শহীদ আবদুন নূর রাসেল
আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
ওমর হাফিজ বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন শহীদ আবদুন নূর রাসেল। তাঁর পিতার নাম মোঃ শফিক উল্লাহ, মায়ের নাম আমেনা বেগম। পিতা-মাতার চার সন্তানের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়।
🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ
শহীদ আবদুন নূর রাসেল শহীদী মর্যাদা লাভের আকাঙ্ক্ষায় বিভোর ছিলেন। তিনি শাহাদাত লাভের কিছুদিন আগ থেকে প্রায়ই আন্দোলনের সাথীদের বলতেন, 'শহীদরা মৃত্যুবরণ করে না, তারা জীবিত থাকে কিন্তু মানুষ তা বুঝতে পারে না। এ কারণে আমিও শহীদদের একজন হতে চাই।'
জন্ম : ০১ নভেম্বর ১৯৮৮, শাহাদাতবরণ : ১৪ ডিসেম্বর ২০১৩
শহীদের পরিচিতি
নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ১ নং সিরাজপুর ইউনিয়নের সিরাজপুর গ্রামের ওমর হাফিজ বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন শহীদ আবদুন নূর রাসেল। তাঁর পিতার নাম মোঃ শফিক উল্লাহ, মায়ের নাম আমেনা বেগম। পিতা-মাতার চার সন্তানের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়। দরিদ্র পরিবারের বড় সন্তান হওয়ায় এসএসসি পরীক্ষায় সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েও প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়ার ইতি টানেন। শুরু করেন ব্যবসা। ব্যবসায়ও তিনি তেমন সুবিধা করতে পারেননি। পরে ব্যবসাও ছেড়ে দেন। সিরাজপুর উচ্চবিদ্যালয় থেকে তিনি এসএসসি পাস করেন।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে যান
ঘটনাস্থল থেকে শহীদের নিজ বাড়ি প্রায় চার কিলোমিটার দূরে। ১৩ ডিসেম্বর ২০১৩, শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসির আদেশ কার্যকর করার পরই গোটাদেশের সাধারণ জনতা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। পরদিন ১৪ ডিসেম্বর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা মসজিদ চত্বর থেকে বিকাল ৩ টা ১৫ মিনিটে প্রশাসনের অনুমতিক্রমে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিলে সমবেত হয় বিপুল পরিমাণ মানুষ। শহীদ আবদুন নূর রাসেল এই সমাবেশে যোগ দেন। ঠিক ৩টা ১৫ মিনিটে মিছিল শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ও সরকারি দলের ক্যাডার বাহিনী গুলিবৃষ্টি শুরু করে মিছিলের দিকে। মুহূর্তেই আরও অনেকের মতো গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন শহীদ রাসেল। ঘটনাস্থলেই শাহাদাতবরণ করেন তিনি। তাঁর বুকের মাঝখানে এসে বিদ্ধ হয় গুলি।
কেমন ছিলেন শহীদ আবদুন নূর রাসেল
একজন দরিদ্র ও সাধারণ মানুষ ছিলেন তিনি। তাঁর জীবন যাপনও ছিলো সহজ-সরল। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি নিজেকে একজন খাঁটি মুসলমান হিসেবে গড়ে তোলার সাধনা শুরু করেন। ইসলামী ছাত্রশিবিরের সক্রিয় কর্মী হয়ে ওঠেন। এই সময় থেকে তিনি এলাকার জনসাধারণের কাছেও একজন প্রিয়পাত্র হয়ে ওঠেন। ছাত্রজীবন শেষে তিনি জামায়াতে ইসলামীর কর্মী হিসেবে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করতে থাকেন। সব সময়ই তিনি নিজের পিতা-মাতার সেবা যত্ন করতেন ও ছোট ভাই-বোনদের লেখাপড়ার দিকে বিশেষ খেয়াল রাখতেন।
