শহীদ মো: শহিদুল্লাহ লিটন
আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
এই অন্যায় রায়ের পরও কি বসে থাকা যায়। বলে বাড়ি থেকে বের হন এবং কিছুক্ষণ পরই গুলিবিদ্ধ হন।
🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ
শহীদ মো: শহিদুল্লাহ লিটন
“ঐদিন রায় ঘোষণার পর ঘর থেকে বের হন। তার স্নেহময়ী মা আকুল হয়ে বলেন, বাবারে বাইরে গন্ডগোল আর তুই বাইরে যাইচ্ছা। মায়ের উদ্দেশ্যে তার কথা ছিল, এই অন্যায়ে আই ঘরে বই থাকিতাম হাইত্তান্ন-বলে বাড়ি থেকে বের হন এবং কিছুক্ষণ পরই গুলিবিদ্ধ হন।”
১. শহীদের পরিচিতি শহীদ মো: শহিদুল্লাহ লিটন নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ থানার আলমপুর গ্রামে ১৯৭০ সালে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মোহাম্মদ উল্লাহ ও মাতা আনকুরি বেগমের সাত সন্তানের মধ্যে ১ম সন্তান। ৫ ভাই ও ২ বোনের সংসারে পিতার সাথে একমাত্র কর্মক্ষম সন্তান ছিলেন তিনি। দরিদ্র পিতা-মাতা কোন রকমে সন্তানদের বড় করে তোলেন। পারেননি পড়ালেখার ভাল কোন ব্যবস্থা করতে। যার ফলে শহিদুল্লাহ লিটন ছোট বেলাতেই রোজগারের জন্য মাছের ব্যবসা শুরু করেন। মাছ ব্যবসা করে যে আয় হতো তা দিয়েই তাদের পরিবার চলতো। তিনি ছিলেন নম্র, ভদ্র ও সৎ চরিত্রের অধিকারী। তাইতো তিনি অন্যায় ও অসত্য রায়ের বিরুদ্ধে চুপ করে বসে থাকতে পারেননি। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে স্লোগানরত অবস্থায়ই তিনি মহান রবের ডাকে পরপারে পাড়ি জমান।
২. যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ তারিখে মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায়ের প্রতিবাদে নোয়াখালীর রাজগঞ্জ বাজারে বাদ যোহর সাধারণ লোকজন রাস্তায় মিছিল বের করে। মিছিলের এক পর্যায়ে বাজার থেকে আনুমানিক দেড় কিলোমিটার দূরে অবস্থিত একটি হিন্দু বাড়িতে কিছু উচ্ছৃঙ্খল লোক হামলা করে। এমতাবস্থায় পুলিশ সকল সাধারণ জনগনের উপর নির্বিচারে গুলি চালালে মো: শহিদুল্লাহ লিটন মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই শহীদ হন। গুলি মাথার একপাশ দিয়ে ঢুকে অন্য পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। এরপর বিক্ষুব্ধ জনতা কয়েকটি হিন্দু বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। তার শাহাদাতের পর লাশ বাড়িতে নিয়ে আসলে রাত ১২ টার দিকে পুলিশ এসে ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী সদর হাসপাতালে লাশ নিয়ে যায়। ১ মার্চ ২০১৩ তারিখ দুপুর ১টার দিকে ময়নাতদন্তের পর লাশ ফেরত দেয়। সেদিনই বিকাল ৫টায় তার বাড়ির চত্বরে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। তার জানাযার নামাজে ইমামতি করেন মাওলানা হাকিম দরবেশ। জানাযার নামাজে প্রায় দুই হাজার লোক উপস্থিত ছিল।
৩. সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ তারিখে মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায়ের প্রতিবাদে নোয়াখালীর রাজগঞ্জ বাজারে সাধারণ লোকজন রাস্তায় মিছিল বের করে। মিছিলের এক পর্যায়ে বাজার থেকে আনুমানিক দেড় কিলোমিটার দূরে অবস্থিত একটি হিন্দু বাড়িতে কিছু লোক হামলা করে। এমতাবস্থায় পুলিশ জনগনের উপর নির্বিচারে গুলি চালালে মো: শহিদুল্লাহ লিটন মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই শহীদ হন। গুলি মাথার একপাশ দিয়ে ঢুকে অন্য পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। এরপর বিক্ষুব্ধ জনতা কয়েকটি হিন্দু বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আরো অনেকেই আহত হন। জাতীয় দৈনিক সমূহে এ সংক্রান্ত রিপোর্ট আসে।
