শহীদ জসিম উদ্দীন হাওলাদার
আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
শহীদ জসিম উদ্দীন হাওলাদার, বরিশালের কুন্দিয়ালপাড়া গ্রামের এক মেধাবী ও নীতিবান তরুণ। ফাজিল শেষ বর্ষে পড়াকালীন ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করতেন। দায়িত্বশীলতা, আদর্শ ও শান্ত স্বভাবের জন্য তিনি সমবয়সীদের মধ্যে ছিলেন অনুকরণীয়। ২০১৫ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি শ্যামলী এলাকায় পুলিশ আটক করার পর মৃত্যুবরণ করেন যা পরিবার ও সংগঠনের ভাষ্যে ছিল পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তাঁর জানাযায় স্বজন, সহকর্মী ও স্থানীয় মানুষের গভীর শোক ও শ্রদ্ধায় তিনি চিরনিদ্রায় শায়িত হন। তাঁর জীবন ও মৃত্যু অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের এক প্রতীক হয়ে উঠেছে।
🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ
শহীদ জসিম উদ্দীন হাওলাদার
ঢাকা-৬
শহীদের পরিচিতি
শহীদ জসিম উদ্দীন হাওলাদার বরিশাল জেলার সাহেবের হাট বন্দর থানার কুন্দিয়ালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা আব্দুর রাজ্জাক ও মাতা রিজিয়া বেগমের সাত সন্তানের মধ্যে ষষ্ঠ। শাহাদাত কালে শহীদ জসিম উদ্দীন হাওলাদার মিরপুর কাজীপাড়া মাদরাসার ফাজিল শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন এবং মিরপুর কাজিপাড়া এলাকায় একটি মেসে থাকতেন। তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সদস্য এবং সাংগঠনিক থানা মিরপুর পূর্বের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছিলেন। শাহাদাত কালে তার বয়স ছিল ২৩ বছর।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে যান
রাজধানীর শ্যামলী শিশুমেলার সামনে লেগুনা থেকে নামিয়ে নিয়ে যায়। এরপর রাতের অন্ধকারে ক্রসফায়ারের নামে গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা করে ডিবি পুলিশ।
সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, শনিবার সকাল ৮ টার দিকে রাজধানীর শ্যামলী শিশুমেলার সামনে লেগুনার ভেতর থেকে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ সন্দেহবশত তাকে আটক করে নিয়ে যায়। এরপর ঐ দিন রাতের অন্ধকারে কোন এক সময় ক্রসফায়ারের নামে গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা করে ডিবি পুলিশ। তারপর ভোররাত পৌনে চারটার দিকে রাস্তা থেকে গুলিবিদ্ধ লাশটি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসাপাতালের মর্গে রেখে আসে। শহীদের কপালসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ১৭ টি গুলির চিহ্ন আছে। রোববার দুপুরের দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জসিমের লাশ সনাক্ত করেন তার বড় ভাই আনিছুর রহমান। আনিছুর জানান, এক আত্মীয়ের মাধ্যমে তারা জানতে পারেন শনিবার সকালে জসিমকে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। এরপর তারা মিরপুর এলাকার সব থানায় খোঁজ নেন। পরে জানতে পারেন তাকে শেরে বাংলানগর থানা পুলিশ আটক করেছে। এ ব্যাপারে পুলিশের সঙ্গে পরিবারের সদস্যরা যোগাযোগ করলে পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি অস্বীকার করা হয়। রোববার সকালে জানতে পারেন তার ভাই বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। পরে হাসপাতালে গিয়ে লাশটি সনাক্ত করেন। তিনি বলেন, এর আগে মিরপুর থানা পুলিশ একটি মামলায় জসিমকে গ্রেফতার করেছিলো।
৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, সোমবার রাত ৩টার সময় তার গ্রামের বাড়ি বরিশাল সদর থানার পূর্ব কুন্দিয়াল পাড়া মুন্সিবাড়িতে এসে পৌঁছে। এ সময় তার স্বজনদের আহাজারীতে পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে। শহিদ জসিম উদ্দিনের পিতা আব্দুর রাজ্জাক ও মাতা রিযিয়া বেগম প্রিয় সন্তানের লাশ দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
৯ ফেব্রুয়ারি সোমবার সকাল ১০টায় শহীদের নিজ বাড়িতে শোকার্ত জনতার উপস্থিতিতে নামাযে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। জানাযার পরে বরিশাল সদর থানার পূর্ব কুন্দিয়ালপাড়ার মুন্সিবাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে তাকে চির নিদ্রায় শায়িত করা হয়। জানাযায় ইমামতি করেন শহীদের বড় ভাই মাও, আব্দুল হান্নান। এ সময় বক্তব্য রাখেন শহীদের পিতা মুন্সী আব্দুর রাজ্জাক, ইসলামী ছাত্রশিবিরের তৎকালীন কেন্দ্রীয় কলেজ কার্যক্রম বিষয়ক সম্পাদক মো. মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক, স্থানীয় মাদরাসার সুপার মাও, রহমত উল্লাহ।
জানাযাপূর্ব সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে শহীদের গর্বিত পিতা মে. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, "মাশাআল্লাহ আমি শহীদের বাবা হয়েছি, বাবা তোমরা চিন্তা করো না, একজন শহীদ ৭০ জনকে জান্নাতে সুপারিশ করে নিতে পারবে"। জানাযার নামাযে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা মহানগরী পশ্চিমের সেক্রেটারি মো. সাইদুর রহমান স্বপন, ভোলা জেলা শিবির সভাপতি মো. রুহুল আমিন, বরিশাল মহানগর সেক্রেটারি মো. ইমাম হোসেন, বরিশাল পূর্ব জেলা সভাপতি মো. কাওছার হোসেন, পশ্চিম জেলা সভাপতি মো. আবু জাফর ও ঢাকা মহানগরী পশ্চিমের কলেজ কার্যক্রম সম্পাদক সাজিদ হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ।
আপনজনদের কথা
শহীদের পিতাকে শান্তনা দিতে গেলে তিনি গর্বের সাথে বলেন, "আমি একজন শহীদের পিতা হয়েছি, আমার আর চাওয়ার কিছু নেই"।
শিবিরের বিবৃতি
০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, ঢাকা মহানগরী পশ্চিম থেকে নিম্মোক্ত বিবৃত্তি প্রদান করে-
০৭ই ফেব্রুয়ারি ২০১৫ শনিবার সকাল ৮ টার দিকে রাজধানীর শ্যামলী শিশুমেলার সামনে লেগুনার ভিতর থেকে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ সন্দেহ করে আটক করে নিয়ে যায়। নিরপরাধ জসিম উদ্দীনকে রাতের অন্ধকারে কোন এক সময় ক্রসফায়ারের নামে গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা করে ডিবি পুলিশ। কিন্তু নির্লজ্য মিথ্যাচার করে পুলিশ রাষ্ট্রীয় এই খুনের ঘটনায় বন্দুক যুদ্ধের নাটক সাজায়। অত্যন্ত নৃশংস ও পরিকল্পিতভাবে গভীর রাতে মিরপুর তালতলা এলাকায় নিয়ে হত্যা করা হয় শিবির নেতা জসিম উদ্দিনকে।
নিরপরাধ মেধাবী ছাত্রদের উপর ঠাণ্ডা মাথায় গুলি করে হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে পুলিশ যে অমানবিক নির্মমতার পরিচয় দিয়েছে তাতে দেশবাসী আজ বাকরুদ্ধ। পুলিশ তার দায়িত্ব বাদ দিয়ে ফ্যাসিষ্ট সরকারের জল্লাদের ভূমিকায় নেমেছে। অবিলম্বে এই নির্মম বর্বরতা বন্ধ করে খুনিদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় ছাত্রসমাজের হাত দুর্বল নয়। এভাবে একের পর এক ছাত্রদের হত্যার অধিকার কাউকে দেয়া হয়নি। জান-মাল রক্ষায় প্রয়োজনে যা করার তাই করার সিদ্ধান্ত নিবে ছাত্রসমাজ।
গণমাধ্যমে শাহাদাতের খবর
১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, মঙ্গলবার, দৈনিক সংগ্রাম "বরিশালে শিবির নেতা জসিম উদ্দিন চিরনিদ্রায় শায়িত"