মাওলানা সাঈদীর রায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে তিনি এর আগে গ্রেফতার হয়ে এক মাস বিশ দিন জেল খাটেন। এ সময় কখনো তাঁর চেহারায় মলিনতা, অস্থিরতা কিংবা দুশ্চিন্তার কোন ছাপ দেখা যায়নি। সব সময় তিনি হাসি-খুশি থাকতেন এবং উৎসাহব্যঞ্জক কথাবার্তা বলতেন।
তিনি তাঁর সহকর্মী ও দায়িত্বশীলদের সুযোগ-সুবিধার দিকেও সব-সময় খেয়াল রাখতেন। যেদিন তিনি শাহাদাত বরণ করেন সেদিন এক অসুস্থ দায়িত্বশীলকে শারীরিক সমস্যার কথা চিন্তা করে মিছিলে যেতে প্রবলভাবে বাধা দেন অথচ নিজে মিছিলে অংশ নিয়ে শাহাদাতের অমিয় সুধা পান করে পৌঁছে যান মহান আল্লাহর সন্নিকটে।
শহীদ আবদুন নূর রাসেল অন্তরে সব-সময় শহীদ হওয়ার আকাঙ্ক্ষা লালন করতেন। শহীদ হওয়ার কিছুদিন আগ থেকেই তিনি তাঁর আন্দোলনের সাথীদের প্রায়ই বলতেন, "শহীদরা মৃত্যুবরণ করেন না। তাঁরা জীবিত থাকেন। যদিও মানুষ বুঝতে পারে না। আমিও একজন শহীদ হতে চাই। কারণ শহীদের মর্যাদা আল্লাহর কাছে অনেক বেশি।" শহীদের সঙ্গী সাথীরাও তাঁকে খুব ভালবাসতেন। তিনি ছিলেন সকলের প্রিয় রাসেল ভাই।
সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
সেদিনের ঘটনা ছিলো মর্মান্তিক। থানার ওসির মৌখিক অনুমোদন নিয়ে মিছিলের আয়োজন করা হয়। কিন্তু মিছিল শুরু হতে না হতেই পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও বুলেট ছুঁড়তে শুরু করেন। এ সময় নেতৃত্ব দেন পুলিশ অফিসার শিশির কুমার। বিষয়টি ওসিকে জানানো হলে তিনি বলেন 'আমি মৌখিক অনুমতি দিয়েছিলাম। কিন্তু এখন উপরের নির্দেশ, আপনাদেরকে মিছিল করতে দেওয়া যাবে না।' তখন ওসিকে বলা হয় যে, 'আমাদেরকে চলে যাওয়ার সুযোগ দেন। আমরা পাঁচ মিনিট সময় নিয়ে সবাইকে চলে যেতে বলি।' ওসি জানান, "মিছিলের সামনে এসপি ও তদন্ত ওসি আছে, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। কিন্তু বারবার ফোন করা হলেও তদন্ত ওসি ফোন রিসিভ করেননি। বরং উল্টো পুলিশের দিক থেকে আক্রমণ ভয়ানক হয়ে ওঠে। সেদিন ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে সর্বমোট ৭ জন ভাই শাহাদাতবরণ করেন এবং চল্লিশজনের মতো গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মকভাবে আহত হন।
পারিবারিক অবস্থা
পিতা-মাতা, দুই ভাই-এক বোন, স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানকে রেখে শাহাদাতবরণ করেন আবদুন নূর রাসেল। শাহাদাতের সময় তাঁর শিশু সন্তানের বয়স ছিলো মাত্র ৯ মাস।
ভাই-বোনদের বিবরণ
১। আবদুল হাই রাজু : ছাত্র জীবন শেষ। ২। আবদুল আউয়াল রাকীব : ছাত্র। ৩। জহুরা খাতুন : বিবাহিতা।
স্ত্রী ও সন্তান
স্ত্রী : সুলতানা মাজেদা। ছেলে : তাওহীদ বিন রাসেল
এক নজরে শহীদ আবদুন নূর রাসেল
নাম: শহীদ আবদুন নূর রাসেল
পিতা: মোঃ শফিক উল্লাহ
মাতা: আমেনা বেগম
জন্মতারিখ: ০১ নভেম্বর ১৯৮৮
ঠিকানা: ওমর হাফিজ বাড়ি, গ্রাম- সিরাজপুর, উপজেলা- কোম্পানীগঞ্জ, জেলা- নোয়াখালী
সর্বশেষ পড়াশোনা: এসএসসি, সিরাজপুর উচ্চ বিদ্যালয়
পেশা: ব্যবসা
ভাই-বোনের সংখ্যা: চার ভাই-বোনের মধ্যে সবার বড়
সাংগঠনিক মান: কর্মী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী
কিভাবে শহীদ হলেন: শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকরের প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের গুলিতে শাহাদাত বরণ করেন
শাহাদাতের তারিখ: ১৪ ডিসেম্বর ২০১৩
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