শহীদ ইবনুল ইসলাম পারভেজ
আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
শহীদ ইবনুল ইসলাম পারভেজ। একটি প্রেরণার নাম। একটি আন্দোলনের নাম। যাঁর অসাধারণ মেধা, অতুলনীয় অনুপম চরিত্র, কথামালা, অমায়িক ব্যবহার, পরোপকারী মনোভাব আর আল্লাহভীরু মানসিকতা আমাদের প্রেরণার উৎস। কিন্তু প্রভুর প্রেমে পাগল দ্বীনের পথে এ মুজাহিদ দুনিয়ার এ ক্ষুদ্র স্বার্থে নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ থেকে ছিলেন অনেক দূরে।
বাড়ি গেলেই সবার সাথে দেখা সাক্ষাৎ করতেন, খোঁজ-খবর নিতেন, সালাম বিনিময় করে তাদের পারিবারিক কুশলাদি জানতেন। নামাজে ডাকতেন, আর দরদভরা মন নিয়ে মানুষকে ইসলামের কথা বোঝাতেন।
শহীদের মিছিলে এক অগ্রসেনানী শহীদ ইবনুল ইসলাম পারভেজ। সতেরো দিন গুম অবস্থায় নিষ্ঠুর নির্যাতন করে পা-ভেঙে দেয়ার পর বর্বর পুলিশ দুই জুলাই রাতে বন্দুকযুদ্ধের নামে গুলি করে হত্যা করে ঝিনাইদহ শহরের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সহকারি সাহিত্য সম্পাদক ইবনুল ইসলাম পারভেজকে।
২০১৬ সালের ২ জুলাই তিনি এই মিছিলে যোগ দেন। সেদিন ইসলামী আন্দোলনের ইতিহাসে রক্ত দিয়ে লিখে গেছেন প্রিয় নামটি শহীদ ইবনুল ইসলাম পারভেজ। চলে গেছেন জান্নাতে তাঁর প্রভুর সন্নিকটে। জীবন-মৃত্যুর মালিক আল্লাহ এবং মৃত্যুর ফয়সালা আসমানে হয়, জমিনে নয়। আল্লাহ এরশাদ করেন, কোনো আত্মার মৃত্যু হয় না আল্লাহর নির্দেশ ছাড়া যা তার জন্য লিপিবদ্ধ। (সূরা আলে ইমরান: ১৪৫) আর শহীদ হিসেবে যদি আল্লাহ মৃত্যু নির্ধারণ করে থাকেন; তাহলে কারো সাধ্য নেই মৃত্যুকে ঠেকানোর।
বাড়ি গেলেই সবার সাথে দেখা সাক্ষাৎ করতেন, খোঁজ-খবর নিতেন, সালাম বিনিময় করে তাদের পারিবারিক কুশলাদি জানতেন। নামাজে ডাকতেন, আর দরদভরা মন নিয়ে মানুষকে ইসলামের কথা বোঝাতেন।
শহীদের মিছিলে এক অগ্রসেনানী শহীদ ইবনুল ইসলাম পারভেজ। সতেরো দিন গুম অবস্থায় নিষ্ঠুর নির্যাতন করে পা-ভেঙে দেয়ার পর বর্বর পুলিশ দুই জুলাই রাতে বন্দুকযুদ্ধের নামে গুলি করে হত্যা করে ঝিনাইদহ শহরের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সহকারি সাহিত্য সম্পাদক ইবনুল ইসলাম পারভেজকে।
২০১৬ সালের ২ জুলাই তিনি এই মিছিলে যোগ দেন। সেদিন ইসলামী আন্দোলনের ইতিহাসে রক্ত দিয়ে লিখে গেছেন প্রিয় নামটি শহীদ ইবনুল ইসলাম পারভেজ। চলে গেছেন জান্নাতে তাঁর প্রভুর সন্নিকটে। জীবন-মৃত্যুর মালিক আল্লাহ এবং মৃত্যুর ফয়সালা আসমানে হয়, জমিনে নয়। আল্লাহ এরশাদ করেন, কোনো আত্মার মৃত্যু হয় না আল্লাহর নির্দেশ ছাড়া যা তার জন্য লিপিবদ্ধ। (সূরা আলে ইমরান: ১৪৫) আর শহীদ হিসেবে যদি আল্লাহ মৃত্যু নির্ধারণ করে থাকেন; তাহলে কারো সাধ্য নেই মৃত্যুকে ঠেকানোর।
🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ
বাবা হিসেবে তাঁর দিকে যখন তাকিয়ে দেখতাম, তখন পবিত্র ও সুখময় এক আত্মিক অনুভূতিতে হৃদয়টা আমার জুড়িয়ে যেতো। চোখ দুটো ভবিষ্যতের সুন্দর স্বপ্নে ভরে উঠতো। কী যে মায়াবী তাঁর ঐ পবিত্র চেহারা। কত যে সম্ভাবনা ছিল তাঁর মাঝে। কিন্তু ওরা বাঁচতে দিল না আমার পারভেজকে। কী অপরাধ ছিল তাঁর? শহীদের গর্বিত পিতা