দৈনিক আমার দেশ, ১ মার্চ, ২০১৩ তারিখ নিম্নোক্ত রিপোর্ট করে; নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জের রাজগঞ্জবাজারে বিকালে স্থানীয় জনতা ও জামায়াত-শিবির বিক্ষোভ মিছিল করে। পুলিশ মিছিলকারীদের ওপর দুই শতাধিক রাউন্ড গুলি বর্ষণ করে। গুলিতে বিএনপি সমর্থক ব্যবসায়ী লিটন (২৬) ও দুই শিবির কর্মীসহ ৩ জন মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ সময় বিক্ষুব্ধরা রাজগঞ্জবাজার সংলগ্ন একটি বসতবাড়ির ২টি ঘরে অগ্নিসংযোগ করে। সংঘর্ষ চলাকালে ৩০ থেকে ৪০ জন গুলিবিদ্ধসহ শতাধিক লোক আহতের খবর পাওয়া গেছে। একই সময় তথ্য সংগ্রহকালে সাংবাদিক মোহতাসিম বিল্লাহ বিক্ষোভকারীদের হামলায় গুরুতর আহত হন।
অপরদিকে সুবর্ণচর উপজেলার আটকোপালিয়াবাজারে সন্ধ্যায় জামায়াত-শিবির বিক্ষোভ করলে পুলিশের উপস্থিতিতে আওয়ামী লীগ কর্মীরা মিছিলের পেছন থেকে হামলা চালায়। এতে ১০ নেতাকর্মী আহত হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুরের পর জেলার বিভিন্ন স্থানে পুলিশ আওয়ামী লীগ কর্মী ও শিবিরকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। এতে পুরো জেলায় সর্বত্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এদিন হরতাল চলাকালে হাট-বাজার, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালতে উপস্থিতি ছিল কম। বিশেষ কাজ ছাড়া অধিকাংশ লোকজন আতঙ্কে ঘর থেকে বের হননি। অনেকের চোখে-মুখে ছিল আতঙ্ক ও ভয়-ভীতির চাপ।
এদিকে এ ঘটনায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও নোয়াখালী জেলা সভাপতি মো. শাহজাহান ও জেলা সাধারণ সম্পাদক নোয়াখালী পৌর মেয়র হারুনুর রশিদ আজাদ এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেন, জামায়াত-শিবিরের বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীরা নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে। এতে পথচারী খোকন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান এবং ৩০ থেকে ৪০ জন পথচারী ও সাধারণ জনগণ গুলিবিদ্ধ হন। এ সময় পুলিশের ছত্রছায়ায় আওয়ামী সন্ত্রাসীরা দস্তের হাটের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ও বিএনপি এবং জামায়াত সমর্থকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করে। এতে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায় এবং পুরো বাজার রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেখানে উত্তেজনা প্রশমিত করবে সেখানে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের উসকানিতে পরিস্থিতি আরও নাজুক করে তোলে। পুলিশ বাহিনীর ছত্রছায়ায় আওয়ামী সন্ত্রাসীরা এ তাণ্ডব চালায়। এতে সাধারণ জনগণের মাঝে ধারণা জাগবে দেশে প্রশাসন বলতে কিছুই নাই। পুলিশ প্রশাসনকে ভবিষ্যতে এ ধরনের আচরণ থেকে বিরত থাকতে তারা অনুরোধ জানান এবং সাধারণ জনগণের ওপর নির্যাতন ও হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
