শহীদ মাহমুদুল হক নিশু
আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
শহীদ মাহমুদুল হক নিশু যেদিন শহীদ হন, সেদিন যোহরের নামাজে যাওয়ার আগে তাঁর মা তাঁকে প্রশ্ন করেন, ‘তুই কি আমাদের মা-বাপকে বেশি ভালবাসিস না তোর সংগঠনকে?’ উত্তরে নিশু তাঁর মাকে বলেছিলেন, ‘আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ডাকে অবশ্যই সাড়া দিতে হবে। আমি আজ মিছিলে যাবো। হয়তো শহীদ হয়ে ফিরে আসবো। আমার জন্য হা-হুতাশ করে কাঁদবেন না। জান্নাতে দেখা হবে ইনশাআল্লাহ।’
🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ
শহীদের জন্ম : ০১ জানুয়ারি ১৯৯২, শাহাদাত বরণ : ১৪ ডিসেম্বর ২০১৩
শহীদের পরিচিতি
নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চর পার্বতী গ্রামের বড় পুকুরওয়ালা বাড়ির সন্তান শহীদ মাহমুদুল হক নিশু। পিতা : মাহবুবুল হক, মাতা : জাহানারা বেগম। দরিদ্র পরিবারের সন্তান হওয়ার কারণে স্থানীয় মেহেরুন্নেসা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৯ম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করে ড্রাইভিং শেখেন তিনি। ঢাকায় প্রাইভেট কার চালিয়ে তিনি জীবিকা নির্বাহের চেষ্টা করেন। চার ভাইয়ের মধ্যে তিনি তৃতীয়। তাঁর গোটা পরিবার ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত। তিনি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে যান
শহীদ হওয়ার মাস তিনেক আগে তিনি মতিঝিল থেকে গ্রেফতার হন। এরপর জামিনে মুক্তি লাভ করে বাড়িতে আসেন। বাড়িতে থাকাকালেই শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় কার্যকর করা হয়। এর প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলে সেদিন তিনিও যোগ দেন। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা মসজিদ চত্বর থেকে মিছিল শুরু হলে একযোগে হামলা চালায় পুলিশ, বিজিবি, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ। এই হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে শাহাদাতবরণ করেন সর্বমোট ৭ জন ভাই। এদের মধ্যে ৩ জনের মৃত্যু হয় ঘটনাস্থলে, ৪ জন হাসপাতালে। বেলা ৩টা ৩০ মিনিটে শহীদ মাহমুদুল হক গুলিবিদ্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শাহাদাতবরণ করেন। ১৫ ডিসেম্বর রাত ৮ টায় জানাজা শেষে শহীদকে তাঁর পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
কেমন ছিলেন শহীদ নিশু
শহীদের পরিবারটি আগে থেকেই ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিল। তাঁর পিতা-মাতা ছিলেন আন্দোলনের শুভাকাঙ্ক্ষী আর তিনি ছিলেন বৃহত্তর আন্দোলনের একজন কর্মী। তাঁর স্বভাব-চরিত্র ছিল অসাধারণ। তিনি কতটা নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন আল্লাহর পথে তা শাহাদাতের দিনের একটি ঘটনা থেকে জানা যায়। সেদিন মায়ের সাথে কথা বলে তিনি স্থানীয় মসজিদে সালাতুল যোহর আদায় করে পাশের বাড়িতে দাওয়াত খান এবং ওখান থেকে সরাসরি মিছিলে চলে যান।
সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
২০১৩ সালের ১৪ই ডিসেম্বর পুলিশ প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল শুরু হলে সম্পূর্ণ বিনা উস্কানিতে নিরস্ত্র ও শান্তিকামী জনতার উপর পুলিশ ও আওয়ামী ছাত্রলীগের সশস্ত্র ক্যাডাররা নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে। ফলে আব্দুল আজিজ রায়হান, সাইফুল ইসলাম, মতিউর রহমান সজিব, আবদুস সাত্তার, মাহমুদুল ইসলাম নিশু, আবদুন নূর রাসেল ও সাইফুল ইসলাম শাহাদাত বরণ করেন। শাহাদাতের পর শহীদ নিশুর লাশ পুলিশ নিয়ে যায় এবং পোস্টমর্টেমের পর ১৫ ডিসেম্বর লাশ হস্তান্তর করে। আবদুল্লাহ আল নোমান, সোহাগ, তুষার, মানিক, অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র উসমান গণি আলো সহ ৩০/৩৫ জন গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে মানবেতর জীবন যাপন করছে।
ব্যক্তিগত তথ্য
শহীদ মাহমুদুল হক নিশু ছিলেন ২২ বছর বয়সী এক নওজোয়ান। তিনি ছিলেন অবিবাহিত। একজন সাধারণ ড্রাইভার হলেও খেলাধুলা আর ভ্রমণ করা ছিল তাঁর শখ।
ভাই-বোনদের বিবরণ
১। নজরুল ইসলাম (বড় ভাই), প্রবাসী। ২। নূর নবী (মেঝো ভাই), চাকুরিজীবী। ৩। নোমান সিদ্দিক (ছোট ভাই), ছাত্র।
এক নজরে শহীদ মাহমুদুল হক নিশু
নাম: শহীদ মাহমুদুল হক নিশু
পিতা: মাহবুবুল হক
মাতা: জাহানারা বেগম
জন্ম: ০১ জানুয়ারি ১৯৯২
ঠিকানা: বড় পুকুরওয়ালা বাড়ী, গ্রাম- চর পার্বতী, উপজেলা- কোম্পানীগঞ্জ, জেলা- নোয়াখালী
পেশা: ড্রাইভার
ভাই-বোনের সংখ্যা: চার ভাইয়ের মধ্যে তৃতীয়
সাংগঠনিক মান: কর্মী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী
কিভাবে শহীদ হলেন: শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকরের প্রতিবাদে আয়োজিত মিছিলে পুলিশের গুলিতে শাহাদাত বরণ করেন
শাহাদাতের তারিখ: ১৪ ডিসেম্বর ২০১৩
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