শিরোনামে নিম্মোক্ত সংবাদ পরিবেশন করে-
শহীদি কাফেলা বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা মো. জসিম উদ্দীনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল সোমবার সকাল ১০টায় তার নিজ বাড়িতে শোকার্ত জনতার উপস্থিতিতে নামাযে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়।
জানাযার পরে বরিশাল সদর থানার পূর্ব কুন্দিয়ালপাড়ার মুন্সিবাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে তাকে চির নিদ্রায় শায়িত করা হয়। জানাযায় ইমামতি করেন শহীদের বড় ভাই মাও. আব্দুল হান্নান। এ সময় বক্তব্য রাখেন শহীদের পিতা মুন্সী আব্দুর রাজ্জাক, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কলেজ কার্যক্রম বিষয়ক সম্পাদক মো. মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক, স্থানীয় মাদরাসার সুপার মাও, রহমত উল্লাহ।
জানাযাপূর্ব সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে শহীদের গর্বিত পিতা মে. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, "মাশাআলাহ আমি শহীদের বাবা হয়েছি, বাবা তোমরা চিন্তা করিও না, একজন শহীদ ৭০ জনকে জান্নাতে সুপারিশ করে নিতে। পারবে"। জানাযার নামাযে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা মহানগরী পশ্চিমের সেক্রেটারি মো. সাইদুর রহমান স্বপন, ভোলা জেলা শিবির সভাপতি মো. রুহুল আমিন, বরিশাল মহানগর সেক্রেটারি মো. ইমাম হোসেন, বরিশাল পূর্ব জেলা সভাপতি মো. কাওছার হোসেন, পশ্চিম জেলা সভাপতি মো. আবু জাফর ও ঢাকা মহানগরী পশ্চিমের কলেজ কার্যক্রম সম্পাদক সাজিদ হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ।
উলেখ্য পুলিশের গুলীতে নিহত শিবির নেতা জসিম উদ্দীনকে গতকাল রাত ৩টার সময় তার গ্রামের বাড়ি বরিশাল সদর থানার পূর্ব কুন্দিয়াল পাড়া মুন্সিবাড়িতে এসে পৌঁছে। এ সময় তার স্বজনদের আহাজারীতে পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে। শহিদ জসিম উদ্দীনের পিতা আব্দুর রাজ্জাক ও মাতা রিযিয়া বেগম প্রিয় সন্তানের লাশ দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। এই শোকার্ত মূহুর্তে উপস্থিত সকলেই ছিল চাপা ক্ষোভ আর প্রিয়জন হারানের তীব্র বেদনায় কাতর। সকলের মনে একটাই প্রশ্ন কি অপরাধ ছিল শহিদ জসিম উদ্দীনের যে তাকে এভাবে হত্যা করা হলো। শহীদের কফিনের সাথে আসা শিবিরের নেতৃবৃন্দ শহীদের পিতাকে শান্ত্বনা দিতে গেলে তিনি গর্বের সাথে বলেন, "আমি একজন শহীদের পিতা হয়েছি, আমার আর চাওয়ার কিছু নেই"।
গত শনিবার সকালে জসিমসহ ৪ শিবির নেতাকে আটক করে ঢাকা মহানগরীর শের-ই বাংলা নগর থানা পুলিশ। রোববার সকালে রাজধানীর আগারগাঁও তালতলা নতুন রাস্তার ডাম্পিং এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় শিবির নেতা জসিম উদ্দীনের লাশ। তিনি মিরপুর কাজিপাড়া এলাকায় একটি মেসে থাকতেন। কাজীপাড়া ফাজিল মাদরাসার ফাজিলের ছাত্র ছিলেন জসিম। তার গ্রামের বাড়ি বরিশালের বন্দর থানার পূর্ব কুন্দলপাড়ায়। রোববার দুপুরের দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জসিমের লাশ সনাক্ত করেন তার বড় ভাই আনিছুর রহমান। আনিছুর জানান, এক আত্মীয়ের মাধ্যমে তারা জানতে পারেন শনিবার সকালে জসিমকে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। এরপর তারা মিরপুর এলাকার সব থানায় খোঁজ নেন। পরে জানতে পারেন তাকে শেরে বাংলানগর থানা পুলিশ আটক করেছে। এ ব্যাপারে পুলিশের সঙ্গে পরিবারের সদস্যরা যোগাযোগ করলে পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি অস্বীকার করা হয়। তিনি বলেন, রোববার সকালে জানতে। পারেন তার ভাই বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। পরে হাসপাতালে গিয়ে লাশটি সনাক্ত করেন। তিনি বলেন, এর আগে মিরপুর থানা পুলিশ একটি মামলায় জসিমকে গ্রেফতার করেছিলো। কিন্তু মামলায় অভিযোগের সাথে কোনো সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। তিনি বলেন, জসিম ছাত্রশিবিরের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। জসিম তিন ভাই ও চার বোনের মধ্যে ষষ্ঠ ছিলেন।
এদিকে শিবির নেতা জসিম উদ্দীনকে পরিকল্পিত হত্যার তীব্র প্রতিবাদ এবং খুনিদের বিচার দাবি করে বিবৃতি দিয়েছে বরিশাল মহানগর জামায়াত ও শিবির নেতৃবৃবন্দ। বিবৃতিদাতারা হলেন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও বরিশাল মহানগর আমীর এ্যাড, মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, জেলা পূর্ব জামায়াতের আমীর অধ্যাপক আব্দুল জব্বার, জেলা পশ্চিম জামায়াতের নায়েবে আমীর আলহাজ্ব আব্দুর রব, মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমীর অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম খসরু, জেলা পশ্চিম জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক আব্দুল মন্নান, ইসলামী ছাত্রশিবির বরিশাল মহানগর সেক্রেটারি মোঃ ইমাম হোসেন, জেলা পশ্চিম শিবির সভাপতি মো. আবু জাফর, জেলা পূর্ব শিবির সভাপতি মো. কাওছার আহম্মেদ।
এক নজরে শহীদ জসিম উদ্দীন হাওলাদার
নাম: জসিম উদ্দীন হাওলাদার
পিতা: আব্দুর রাজ্জাক হাওলাদার
মাতা: রিজিয়া বেগম
ঠিকানা: গ্রাম: কুন্দিয়ালপাড়া, ডাকঘর: সাহেবের হাট
থানা: সাহেবের হাট বন্দর, জেলা: বরিশাল।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: কাজীপাড়া সিদ্দীকিয়া ফাজিল মাদরাসা, ফাজিল ফলপ্রার্থী
বয়স:: ২৩ বছর
ভাই-বোন: সাত ভাই-বোনের মধ্যে ৬ষ্ঠ
সাংগঠনিক মান: সদস্য
দায়িত্ব: মিরপুর পূর্ব থানা সাংগঠনিক সম্পাদক, ঢাকা মহানগরী পশ্চিম।
কিভাবে শহীদ হলেন: লেগুনা থেকে ধরে নিয়ে গুলি করে হত্যা
কাদের দ্বারা শহীদ: ডিবি পুলিশ
শাহাদাতের তারিখ: ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৫
ঢাকা-৬
শহীদের পরিচিতি
শহীদ জসিম উদ্দীন হাওলাদার বরিশাল জেলার সাহেবের হাট বন্দর থানার কুন্দিয়ালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা আব্দুর রাজ্জাক ও মাতা রিজিয়া বেগমের সাত সন্তানের মধ্যে ষষ্ঠ। শাহাদাত কালে শহীদ জসিম উদ্দীন হাওলাদার মিরপুর কাজীপাড়া মাদরাসার ফাজিল শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন এবং মিরপুর কাজিপাড়া এলাকায় একটি মেসে থাকতেন। তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সদস্য এবং সাংগঠনিক থানা মিরপুর পূর্বের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছিলেন। শাহাদাত কালে তার বয়স ছিল ২৩ বছর।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে যান
রাজধানীর শ্যামলী শিশুমেলার সামনে লেগুনা থেকে নামিয়ে নিয়ে যায়। এরপর রাতের অন্ধকারে ক্রসফায়ারের নামে গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা করে ডিবি পুলিশ।
সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, শনিবার সকাল ৮ টার দিকে রাজধানীর শ্যামলী শিশুমেলার সামনে লেগুনার ভেতর থেকে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ সন্দেহবশত তাকে আটক করে নিয়ে যায়। এরপর ঐ দিন রাতের অন্ধকারে কোন এক সময় ক্রসফায়ারের নামে গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা করে ডিবি পুলিশ। তারপর ভোররাত পৌনে চারটার দিকে রাস্তা থেকে গুলিবিদ্ধ লাশটি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসাপাতালের মর্গে রেখে আসে। শহীদের কপালসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ১৭ টি গুলির চিহ্ন আছে। রোববার দুপুরের দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জসিমের লাশ সনাক্ত করেন তার বড় ভাই আনিছুর রহমান। আনিছুর জানান, এক আত্মীয়ের মাধ্যমে তারা জানতে পারেন শনিবার সকালে জসিমকে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। এরপর তারা মিরপুর এলাকার সব থানায় খোঁজ নেন। পরে জানতে পারেন তাকে শেরে বাংলানগর থানা পুলিশ আটক করেছে। এ ব্যাপারে পুলিশের সঙ্গে পরিবারের সদস্যরা যোগাযোগ করলে পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি অস্বীকার করা হয়। রোববার সকালে জানতে পারেন তার ভাই বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। পরে হাসপাতালে গিয়ে লাশটি সনাক্ত করেন। তিনি বলেন, এর আগে মিরপুর থানা পুলিশ একটি মামলায় জসিমকে গ্রেফতার করেছিলো।
৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, সোমবার রাত ৩টার সময় তার গ্রামের বাড়ি বরিশাল সদর থানার পূর্ব কুন্দিয়াল পাড়া মুন্সিবাড়িতে এসে পৌঁছে। এ সময় তার স্বজনদের আহাজারীতে পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে। শহিদ জসিম উদ্দিনের পিতা আব্দুর রাজ্জাক ও মাতা রিযিয়া বেগম প্রিয় সন্তানের লাশ দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
৯ ফেব্রুয়ারি সোমবার সকাল ১০টায় শহীদের নিজ বাড়িতে শোকার্ত জনতার উপস্থিতিতে নামাযে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। জানাযার পরে বরিশাল সদর থানার পূর্ব কুন্দিয়ালপাড়ার মুন্সিবাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে তাকে চির নিদ্রায় শায়িত করা হয়। জানাযায় ইমামতি করেন শহীদের বড় ভাই মাও, আব্দুল হান্নান। এ সময় বক্তব্য রাখেন শহীদের পিতা মুন্সী আব্দুর রাজ্জাক, ইসলামী ছাত্রশিবিরের তৎকালীন কেন্দ্রীয় কলেজ কার্যক্রম বিষয়ক সম্পাদক মো. মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক, স্থানীয় মাদরাসার সুপার মাও, রহমত উল্লাহ।
জানাযাপূর্ব সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে শহীদের গর্বিত পিতা মে. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, "মাশাআল্লাহ আমি শহীদের বাবা হয়েছি, বাবা তোমরা চিন্তা করো না, একজন শহীদ ৭০ জনকে জান্নাতে সুপারিশ করে নিতে পারবে"। জানাযার নামাযে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা মহানগরী পশ্চিমের সেক্রেটারি মো. সাইদুর রহমান স্বপন, ভোলা জেলা শিবির সভাপতি মো. রুহুল আমিন, বরিশাল মহানগর সেক্রেটারি মো. ইমাম হোসেন, বরিশাল পূর্ব জেলা সভাপতি মো. কাওছার হোসেন, পশ্চিম জেলা সভাপতি মো. আবু জাফর ও ঢাকা মহানগরী পশ্চিমের কলেজ কার্যক্রম সম্পাদক সাজিদ হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ।
আপনজনদের কথা
শহীদের পিতাকে শান্তনা দিতে গেলে তিনি গর্বের সাথে বলেন, "আমি একজন শহীদের পিতা হয়েছি, আমার আর চাওয়ার কিছু নেই"।
শিবিরের বিবৃতি
০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, ঢাকা মহানগরী পশ্চিম থেকে নিম্মোক্ত বিবৃত্তি প্রদান করে-
