হোম / আওয়ামী দুঃশাসনে শহীদ / শহীদ মোহাম্মদ খোকন
শহীদ মোহাম্মদ খোকন

শহীদ মোহাম্মদ খোকন

আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

শহীদের বাবা বলেন, আমি সন্তান হারিয়ে মর্মাহত। আমরা খেটে খাওয়া মানুষ। দিন আনি দিন খাই। আমার ছেলে কোন রাজনীতি করেনি। মুসলমান হিসেবে সে ইসলামকে ভালবাসে সেটা কি তার অপরাধ? পুলিশ কেন আমার ছেলেকে হত্যা করল? কার কাছে বিচার চাইবো? আমি আশা করছি আল্লাহ তায়ালা এসব খুনিদের বিচার করবেন।

🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ


শহীদ মোহাম্মদ খোকন

“শহীদের বাবা বলেন, আমি সন্তান হারিয়ে মর্মাহত। আমরা খেটে খাওয়া মানুষ। দিন আনি দিন খাই। আমার ছেলে কোন রাজনীতি করেনি। মুসলমান হিসেবে সে ইসলামকে ভালবাসে সেটা কি তার অপরাধ? পুলিশ কেন আমার ছেলেকে হত্যা করল? কার কাছে বিচার চাইবো? আমি আশা করছি আল্লাহ তায়ালা এসব খুনিদের বিচার করবেন।”

১. শহীদের পরিচিতি শহীদ মোহাম্মদ খোকন নোয়াখালী সদরের পশ্চিম শাহাপুর গ্রামে ১৯৯৭ সালে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মো: মজিবুল হক ও মাতা আমেনা খাতুনের পাঁচ সন্তানের মধ্যে ৩য় সন্তান ছিলেন তিনি। শহীদ খোকন ৪ ভাই ও ১ বোনের সংসারে পিতা-মাতার একমাত্র কর্মক্ষম সন্তান ছিলেন। দরিদ্র পিতা-মাতা কোন রকমে সন্তানদের বড় করে তোলেন। তিনি ছোটবেলা থেকেই রোজগারের জন্য ট্রাকের হেলপারি করেন। তিনি ট্রাকের হেলপারি করে যে আয় করতেন তা দিয়ে তার ছোট ভাই-বোন ও বাবা-মায়ের খাবারের ব্যবস্থা করতেন। প্রতিদিনের ন্যায় সেদিনও তিনি ট্রাকের ডিউটি করে সকালে এসে ঘুমিয়ে পড়েন। অল্প কিছুক্ষণ পর তিনি ঘুম থেকে উঠে দত্তহাট বাজারের দিকে যান। মাওলানা সাঈদীর রায়ের পর বিক্ষুব্ধ জনতা মিছিল শুরু করলে তিনিও মিছিলে অংশগ্রহণ করেন।

২. যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ তারিখে মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায়ের প্রতিবাদে নোয়াখালীর দত্তহাট বাজারে বাদ যোহর সাধারণ লোকজন রাস্তায় মিছিল বের করে। মিছিল শুরুর সাথে সাথে পুলিশ নির্বিচারে গুলি করলে তিনি তলপেটে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই শহীদ হন। সেখান থেকে শহীদের লাশ পরবর্তীতে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। তারপর রাত ১০টার দিকে পুলিশ এসে ময়না তদন্তের জন্য লাশ নিয়ে যায়। ১ মার্চ ২০১৩ তারিখ দুপুর ১২টার দিকে ময়নাতদন্তের পর লাশ ফেরত দেয় পুলিশ। ঐ দিনই বিকাল ৫ টায় দত্তহাট মাদ্রাসা ময়দানে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। তার জানাযার নামাজে ইমামতি করেন মাওলানা মুফতি সাইফুদ্দীন সাহেব। জানাযায় প্রায় ৬ হাজার লোক উপস্থিত ছিলেন।

৩. সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ তারিখে মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায়ের প্রতিবাদে নোয়াখালীর দত্তহাট বাজারে সাধারণ লোকজন রাস্তায় নেমে পড়ে। দুপুরের পর পর দস্তের হাটের জেলে পাড়া মেইন রাস্তায়



হাজার হাজার নারী-পুরুষ, ছেলে-মেয়ে নেমে আসে এবং প্রতিবাদ করতে থাকে। দীর্ঘ সময় পর্যন্ত স্বত:স্ফূর্ত ভাবে এ প্রতিবাদ চলতে থাকে। এ সময় পুলিশ অতর্কিত হামলা করে জনতার উপর, নির্বিচারে গুলি করতে থাকে। শহীদ খোকন মিয়া রাস্তায় তলপেটে গুলিবিদ্ধ হন এবং ঘটনাস্থলেই শহীদ হন। গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন আরো ২০-২৫ জন। জাতীয় দৈনিক ও সাপ্তাহিক সমূহে এ বিষয়ে বিস্তর নিউজ আসে যার কিঞ্চিৎ এখানে দেওয়া হলো।

