শহীদ খালেদ মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ
আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
শহীদ খালেদ মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ ১৯৯৩ সালের ১২ এপ্রিল ঢাকার ডেমরায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন নম্র, পরহেজগার ও দায়িত্বশীল তরুণ। আলী আকবর মডেল হাই স্কুলের এসএসসি পরীক্ষার্থী অবস্থায়ই তিনি তাওহীদি জনতার পাশে দাঁড়ানোর অদম্য সাহসে পরিচিত ছিলেন। ২০১৩ সালের ৬ মে মাদানীনগর এলাকায় পুলিশের হামলার মুখে প্রতিরোধে এগিয়ে গিয়ে তিনি প্রাণ হারান। তাঁর নিখাদ ঈমান, পরোপকারিতা ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার দৃঢ় মানসিকতা আজও আশেপাশের মানুষকে স্মরণ করায় এক অম্লান চরিত্রের কথা। তাঁর স্বপ্ন ও ত্যাগ অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর অনুপ্রেরণা হয়ে বেঁচে আছে।
🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ
শহীদ খালেদ মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ
ঢাকা-৭
শহীদের পরিচিতি
শহীদ খালেদ মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ ১৯৯৩ সালের ১২ এপ্রিল ঢাকার ডেমরা থানায় জন্মগ্রহণ করেন। পিতা আব্দুল জলীল ও মাতা খাদিজা বেগমের পাঁচ সন্তানের মধ্যে তিনি চতুর্থ। তিনি আলী আকবর মডেল হাই স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছিলেন কিন্তু ফলপ্রকাশের আগেই তিনি চূড়ান্ত পরীক্ষার রেজাল্ট নিয়ে আল্লাহর কাছে চলে যান। পরবর্তীতে এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হলে দেখা যায় শহীদ খালেদ মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ এ মাইনাস পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে যান
৬ মে ২০১৩ চিটাগাংরোডের মাদানীনগর মাদরাসায় পুলিশ ও বিজিবি অতর্কিতে হামলা চালালে স্থানীয় তাওহীদি জনতার সাথে খালেদ মুহাম্মদ সাইফুল্লাহও প্রতিরোধ করতে এগিয়ে যায়। পুলিশ বিজিবি ও র্যাব তাওহীদি জনতার উপর হামলা চালালে খালেদ মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ শাহাদাত বরণ করেন।
শাহাদাতের পূর্বের বিভিন্ন ঘটনা
তিনি প্রায়ই বলতেন- আমি চলে যাব। বহু দূরে চলে যাব, তোমরা কেউ আমাকে খুঁজে পাবে না।। শহীদ খালেদ সাইফুল্লাহ পোস্টার লাগানোতে খুব পারদর্শী ছিলেন। তবে তিনি রাতে পোস্টার লাগানো কখনো সমর্থন করতেন না। তিনি বলতেন, রাতে তো কাজ করে চোরেরা, আমরা কি চোর? আমরা তো ইসলামী আন্দোলনের কর্মী।
সামগ্রীক ঘটনার বিবরণ
৬ মে ২০১৩। হেফাজত ইসলামের আহ্ববানে ঢাকায় অবস্থান কর্মসূচীতে রাতের অন্ধকারে লাইট নিভিয়ে ৫ মে'র গণহত্যার পরদিন সিদ্ধিরগঞ্জের চিটাগাংরোডের মাদানীনগর মাদরাসায় পুলিশ ও বিজিবি অতর্কিতে হামলা চালালে তাদের প্রতিরোধে স্থানীয় তাওহীদি জনতা এগিয়ে আসে, সেই তাওহীদি জনতার কাতারে ছিলেন আমাদের প্রিয় খালেদ মাহমুদ সাইফুল্লাহ ভাই। পুলিশ বিজিবি ও র্যাব তাওহীদি জনতার উপর অতর্কিতে হামলা চালালে আমাদের খালেদ সাইফুল্লাহসহ অনেকে শাহাদাত বরণ করেন।
শহীদের আপন জনদের কথা