০৭ই ফেব্রুয়ারি ২০১৫ শনিবার সকাল ৮ টার দিকে রাজধানীর শ্যামলী শিশুমেলার সামনে লেগুনার ভিতর থেকে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ সন্দেহ করে আটক করে নিয়ে যায়। নিরপরাধ জসিম উদ্দীনকে রাতের অন্ধকারে কোন এক সময় ক্রসফায়ারের নামে গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা করে ডিবি পুলিশ। কিন্তু নির্লজ্য মিথ্যাচার করে পুলিশ রাষ্ট্রীয় এই খুনের ঘটনায় বন্দুক যুদ্ধের নাটক সাজায়। অত্যন্ত নৃশংস ও পরিকল্পিতভাবে গভীর রাতে মিরপুর তালতলা এলাকায় নিয়ে হত্যা করা হয় শিবির নেতা জসিম উদ্দিনকে।
নিরপরাধ মেধাবী ছাত্রদের উপর ঠাণ্ডা মাথায় গুলি করে হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে পুলিশ যে অমানবিক নির্মমতার পরিচয় দিয়েছে তাতে দেশবাসী আজ বাকরুদ্ধ। পুলিশ তার দায়িত্ব বাদ দিয়ে ফ্যাসিষ্ট সরকারের জল্লাদের ভূমিকায় নেমেছে। অবিলম্বে এই নির্মম বর্বরতা বন্ধ করে খুনিদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় ছাত্রসমাজের হাত দুর্বল নয়। এভাবে একের পর এক ছাত্রদের হত্যার অধিকার কাউকে দেয়া হয়নি। জান-মাল রক্ষায় প্রয়োজনে যা করার তাই করার সিদ্ধান্ত নিবে ছাত্রসমাজ।
গণমাধ্যমে শাহাদাতের খবর
১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, মঙ্গলবার, দৈনিক সংগ্রাম "বরিশালে শিবির নেতা জসিম উদ্দিন চিরনিদ্রায় শায়িত"
শিরোনামে নিম্মোক্ত সংবাদ পরিবেশন করে-
শহীদি কাফেলা বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা মো. জসিম উদ্দীনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল সোমবার সকাল ১০টায় তার নিজ বাড়িতে শোকার্ত জনতার উপস্থিতিতে নামাযে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়।
জানাযার পরে বরিশাল সদর থানার পূর্ব কুন্দিয়ালপাড়ার মুন্সিবাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে তাকে চির নিদ্রায় শায়িত করা হয়। জানাযায় ইমামতি করেন শহীদের বড় ভাই মাও. আব্দুল হান্নান। এ সময় বক্তব্য রাখেন শহীদের পিতা মুন্সী আব্দুর রাজ্জাক, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কলেজ কার্যক্রম বিষয়ক সম্পাদক মো. মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক, স্থানীয় মাদরাসার সুপার মাও, রহমত উল্লাহ।
জানাযাপূর্ব সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে শহীদের গর্বিত পিতা মে. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, "মাশাআলাহ আমি শহীদের বাবা হয়েছি, বাবা তোমরা চিন্তা করিও না, একজন শহীদ ৭০ জনকে জান্নাতে সুপারিশ করে নিতে। পারবে"। জানাযার নামাযে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা মহানগরী পশ্চিমের সেক্রেটারি মো. সাইদুর রহমান স্বপন, ভোলা জেলা শিবির সভাপতি মো. রুহুল আমিন, বরিশাল মহানগর সেক্রেটারি মো. ইমাম হোসেন, বরিশাল পূর্ব জেলা সভাপতি মো. কাওছার হোসেন, পশ্চিম জেলা সভাপতি মো. আবু জাফর ও ঢাকা মহানগরী পশ্চিমের কলেজ কার্যক্রম সম্পাদক সাজিদ হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ।
উলেখ্য পুলিশের গুলীতে নিহত শিবির নেতা জসিম উদ্দীনকে গতকাল রাত ৩টার সময় তার গ্রামের বাড়ি বরিশাল সদর থানার পূর্ব কুন্দিয়াল পাড়া মুন্সিবাড়িতে এসে পৌঁছে। এ সময় তার স্বজনদের আহাজারীতে পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে। শহিদ জসিম উদ্দীনের পিতা আব্দুর রাজ্জাক ও মাতা রিযিয়া বেগম প্রিয় সন্তানের লাশ দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। এই শোকার্ত মূহুর্তে উপস্থিত সকলেই ছিল চাপা ক্ষোভ আর প্রিয়জন হারানের তীব্র বেদনায় কাতর। সকলের মনে একটাই প্রশ্ন কি অপরাধ ছিল শহিদ জসিম উদ্দীনের যে তাকে এভাবে হত্যা করা হলো। শহীদের কফিনের সাথে আসা শিবিরের নেতৃবৃন্দ শহীদের পিতাকে শান্ত্বনা দিতে গেলে তিনি গর্বের সাথে বলেন, "আমি একজন শহীদের পিতা হয়েছি, আমার আর চাওয়ার কিছু নেই"।
