হোম / আওয়ামী দুঃশাসনে শহীদ / শহীদ মোঃ নূর উদ্দিন
শহীদ মোঃ নূর উদ্দিন

শহীদ মোঃ নূর উদ্দিন

আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

শহীদের বড় ভাই বলেন, আমরা পড়ালেখা করতে পারিনি। কাজ করে খাই। মুসলমান হিসেবে যতটুকু পারি ইবাদত বন্দেগি করি। কিন্তু সরকার আলেম-ওলামাদের ফাঁসি দিবে আর আমরা সহজে মেনে নিবো, তা পারি না। এজন্য আমার ভাই মিছিলে গেছেন এবং শহীদ হয়েছেন। ...শহীদের মা বলেন, আমার স্বামী মানসিক রোগী। আমার সন্তানেরা পরিবারের দেখাশোনা করে। আমার ছেলে কোন অন্যায় করেনি। কিন্তু কেন পুলিশ তাকে মেরে ফেলল? আল্লাহ এদের বিচার করবেন।

🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ


“শহীদের বড় ভাই বলেন, আমরা পড়ালেখা করতে পারিনি। কাজ করে খাই। মুসলমান হিসেবে যতটুকু পারি ইবাদত বন্দেগি করি। কিন্তু সরকার আলেম-ওলামাদের ফাঁসি দিবে আর আমরা সহজে মেনে নিবো, তা পারি না। এজন্য আমার ভাই মিছিলে গেছেন এবং শহীদ হয়েছেন। ...শহীদের মা বলেন, আমার স্বামী মানসিক রোগী। আমার সন্তানেরা পরিবারের দেখাশোনা করে। আমার ছেলে কোন অন্যায় করেনি। কিন্তু কেন পুলিশ তাকে মেরে ফেলল? আল্লাহ এদের বিচার করবেন।”
১. শহীদের পরিচিতি শহীদ মোঃ নূর উদ্দিন নোয়াখালী সদরের রামহরি তালুক গ্রামে ১৯৯৭ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন পিতা মো: নুরুল আমিন ও মাতা ছকিনা বেগমের ছয় সন্তানের মধ্যে ৪র্থ সন্তান। ৪ ভাই ও ২ বোনের সংসারে দরিদ্র পিতা-মাতা কোন রকমে সন্তানের লালন পালনে ব্যস্ত ছিলেন। পারেননি কোন পড়ালেখার ভাল ব্যবস্থা করতে। তার পিতা দীর্ঘদিন থেকে মানসিক রোগী। যার ফলে শহীদ নূর উদ্দিন সাবালক হওয়ার পর পরই তাকে তার বড় ভাই পরিবারের প্রয়োজনে অন্যের বাড়িতে গরু দেখাশুনার কাজে রাখেন মাত্র ১০০০ টাকা মাসিক মজুরির বিনিময়ে। তিনি অন্যের বাড়িতে কাজ করলেও নিয়মিত নামাজ আদায় করতেন। বিভিন্ন ইসলামী জলসায় যেতেন। তিনি নিয়মিত যে মজুরি পেতেন তা তার বড় ভাইয়ের হাতে সম্পূর্ণ দিয়ে দিতেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত নম্র, ভদ্র, বিনয়ী ও সৎ চরিত্রের অধিকারী।
২. যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ তারিখে মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায়ের প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ জনতা রামগঞ্জ বাজারে প্রতিবাদ মিছিল বের করে। শহীদ মো: নূর উদ্দিন ঐদিন বিকাল ৩টার দিকে বাড়িওলার গাভীর দুধ বিক্রির জন্য বাজারে আসেন। বাজারে মিছিল শুরু হলে তিনিও জনতার সাথে মিছিলে অংশগ্রহণ করেন। মিছিলে পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালালে তিনি পাঁজরে ও হাতে গুলিবিদ্ধ হন। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর স্থানীয় লোকজন তাকে প্রথমে সদর হাসপাতালে ভর্তি করে তারপর সেখান থেকে মাদারল্যান্ড হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। ১ মার্চ ২০১৩ তারিখে আনুমানিক সকাল ৮টার দিকে তিনি মহান রবের ডাকে সাড়া দিয়ে শহীদ হিসেবে আল্লাহর দরবারে চলে যান। ১ মার্চ, ২০১৩ বাদ যোহর স্থানীয় তার বাড়ি সংলগ্ন মসজিদে জানাযা হয়। জানাযার নামাজে ইমামতি করেন মাওলানা আব্দুল হালিম। এতে প্রায় ৮ হাজার লোক উপস্থিত ছিলেন।


