাঙ্গা
ভাই-বোনের সংখ্যা : চার-ভাই তিন বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন পঞ্চম
সাংগঠনিক মান : কর্মী
কিভাবে শহীদ হলেন : আল্লাহ ও রাসূলকে অবমাননা করে শাহবাগী ব্লগারদের লেখার প্রতিবাদে মিছিলে পুলিশের হামলায় ছত্রভঙ্গ হয়ে নৌকায় ফেরার পথে গুলিবিদ্ধ হয়ে নৌকা থেকে পড়ে যান। চারদিন পর তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়।
শাহাদাতের তারিখ : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৩

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