গত শনিবার সকালে জসিমসহ ৪ শিবির নেতাকে আটক করে ঢাকা মহানগরীর শের-ই বাংলা নগর থানা পুলিশ। রোববার সকালে রাজধানীর আগারগাঁও তালতলা নতুন রাস্তার ডাম্পিং এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় শিবির নেতা জসিম উদ্দীনের লাশ। তিনি মিরপুর কাজিপাড়া এলাকায় একটি মেসে থাকতেন। কাজীপাড়া ফাজিল মাদরাসার ফাজিলের ছাত্র ছিলেন জসিম। তার গ্রামের বাড়ি বরিশালের বন্দর থানার পূর্ব কুন্দলপাড়ায়। রোববার দুপুরের দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জসিমের লাশ সনাক্ত করেন তার বড় ভাই আনিছুর রহমান। আনিছুর জানান, এক আত্মীয়ের মাধ্যমে তারা জানতে পারেন শনিবার সকালে জসিমকে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। এরপর তারা মিরপুর এলাকার সব থানায় খোঁজ নেন। পরে জানতে পারেন তাকে শেরে বাংলানগর থানা পুলিশ আটক করেছে। এ ব্যাপারে পুলিশের সঙ্গে পরিবারের সদস্যরা যোগাযোগ করলে পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি অস্বীকার করা হয়। তিনি বলেন, রোববার সকালে জানতে। পারেন তার ভাই বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। পরে হাসপাতালে গিয়ে লাশটি সনাক্ত করেন। তিনি বলেন, এর আগে মিরপুর থানা পুলিশ একটি মামলায় জসিমকে গ্রেফতার করেছিলো। কিন্তু মামলায় অভিযোগের সাথে কোনো সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। তিনি বলেন, জসিম ছাত্রশিবিরের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। জসিম তিন ভাই ও চার বোনের মধ্যে ষষ্ঠ ছিলেন।
এদিকে শিবির নেতা জসিম উদ্দীনকে পরিকল্পিত হত্যার তীব্র প্রতিবাদ এবং খুনিদের বিচার দাবি করে বিবৃতি দিয়েছে বরিশাল মহানগর জামায়াত ও শিবির নেতৃবৃবন্দ। বিবৃতিদাতারা হলেন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও বরিশাল মহানগর আমীর এ্যাড, মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, জেলা পূর্ব জামায়াতের আমীর অধ্যাপক আব্দুল জব্বার, জেলা পশ্চিম জামায়াতের নায়েবে আমীর আলহাজ্ব আব্দুর রব, মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমীর অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম খসরু, জেলা পশ্চিম জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক আব্দুল মন্নান, ইসলামী ছাত্রশিবির বরিশাল মহানগর সেক্রেটারি মোঃ ইমাম হোসেন, জেলা পশ্চিম শিবির সভাপতি মো. আবু জাফর, জেলা পূর্ব শিবির সভাপতি মো. কাওছার আহম্মেদ।
এক নজরে শহীদ জসিম উদ্দীন হাওলাদার
নাম: জসিম উদ্দীন হাওলাদার
পিতা: আব্দুর রাজ্জাক হাওলাদার
মাতা: রিজিয়া বেগম
ঠিকানা: গ্রাম: কুন্দিয়ালপাড়া, ডাকঘর: সাহেবের হাট
থানা: সাহেবের হাট বন্দর, জেলা: বরিশাল।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: কাজীপাড়া সিদ্দীকিয়া ফাজিল মাদরাসা, ফাজিল ফলপ্রার্থী
বয়স:: ২৩ বছর
ভাই-বোন: সাত ভাই-বোনের মধ্যে ৬ষ্ঠ
সাংগঠনিক মান: সদস্য
দায়িত্ব: মিরপুর পূর্ব থানা সাংগঠনিক সম্পাদক, ঢাকা মহানগরী পশ্চিম।
কিভাবে শহীদ হলেন: লেগুনা থেকে ধরে নিয়ে গুলি করে হত্যা
কাদের দ্বারা শহীদ: ডিবি পুলিশ
শাহাদাতের তারিখ: ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৫
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍
🔍
🔍
🔍
🔍
🔍
🔍
🔍