শহীদের পিতা মোঃ আব্দুল জলিল বলেন- খালেদ ছিল আমার পাঁচ সন্তানের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরহেজগার আনুগত্যশীল সন্তান। খালেদ আমাকে দোস্ত বলে ডাকত। আমি চোখে কম দেখায় আমাকে জামায়াতের প্রোগ্রামে নিয়ে যেত। সে সব সময় ছিল পরোপকারী। কোন ছাত্র পরীক্ষায় ফি দিতে পারছে না শুনলেই সে তার সহযোগিতার জন্য মরিয়া হয়ে যেত। আর এলাকায় কেউ অসুস্থ হলে তো আর কথাই নেই। খালেদ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতো এবং আব্দুল্লাহকে নামাজের জন্য বকাবকি করতো। খালেদ মৃত্যুর আগে শুধু বলতো আমি চলে যাবো। অনেকদূরে চলে যাবো। এসব কথা বললে আমি তাকে বকতাম। বলতাম কেন তুই চলে যাবি। আমরা তোকে কি করেছি যে তুই চলে যাবি? আজ আমি বুঝতে পেরেছি সে কোথায় চলে যাবে বলতো।
সে শাহাদাতের আগের দিন তার চাচিকে বলেছিল চাচি যে দেশে আল্লাহর রাসূলকে নিয়ে কটুক্তি করা হয় সে দেশে আমাদের মত যুবকদের বেঁচে থেকে কী লাভ? তার চাচা তাকে মিছিলে না নেয়ায় সে তার চাচাকে বলেছিল, "চাচা সংগ্রাম কি তোমরা একলাই করবে? আমাদের অধিকার নেই?" মিছিল, মিটিং কিংবা পোস্টার লাগানোর কথা শুনলেই সে ছুটে যেতো। নিজে একলা যেতো না সব সময় বন্ধুদের নিয়ে যেতে চাইত।
আমার খালেদ ছিল সহজ সরল ও পরোপকারী। তাই তার মৃত্যুতে আমার বাড়ির আশেপাশের সবাই খুব কষ্ট পেয়েছে। এমনকি হিন্দুরাও।
আমার ছেলে খালেদের স্বপ্ন ছিল একজন ভালো আইনজীবী হয়ে মিথ্যের বিরুদ্ধে লড়াই করা। আমার ছেলেকে মহান আল্লাহ কবুল করেছেন এতে আমার কোন কষ্ট নেই। তবে মহান আল্লাহ তায়ালার নিকট আমার ফরিয়াদ আমার খালেদের মতো অসংখ্য শহীদের রক্তগুলোকে তুমি বৃথা যেতে দিয়ো না।
এক নজরে শহীদ খালেদ মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ
নাম: খালেদ মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ।
পিতার নাম: মোঃ আব্দুল জলিল
মাতার নাম: খাদিজা বেগম
জন্ম তারিখ: ১২ এপ্রিল ১৯৯৩
ঠিকানা: ডেমরা, ঢাকা
ভাই-বোন: পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে চতুর্থ
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: আলী আকবর মডেল হাইস্কুল
সাংগঠনিক মান ও দায়িত্ব: কর্মী, উপশাখা সভাপতি, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘটনার স্থান: মাদানীনগর মাদরাসার সামনের রাস্তা, সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়নগঞ্জ
শাহাদাতের তারিখ: ৬ মে, ২০১৩
ঢাকা-৭
শহীদের পরিচিতি
শহীদ খালেদ মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ ১৯৯৩ সালের ১২ এপ্রিল ঢাকার ডেমরা থানায় জন্মগ্রহণ করেন। পিতা আব্দুল জলীল ও মাতা খাদিজা বেগমের পাঁচ সন্তানের মধ্যে তিনি চতুর্থ। তিনি আলী আকবর মডেল হাই স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছিলেন কিন্তু ফলপ্রকাশের আগেই তিনি চূড়ান্ত পরীক্ষার রেজাল্ট নিয়ে আল্লাহর কাছে চলে যান। পরবর্তীতে এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হলে দেখা যায় শহীদ খালেদ মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ এ মাইনাস পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে যান
৬ মে ২০১৩ চিটাগাংরোডের মাদানীনগর মাদরাসায় পুলিশ ও বিজিবি অতর্কিতে হামলা চালালে স্থানীয় তাওহীদি জনতার সাথে খালেদ মুহাম্মদ সাইফুল্লাহও প্রতিরোধ করতে এগিয়ে যায়। পুলিশ বিজিবি ও র্যাব তাওহীদি জনতার উপর হামলা চালালে খালেদ মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ শাহাদাত বরণ করেন।
শাহাদাতের পূর্বের বিভিন্ন ঘটনা
