শহীদ আবদুল্লাহ আল মুনজু
আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
ছোটবেলা থেকেই শহীদ মুনজু কখনো নামাজ কাজা করতেন না। হাই স্কুল জীবনের শুরু থেকেই তিনি ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি ছিলেন ছাত্র শিবিরের নিবেদিত প্রাণ কর্মী। বাড়িতে অনেক সময় পাড়ার মহিলা তাঁর মায়ের সঙ্গে গল্প করতে আসতো কিন্তু শহীদ মুনজু তাদের অনর্থক গল্প পছন্দ করতেন না। তাঁর দাদা ধূমপান করতেন। একদিন তিনি দাদাকে বলেন, বিড়ি খাওয়া ছেড়ে দেন। আপনি তো নামাজ পড়েন। বিড়ি খেলে অন্য নামাজীদের অসুবিধা হয়। সেদিন থেকে তাঁর দাদা বিড়ি খাওয়া ছেড়ে দেন। তিনি তাঁর নিজের পিতাকে তাগাদা দিয়ে নিয়মিত নামাজীতে পরিণত করেন। তাঁর পিতা বলেন, 'আমি নিয়মিত নামাজ পড়তাম না। ও আমাকে বলল, নিয়মিত নামাজ পড়তে হবে। আমি বললাম নামাজ না পড়লে কি হবে। আমি তো খারাপ কিছু করি না। ভালো কাজ করি। ও বলল, 'নামাজ না পড়লে তোমার ভাল কাজ যে আল্লাহর দরবারে কবুল হবে না।' তখন থেকে আমি নিয়মিত নামাজ আদায়ের চেষ্টা করি।
🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ
শহীদ আবদুল্লাহ আল মুনজু ছিলেন হতদরিদ্র পরিবারের অসাধারণ এক মেধাবী সন্তান। তারই প্রভাবে পিতা নিয়মিত নামাজী হয়ে ওঠেন। দাদা তাঁর কথা শুনে ধূমপান ছেড়ে দেন। এভাবেই তিনি পরিচিত ছোট-বড় অনেকের জীবনে পরিবর্তন আনতে সক্ষম হন তিনি।
জন্ম: ১০ জানুয়ারি ১৯৯৬, শাহাদাতবরণ: ১৩ এপ্রিল ২০১২।
শহীদের পরিচিতি
কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালি থানার পান্টি পশ্চিম পাড়ায় এক হতদরিদ্র পিতার ঘরে জন্ম নেন শহীদ আবদুল্লাহ আল মুনজু। তাঁর পিতার নাম মোহাম্মদ আবদুর রশীদ, মায়ের নাম মোসাম্মাৎ রুবিয়া খাতুন। পিতা মাতার তিন সন্তানের মধ্যে একমাত্র পুত্র ছিলেন তিনি। তাঁর দরিদ্র পিতা পান্টি বাজারে দীর্ঘ ২৫ বছর যাবত সাইকেল মেরামতের দোকান চালনা করে আসছেন। শহীদ মুনজু পান্টি প্রাইমারি স্কুল শেষ করে পান্টি হাই স্কুল থেকে এসএসসি পাশ করেন। এরপর তিনি ভর্তি হন পান্টি ডিগ্রি কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে একাদশ শ্রেণীতে। শাহাদাতবরণকালে তিনি প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে যান:
আল নূর সেবা সংস্থা ও পাঠাগার নামে নিজেদের পাড়ায় একটি সংস্থা ছিলো। এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন শহীদ মুনজু ও তাঁর বন্ধুরা। এপ্রিল মাসের ৯ তারিখে ওই সংস্থার উদ্যোগে সীরাতুন্নবী (সাঃ) মাহফিল ও কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। সরকারী দলের স্থানীয় লোকেরা এ আয়োজন বন্ধ করার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে তাঁরা প্রশাসনের সাহায্য নিয়ে মাহফিলের আয়োজন বন্ধ করে দেয়। পরে কুইজ প্রতিযোগিতাটা চালু রাখা হয় এবং কুইজে একটি প্রশ্ন করা হয় যে, এই সংস্থার কততম মাহফিল বন্ধ করে দেয়া হয়। এই প্রশ্ন নিয়ে সরকার পক্ষের নেতা-কর্মীরা