৪. মায়ের সাথে শেষ আলাপন শহিদুল্লাহ লিটন ছোট বেলাতেই রোজগারের জন্য মাছের ব্যবসা শুরু করেন। মাছ ব্যবসা করে যে আয় হতো তা দিয়েই তাদের বিশাল পরিবার চলতো। তিনি ছিলেন নম্র, ভদ্র ও সৎ চরিত্রের অধিকারী। তাই সাঈদী সাহেবের উপর অন্যায় ও অসত্য রায়ের বিরুদ্ধে চুপ করে বসে থাকতে পারেননি। ঐদিন রায় ঘোষণার পর ঘর থেকে বের হন। তার স্নেহময়ী মা আকুল হয়ে বলেন, ‘বাহিরে গন্ডগোল হচ্ছে যাসনে
বাছা।’ মায়ের উদ্দেশে তার কথা ছিল, ‘এই অন্যায় রায়ের পরও কি বসে থাকা যায়। বলে বাড়ি থেকে বের হন এবং কিছুক্ষণ পরই গুলিবিদ্ধ হন।
৫. ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: শহীদ মো: শহিদুল্লাহ লিটন। পেশা: মাছ ব্যবসায়ী।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ১৯৭০ ইং ৪৩ বছর বয়স। আহত হওয়ার তারিখ: ২৮ ফেব্রুয়ারি’১৩, মাথার পিছন দিকে সরাসরি গুলি লাগে।
শাহাদাতের তারিখ: ২৮ ফেব্রুয়ারি’১৩, বেলা ২টা। স্থান: রাজগঞ্জ বাজার। দাফন করা হয়: নিজ পারিবারিক কবরস্থান।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: আলমপুর, ডাকঘর: রাজগঞ্জ, থানা: বেগমগঞ্জ, জেলা: নোয়াখালী।
পিতা: মোহাম্মদ উল্লাহ, ৬৫ বছর, দিনমজুর।
মাতা: আনকুরি বেগম, ৫৭ বছর, গৃহিণী।
বাড়ি-ঘর ও সম্পদের অবস্থা: নিজ জমির উপর টিনের তৈরি ছোট একটি বাড়ি। নিজের কোন আবাদি জমি নেই। দিনমজুরি করে সংসার চলে।
স্ত্রী ও সন্তানদের বিবরণ: স্ত্রী: শেফালী বেগম, ২৭ বছর, গৃহিণী। সন্তান যথাক্রমে: মো: শাহাদৎ হোসেন, ১১ বছর, ৪র্থ শ্রেণী। মো: সাজ্জাদ হোসেন, ৯ বছর, ৩য় শ্রেণী। মাহমুদা আক্তার মীম, ৬ বছর।
ভাই-বোনের বিবরণ: ৫ ভাই ২ বোন।
“ঐদিন রায় ঘোষণার পর ঘর থেকে বের হন। তার স্নেহময়ী মা আকুল হয়ে বলেন, বাবারে বাইরে গন্ডগোল আর তুই বাইরে যাইচ্ছা। মায়ের উদ্দেশ্যে তার কথা ছিল, এই অন্যায়ে আই ঘরে বই থাকিতাম হাইত্তান্ন-বলে বাড়ি থেকে বের হন এবং কিছুক্ষণ পরই গুলিবিদ্ধ হন।”
১. শহীদের পরিচিতি শহীদ মো: শহিদুল্লাহ লিটন নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ থানার আলমপুর গ্রামে ১৯৭০ সালে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মোহাম্মদ উল্লাহ ও মাতা আনকুরি বেগমের সাত সন্তানের মধ্যে ১ম সন্তান। ৫ ভাই ও ২ বোনের সংসারে পিতার সাথে একমাত্র কর্মক্ষম সন্তান ছিলেন তিনি। দরিদ্র পিতা-মাতা কোন রকমে সন্তানদের বড় করে তোলেন। পারেননি পড়ালেখার ভাল কোন ব্যবস্থা করতে। যার ফলে শহিদুল্লাহ লিটন ছোট বেলাতেই রোজগারের জন্য মাছের ব্যবসা শুরু করেন। মাছ ব্যবসা করে যে আয় হতো তা দিয়েই তাদের পরিবার চলতো। তিনি ছিলেন নম্র, ভদ্র ও সৎ চরিত্রের অধিকারী। তাইতো তিনি অন্যায় ও অসত্য রায়ের বিরুদ্ধে চুপ করে বসে থাকতে পারেননি। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে স্লোগানরত অবস্থায়ই তিনি মহান রবের ডাকে পরপারে পাড়ি জমান।
২. যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ তারিখে মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায়ের প্রতিবাদে নোয়াখালীর রাজগঞ্জ বাজারে বাদ যোহর সাধারণ লোকজন রাস্তায় মিছিল বের করে। মিছিলের এক পর্যায়ে বাজার থেকে আনুমানিক দেড় কিলোমিটার দূরে অবস্থিত একটি হিন্দু বাড়িতে কিছু উচ্ছৃঙ্খল লোক হামলা করে। এমতাবস্থায় পুলিশ সকল সাধারণ জনগনের উপর নির্বিচারে গুলি চালালে মো: শহিদুল্লাহ লিটন মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই শহীদ হন। গুলি মাথার একপাশ দিয়ে ঢুকে অন্য পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। এরপর বিক্ষুব্ধ জনতা কয়েকটি হিন্দু বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। তার শাহাদাতের পর লাশ বাড়িতে নিয়ে আসলে রাত ১২ টার দিকে পুলিশ এসে ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী সদর হাসপাতালে লাশ নিয়ে যায়। ১ মার্চ ২০১৩ তারিখ দুপুর ১টার দিকে ময়নাতদন্তের পর লাশ ফেরত দেয়। সেদিনই বিকাল ৫টায় তার বাড়ির চত্বরে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। তার জানাযার নামাজে ইমামতি করেন মাওলানা হাকিম দরবেশ। জানাযার নামাজে প্রায় দুই হাজার লোক উপস্থিত ছিল।
৩. সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ তারিখে মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায়ের প্রতিবাদে নোয়াখালীর রাজগঞ্জ বাজারে সাধারণ লোকজন রাস্তায় মিছিল বের করে। মিছিলের এক পর্যায়ে বাজার থেকে আনুমানিক দেড় কিলোমিটার দূরে অবস্থিত একটি হিন্দু বাড়িতে কিছু লোক হামলা করে। এমতাবস্থায় পুলিশ জনগনের উপর নির্বিচারে গুলি চালালে মো: শহিদুল্লাহ লিটন মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই শহীদ হন। গুলি মাথার একপাশ দিয়ে ঢুকে অন্য পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। এরপর বিক্ষুব্ধ জনতা কয়েকটি হিন্দু বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আরো অনেকেই আহত হন। জাতীয় দৈনিক সমূহে এ সংক্রান্ত রিপোর্ট আসে।
দৈনিক আমার দেশ, ১ মার্চ, ২০১৩ তারিখ নিম্নোক্ত রিপোর্ট করে; নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জের রাজগঞ্জবাজারে বিকালে স্থানীয় জনতা ও জামায়াত-শিবির বিক্ষোভ মিছিল করে। পুলিশ মিছিলকারীদের ওপর দুই শতাধিক রাউন্ড গুলি বর্ষণ করে। গুলিতে বিএনপি সমর্থক ব্যবসায়ী লিটন (২৬) ও দুই শিবির কর্মীসহ ৩ জন মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ সময় বিক্ষুব্ধরা রাজগঞ্জবাজার সংলগ্ন একটি বসতবাড়ির ২টি ঘরে অগ্নিসংযোগ করে। সংঘর্ষ চলাকালে ৩০ থেকে ৪০ জন গুলিবিদ্ধসহ শতাধিক লোক আহতের খবর পাওয়া গেছে। একই সময় তথ্য সংগ্রহকালে সাংবাদিক মোহতাসিম বিল্লাহ বিক্ষোভকারীদের হামলায় গুরুতর আহত হন।
অপরদিকে সুবর্ণচর উপজেলার আটকোপালিয়াবাজারে সন্ধ্যায় জামায়াত-শিবির বিক্ষোভ করলে পুলিশের উপস্থিতিতে আওয়ামী লীগ কর্মীরা মিছিলের পেছন থেকে হামলা চালায়। এতে ১০ নেতাকর্মী আহত হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুরের পর জেলার বিভিন্ন স্থানে পুলিশ আওয়ামী লীগ কর্মী ও শিবিরকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। এতে পুরো জেলায় সর্বত্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এদিন হরতাল চলাকালে হাট-বাজার, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালতে উপস্থিতি ছিল কম। বিশেষ কাজ ছাড়া অধিকাংশ লোকজন আতঙ্কে ঘর থেকে বের হননি। অনেকের চোখে-মুখে ছিল আতঙ্ক ও ভয়-ভীতির চাপ।