তিনি প্রায়ই বলতেন- আমি চলে যাব। বহু দূরে চলে যাব, তোমরা কেউ আমাকে খুঁজে পাবে না।। শহীদ খালেদ সাইফুল্লাহ পোস্টার লাগানোতে খুব পারদর্শী ছিলেন। তবে তিনি রাতে পোস্টার লাগানো কখনো সমর্থন করতেন না। তিনি বলতেন, রাতে তো কাজ করে চোরেরা, আমরা কি চোর? আমরা তো ইসলামী আন্দোলনের কর্মী।
সামগ্রীক ঘটনার বিবরণ
৬ মে ২০১৩। হেফাজত ইসলামের আহ্ববানে ঢাকায় অবস্থান কর্মসূচীতে রাতের অন্ধকারে লাইট নিভিয়ে ৫ মে'র গণহত্যার পরদিন সিদ্ধিরগঞ্জের চিটাগাংরোডের মাদানীনগর মাদরাসায় পুলিশ ও বিজিবি অতর্কিতে হামলা চালালে তাদের প্রতিরোধে স্থানীয় তাওহীদি জনতা এগিয়ে আসে, সেই তাওহীদি জনতার কাতারে ছিলেন আমাদের প্রিয় খালেদ মাহমুদ সাইফুল্লাহ ভাই। পুলিশ বিজিবি ও র্যাব তাওহীদি জনতার উপর অতর্কিতে হামলা চালালে আমাদের খালেদ সাইফুল্লাহসহ অনেকে শাহাদাত বরণ করেন।
শহীদের আপন জনদের কথা
শহীদের পিতা মোঃ আব্দুল জলিল বলেন- খালেদ ছিল আমার পাঁচ সন্তানের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরহেজগার আনুগত্যশীল সন্তান। খালেদ আমাকে দোস্ত বলে ডাকত। আমি চোখে কম দেখায় আমাকে জামায়াতের প্রোগ্রামে নিয়ে যেত। সে সব সময় ছিল পরোপকারী। কোন ছাত্র পরীক্ষায় ফি দিতে পারছে না শুনলেই সে তার সহযোগিতার জন্য মরিয়া হয়ে যেত। আর এলাকায় কেউ অসুস্থ হলে তো আর কথাই নেই। খালেদ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতো এবং আব্দুল্লাহকে নামাজের জন্য বকাবকি করতো। খালেদ মৃত্যুর আগে শুধু বলতো আমি চলে যাবো। অনেকদূরে চলে যাবো। এসব কথা বললে আমি তাকে বকতাম। বলতাম কেন তুই চলে যাবি। আমরা তোকে কি করেছি যে তুই চলে যাবি? আজ আমি বুঝতে পেরেছি সে কোথায় চলে যাবে বলতো।
সে শাহাদাতের আগের দিন তার চাচিকে বলেছিল চাচি যে দেশে আল্লাহর রাসূলকে নিয়ে কটুক্তি করা হয় সে দেশে আমাদের মত যুবকদের বেঁচে থেকে কী লাভ? তার চাচা তাকে মিছিলে না নেয়ায় সে তার চাচাকে বলেছিল, "চাচা সংগ্রাম কি তোমরা একলাই করবে? আমাদের অধিকার নেই?" মিছিল, মিটিং কিংবা পোস্টার লাগানোর কথা শুনলেই সে ছুটে যেতো। নিজে একলা যেতো না সব সময় বন্ধুদের নিয়ে যেতে চাইত।
আমার খালেদ ছিল সহজ সরল ও পরোপকারী। তাই তার মৃত্যুতে আমার বাড়ির আশেপাশের সবাই খুব কষ্ট পেয়েছে। এমনকি হিন্দুরাও।
আমার ছেলে খালেদের স্বপ্ন ছিল একজন ভালো আইনজীবী হয়ে মিথ্যের বিরুদ্ধে লড়াই করা। আমার ছেলেকে মহান আল্লাহ কবুল করেছেন এতে আমার কোন কষ্ট নেই। তবে মহান আল্লাহ তায়ালার নিকট আমার ফরিয়াদ আমার খালেদের মতো অসংখ্য শহীদের রক্তগুলোকে তুমি বৃথা যেতে দিয়ো না।
এক নজরে শহীদ খালেদ মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ
নাম: খালেদ মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ।
পিতার নাম: মোঃ আব্দুল জলিল
মাতার নাম: খাদিজা বেগম
জন্ম তারিখ: ১২ এপ্রিল ১৯৯৩
ঠিকানা: ডেমরা, ঢাকা
ভাই-বোন: পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে চতুর্থ
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: আলী আকবর মডেল হাইস্কুল
সাংগঠনিক মান ও দায়িত্ব: কর্মী, উপশাখা সভাপতি, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘটনার স্থান: মাদানীনগর মাদরাসার সামনের রাস্তা, সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়নগঞ্জ
শাহাদাতের তারিখ: ৬ মে, ২০১৩
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍
🔍
🔍