হোম / আওয়ামী দুঃশাসনে শহীদ / শহীদ হাফেজ মোঃ আবুল কালাম আজাদ
শহীদ হাফেজ মোঃ আবুল কালাম আজাদ

শহীদ হাফেজ মোঃ আবুল কালাম আজাদ

আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

শহীদের মেজো ভাই সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোয়াবিয়া হোসাইন বলেন- বিগত কয়েক বছর ধরে আপনজনকে হারিয়েছি। শহিদ আবু বকর, শহিদ শাহ আলম, শহীদ ইসরাইল, শহীদ মাস্টার এনামুল হক এবং পরিশেষে হারিয়েছি আমার স্নেহের সহোদর ছোট ভাই হাফেজ আবুল কালামকে। সে আমাদের সাত ভাইবোনের মধ্যে ষষ্ঠ। সবার ছোট বোন।

🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ

শহীদ হাফেজ মোঃ আবুল কালাম আজাদ ১৯৭৩ সালের ১৬ই এপ্রিল ঝিনাইদহ জেলার কোটচাঁদপুর থানাধীন বলাইবাড়িয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মরহুম মোহাম্মদ আলী মণ্ডল এবং মাতা মরহুমা সুকজান বিবি। সাত ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ষষ্ঠ। শহীদ হাফেজ মোঃ আবুল কালাম আজাদ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কর্মী এবং ইউনিট সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে যান
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে ১৮ই এপ্রিল ২০১৪ শুক্রবার বেলা ১১টায় নিজ বাসা থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এরপর গোপালপুর থেকে খাড়াগোদা রোডের চোরকোলের মাঠে নিয়ে গুলি করে হত্যা করার পর বন্দুক যুদ্ধ বলে প্রচার করে।
কেমন ছিলেন শহীদ হাফেজ মোঃ আবুল কালাম আজাদ
শহীদের মেজো ভাই সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোয়াবিয়া হোসাইন বলেন- বিগত কয়েক বছর ধরে আপনজনকে হারিয়েছি। শহিদ আবু বকর, শহিদ শাহ আলম, শহীদ ইসরাইল, শহীদ মাস্টার এনামুল হক এবং পরিশেষে হারিয়েছি আমার স্নেহের সহোদর ছোট ভাই হাফেজ আবুল কালামকে। সে আমাদের সাত ভাইবোনের মধ্যে ষষ্ঠ। সবার ছোট বোন। ছোট ভাই হিসেবে মা-বাবা এবং ভাই-বোনদের সবার নিকট অতি আদরের। বড় ভাই মাওঃ শওকত আলী সবার বড়, আমি দ্বিতীয়। ছোট ভাই আবুল কালাম সবার আদরের কারণে আব্বা-মা ভাইবোন সবাই মিলে তার হেফজ পড়ানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি এবং পড়ানো হয়। এই আশায় সে আমাদের সবার জানাজা পড়াবে ও দোয়া করবে। কিন্তু কালের কি নির্মম পরিহাস তাঁকে অকালে ঝরিয়ে দিল কিছু কুচক্রী মহল। সে গ্রামের খুবই জনপ্রিয় একজন ইউপি মেম্বার ছিল। বিপুল ভোটে পাশ করা জনপ্রতিনিধি। রাত্রে কোন রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন হলে, আবুল কালামের সংবাদ দেওয়ার দরকার। কোথায় বাহন ও কোথায় টাকা-পয়সা কোন চিন্তা করা লাগতো না। কালাম শহীদ হওয়ায় জনৈক হিন্দু ব্যক্তি চোখের পানি ফেলে আক্ষেপ করে বললো- কালামের রক্ত গায়ে নেই এমন রোগী গ্রামে খুব কম আছে। সামাজিকতায় সে ছিল এক অতন্ত্র প্রহরী। গ্রামের কোন মানুষের কোন বিপদ হলে বা কারো কোন আত্মীয়-স্বজন মারা গেলে হাফেজ আবুল কালাম মেম্বার তাদের পরিবারের আপনজন হিসেবে কাজ করতো। বর্তমান প্রেক্ষাপটে তাঁর একটা বড় দোষ সে কোন অন্যায়কে প্রশ্রয় দিত না, প্রতিবাদ করতো। তবে আমিবড় ভাই হিসেবে যখনই কোন অমূলক কথা বলতাম: সে কোন কথা না বলে মাথা নিচু করে চলে যেত। সে ছোট বেলা থেকেই খুব সদালাপী। তাঁর বন্ধুর কোন অভাব নেই। তাঁর হিতাকাংখীর কোন অভাব নেই। সে সব বড় ভাইদের স্নেহের ছোট ভাই। সে যেন চাচা, ফুফা-মামাদের আপন সন্তানের মত। শহীদ আবুল কালাম। রেখে গেছেন এক পুত্র ও দুই কন্যা সন্তান। ছোট কন্যার বয়স যখন চার বৎসর তখন আবুল কালাম শাহাদাতের পিয়ালা পান করেন। এসময় ছোট মেয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলছিল 'আমি আর কাকে আব্বা বলে ডাকবো?' বলতে বলতে আমার বুকের সাথে জড়িয়ে থাকে। আমি আমার শিশু ভাতিজিকে সান্ত্বনা দেওয়ার আর কোন ভাষা খুঁজে পাইনি। যারা এভাবে আপনজন হারিয়েছে তারাই বুঝতে পারে এ কথা। যারা চক্রান্ত করে স্নেহের ছোট ভাই আবুল কালামকে হত্যা করেছে তারা কি কখনও মরবে না? এই