একটা উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা চালায়। তাঁরা বহুসংখ্যক ঘর-বাড়ি ভাঙচুর করে। এমতাবস্থায় আক্রান্ত মানুষরা রুখে দাঁড়ায়। নতুন করে ভাঙচুর করতে আসা ব্যক্তিদের প্রতিহত করা হয়। কিন্তু তাঁরা সর্বাস্থায় প্রশাসনের সহায়তা এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রাখে। তাঁরা বিভিন্ন অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে এলাকায় টহল দিতে থাকে। ১৩ এপ্রিল সকাল ৮ টার দিকে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী নিজ বাড়ির সামনে বসে থাকা অবস্থায় শহীদ মুনজুকে 'ফালা' দিয়ে আক্রমণ করে। 'ফালা' হচ্ছে আড়াইহাত লম্বা একটি বাঁশের মাথায় গাঁথা লোহার ধারালো অস্ত্র। এই অস্ত্রটি শহীদ মুনজুর বুকে এমনভাবে বিধিয়ে দেয়া হয় যে, তাঁর শরীর এফোঁড় ওফোঁড় হয়ে যায়। উনি নিজে টান দিয়ে এটা বুক থেকে বের করে ঘরে চলে আসেন। সাথে সাথে তাকে হাসপাতালে নেয়ার ব্যবস্থা করা হয়। হাসপাতালে নেয়ার পথে তিনি শাহাদাতবরণ করেন।
সেদিনই তাঁর নামাজে জানাজা শেষে তাকে পাড়ার কবরস্থানের দাফন করা হয়।
মামলা
এ ঘটনায় শহীদের পিতা বাদী হয়ে কুমারখালি থানায় একটি মামলা করেন। এই মামলার আসামী সংখ্যা ৩৭জন। সবার নাম উল্লেখ করেই মামলা করা হয়। বর্তমানে মামলাটির সাক্ষী চলছে।
কেমন ছিলেন শহীদ মুনজু
ছোটবেলা থেকেই শহীদ মুনজু কখনো নামাজ কাজা করতেন না। হাই স্কুল জীবনের শুরু থেকেই তিনি ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি ছিলেন ছাত্র শিবিরের নিবেদিত প্রাণ কর্মী। বাড়িতে অনেক সময় পাড়ার মহিলা তাঁর মায়ের সঙ্গে গল্প করতে আসতো কিন্তু শহীদ মুনজু তাদের অনর্থক গল্প পছন্দ করতেন না। তাঁর দাদা ধূমপান করতেন। একদিন তিনি দাদাকে বলেন, বিড়ি খাওয়া ছেড়ে দেন। আপনি তো নামাজ পড়েন। বিড়ি খেলে অন্য নামাজীদের অসুবিধা হয়। সেদিন থেকে তাঁর দাদা বিড়ি খাওয়া ছেড়ে দেন। তিনি তাঁর নিজের পিতাকে তাগাদা দিয়ে নিয়মিত নামাজীতে পরিণত করেন। তাঁর পিতা বলেন, 'আমি নিয়মিত নামাজ পড়তাম না। ও আমাকে বলল, নিয়মিত নামাজ পড়তে হবে। আমি বললাম নামাজ না পড়লে কি হবে। আমি তো খারাপ কিছু করি না। ভালো কাজ করি। ও বলল, 'নামাজ না পড়লে তোমার ভাল কাজ যে আল্লাহর দরবারে কবুল হবে না।' তখন থেকে আমি নিয়মিত নামাজ আদায়ের চেষ্টা করি।
সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
আল নূর সেবা সংস্থা ও পাঠাগার নামে নিজেদের পাড়ায় একটি সংস্থা ছিলো। এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন শহীদ মুনজু ও তাঁর বন্ধুরা। এপ্রিল মাসের ৯ তারিখে ওই সংস্থার উদ্যোগে সীরাতুন্নবী (সাঃ) মাহফিল ও কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। সরকারী দলের স্থানীয় লোকেরা এ আয়োজন বন্ধ করার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে তাঁরা প্রশাসনের সাহায্য নিয়ে মাহফিলের আয়োজন বন্ধ করে দেয়। পরে কুইজ প্রতিযোগিতাটা চালু