এদিকে এ ঘটনায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও নোয়াখালী জেলা সভাপতি মো. শাহজাহান ও জেলা সাধারণ সম্পাদক নোয়াখালী পৌর মেয়র হারুনুর রশিদ আজাদ এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেন, জামায়াত-শিবিরের বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীরা নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে। এতে পথচারী খোকন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান এবং ৩০ থেকে ৪০ জন পথচারী ও সাধারণ জনগণ গুলিবিদ্ধ হন। এ সময় পুলিশের ছত্রছায়ায় আওয়ামী সন্ত্রাসীরা দস্তের হাটের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ও বিএনপি এবং জামায়াত সমর্থকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করে। এতে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায় এবং পুরো বাজার রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেখানে উত্তেজনা প্রশমিত করবে সেখানে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের উসকানিতে পরিস্থিতি আরও নাজুক করে তোলে। পুলিশ বাহিনীর ছত্রছায়ায় আওয়ামী সন্ত্রাসীরা এ তাণ্ডব চালায়। এতে সাধারণ জনগণের মাঝে ধারণা জাগবে দেশে প্রশাসন বলতে কিছুই নাই। পুলিশ প্রশাসনকে ভবিষ্যতে এ ধরনের আচরণ থেকে বিরত থাকতে তারা অনুরোধ জানান এবং সাধারণ জনগণের ওপর নির্যাতন ও হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
৪. মায়ের সাথে শেষ আলাপন শহিদুল্লাহ লিটন ছোট বেলাতেই রোজগারের জন্য মাছের ব্যবসা শুরু করেন। মাছ ব্যবসা করে যে আয় হতো তা দিয়েই তাদের বিশাল পরিবার চলতো। তিনি ছিলেন নম্র, ভদ্র ও সৎ চরিত্রের অধিকারী। তাই সাঈদী সাহেবের উপর অন্যায় ও অসত্য রায়ের বিরুদ্ধে চুপ করে বসে থাকতে পারেননি। ঐদিন রায় ঘোষণার পর ঘর থেকে বের হন। তার স্নেহময়ী মা আকুল হয়ে বলেন, ‘বাহিরে গন্ডগোল হচ্ছে যাসনে
বাছা।’ মায়ের উদ্দেশে তার কথা ছিল, ‘এই অন্যায় রায়ের পরও কি বসে থাকা যায়। বলে বাড়ি থেকে বের হন এবং কিছুক্ষণ পরই গুলিবিদ্ধ হন।
৫. ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: শহীদ মো: শহিদুল্লাহ লিটন। পেশা: মাছ ব্যবসায়ী।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ১৯৭০ ইং ৪৩ বছর বয়স। আহত হওয়ার তারিখ: ২৮ ফেব্রুয়ারি’১৩, মাথার পিছন দিকে সরাসরি গুলি লাগে।
শাহাদাতের তারিখ: ২৮ ফেব্রুয়ারি’১৩, বেলা ২টা। স্থান: রাজগঞ্জ বাজার। দাফন করা হয়: নিজ পারিবারিক কবরস্থান।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: আলমপুর, ডাকঘর: রাজগঞ্জ, থানা: বেগমগঞ্জ, জেলা: নোয়াখালী।
পিতা: মোহাম্মদ উল্লাহ, ৬৫ বছর, দিনমজুর।
মাতা: আনকুরি বেগম, ৫৭ বছর, গৃহিণী।
বাড়ি-ঘর ও সম্পদের অবস্থা: নিজ জমির উপর টিনের তৈরি ছোট একটি বাড়ি। নিজের কোন আবাদি জমি নেই। দিনমজুরি করে সংসার চলে।
স্ত্রী ও সন্তানদের বিবরণ: স্ত্রী: শেফালী বেগম, ২৭ বছর, গৃহিণী। সন্তান যথাক্রমে: মো: শাহাদৎ হোসেন, ১১ বছর, ৪র্থ শ্রেণী। মো: সাজ্জাদ হোসেন, ৯ বছর, ৩য় শ্রেণী। মাহমুদা আক্তার মীম, ৬ বছর।
ভাই-বোনের বিবরণ: ৫ ভাই ২ বোন।