দুনিয়ার জীবনই মানুষের একমাত্র জীবন নয়। পরকালীন জীবনের মূল্য না বুঝে যারা দুনিয়ার জীবনের গুরুত্ব দিয়ে নিজেরা নিজেদের প্রভাব প্রতিপত্তি প্রতিষ্ঠা করতে চায়। আসামীর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসেব দেওয়া লাগবে। আজ যারা ক্ষতিগ্রস্থ পরজীবনে তাঁরা সফলকাম। দুনিয়ার জীবনে যাঁরা রাজার মত জীবন যাপন করছে, সহায় সম্পতি টাকাপয়সার কোন কিছুই যাদের অভাব নেই। যদি আল্লাহ তাঁর উপর না খোশ হয়ে জাহান্নাম প্রদান করেন তাহলে কি লাভ আছে? আর যদি আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কারোর উপর খুশি হয়ে জান্নাত প্রদান করেন তাহলে সেই বান্দার কি ক্ষতি আছে? আল্লাহ তার মাজলুম বান্দাদের ধৈর্য ধারণের তৌফিক দিন। চির সুখের জান্নাতের পথে কবুল করে নিন। নবী-রসূলদের পথ ধরে চলার মাধ্যমে ইহ জীবনের চলার পথকে সুগম করে দিয়ে পারলৌকিক জীবনকে আরো সুখময় করে দুনিয়ার এ সমস্ত দুঃখ ক্ষোভ ভুলিয়ে দিয়ে মহাকল্যানের সেই কাঙ্খিত জান্নাতের পথকে সুগম করে দিন। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা, 'হে আল্লাহ, তুমি দুনিয়াবী এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ করে আমরণ যেনো তোমার পথে চলতে পারি এই তৌফিক আমাদের দান করো। আমিন।'
সামগ্রিক বিবরণ:
মানবাধিকার সংগঠন 'অধিকার' এর এপ্রিল ২০১৪ এর মানবাধিকার প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, কোটচাঁদপুর থানার এসআই মিজানের নেতৃত্বে পুলিশ ১৮ এপ্রিল ২০১৪, বেলা ১১টায় আবুল কালাম আজাদকে বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। আবুল কালাম আজাদকে প্রথমে উপজেলার গুরপাড়া পুলিশ ক্যাম্পে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। তাঁর চিৎকারে ক্যাম্পের আশে পাশে লোকজন জড়ো হলে পুলিশ উপস্থিত জনতাকে লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে সরিয়ে দিয়ে একটি সাদা মাইক্রোবাসে (ঢাকা মেট্রো-গ-১১-২২৩১) তুলে অন্য জায়গায় নিয়ে যায়। এরপর থেকে আর কোন সন্ধান পাওয়া যায় নাই। আবুল কালাম আজাদের স্ত্রী হাসিনা বেগম বলেন, তাঁর স্বামীকে 'ক্রস ফায়ারে'না দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশের দায়ের করা মামলায় আদালতে চালান দেয়ার শর্তে এসআই মিজান তাঁদের পরিবারের এক নিকট আত্মীয়ের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার এক পর্যায়ে চার লক্ষ টাকা দাবি করেন। শুক্র ও শনিবার ব্যাংক বন্ধ থাকায় তাঁদের পরিবারের পক্ষে পুলিশের দাবিকৃত সম্পূর্ণ টাকা জোগাড় করা সম্ভব হয়। নাই। গত ২০ এপ্রিল যথাসময়ে পুলিশকে টাকা দিতে না পারায় তাঁর স্বামীকে আদালতে চালান না করে
হত্যা করা হয়।
২১ এপিল ঝিনাইদহ সদরউপজেলার মামুনশিয়া গ্রামের বকুলতলা এলাকায় কোটচাঁদপুরের এলাঙ্গি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জামায়াতে ইসলামীর নেতা আবুল কালাম আজাদ এর গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার হয়।
সূত্র: দৈনিক মানবজমিন, ১৪ এপ্রিল ২০১৪।
এক নজরে শহীদ হাফেজ মোঃ আবুল কালাম আজাদ
নাম: হাফেজ মোঃ আবুল কালাম আজাদ
জন্ম তারিখ: ১৬-০৪-১৯৭৩
পিতা: মরহুম মুহাম্মদ আলী মণ্ডল
মাতা: মরহুমা সুকজান বিবি
বয়স: চল্লিশ বছর
ঠিকানা: বলাবাড়ীয়া, কোটচাঁদপুর, ঝিনাইদহ
ভাই-বোন: সাত ভাই-বোনের মধ্যে ষষ্ঠ
সন্তানাদি: দুই মেয়ে এক ছেলে
শিক্ষাগত যোগ্যতা: ৭ম শ্রেণী, কোটচাঁদপুর কামিল মাদরাসা।
পেশা: কৃষি, ইউপি মেম্বর
শহীদের শখ/ইচ্ছা: জনসেবা করা
সাংগঠনিক মান: কর্মী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী
সর্বশেষ দায়িত্ব: ইউনিট সভাপতি
শাহাদাতের তারিখ: ২১-০৪-২০১৪
শাহাদাতের স্থান: গোপালপুর থেকে খাড়াগোদা রোডের চোরকোলের মাঠ। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে ১৮ই এপ্রিল শুক্রবার বেলা ১১টায় নিজ বাসা থেকে অপহরণ।
যেভাবে শহীদ হয়েছেন: কথিত বন্দুকযুদ্ধে
শহীদের কবর: নিজ গ্রামে পারিবারিক কবরস্থান

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