রাখা হয় এবং কুইজে একটি প্রশ্ন করা হয় যে, এই সংস্থার কততম মাহফিল বন্ধ করে দেয়া হয়। এই প্রশ্ন নিয়ে সরকার পক্ষের নেতা-কর্মীরা একটা উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা চালায়। তাঁরা বহুসংখ্যক ঘর-বাড়ি ভাঙচুর করে। এমতাবস্থায় আক্রান্ত মানুষেরা রুখে দাঁড়ায়। নতুন করে ভাঙচুর করতে আসা ব্যক্তিদের প্রতিহত করা হয়। কিন্তু তাঁরা সর্বাবস্থায় প্রসাশনের সহায়তা এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রাখে। তাঁরা বিভিন্ন অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে এলাকায় টহল দিতে থাকে। ১৩ এপ্রিল সকাল ৮ টার দিকে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী নিজ বাড়ির সামনে বসে থাকা অবস্থায় শহীদ মুনজুকে 'ফালা' দিয়ে আক্রমণ করে। 'ফালা' হচ্ছে আড়াইহাত লম্বা একটি বাঁশের মাথায় গাঁথা লোহার ধারালো অস্ত্র। এই অস্ত্রটি শহীদ মুনজুর বুকে এমনভাবে বিধিয়ে দেয়া হয় যে, তাঁর শরীর এফোঁড় ওফোঁড় হয়ে যায়। উনি নিজে টান দিয়ে এটা বুক থেকে বের করে ঘরে চলে আসেন। সাথে সাথে তাকে হাসপাতালে নেয়ার ব্যবস্থা করা হয়। হাসপাতালে নেয়ার পথে তিনি শাহাদাতবরণ করেন। সেদিনই তাঁর নামাজে জানাজা শেষে তাকে পাড়ার কবরস্থানের দাফন করা হয়।
শহীদের আপনজনদের কথা:
শহীদের পিতা বলেন, 'আমার ছেলেকে আল্লাহ যেমন চেহারা সুরত দিয়েছিলো, তেমনি মেধাও দিয়েছিলো। আমি ভেবেছিলাম ও এসএসসি এ+ পাবে কিন্তু পায়নি। ওর পয়েন্ট ছিল ৪.৭৫। বলছিলো এইচএসসি পুশিয়ে নিবে। সে সুযোগ আর সে পায়নি। আল্লাহ তাকে নিয়ে গেছেন নিজের কাছে।' শহীদের মা বলেন, 'যে দিন ও শহীদ হয়, সেদিন সকালে নামাজ পড়ে এসেছে। এসে দেখলো আমি কোরআন শরীফ নিয়ে বসেছি। আমরা মায়ে-পুতে একটা কোরআন শরীফ পড়তাম। ও আমাকে পড়তে দেখো বলল, আজ তো কলেজ বন্ধ। আজ একটু খেলতে যাবো। এই বলে যে বের হলো তাঁর কিছুক্ষণ পরেই
আমি শুনলাম শোরগোল, 'তিনি বলেন, আমার ছেলে সব সময় ভালো কাজ আর লেখাপড়া নিয়ে ব্যস্ত থাকতো। আমার কাছে এসে মহিলারা বসলে অনর্থক গাল-গল্প করলে ও এটা পছন্দ করতো না। ও ঘরে আসলে আমি সবাইকে চলে যেতে বলতাম। নিজের চাচাতো বোনদের বিনা কাজে বাড়ির বাইরে যেতে দিতো না। সবার দিকে খেয়াল রাখতো।
শহীদের পিতা বলেন,' আমার মাধ্যমেই আমার ছেলে ছাত্র শিবিরের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। আমি ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের চিনতাম, জানতাম, ওদের ভালো লাগতো। আমি ওদেরকে বলেছিলাম, তোমরা আমার ছেলেকে দেখে রেখো। এভাবেই ও সংগঠনে যোগ দিয়েছিলো। শহীদের দাদা মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক বলেন, 'আমার এই নাতির কোন তুলনা হয় না। ওর এক কথায় আমি আমার সারাজীবনের বদভ্যাস ধূমপান ছেড়ে দিয়েছি।'
পারিবারিক অবস্থা
শহীদ মুনজুর শাহাদাতের পর তাঁর আরেকটি ছোটবোনের জন্ম হয়। মুনজুর পিতা সাইকেল মেরামতের দোকান থেকে সামান্য আয় করেন। দাদা বৃদ্ধ অসুস্থ। পরিবারটি ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত।