৩. সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ তারিখে মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায়ের প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ জনতা রামগঞ্জ বাজারে প্রতিবাদ মিছিল বের করে। শহীদ মো: নূর উদ্দিন ঐদিন বিকাল ৩টার দিকে বাড়িওলার গাভীর দুধ বিক্রির জন্য বাজারে আসেন। বাজারে মিছিল শুরু হলে তিনিও জনতার সাথে মিছিলে অংশগ্রহণ করেন। মিছিলে পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালালে তিনি পাঁজরে ও হাতে গুলিবিদ্ধ হন। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর স্থানীয় লোকজন তাকে প্রথমে সদর হাসপাতালে ভর্তি করে তারপর সেখান থেকে মাদারল্যান্ড হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। ১ মার্চ ২০১৩ তারিখে আনুমানিক সকাল ৮টার দিকে তিনি মহান রবের ডাকে সাড়া দিয়ে শহীদ হিসেবে আল্লাহর দরবারে চলে যান। এ ঘটনায় পুলিশের গুলিতে আরো অনেকেই আহত হন।
৪. শহীদের আপনজনদের কথা শহীদের বড় ভাইয়ের কথা: শহীদের বড় ভাই বলেন, আমরা পড়ালেখা করতে পারিনি। কাজ করে খাই। মুসলমান হিসেবে যতটুকু পারি ইবাদত বন্দেগি করি। কিন্তু সরকার আলেম-ওলামাদের ফাঁসি দিবে আর আমরা সহজে মেনে নিবো, তা পারি না। এজন্য আমার ভাই মিছিলে গেছেন এবং শহীদ হয়েছেন। আমরা সবাই তার জন্য দোয়া করি আল্লাহ যেন তাকে মাফ করে দেন এবং তার রক্তের বিনিময়ে আলেম-ওলামাদের মুক্তির ব্যবস্থা করে দেন।
শহীদের মায়ের কথা: শহীদের মা বলেন, আমার স্বামী মানসিক রোগী। আমার সন্তানেরা পরিবারের দেখাশোনা করে। আমার ছেলে কোন অন্যায় করেনি। কিন্তু কেন পুলিশ তাকে মেরে ফেলল? আল্লাহ এদের বিচার করবেন।
৫. ব্যক্তিগত প্রোফাইল
• নাম: শহীদ মোঃ নূর উদ্দিন। পেশা: দিনমজুরি।
• জন্ম তারিখ ও বয়স: ১৪ ডিসেম্বর ১৯৯৭, ১৬ বছর। আহত হওয়ার তারিখ: ২৮ ফেব্রুয়ারি’১৩, পাঁজরে ও হাতে গুলিবিদ্ধ।
• শাহাদাতের তারিখ: ০১ মার্চ’১৩ সকাল ৮টা। স্থান: মাদারল্যান্ড হাসপাতাল। দাফন করা হয়: পারিবারিক কবরস্থান।
• স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: রামহরি তালুক, ডাকঘর: ৯নং কালাদরাপ ইউপি, থানা: সদর, জেলা: নোয়াখালী।
• পিতা: মো: নুরুল আমিন, ৬০ বছর, মানসিক রোগী।
• মাতা: ছকিনা বেগম, ৫০ বছর, গৃহিণী।
• বাড়ি-ঘর ও সম্পদের অবস্থা: বাঁশ ও টিন দিয়ে তৈরি ছোট ঘর। ৬০ শতকের মত আবাদি জমি আছে। বর্তমানে তার বড় ভাইয়ের কৃষি কাজ ও মজুরির পয়সায় সংসার চলে।
• ভাই-বোনের বিবরণ: স্বপন মিয়া, ৩২ বছর, বর্গাচার্যি। সুমি আক্তার, বিবাহিতা। নূর মোহাম্মদ, চাষাবাদ। শহীদ মো: নূর উদ্দিন, শহীদ। রিনা আক্তার, ৭ম শ্রেণী। ইমরান, ৪র্থ শ্রেণী।

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