ব্যক্তিগত পরিচয়:
শহীদ ইবনুল ইসলাম পারভেজ ১৯৮৬ সালের ১৮ আগস্ট ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা থানাধীন মনোহরপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম জাহাঙ্গীর হোসেন এবং মাতার নাম সুরাইয়া খাতুন। তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। কেসি কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স এবং মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। শহীদ ইবনুল ইসলাম পারভেজ বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের সদস্য ছিলেন। তিনি সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহকারী সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে যান:
১৬ ই জুন ২০১৬ পবিত্র মাহে রমজানের শেষ দিন। রাত্র আনুমানিক ২.৩০, ঢাকার মোহাম্মাদপুর মোহাম্মাদীয়া সোসাইটির হাউজিং ৯নং রোডের ১১নং বাসার ৬ষ্ঠ তলা থেকে ঝিনাইদহের প্রশাসন স্থানীয় আদাবর থানার সহযোগিতায় ইবনুল ইসলাম পারভেজ, আনিসুর রহমান, এনামুল হককে গ্রেফতার করে। সতের জুন তাদের পরিবার স্থানীয় থানা ও ঢাকায় আদাবর থানা এবং ডিবি কার্যালয়ে খোঁজ নেন। আদাবর থানা বিষয়টির কারণ স্পষ্ট বলতে অস্বীকৃতি জানান। ছেলেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না মর্মে থানায় জিডি করতে গেলে পুলিশ জিডি গ্রহণ করেনি। সতের জুন ছাত্র শিবিরের পক্ষ থেকে তাদের সন্ধান দাবী করে বিবৃতি প্রদান করা হয়। একই দাবীতে ২১জুন সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচিও পালন করা হয়। পরিবার নিরুপায় হয়ে ছেলেকে ফিরে পেতে সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন। গত ১৩জুন, ২০১৬ শিবির নেতা শহিদ আল মাহমুদকে ঝিনাইদহ শহরের বদনপুর গ্রাম থেকে গ্রেপ্তারের সময় উপস্থিত জনতা তাদের মধ্য থেকে এসআই আমিনুর ও এসআই উজ্জ্বলকে চিনতে পারে। অন্যদিকে রাজধানীতে গ্রেপ্তার হওয়া ৩জনের মধ্যে 'এনামুল' হককে হাজির করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের বিষয়টির প্রমাণ দিয়েছে। তবুও পুলিশ তাঁদেরকে দীর্ঘদিন আটক রেখে নলডাঙ্গা সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দিরের পুরোহিত আনন্দ গোপাল গাগুলীনন্দ হত্যার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী আদায়ের জন্য নির্মম নির্যাতন চালায়। শত নির্যাতনের পরেও মিথ্যা স্বীকারোক্তি দিতে অস্বীকার করলে তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে। শহীদ আনিসুর রহমানকে পুলিশ।০১-০৭-২০১৬ ইং তারিখ রাতে ঝিনাইদহের তেঁতুল বাড়ীয়া নামক স্থানে কথিত বন্দুক যুদ্ধের নামে গুলি করে হত্যা করে।
ইবনুল ইসলাম পারভেজকে পুলিশ ০২-০৭-২০১৬ ইং তারিখ রাতে ঝিনাইদহের পোড়াহাটি নামক স্থানে কথিত বন্দুকযুদ্ধের নামে গুলি করে হত্যা করে।
কেমন ছিলেন শহীদ ইবনুল ইসলাম পারভেজ
শহীদ ইবনুল ইসলাম পারভেজ। একটি প্রেরণার নাম। একটি আন্দোলনের নাম। যাঁর অসাধারণ মেধা, অতুলনীয় অনুপম চরিত্র, কথামালা, অমায়িক ব্যবহার, পরোপকারী মনোভাব আর আল্লাহভীরু মানসিকতা আমাদের প্রেরণার উৎস। কিন্তু প্রভুর প্রেমে পাগল দ্বীনের পথে এ মুজাহিদ দুনিয়ার এ ক্ষুদ্র স্বার্থে নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ থেকে ছিলেন অনেক দূরে।