ভাই-বোনদের বিবরণ
১। মোসাম্মাৎ উনযিলা খাতুন, নবম শ্রেণী।
২। মোসাম্মাৎ আমেনা খাতুন মিনা, বয়স পাঁচ বছর।
এক নজরে শহীদ আবদুল্লাহ আল মুনজু
নাম: শহীদ আবদুল্লাহ আল মুনজু
পিতা: মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
মাতা: মোসাম্মাৎ রুবিয়া খাতুন
জন্ম: ১০ জানুয়ারি ১৯৯৬
ঠিকানা: গ্রাম- পান্টি পশ্চিমপাড়া, থানা- কুমারখালী, জেলা- কুষ্টিয়া
সর্বশেষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: পান্টি ডিগ্রি কলেজ, বিজ্ঞান, একাদশ শ্রেণি
ভাই-বোনের সংখ্যা: তিন ভাই-বোনের মধ্যে একমাত্র ভাই
সাংগঠনিক মান: কর্মী
জন্ম: ১০ জানুয়ারি ১৯৯৬, শাহাদাতবরণ: ১৩ এপ্রিল ২০১২।
শহীদের পরিচিতি
কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালি থানার পান্টি পশ্চিম পাড়ায় এক হতদরিদ্র পিতার ঘরে জন্ম নেন শহীদ আবদুল্লাহ আল মুনজু। তাঁর পিতার নাম মোহাম্মদ আবদুর রশীদ, মায়ের নাম মোসাম্মাৎ রুবিয়া খাতুন। পিতা মাতার তিন সন্তানের মধ্যে একমাত্র পুত্র ছিলেন তিনি। তাঁর দরিদ্র পিতা পান্টি বাজারে দীর্ঘ ২৫ বছর যাবত সাইকেল মেরামতের দোকান চালনা করে আসছেন। শহীদ মুনজু পান্টি প্রাইমারি স্কুল শেষ করে পান্টি হাই স্কুল থেকে এসএসসি পাশ করেন। এরপর তিনি ভর্তি হন পান্টি ডিগ্রি কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে একাদশ শ্রেণীতে। শাহাদাতবরণকালে তিনি প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে যান:
আল নূর সেবা সংস্থা ও পাঠাগার নামে নিজেদের পাড়ায় একটি সংস্থা ছিলো। এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন শহীদ মুনজু ও তাঁর বন্ধুরা। এপ্রিল মাসের ৯ তারিখে ওই সংস্থার উদ্যোগে সীরাতুন্নবী (সাঃ) মাহফিল ও কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। সরকারী দলের স্থানীয় লোকেরা এ আয়োজন বন্ধ করার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে তাঁরা প্রশাসনের সাহায্য নিয়ে মাহফিলের আয়োজন বন্ধ করে দেয়। পরে কুইজ প্রতিযোগিতাটা চালু রাখা হয় এবং কুইজে একটি প্রশ্ন করা হয় যে, এই সংস্থার কততম মাহফিল বন্ধ করে দেয়া হয়। এই প্রশ্ন নিয়ে সরকার পক্ষের নেতা-কর্মীরা একটা উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা চালায়। তাঁরা বহুসংখ্যক ঘর-বাড়ি ভাঙচুর করে। এমতাবস্থায় আক্রান্ত মানুষরা রুখে দাঁড়ায়। নতুন করে ভাঙচুর করতে আসা ব্যক্তিদের প্রতিহত করা হয়। কিন্তু তাঁরা সর্বাস্থায় প্রশাসনের সহায়তা এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রাখে। তাঁরা বিভিন্ন অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে এলাকায় টহল দিতে থাকে। ১৩ এপ্রিল সকাল ৮ টার দিকে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী নিজ বাড়ির সামনে বসে থাকা অবস্থায় শহীদ মুনজুকে 'ফালা' দিয়ে আক্রমণ করে। 'ফালা' হচ্ছে আড়াইহাত লম্বা একটি বাঁশের মাথায় গাঁথা লোহার ধারালো অস্ত্র। এই অস্ত্রটি শহীদ মুনজুর বুকে এমনভাবে বিধিয়ে দেয়া হয় যে, তাঁর শরীর এফোঁড় ওফোঁড় হয়ে যায়। উনি নিজে টান দিয়ে এটা বুক থেকে বের করে ঘরে চলে আসেন। সাথে সাথে তাকে হাসপাতালে নেয়ার ব্যবস্থা করা হয়। হাসপাতালে নেয়ার পথে তিনি শাহাদাতবরণ করেন।
