শহীদ আবদুল আজিজ রায়হান
আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরহাজারি গ্রামের আবদুর রাজ্জাক মিয়ার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন শহীদ আবদুল আজিজ রায়হান। তাঁর পিতার নাম আবদুর রাজ্জাক, মায়ের নাম বিবি আমেনা। পাঁচ ভাই-বোনদের মধ্যে তিনি সবার ছোট
🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ
শহীদ আবদুল আজিজ রায়হান ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী ও মেধাবী। শহীদ আবদুন নূর রাসেলের মতো তিনিও শহীদ হতে চাইতেন। কেননা, শহীদের কোনো মৃত্যু নাই। আর এ আকাঙ্ক্ষার কথা তিনি তাঁর সাথীদের বলতেন।
জন্ম: ১২ অক্টোবর ১৯৯৫ শাহাদাতবরণ: ১৪ ডিসেম্বর ২০১৩
শহীদের পরিচিতি
নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরহাজারি গ্রামের আবদুর রাজ্জাক মিয়ার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন শহীদ আবদুল আজিজ রায়হান। তাঁর পিতার নাম আবদুর রাজ্জাক, মায়ের নাম বিবি আমেনা। পাঁচ ভাই-বোনদের মধ্যে তিনি সবার ছোট। দরিদ্র পিতা-মাতা কোনো রকমে সন্তানদের বড় করার চেষ্টা করছিলেন। ছোট ছেলেটিকে তাঁরা মাদরাসায় ভর্তি করিয়ে দেন। আবদুল আজিজ রায়হান ২০১২ সালে রঙমালা মডেল আলিম মাদরাসা থেকে দাখিল পাস করেন। তাঁর রেজাল্ট ছিল ৪.৫০। ২০১৪ সালে তিনি একই মাদরাসা থেকে আলিম পরীক্ষার্থী ছিলেন।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে যান
যেখানে তিনি শাহাদাতবরণ করেন সেই স্থানটি তাঁর নিজ বাড়ি থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে। বিক্ষোভ মিছিলের খবর পেয়ে তিনি স্থানীয় ছাত্র-জনতার সঙ্গে এতে অংশগ্রহণ করেন। ১৪ ডিসেম্বর ২০১৩ সালের ওই বিক্ষোভ মিছিলটি ছিল প্রহসনের বিচারের মাধ্যমে প্রদত্ত শহীদ আবদুল কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার প্রতিবাদে। বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে মিছিল শুরু হলে পুলিশ, বিজিবি ও সরকারী দলের সন্ত্রাসীরা গুলি করতে শুরু করে। তাদের অব্যাহত গুলির মুখে সেদিন ৭ জন বিক্ষোভকারী শাহাদাত বরণ করেন। শহীদ আবদুল আজিজ রায়হান ছিলেন তাদেরই একজন। বিকাল ৪ টায় তিনি বসুরহাট কেজি স্কুল রোডে অবস্থিত খান সুপার মার্কেটের সামনে গুলিবিদ্ধ হন। শহীদের সঙ্গীরা তাকে সঙ্গে সঙ্গে নোয়াখালী প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে যান। কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। রাত ৮টা ৩০ মিনিটে লাশ নিয়ে আসা হয় শহীদের নিজ বাড়িতে। রাত ১১ টায় জানাজা শেষে বাড়ির পাশে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
কেমন ছিলেন শহীদ রায়হান
শহীদ আবদুল আজিজ রায়হান ছিলেন অনন্য বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। ছোটবেলা থেকেই তিনি ইসলাম প্রিয়। শহীদের বড় ভাই ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকায় তিনিও ইসলামী আন্দোলনে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ পান। ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে থাকা অবস্থায়ই, ২০০৫ সালের ১০ অক্টোবর তিনি ছাত্র সংগঠনের সমর্থক ফরম পূরণ করে সক্রিয়ভাবে আন্দোলনের কাজ শুরু করেন। কিছুদিনের মধ্যেই তিনি কর্মী সিলেবাস অধ্যয়ন করে শেষ করেন এবং দায়িত্বশীলদের নিকট কর্মী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। ২০০৮ সালের ০৬ জুন তাকে কর্মী ঘোষণা করা হয়। পর্যায়ক্রমে তিনি সাথী শপথ গ্রহণ করেন এবং উপশাখা সেক্রেটারি, সভাপতি ও ওয়ার্ড সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন শেষে তিনি ওয়ার্ড সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি ছিলেন এলাকাবাসীর অত্যন্ত প্রিয়পাত্র। শহীদ হওয়া ছিল তাঁর হৃদয়ের আকাঙ্ক্ষা। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ ঘোষণা করেছেন যে, শহীদদের কোনো মৃত্যু নাই। এই মৃত্যুহীন জীবন লাভের জন্যই তিনি শহীদ হতে চাইতেন। এই আকাঙ্ক্ষার কথা তিনি তাঁর বন্ধুবান্ধব ও সঙ্গী-সাথীদেরও বলতেন।