বাড়ি গেলেই সবার সাথে দেখা সাক্ষাৎ করতেন, খোঁজ-খবর নিতেন, সালাম বিনিময় করে তাদের পারিবারিক কুশলাদি জানতেন। নামাজে ডাকতেন, আর দরদভরা মন নিয়ে মানুষকে ইসলামের কথা বোঝাতেন।
শহীদের মিছিলে এক অগ্রসেনানী শহীদ ইবনুল ইসলাম পারভেজ। সতেরো দিন গুম অবস্থায় নিষ্ঠুর নির্যাতন করে পা-ভেঙে দেয়ার পর বর্বর পুলিশ দুই জুলাই রাতে বন্দুকযুদ্ধের নামে গুলি করে হত্যা করে ঝিনাইদহ শহরের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সহকারি সাহিত্য সম্পাদক ইবনুল ইসলাম পারভেজকে।
২০১৬ সালের ২ জুলাই তিনি এই মিছিলে যোগ দেন। সেদিন ইসলামী আন্দোলনের ইতিহাসে রক্ত দিয়ে লিখে গেছেন প্রিয় নামটি শহীদ ইবনুল ইসলাম পারভেজ। চলে গেছেন জান্নাতে তাঁর প্রভুর সন্নিকটে। জীবন-মৃত্যুর মালিক আল্লাহ এবং মৃত্যুর ফয়সালা আসমানে হয়, জমিনে নয়। আল্লাহ এরশাদ করেন, কোনো আত্মার মৃত্যু হয় না আল্লাহর নির্দেশ ছাড়া যা তার জন্য লিপিবদ্ধ। (সূরা আলে ইমরান: ১৪৫) আর শহীদ হিসেবে যদি আল্লাহ মৃত্যু নির্ধারণ করে থাকেন; তাহলে কারো সাধ্য নেই মৃত্যুকে ঠেকানোর।
সামগ্রিক বিবরণ
ক্রসফায়ারের ধারাবাহিক নাটকের অংশ হিশেবে গত ১৬ জুন রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মোহাম্মদিয়া হাউজিং সোসাইটির ৯ নম্বর রোডের ১১ নম্বর বাসার ৬ তলা থেকে সাদা পোশাকের লোকজন তুলে নিয়ে যায় পারভেজ ভাইকে। তার সাথে এনামুল হক, শহীদ আল মাহমুদ ও আনিছুর রহমানসহ তিনজনকে নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের সবাইকে ঝিনাইদহে নিয়ে যাওয়া হয় এবং নির্মম নির্যাতন করে। এর মধ্যে শহর শাখার ছাত্রকল্যাণ সম্পাদককে ৫ দিন গুম করে রাখার পর ২১ তারিখে তাকে ১৬৪ ধারায় মিথ্যা স্বীকারোক্তি দিয়ে আদালতে হাজির করে। তার ওপর অকথ্য নির্যাতন করে ১৬৪ ধারা মিথ্যা স্বীকারোক্তি আদায় করেছে। তার শরীরে এমন কোনো জায়গা নেই যা নির্যাতন করা হয়নি। হাত-পায়ের নখ উপড়ানো হয়েছে। কোমর পর্যন্ত মাটির নিচে গেড়ে দিয়ে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়েছে। তাকে বলা হয়েছে, ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে কোনো ব্যতিক্রম করলে রিমান্ডে নিয়ে কী করা হবে তা তো বুঝতে পারছিস। তা না হলে আগে যেভাবে ক্রসফায়ারে হত্যা করা হয়েছে তোকেও তাই করা হবে। এভাবে একই কায়দায় সবাইকে বর্বর এবং নির্মম নির্যাতন করা হয়। শহীদ আল মাহমুদ ও আনিছুর রহমানকে ১ জুলাই ভোরে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার তেঁতুলবাড়িয়া গ্রামের মাঠে ও পারভেজ ভাইকে ২ জুলাই রাতে সদর উপজেলার পোড়াহাটী ইউনিয়নের মধুপুর কবরস্থানের পাশে তিনজনকে গুলি করে হত্যা করে। তাদেরকে শুধু পরিকল্পিত হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি, তাদেরকে দিয়ে আবার উল্টা ১টি পিস্তল, ৩ রাউন্ড গুলি, একটি ছোরা, ৩টি রামদা ও একটি চাপাতি উদ্ধারের নাটক সাজিয়েছে। একইভাবে বর্ধর পুলিশ প্রশাসন আটজনকে দিয়ে বন্দুকযুদ্ধের নামে ক্রসফায়ারের নাটক সাজিয়েছে।
