হোম / আওয়ামী দুঃশাসনে শহীদ / শহীদ মো: কোরবান আলীর
শহীদ মো: কোরবান আলীর

শহীদ মো: কোরবান আলীর

আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি একটি আদালতের রায়কে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। ১ মার্চ জুমার নামাজের পর কোরবান আলী যখন সমবয়সী ভাগ্নে সাদ্দাম হোসেনকে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন, তখন সোনাইমুড়ীর বজরা এলাকায় র‍্যাব ও পুলিশ সদস্যরা অতর্কিত গুলিবর্ষণ শুরু করে।

🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ

শহীদ মো: কোরবান আলীর

১. পরিচিতি
শহীদ মো: কোরবান আলী ১৯৯৬ সালে নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ী উপজেলার মাটুবী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পিতা মো: লোকমান হোসেন এবং মাতা খাইরি বেগমের সাত সন্তানের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ। পরিবারের ছোট ছেলে হওয়ায় তিনি সবার অত্যন্ত আদরের ছিলেন। বড় দুই ভাই সৌদি আরব প্রবাসী হওয়ায় বাড়ির যাবতীয় দেখাশোনা তিনিই করতেন।

পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে না পারলেও, তিনি নিজ দক্ষতায় ইলেকট্রিক মিস্ত্রির কাজ শেখেন এবং উন্নত ভবিষ্যতের আশায় বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তিনি ছিলেন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজি এবং অত্যন্ত বিনয়ী স্বভাবের। হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে এলাকার সকল মানুষের কাছে তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন।

২. শাহাদাতের ঘটনা (১ মার্চ, ২০১৩)
২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি একটি আদালতের রায়কে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। ১ মার্চ জুমার নামাজের পর কোরবান আলী যখন সমবয়সী ভাগ্নে সাদ্দাম হোসেনকে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন, তখন সোনাইমুড়ীর বজরা এলাকায় র‍্যাব ও পুলিশ সদস্যরা অতর্কিত গুলিবর্ষণ শুরু করে।

কোনো উস্কানি বা পিকেটিং ছাড়াই নিরীহ পথচারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। একটি গুলি কোরবান আলীর মাথার ডান পাশে বিদ্ধ হয় এবং তিনি ঘটনাস্থলেই শাহাদাত বরণ করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, তার নিথর দেহকে অত্যন্ত অমানবিক অবস্থায় টেনে-হিঁচড়ে পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।

৩. দাফন ও শেষ বিদায়
ঘটনার পর দীর্ঘ সময় টালবাহানা করে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়। অবশেষে ৩ মার্চ ২০১৩ তারিখে নবাবগঞ্জ মসজিদের পেছনে জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে প্রায় ৫ হাজার মানুষ তার জানাজায় অংশগ্রহণ করেন।

৪. ব্যক্তিগত প্রোফাইল (একনজরে)
নাম: মো: কোরবান আলী

পিতা: মো: লোকমান হোসেন (বয়স: ৬৫, পেশা: পান দোকানদার)
মাতা: খাইরি বেগম (বয়স: ৬০, পেশা: গৃহিণী)
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: মাটুবী, ডাকঘর: বজরা, থানা: সোনাইমুড়ী, জেলা: নোয়াখালী।
পেশা: বৈদ্যুতিক মিস্ত্রি
জন্ম তারিখ ও বয়স: ১৯৯৬ ইং; শাহাদাতকালে বয়স ছিল ১৭ বছর।
শাহাদাতের তারিখ ও সময়: ১ মার্চ ২০১৩, দুপুর ২টা।
আঘাতের স্থান: মাথার ডান পাশে গুলিবিদ্ধ।
সম্পদের অবস্থা: একটি পাকা বাড়ি এবং সামান্য কিছু আবাদি জমি। বর্তমানে প্রবাসী ছেলেদের আয়ে পরিবার চলে।

ভাই-বোনের বিবরণ: ২ ভাই (মো: তছলিম ও আব্দুর রহিম - উভয়ই প্রবাসী) এবং ৪ বোন (নুর জাহান, হীরামণি, কাঞ্চন বেগম ও কুলসুম)।

৫. স্বজনদের স্মৃতিচারণ
পিতার আক্ষেপ: "আমার ছেলে কোনো অপরাধ করেনি। সে মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে ফিরছিল। তারা কেন আমার ছেলেকে গুলি করে মারল? উল্টো আমার ছেলের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদের হয়রানি করা হয়েছে। আমি এই দুনিয়ায় বিচার না পেলেও পরকালে আল্লাহর কাছে বিচার পাব।"

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