আপনজনদের কথা
শহীদের মা বিবি আমেনা বলেন, আমার ছেলে ছোটবেলা থেকেই ছিল অত্যন্ত বিনয়ী, নম্র-ভদ্র ও মেধাবী। তিনি জানান, শহীদ আবদুল কাদের মোল্লার প্রহসনের রায় যাতে কার্যকর না হয় এ জন্য সে নফল রোজাও রেখেছিল। তিনি বলেন, যে দিন ছেলে শহীদ হয়ে আল্লাহর দরবারে চলে যায় সেদিন দুপুরে আমি তাকে বলেছিলাম গোসল করার জন্য। কিন্তু সবাইকে নিয়ে মিছিলে যেতে যেন একটুও দেরি না হয় সেজন্য সে আমাকে বলেছিল মিছিল থেকে ফিরে এসে গোসল করবে। মিছিল থেকে শহীদ হয়ে ফিরেই জীবনের শেষ গোসল করেছিল আমার ছেলে।
শহীদের বড় ভাই বলেন, ঐতিহাসিক ২৮ অক্টোবরের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে ২০০৮ সালে গভীর রাতে আমরা পোস্টার লাগাতে বের হই। শহীদ রায়হানও আমাদের সঙ্গী হয়। দ্বীনের কাজে তাকে কখনো বিন্দুমাত্র অলসতা করতে দেখিনি।
ভাই-বোনদের বিবরণ
১। আবুল খায়ের জাহাঙ্গীর- চাকুরী। ২। আবদুল জব্বার আলমগীর- চাকুরী। ৩। আবদুস সালাম- ছাত্র। ৪। বিবি কুলসুম- গৃহিণী।
এক নজরে শহীদ আবদুল আজিজ রায়হান
নাম: শহীদ আবদুল আজিজ রায়হান
পিতা: আবদুর রাজ্জাক
মাতা: বিবি আমেনা
জন্ম: ১২ অক্টোবর ১৯৯৫
ঠিকানা: আবদুর রাজ্জাক মিয়ার বাড়ি, গ্রাম- চরহাজারি, থানা- কোম্পানীগঞ্জ, জেলা- নোয়াখালী।
সর্বশেষ পড়াশোনা: আলিম পরীক্ষার্থী, রঙমালা মডেল আলিম মাদরাসা।
ভাই-বোনের সংখ্যা: পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট।
সাংগঠনিক মান: সাথী, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
দায়িত্ব: ওয়ার্ড সভাপতি।
কিভাবে শহীদ হলেন: শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকরের প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের গুলিতে শাহাদাত বরণ করেন।
শাহাদাতের তারিখ: ১৪ ডিসেম্বর ২০১৩
জন্ম: ১২ অক্টোবর ১৯৯৫ শাহাদাতবরণ: ১৪ ডিসেম্বর ২০১৩
শহীদের পরিচিতি
নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরহাজারি গ্রামের আবদুর রাজ্জাক মিয়ার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন শহীদ আবদুল আজিজ রায়হান। তাঁর পিতার নাম আবদুর রাজ্জাক, মায়ের নাম বিবি আমেনা। পাঁচ ভাই-বোনদের মধ্যে তিনি সবার ছোট। দরিদ্র পিতা-মাতা কোনো রকমে সন্তানদের বড় করার চেষ্টা করছিলেন। ছোট ছেলেটিকে তাঁরা মাদরাসায় ভর্তি করিয়ে দেন। আবদুল আজিজ রায়হান ২০১২ সালে রঙমালা মডেল আলিম মাদরাসা থেকে দাখিল পাস করেন। তাঁর রেজাল্ট ছিল ৪.৫০। ২০১৪ সালে তিনি একই মাদরাসা থেকে আলিম পরীক্ষার্থী ছিলেন।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে যান
যেখানে তিনি শাহাদাতবরণ করেন সেই স্থানটি তাঁর নিজ বাড়ি থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে। বিক্ষোভ মিছিলের খবর পেয়ে তিনি স্থানীয় ছাত্র-জনতার সঙ্গে এতে অংশগ্রহণ করেন। ১৪ ডিসেম্বর ২০১৩ সালের ওই বিক্ষোভ মিছিলটি ছিল প্রহসনের বিচারের মাধ্যমে প্রদত্ত শহীদ আবদুল কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার প্রতিবাদে। বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে মিছিল শুরু হলে পুলিশ, বিজিবি ও সরকারী দলের সন্ত্রাসীরা গুলি করতে শুরু করে। তাদের অব্যাহত গুলির মুখে সেদিন ৭ জন বিক্ষোভকারী শাহাদাত বরণ করেন। শহীদ আবদুল আজিজ রায়হান ছিলেন তাদেরই একজন। বিকাল ৪ টায় তিনি বসুরহাট কেজি স্কুল রোডে অবস্থিত খান সুপার মার্কেটের সামনে গুলিবিদ্ধ হন। শহীদের সঙ্গীরা তাকে সঙ্গে সঙ্গে নোয়াখালী প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে যান। কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। রাত ৮টা ৩০ মিনিটে লাশ নিয়ে আসা হয় শহীদের নিজ বাড়িতে। রাত ১১ টায় জানাজা শেষে বাড়ির পাশে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
