শহীদ মতিউর রহমান সজীব
আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
শহীদ মতিউর রহমান সজীবের আকাঙ্খা ছিল শহীদী মৃত্যু। তিনি তাঁর মাকে বলতেন, শহীদরা কখনো মৃত্যুবরণ করে না। তারা জীবিতই থাকে। শহীদ হওয়ার আগে তিনি কবরস্থানের মাটি ভরাট করেছিলেন।
🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ
জন্ম : ০২ জানুয়ারি ১৯৯৬, শাহাদাতবরণ : ১৪ ডিসেম্বর ২০১৩।
শহীদের পরিচিতি
নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের নয়ন হাজীর বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন শহীদ মতিউর রহমান সজীব। তাঁর পিতার নাম আবদুর রহমান, মায়ের নাম : নূরেন নেসা। তাঁর শাহাদাত লাভের কিছু দিন পরই তাঁর বৃদ্ধ ও অসুস্থ পিতা ইন্তেকাল করেন। মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান ছিলেন তিনি। পিতা-মাতার চার সন্তানের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট। পিতা-মাতা ও ভাই-বোনদের স্বপ্ন ছিল, মাদরাসায় লেখাপড়া করে শহীদ মতিউর রহমান সজীব একজন বড় আলেম হয়ে উঠবেন। একই স্বপ্ন ছিল শহীদেরও। সেই লক্ষ্যে তিনি প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়ার পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলনেও ছিলেন নিবেদিত প্রাণ। যে কারণে এলাকাবাসীর প্রিয় পাত্র হয়ে ওঠেন শহীদ সজীব। বসুরহাট ফাজিল মাদরাসার ছাত্র ছিলেন তিনি। শাহাদাতবরণকালে তিনি ছিলেন উক্ত মাদরাসা থেকে দাখিল পরীক্ষার্থী।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে যান
ঘটনাস্থল শহীদের নিজ বাড়ি থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে। সেদিন মিছিলের খবর পেয়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে দলে দলে লোকজন হাজির হয় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা মসজিদ চত্বরে। শহীদ মতিউর রহমান সজীব বাড়ি থেকে পায়ে হেঁটে উক্ত মিছিলে অংশগ্রহণ করেন। বিকাল ৩ টা ১৫ মিনিটে মিছিল শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ, বিজিবি ও সরকারী দলের সন্ত্রাসীরা যৌথভাবে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে মিছিলের ওপর। বিকাল ৩ টা ২০ মিনিটের দিকে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। গুলি এসে বিদ্ধ হয় তাঁর নাভির বাম পাশে। সঙ্গীসাথীরা তাকে হাসপাতালে নেয়ার পথে তিনি শাহাদাতবরণ করেন। তাঁর লাশ নিয়ে আসা হয় নিজ বাড়িতে। চার সহস্রাধিক মানুষের উপস্থিতিতে হাফেজ এনায়েত উল্লাহর ইমামতিতে রাত ৮ টায় তাঁর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
কেমন ছিলেন শহীদ মতিউর রহমান সজীব
খুবই সহজ-সরল জীবন যাপন করতেন শহীদ মতিউর রহমান সজীব। তিনি ছিলেন অত্যন্ত ভদ্র ও বিনয়ী। তিনি প্রায়ই তাঁর মা ও আত্মীয় স্বজনের নিকট শহীদ হওয়ার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করতেন। শহীদ হওয়ার আগে তিনি পারিবারিক কবরস্থানে মাটি ভরাট করেছিলেন। শহীদ হওয়ার আগের রাতে রাত প্রায় ৩ টায় তিনি তাঁর প্রিয়জনদের নিয়ে বৈঠকে বসেন। তিনি ছিলেন গান প্রিয় তরুণ। প্রায়ই তাঁর মুখে ইসলামী গান শোনা যেতো। যে দিন তিনি শহীদ হন সেদিন দুপুরে বড় বোনের বাসায় খাবার খেয়ে তিনি মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন। এর আগে আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় রাতে কার্যকর না হয়, এজন্য তিনি দুটি নফল রোজা রেখেছিলেন। খেলাধুলাও তাঁর প্রিয় ছিল। তিনি তাঁর খেলার সাথীদের নিয়ে মসজিদে অথবা বাড়িতে জামায়াতের সহিত নামাজ আদায় করতেন।
সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
প্রহসনের বিচারের মাধ্যমে ২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর রাতে ইসলামী আন্দোলনের নেতা আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় কার্যকর করা হয়। এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে তাওহিদী জনতা বিক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করে। দেশ-বিদেশে বিক্ষোভ হতে থাকে। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের উদ্যোগে প্রতিবাদ মিছিলের আয়োজন করা হয়। থানার ওসি মৌখিক অনুমতি প্রদান করলে ১৪ ডিসেম্বর বিকাল ৩ টা ১৫ মিনিটে উপজেলা মসজিদ চত্বরে সমবেত হয় দুই সহস্রাধিক মানুষ। মিছিল শুরু হতে না হতেই পুলিশ, বিজিবি ও সরকারী দলের সন্ত্রাসীরা গুলিবর্ষণ শুরু করে। ওসির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এসপি ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দোহাই দেন। সেদিন থানার তদন্ত ওসিকে ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করে উল্টো পুলিশকে গুলিবর্ষণ অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেন। সেদিনের ঐতিহাসিক গণহত্যয় ৭ জন বীর সন্তান শাহাদাতবরণ করেন। শহীদ মতিউর রহমান সজীব ছিলেন তাদেরই একজন।
ব্যক্তিগত তথ্য
শহীদ মতিউর রহমান সজীবের সখ ছিল বই পড়া ও ভ্রমণ করা। তাঁর জীবনের লক্ষ্য ছিল বড় আলেম হওয়া।
পারিবারিক অবস্থা
শহীদ পরিবার ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত রয়েছে। আর্থিক অবস্থা মোটামুটি ভালো। প্রবাসী বড় ভাইয়ের আয়ে সংসার চলছে। দুই বোন বিবাহিতা।
ভাই-বোনদের বিবরণ
১। আবু নাসের- প্রবাসী।
২। শামসুন নাহার- গৃহিণী।
৩। নাজনীন আক্তার- গৃহিণী।
এক নজরে শহীদ মতিউর রহমান সজীব
নাম : শহীদ মতিউর রহমান সজীব
পিতা : আবদুর রহমান
মাতা : নূরেন নেসা
জন্ম : ০২ জানুয়ারি ১৯৯৬
ঠিকানা : নয়ন হাজীর বাড়ি, ৬নং ওয়ার্ড, বসুরহাট উপজেলা- কোম্পানীগঞ্জ, জেলা- নোয়াখালী
সর্বশেষ পড়ালেখা : দাখিল পরীক্ষার্থী, বসুরহাট ফাজিল মাদরাসা
ভাই-বোনের সংখ্যা : চার ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট
কিভাবে শহীদ হলেন : শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকরের প্রতিবাদে উপজেলা মসজিদ চত্বরে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশের গুলিতে শাহাদাত বরণ করেন
শাহাদাতের তারিখ : ১৪ ডিসেম্বর ২০১৩
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