শহীদ আবদুস সাত্তার ( চান মিয়া )
আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
মেধাবী ছাত্র শহীদ আবদুস সাত্তার অন্তরে সবসময় শাহাদাতের আকাঙ্ক্ষা পোষণ করতেন। যে দিন তিনি শহীদ হন সেদিনও মায়ের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, তিনি ইসলামী আন্দোলনের জন্য শহীদ হয়ে গেলে মায়ের ক্ষতি হবে কিনা?
🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ
জন্ম : ১০ জানুয়ারি ১৯৯৬, শাহাদাতবরণ : ১৪ ডিসেম্বর ২০১৩
শহীদের পরিচিতি
নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মুছাপুর গ্রাম। এই গ্রামের জহির উদ্দীন মাঝি বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন শহীদ আবদুস সাত্তার চান মিয়া। তাঁর পিতার নাম আবদুল খালেক, মায়ের নাম গোলনাহার। চার পুত্র সন্তানের মধ্যে শহীদ আবদুস সাত্তার ছিলেন দ্বিতীয়। তিনি ২০১২ সালে মুছাপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগে উত্তীর্ণ হন। শিক্ষকতার মহান পেশায় নিজেকে উপযুক্ত করে গড়ে তোলার স্বপ্ন নিয়ে ভর্তি হন বামনী কলেজে। শ্রমজীবী দরিদ্র পিতার সন্তান হওয়ায় টিউশনি করে তিনি নিজের পড়াশোনার খরচ জোগাড় করার চেষ্টা করতেন। এইচ.এস.সি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র থাকা অবস্থায় তিনি শাহাদাতবরণ করেন।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে যান
যেখানে তিনি শহীদ হন সেই জায়গাটি শহীদের নিজবাড়ি থেকে প্রায় ১২ কি.মি দূরে। প্রতিবাদী জনতার মিছিলের খবর পেয়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত মানুষ দল বেঁধে সি.এন.জি ও বিভিন্ন পরিবহন যোগে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। শহীদ চান মিয়াও সি.এন.জি যোগে বিকাল ৩ টা ১৫ মিনিটে বসুরহাট এসে উপস্থিত হন। প্রায় দুই হাজার মানুষ এই প্রতিবাদ মিছিলে শামিল হন। এক পর্যায়ে তিনি মিছিলের সম্মুখভাগে চলে আসেন। ওই মুহূর্তে পুলিশ সামনে থেকে মিছিলে গুলিবর্ষণ শুরু করে। পুলিশের গুলি শহীদের বুকের ডান পাশে এসে লাগে। তখন বেলা ৩টা বেজে ৩০ মিনিট। ঘটনাস্থলেই শাহাদাতবরণ করেন তিনি। পুলিশ লাশ থানায় নিয়ে যায়। ময়না তদন্ত শেষে পরদিন ১৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে নিজ বাড়িতে শহীদের লাশ নিয়ে আসা হয় এবং রাত ৮টায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
কেমন ছিলেন শহীদ চান মিয়া
একজন সাধারণ ছাত্র শহীদ আবদুস সাত্তার খুবই সহজ-সরল জীবন যাপন করতেন। পড়াশোনা, টিউশনির পাশাপাশি তিনি সাংগঠনিক কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখতেন। অসাধারণ চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের জন্য তিনি এলাকার মানুষের প্রিয়পাত্র হয়েছিলেন। তিনি সব সময় অন্তরে শাহাদাতের আকাঙ্ক্ষা লালন করতেন এবং বিভিন্ন সময় বন্ধুদেরও তা বলতেন। শহীদের বড় ভাই আবদুল কাদেরের মতে, চান মিয়া অত্যন্ত মেধাবী ও নম্র স্বভাবের ছিলেন। তাঁর জীবনের সবকিছু ঘিরে ছিল ইসলামী আন্দোলন। আব্দুল কাদের যখন তাকে একটু সতর্ক হতে বলতেন, তখন তিনি মায়ের কাছে গিয়ে জানতে চাইতেন— 'আমি ইসলামী আন্দোলনের জন্য শহীদ হয়ে গেলে কি তোমাদের কোন ক্ষতি হবে?'
সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় কার্যকর করা হয়। এর প্রতিবাদে ১৪ ডিসেম্বর বিকালে বসুরহাটে প্রতিবাদ মিছিলের আয়োজন করা হয়। মিছিলটি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা মসজিদের সামনে পৌঁছালে পুলিশ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগ আক্রমণ চালায়। হামলাকারীরা সশস্ত্র থাকলেও প্রতিবাদী জনতা ছিল নিরস্ত্র। ওই অবস্থায় শহীদের বুকের ডানদিকে পুলিশের ছোঁড়া গুলি এসে বিদ্ধ হয়।
আপনজনদের কথা
পিতা আবদুল খালেক: "আমার ছেলে ছিল সোনার টুকরা ছেলে। নামাজ-কালামে যেমন, পড়াশোনায়ও তেমন জেয়ান (মেধা) ছিল তার। আমি একদিনও তাঁর কথা ভুলতে পারি না।"
মাতা গোলনাহার: "আমার ছেলে সব সময় বলত, মা আমি যদি মরে যাই আল্লাহর দ্বীনের জন্য, আপনার কি কোন ক্ষতি হবে? আমি বলতাম, এত কষ্ট করে বড় করছি কি মরে যাওয়ার জন্য? ছেলে বলত, মা আপনার তো আরও তিন ছেলে আছে। আপনি নামাজ পড়ে আমার জন্য দোয়া করবেন।"
ব্যক্তিগত তথ্য
শহীদ আবদুস সাত্তার চান মিয়া একজন ভালো ফুটবলার ছিলেন।
তাঁর শখ ছিল ভ্রমণ করা এবং স্বপ্ন ছিল শিক্ষক হওয়া।
তিনি কলেজ শাখার অর্থ সম্পাদক ছিলেন এবং সর্বশেষ দায়িত্ব ছিল মুছাপুর ৬ নং ওয়ার্ড সেক্রেটারি।
পারিবারিক অবস্থা
শহীদের পিতা, মাতা বেঁচে আছেন। শহীদের তিন ভাই পড়াশোনায় ছিলেন। বর্তমানে শহীদের বড় ভাই নিরাপত্তাহীনতার কারণে ঢাকায় অবস্থান করছেন এবং ছোট ভাই একই কারণে দেশ ছেড়ে বিদেশে চলে গেছেন। পরিবারের আর্থিক অবস্থা তেমন ভালো নয়।
ভাই-বোনদের বিবরণ
১। বড় ভাই আবদুল কাদের জিলানী : মাস্টার্স অধ্যয়নরত। ২। ছোট ভাই আবদুল্লাহ আল মামুন : নিরাপত্তাহীনতার কারণে বিদেশে অবস্থান করছেন। ৩। ছোট ভাই আবদুল্লাহ আল নোমান : অষ্টম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত।
এক নজরে শহীদ আবদুস সাত্তার (চান মিয়া)
নাম: শহীদ আবদুস সাত্তার (চান মিয়া)
পিতা: আবদুল খালেক
মাতা: গোলনাহার
জন্ম: ১০ জানুয়ারি ১৯৯৬
ঠিকানা: গ্রাম- মুছাপুর, উপজেলা- কোম্পানীগঞ্জ, জেলা- নোয়াখালী
সর্বশেষ পড়াশোনা: এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষ, বামনী কলেজ
ভাই-বোনের সংখ্যা: চার ভাইয়ের মধ্যে দ্বিতীয়
সাংগঠনিক মান: কর্মী, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবির
সাংগঠনিক দায়িত্ব: বামনী কলেজ শাখার অর্থ সম্পাদক, মুছাপুর ৬ নং ওয়ার্ড সেক্রেটারি
কিভাবে শহীদ হলেন: বসুরহাটে আয়োজিত মিছিলে পুলিশের গুলিতে শাহাদাতবরণ করেন
শাহাদাতের তারিখ: ১৪ ডিসেম্বর ২০১৩
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