দৈনিক সংগ্রাম, ১ মার্চ, ২০১৩ রিপোর্ট করে। নোয়াখালী সংবাদদাতা: মানবতাবিরোধী অপরাধে আটক মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক দুপুরে রায় দেয়ার পর ছাত্রশিবির ও সাঈদীভক্তরা এর প্রতিবাদে মিছিল বের করলে দস্তেরহাট ও রাজগঞ্জের সংঘর্ষে শতাধিক আহত ও ১ জন নিহত হন।

দুপুরে যখন সাঈদীর রায় ঘোষণা করা হয় তার পর পরই নোয়াখালী শহর ছাত্রশিবির এর প্রতিবাদে একটি মিছিল নিয়ে পৌরবাজার এলে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করে দিলে শিবির মিছিলটি নিয়ে দস্তেরহাট গেলে সাঈদীভক্ত সাধারণ জনগণ শিবিরের সাথে মিছিলে যোগ দিয়ে সাঈদীর রায়ের প্রতিবাদ জানায়। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা নোয়াখালী আল-আমিন বাস সার্ভিসের ১টি বাসে অগ্নিসংযোগ করে। পরে পুলিশ শিবির-সাঈদীভক্তদের ছত্রভঙ্গ করার জন্য গুলি বর্ষণ করলে সেখানে অনেকে আহত হয়। খোকন (১৭) নামের ১ জন সাঈদীভক্তকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় নোয়াখালী সদর হাসপাতালে নিলে দায়িত্বরত ডাক্তার তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

দৈনিক আমার দেশ, ১ মার্চ, ২০১৩ রিপোর্ট করে। নোয়াখালীতে নিহত ৪: নোয়াখালী জেলা শহর মাইজদী দস্তেরহাট, বেগমগঞ্জ উপজেলার রাজগঞ্জ বাজারসহ বেশ কয়েকটি স্থানে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালায়। এ সময় ৩ শতাধিক রাউন্ড গুলিবর্ষণ করা হয় বলে খবর পাওয়া গেছে। গুলিতে পথচারী পিকআপ চালক খোকন (২৪) মারা যায়। ৩০ থেকে প্রায় ৩৫ জন গুলিবিদ্ধসহ শতাধিক লোক আহতের খবর পাওয়া গেছে। এ সময় জেলা শহর মাইজদী থেকে উত্তর সোনাপুর পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। জেলা ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক সাবের আহমেদ দাবি করেন, সংঘর্ষ চলাকালে দস্তেরহাট ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত কয়েকটি বাড়িতে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ কর্মীরা হামলা-ভাঙচুর ও গুলি বর্ষণ করে। এতে নোয়াখালী পৌর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় বিক্ষুব্ধরা কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করে।

৪. শহীদের আপনজনদের কথা শহীদের বাবার কথা: শহীদের বাবা বলেন, আমি সন্তান হারিয়ে মর্মাহত। আমরা খেটে খাওয়া মানুষ। দিন আনি দিন খাই। আমার ছেলে কোন রাজনীতি করেনি। মুসলমান হিসেবে সে ইসলামকে ভালবাসে সেটা কি তার অপরাধ? পুলিশ কেন আমার ছেলেকে হত্যা করল? কার কাছে বিচার চাইবো? আমি আশা করছি আল্লাহ তায়ালা এসব খুনিদের বিচার করবেন।

৫. ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: শহীদ মোহাম্মদ খোকন। পেশা: ট্রাকের হেলপার।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ১৯৯৭ ইং, ১৬ বছর। আহত হওয়ার তারিখ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ’১৩, তলপেটে ও পিছনে গুলিবিদ্ধ।

শাহাদাতের তারিখ: ২৮ ফেব্রুয়ারি’১৩, বেলা ২টা। স্থান: দস্তেরহাট বাজার। দাফন করা হয়: পারিবারিক কবরস্থান।

স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: পশ্চিম শাহাপুর, ডাকঘর: মাইজদি কোর্ট, থানা: সদর, জেলা: নোয়াখালী।
পিতা: মো: মজিবুল হক, ৫০ বছর, ট্রাকের হেলপার।
মাতা: আমেনা খাতুন, ৪৫ বছর, গৃহিণী।
বাড়ি-ঘর ও সম্পদের অবস্থা: ২ শতক জমির উপর টিনের তৈরি ছোট ঝুপড়ি ঘর। এতে তারা পরিবারের সবাই মিলে বসবাস করেন। নিজের কোন আবাদি জমি নেই। ছেলের চায়ের দোকানের আয়ে কোনরকমে সংসার চলছে।

ভাই-বোনের বিবরণ: স্বপন, ফুটপাথে পানের দোকান। পারভীন, বিবাহিতা। মো: খোকন, শহীদ। সোহাগ, এইচ.এস.সি পরীক্ষার্থী, বেসরকারি সায়েন্স এন্ড কমার্স কলেজ নোয়াখালী। সোয়ান, ৪র্থ শ্রেণী।

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