হোম / আওয়ামী দুঃশাসনে শহীদ / শহীদ মাহমুদুল হোসাইন
শহীদ মাহমুদুল হোসাইন

শহীদ মাহমুদুল হোসাইন

আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

নোয়াখালী জেলার, চাটখিল পৌরসভায় ৬নং ওয়ার্ডের ঐতিহ্যবাহী জমাদার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন শহীদ মাহমুদুল হোসাইন। তাঁর পিতার নাম খোরশেদ আলম, মায়ের নাম ফাতেমা বেগম। তিনি প্রথম শ্রেণী থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত চাটখিল তালিমুল কোরআন মাদরাসায় অধ্যয়ন করেন। আরও মানসম্মত শিক্ষা লাভের জন্য পিতা মাতা তাকে ভর্তি করিয়ে দেন নোয়াখালী জেলার ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান আল মাদরাসাতুদ দ্বীনিয়ায়। এ প্রতিষ্ঠান থেকে জিপিএ ৫ পেয়ে দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন তিনি। শহীদ হবার সময় তিনি ছিলেন একই প্রতিষ্ঠানের আলিম দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। দুই ভাই দুই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়।

🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ

শহীদ হওয়ার পূর্বে হাসপাতালের বেডে শুয়ে নিজের অনুভূতি লিখেছিলেন শহীদ মাহমুদুল হোসাইন ‘সবুজ এই ভূখণ্ডে দ্বীন কায়েমের যে বীজ রোপিত হয়েছে, তা একদিন একটি সম্পূর্ণ বৃক্ষে পরিণত হবে। আর এই ঝরা পাতাগুলো একেকজন শহীদ। কিন্তু পাতাগুলো থাকবে তাজা। কেননা শহীদরা মরে না কখনো, বেঁচে থাকে আল্লাহর কুদরতে।’

জন্ম : ৬ জুন ১৯৮৭, শাহাদাতবরণ : ২০ নভেম্বর ২০১৩

শহীদের পরিচিতি
নোয়াখালী জেলার, চাটখিল পৌরসভায় ৬নং ওয়ার্ডের ঐতিহ্যবাহী জমাদার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন শহীদ মাহমুদুল হোসাইন। তাঁর পিতার নাম খোরশেদ আলম, মায়ের নাম ফাতেমা বেগম। তিনি প্রথম শ্রেণী থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত চাটখিল তালিমুল কোরআন মাদরাসায় অধ্যয়ন করেন। আরও মানসম্মত শিক্ষা লাভের জন্য পিতা মাতা তাকে ভর্তি করিয়ে দেন নোয়াখালী জেলার ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান আল মাদরাসাতুদ দ্বীনিয়ায়। এ প্রতিষ্ঠান থেকে জিপিএ ৫ পেয়ে দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন তিনি। শহীদ হবার সময় তিনি ছিলেন একই প্রতিষ্ঠানের আলিম দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। দুই ভাই দুই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়।

যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে যান
২০১৩ সালের ২৮ অক্টোবর ১৮ দলীয় জোটের টানা ৬০ ঘণ্টার হরতাল চলছিল। জামায়াত-শিবিরের নেতৃত্বে হরতালের শেষ দিন বেলা ১১ টায় চাটখিল বাজারে মিছিল শুরু হয়। কয়েক মিনিট মিছিল এগিয়ে চলার পরপরই পুলিশ ও ছাত্রলীগ হামলা চালায় মিছিলে। ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের গুলি এসে লাগে শহীদ মাহমুদুল হোসাইনের বুকে। গুলিটি তাঁর বুক ছিদ্র করে পিঠ দিয়ে বের হয়ে যায়। ফিনকি দিয়ে ঝরণাধারার মতো রক্ত বের হতে থাকে তাঁর শরীর থেকে। রক্তরঞ্জিত হয় চাটখিলের রাজপথ। শহীদের সঙ্গীরা দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। চাটখিল হাসপাতালের ডাক্তার জানান, বি পজেটিভ রক্তের প্রয়োজন। খবর পেয়ে রক্ত দেয়ার প্রতিযোগিতা শুরু করে শহীদের সঙ্গী সাথীরা। শরীরে রক্তের ব্যাগ পুশ করে ডাক্তার তাকে দ্রুত ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। সঙ্গে সঙ্গে তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। ভর্তি করা হয় আইসিইউতে। ১৫ দিন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে থাকার পর ঢাকার ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শাহাদাত বরণ করেন।

কেমন ছিলেন শহীদ মাহমুদুল হোসাইন
ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন কোমল হৃদয় ও হাস্যোজ্জ্বল চেহারার অধিকারী। গুলি লাগার পর সঙ্গী সাথীরা যখন তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছিলেন তখন তিনি সবাইকে বললেন, আমাকে ছাড়েন, অন্য আহত ভাইদের দ্রুত হাসপাতালে নেয়ার ব্যবস্থা করেন। তাঁর কথা শুনে সেদিন সবাই অবাক হয়েছিলেন, কারণ তাঁর বুক ও পিঠ দিয়ে তখন ক্রমাগত রক্ত ঝরছিল। এ কঠিন সময়েও তিনি মানসিকভাবে ছিলেন অবিচল। হাসপাতালে আইসিইউতে থাকা অবস্থায়ও তিনি নার্সদের জিজ্ঞেস করে সময়মত নিয়মিত নামাজ আদায় করতেন, সঙ্গী সাথীদের সঙ্গে অবিচল কণ্ঠে কথা বলতেন। হতাশ কিংবা অস্থিরতার লেশমাত্রও তাঁর মধ্যে দেখা যায়নি। তিনি ছিলেন পিতা-মাতার আদরের ধন, শিক্ষকের নয়নমণি আর সর্বসাধারণের নিকট এক পরোপকারী যুবকের প্রতিচ্ছবি।

সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
১৮ দলীয় জোটের ডাকা ৬০ ঘণ্টার হরতালের সেদিন ছিল শেষ দিন। বেলা ১১টায় হরতালের সমর্থনে মিছিল বের করে জামায়াত শিবির। মিছিল কিছুদূর এগুতেই একযোগে গুলি চালনা শুরু করে পুলিশ ও ছাত্রলীগ। মাহমুদুল হোসাইনসহ অনেকে গুলিবিদ্ধ হন, আহত হন অনেকে। মাহমুদুল হোসাইনকে নিয়ে যাওয়া হয় চাটখিল হাসপাতালে, সেখান থেকে ঢাকায়, ২০ নভেম্বর তিনি শাহাদাতবরণ করেন। একইদিন সন্ধ্যায় তাঁর লাশ এসে বাড়িতে পৌঁছায়। হাজার-হাজার নারী-পুরুষ ভিড় করে একনজর শহীদের লাশ দেখার জন্য। পরদিন সকাল ৮ টা ৩০ মিনিটে জানাযার সময় নির্ধারণ করা হয়। প্রশাসনের ব্যাপক অসহযোগিতার কারণে জানাযা অনুষ্ঠিত হয় বাদ আসর। ফজর নামাজ পড়েই হাজার হাজার মানুষ আসতে থাকে জানাযাস্থলে। বিকেলের দিকে গোটা চাটখিল বাজার এক জনসমুদ্রে পরিণত হয়। প্রতিটি বাড়ির ছাদের ওপরও ভিড় জমে যায় মানুষের। জানাযা শেষে শহীদের লাশ নিয়ে যাওয়া হয় পারিবারিক কবরস্থানে। প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ এই মিছিলটি শহীদের পারিবারিক কবরস্থানে পৌঁছানোর পথে রাস্তার দু’পাশে অসংখ্য মানুষ অশ্রুসিক্ত নয়নে শহীদের প্রতি তাদের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার প্রকাশ ঘটায়।

আপনজনদের কথা
শহীদের কথা স্মরণ করতে গিয়ে আপনজনরা আজও বাকরুদ্ধ হয়ে যান। শহীদের মা ফাতেমা বেগম বলেন, ‘আর কোন মায়ের বুক যেন এভাবে খালি না হয়। কেউ যেন আর কোন মায়ের বুক এভাবে খালি না করেন। কারণ এ জ্বালা মায়েদের জন্য অনেক বড় কঠিন।’

শহীদের অনুভূতি :
শহীদ মাহমুদুল হোসাইন হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে এক টুকরো কাগজে তাঁর অনুভূতি লিখে গেছেন— ‘জীবনে যতটুকু ভালো কাজ করেছি তা সামান্য আর পাপের পাল্লাটা অনেক ভারি। তবে সান্ত্বনা হলো আল্লাহর প্রতি অগাধ বিশ্বাস ও নির্ভরতা ছিল আর ইসলামী আন্দোলনকে আমি মনে-প্রাণে ভালোবাসতাম। তাই আজ আমার আল্লাহর কাছে চাওয়া, তিনি যেন আমাকে উত্তম জাযা দান করেন। যাতে আমি জান্নাত উপযোগী বান্দা হতে পারি এবং আল্লাহর এই জমিনে তাঁর দ্বীন কায়েমের কাজে আজীবন অংশ নিতে পারি। সবুজ এই ভূখণ্ডে দ্বীন কায়েমের যে বীজ রোপিত হয়েছে, তা একদিন একটি সম্পূর্ণ বৃক্ষে পরিণত হবে। আর এই ঝরা পাতাগুলো একেকজন শহীদ। কিন্তু পাতাগুলো থাকবে তাজা। কেননা, শহীদরা মরে না, মরে না কখনো, বেঁচে থাকে আল্লাহর কুদরতে। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।’

ভাই-বোনদের বিবরণ
১। মাহমুদুল হাসান- প্রবাসী। ২। আয়েশা আক্তার- শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ৩। খাদিজা আক্তার- শিক্ষার্থী, তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসা।

এক নজরে শহীদ মাহমুদুল হোসাইন
নাম : শহীদ মাহমুদুল হোসাইন
পিতা : খোরশেদ আলম
মাতা : ফাতেমা বেগম
জন্ম : ৬ জুন ১৯৮৭
ঠিকানা : জমাদার বাড়ি, ৬ নং ওয়ার্ড, উপজেলা- চাটখিল, জেলা- নোয়াখালী
সর্বশেষ পড়াশোখা : আলিম দ্বিতীয় বর্ষ, আল মাদরাসাতুদ দ্বীনিয়া
ভাই-বোনের সংখ্যা : দুই ভাই দুই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়
সাংগঠনিক মান : সাথী, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবির
কিভাবে শহীদ হলেন : ১৮ দল আয়োজিত ৬০ ঘণ্টার হরতালের শেষ দিনে চাটখিলে হরতালের সমর্থনে আয়োজিত মিছিলে পুলিশের গুলিতে আহত হয়ে ঢাকায় ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাহাদাত বরণ করেন।
শাহাদাতের তারিখ : ২০ নভেম্বর ২০১৩

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