কেমন ছিলেন শহীদ রায়হান
শহীদ আবদুল আজিজ রায়হান ছিলেন অনন্য বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। ছোটবেলা থেকেই তিনি ইসলাম প্রিয়। শহীদের বড় ভাই ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকায় তিনিও ইসলামী আন্দোলনে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ পান। ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে থাকা অবস্থায়ই, ২০০৫ সালের ১০ অক্টোবর তিনি ছাত্র সংগঠনের সমর্থক ফরম পূরণ করে সক্রিয়ভাবে আন্দোলনের কাজ শুরু করেন। কিছুদিনের মধ্যেই তিনি কর্মী সিলেবাস অধ্যয়ন করে শেষ করেন এবং দায়িত্বশীলদের নিকট কর্মী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। ২০০৮ সালের ০৬ জুন তাকে কর্মী ঘোষণা করা হয়। পর্যায়ক্রমে তিনি সাথী শপথ গ্রহণ করেন এবং উপশাখা সেক্রেটারি, সভাপতি ও ওয়ার্ড সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন শেষে তিনি ওয়ার্ড সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি ছিলেন এলাকাবাসীর অত্যন্ত প্রিয়পাত্র। শহীদ হওয়া ছিল তাঁর হৃদয়ের আকাঙ্ক্ষা। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ ঘোষণা করেছেন যে, শহীদদের কোনো মৃত্যু নাই। এই মৃত্যুহীন জীবন লাভের জন্যই তিনি শহীদ হতে চাইতেন। এই আকাঙ্ক্ষার কথা তিনি তাঁর বন্ধুবান্ধব ও সঙ্গী-সাথীদেরও বলতেন।
আপনজনদের কথা
শহীদের মা বিবি আমেনা বলেন, আমার ছেলে ছোটবেলা থেকেই ছিল অত্যন্ত বিনয়ী, নম্র-ভদ্র ও মেধাবী। তিনি জানান, শহীদ আবদুল কাদের মোল্লার প্রহসনের রায় যাতে কার্যকর না হয় এ জন্য সে নফল রোজাও রেখেছিল। তিনি বলেন, যে দিন ছেলে শহীদ হয়ে আল্লাহর দরবারে চলে যায় সেদিন দুপুরে আমি তাকে বলেছিলাম গোসল করার জন্য। কিন্তু সবাইকে নিয়ে মিছিলে যেতে যেন একটুও দেরি না হয় সেজন্য সে আমাকে বলেছিল মিছিল থেকে ফিরে এসে গোসল করবে। মিছিল থেকে শহীদ হয়ে ফিরেই জীবনের শেষ গোসল করেছিল আমার ছেলে।
শহীদের বড় ভাই বলেন, ঐতিহাসিক ২৮ অক্টোবরের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে ২০০৮ সালে গভীর রাতে আমরা পোস্টার লাগাতে বের হই। শহীদ রায়হানও আমাদের সঙ্গী হয়। দ্বীনের কাজে তাকে কখনো বিন্দুমাত্র অলসতা করতে দেখিনি।
ভাই-বোনদের বিবরণ
১। আবুল খায়ের জাহাঙ্গীর- চাকুরী। ২। আবদুল জব্বার আলমগীর- চাকুরী। ৩। আবদুস সালাম- ছাত্র। ৪। বিবি কুলসুম- গৃহিণী।
এক নজরে শহীদ আবদুল আজিজ রায়হান
নাম: শহীদ আবদুল আজিজ রায়হান
পিতা: আবদুর রাজ্জাক
মাতা: বিবি আমেনা
জন্ম: ১২ অক্টোবর ১৯৯৫
ঠিকানা: আবদুর রাজ্জাক মিয়ার বাড়ি, গ্রাম- চরহাজারি, থানা- কোম্পানীগঞ্জ, জেলা- নোয়াখালী।
সর্বশেষ পড়াশোনা: আলিম পরীক্ষার্থী, রঙমালা মডেল আলিম মাদরাসা।
ভাই-বোনের সংখ্যা: পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট।
সাংগঠনিক মান: সাথী, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
দায়িত্ব: ওয়ার্ড সভাপতি।
কিভাবে শহীদ হলেন: শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকরের প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের গুলিতে শাহাদাত বরণ করেন।
শাহাদাতের তারিখ: ১৪ ডিসেম্বর ২০১৩
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