সেদিনই তাঁর নামাজে জানাজা শেষে তাকে পাড়ার কবরস্থানের দাফন করা হয়।
মামলা
এ ঘটনায় শহীদের পিতা বাদী হয়ে কুমারখালি থানায় একটি মামলা করেন। এই মামলার আসামী সংখ্যা ৩৭জন। সবার নাম উল্লেখ করেই মামলা করা হয়। বর্তমানে মামলাটির সাক্ষী চলছে।
কেমন ছিলেন শহীদ মুনজু
ছোটবেলা থেকেই শহীদ মুনজু কখনো নামাজ কাজা করতেন না। হাই স্কুল জীবনের শুরু থেকেই তিনি ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি ছিলেন ছাত্র শিবিরের নিবেদিত প্রাণ কর্মী। বাড়িতে অনেক সময় পাড়ার মহিলা তাঁর মায়ের সঙ্গে গল্প করতে আসতো কিন্তু শহীদ মুনজু তাদের অনর্থক গল্প পছন্দ করতেন না। তাঁর দাদা ধূমপান করতেন। একদিন তিনি দাদাকে বলেন, বিড়ি খাওয়া ছেড়ে দেন। আপনি তো নামাজ পড়েন। বিড়ি খেলে অন্য নামাজীদের অসুবিধা হয়। সেদিন থেকে তাঁর দাদা বিড়ি খাওয়া ছেড়ে দেন। তিনি তাঁর নিজের পিতাকে তাগাদা দিয়ে নিয়মিত নামাজীতে পরিণত করেন। তাঁর পিতা বলেন, 'আমি নিয়মিত নামাজ পড়তাম না। ও আমাকে বলল, নিয়মিত নামাজ পড়তে হবে। আমি বললাম নামাজ না পড়লে কি হবে। আমি তো খারাপ কিছু করি না। ভালো কাজ করি। ও বলল, 'নামাজ না পড়লে তোমার ভাল কাজ যে আল্লাহর দরবারে কবুল হবে না।' তখন থেকে আমি নিয়মিত নামাজ আদায়ের চেষ্টা করি।
সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
আল নূর সেবা সংস্থা ও পাঠাগার নামে নিজেদের পাড়ায় একটি সংস্থা ছিলো। এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন শহীদ মুনজু ও তাঁর বন্ধুরা। এপ্রিল মাসের ৯ তারিখে ওই সংস্থার উদ্যোগে সীরাতুন্নবী (সাঃ) মাহফিল ও কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। সরকারী দলের স্থানীয় লোকেরা এ আয়োজন বন্ধ করার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে তাঁরা প্রশাসনের সাহায্য নিয়ে মাহফিলের আয়োজন বন্ধ করে দেয়। পরে কুইজ প্রতিযোগিতাটা চালু রাখা হয় এবং কুইজে একটি প্রশ্ন করা হয় যে, এই সংস্থার কততম মাহফিল বন্ধ করে দেয়া হয়। এই প্রশ্ন নিয়ে সরকার পক্ষের নেতা-কর্মীরা একটা উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা চালায়। তাঁরা বহুসংখ্যক ঘর-বাড়ি ভাঙচুর করে। এমতাবস্থায় আক্রান্ত মানুষেরা রুখে দাঁড়ায়। নতুন করে ভাঙচুর করতে আসা ব্যক্তিদের প্রতিহত করা হয়। কিন্তু তাঁরা সর্বাবস্থায় প্রসাশনের সহায়তা এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রাখে। তাঁরা বিভিন্ন অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে এলাকায় টহল দিতে থাকে। ১৩ এপ্রিল সকাল ৮ টার দিকে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী নিজ বাড়ির সামনে বসে থাকা অবস্থায় শহীদ মুনজুকে 'ফালা' দিয়ে আক্রমণ করে। 'ফালা' হচ্ছে আড়াইহাত লম্বা একটি বাঁশের মাথায় গাঁথা লোহার ধারালো অস্ত্র। এই অস্ত্রটি শহীদ মুনজুর বুকে এমনভাবে বিধিয়ে দেয়া হয় যে, তাঁর শরীর এফোঁড় ওফোঁড় হয়ে যায়। উনি নিজে টান দিয়ে এটা বুক থেকে বের করে ঘরে চলে আসেন। সাথে সাথে তাকে হাসপাতালে নেয়ার ব্যবস্থা করা হয়। হাসপাতালে নেয়ার পথে তিনি শাহাদাতবরণ করেন। সেদিনই তাঁর নামাজে জানাজা শেষে তাকে পাড়ার কবরস্থানের দাফন করা হয়।
শহীদের আপনজনদের কথা:
শহীদের পিতা বলেন, 'আমার ছেলেকে আল্লাহ যেমন চেহারা সুরত দিয়েছিলো, তেমনি মেধাও দিয়েছিলো। আমি ভেবেছিলাম ও এসএসসি এ+ পাবে কিন্তু পায়নি। ওর পয়েন্ট ছিল ৪.৭৫। বলছিলো এইচএসসি পুশিয়ে নিবে। সে সুযোগ আর সে পায়নি। আল্লাহ তাকে নিয়ে গেছেন নিজের কাছে।' শহীদের মা বলেন, 'যে দিন ও শহীদ হয়, সেদিন সকালে নামাজ পড়ে এসেছে। এসে দেখলো আমি কোরআন শরীফ নিয়ে বসেছি। আমরা মায়ে-পুতে একটা কোরআন শরীফ পড়তাম। ও আমাকে পড়তে দেখো বলল, আজ তো কলেজ বন্ধ। আজ একটু খেলতে যাবো। এই বলে যে বের হলো তাঁর কিছুক্ষণ পরেই
আমি শুনলাম শোরগোল, 'তিনি বলেন, আমার ছেলে সব সময় ভালো কাজ আর লেখাপড়া নিয়ে ব্যস্ত থাকতো। আমার কাছে এসে মহিলারা বসলে অনর্থক গাল-গল্প করলে ও এটা পছন্দ করতো না। ও ঘরে আসলে আমি সবাইকে চলে যেতে বলতাম। নিজের চাচাতো বোনদের বিনা কাজে বাড়ির বাইরে যেতে দিতো না। সবার দিকে খেয়াল রাখতো।
শহীদের পিতা বলেন,' আমার মাধ্যমেই আমার ছেলে ছাত্র শিবিরের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। আমি ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের চিনতাম, জানতাম, ওদের ভালো লাগতো। আমি ওদেরকে বলেছিলাম, তোমরা আমার ছেলেকে দেখে রেখো। এভাবেই ও সংগঠনে যোগ দিয়েছিলো। শহীদের দাদা মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক বলেন, 'আমার এই নাতির কোন তুলনা হয় না। ওর এক কথায় আমি আমার সারাজীবনের বদভ্যাস ধূমপান ছেড়ে দিয়েছি।'
পারিবারিক অবস্থা
শহীদ মুনজুর শাহাদাতের পর তাঁর আরেকটি ছোটবোনের জন্ম হয়। মুনজুর পিতা সাইকেল মেরামতের দোকান থেকে সামান্য আয় করেন। দাদা বৃদ্ধ অসুস্থ। পরিবারটি ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত।
ভাই-বোনদের বিবরণ
১। মোসাম্মাৎ উনযিলা খাতুন, নবম শ্রেণী।
২। মোসাম্মাৎ আমেনা খাতুন মিনা, বয়স পাঁচ বছর।
এক নজরে শহীদ আবদুল্লাহ আল মুনজু
নাম: শহীদ আবদুল্লাহ আল মুনজু
পিতা: মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
মাতা: মোসাম্মাৎ রুবিয়া খাতুন
জন্ম: ১০ জানুয়ারি ১৯৯৬
ঠিকানা: গ্রাম- পান্টি পশ্চিমপাড়া, থানা- কুমারখালী, জেলা- কুষ্টিয়া
সর্বশেষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: পান্টি ডিগ্রি কলেজ, বিজ্ঞান, একাদশ শ্রেণি
ভাই-বোনের সংখ্যা: তিন ভাই-বোনের মধ্যে একমাত্র ভাই
সাংগঠনিক মান: কর্মী