সকলের ধারণা ছিলো পারভেজকে হয়তো কোন ঘটনার সাথে জড়িয়ে হত্যা করবে না। কারণ সে ছিলো সকল মানুষের প্রিয়পাত্র। প্রশাসন হতে শুরু করে সকলের সাথে ছিলো তাঁর নিবিড় সম্পর্ক। এ সময় মানুষের মনে আর এক অজানা আতঙ্ক বিরাজ করতে লাগলো পারভেজকে কি আমরা আবার দেখতে পাব! এর কয়েকদিন পর আর একটা লাশের খবর আসলো। এটা হয়তো পারভেজ ভাইয়ের লাশ হবে। সত্যিই নির্মম-নিষ্ঠুর মানুষগুলো নির্মমভাবে নির্যাতন করে হত্যা করেছে। একটা নিষ্পাপ মানুষকে কিভাবে আর একজন মানুষ হত্যা করতে পারে। জাহেলিয়াতের চরম অন্ধকার যুগেও এভাবে কোন মানুষকে তারা হত্যা করতো না। ওহুদের ময়দানে সাইয়েদ শুহাদা হযরত আমীর হামজার বুক ফেড়ে কলিজা চিবিয়ে খেয়েছিলো হিন্দা, তেমনিভাবে পারভেজকে হত্যা করে তার দুইটা চোখ শত্রুরা তুলে নিয়েছিলো, শরীরে অসংখ্য নির্যাতনের চিহ্ন। এভাবেই সকল মানুষের প্রিয়পাত্র নিষ্পাপ মানুষ ইবনুল ইসলামকে হত্যা করা হয়েছিলো।
মোঃ হাবিবুর রহমান লিখেছেন- ঢাকা থেকে যখন নিশ্চিত হলাম এটা পারভেজের লাশ। তখন আর নিজেকে সামলাতে পারলাম না, ঢাকা থেকে ঝিনাইদহের উদ্দেশ্যে রওনা হলাম শহীদ পারভেজের শেষ চেহারাটা দেখার জন্য। সে দৃশ্য বর্ণনা করার মতো নয়, সুন্দর সুঠাম দেহের শরীরে সে সময় হাড় আর চামড়া ছাড়া কিছুই ছিলো না। রোজার মাস ছিলো। পনের দিন নিখোঁজ ছিলো। এ পনের দিন তারা পারভেজকে সেহরি ও ইফতার কিছুই খেতে দেয়নি। না খেয়ে শরীরের চামড়া হাড়ের সাথে মিশে গিয়েছিলো। শুধু তাই নয়, তার হাতের নখগুলো উপড়ে ফেলা হয়েছে। চোখ দুটো নিষ্ঠুরভাবে তুলে নেওয়া হয়েছে। পারভেজের সাথে যে আচরণ করা হয়েছে জাহেলী যুগের কাফেররা এভাবে অত্যাচার করে কোন মানুষকে হত্যা করেছে বলে ইতিহাস থেকে জানা যায় না। এ দৃশ্য দেখে নিজেকে আর ধরে রাখতে পারলাম না, আমার যে ভাইটিকে কোনদিন কেউ নখের আঁচড় পর্যন্ত দেয়নি, আজ সেই নিষ্পাপ মানুষটাকে নির্মমভাবে তারা হত্যা করেছে। এরা মানুষ নয় বরং পশু, তারচেয়েও নিকৃষ্ট। মনুষ্যত্বহীন জানোয়ার নরপশুরাই এভাবে মানুষকে হত্যা করতে পারে। শহীদ পারভেজের জানাজা হবে বিকাল ৫টায় আলিয়া মাদ্রাসার মাঠে। সেই জানাযায়ও শহীদের সাথীদের অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হয়নি। আমি যখন শহীদ পারভেজের বাসায় কফিনের কাছে অবস্থান করছিলাম তখন আমাকে বলা হলো, ভাই আপনার জানাজায় থাকার দরকার নেই, আমরা পারভেজ ভাইকে হারিয়েছি আপনাকে হারাতে চাই না। তখন ঝিনাইদহের অবস্থা এমন ছিলো, যেই নিখোঁজ হয়ে যাচ্ছিলো সেই লাশ হয়ে মাঠের কোন এক প্রান্তে পড়ে থাকছিলো। সবার পীড়াপিড়িতে আমি শহীদ পারভেজের জানাজায় অংশগ্রহণ না করেই মনে অনেক কষ্ট নিয়ে চলে আসলাম। এভাবেই একজন শহীদকে বিদায় জানাতে হলো।
আপনজনদের কথা
শহীদের পিতার অনুভূতি:
বাবা হিসেবে তাঁর দিকে যখন তাকিয়ে দেখতাম, তখন পবিত্র ও সুখময় এক আত্মিক অনুভূতিতে হৃদয়টা আমার জুড়িয়ে যেতো। চোখ দুটো ভবিষ্যতের সুন্দর স্বপ্নে ভরে উঠতো। কী যে মায়াবী তাঁর ঐ পবিত্র চেহারা। কত যে সম্ভাবনা ছিল তাঁর মাঝে। কিন্তু ওরা বাঁচতে দিল না আমার পারভেজকে। কী অপরাধ ছিল তাঁর? বাবার সবচেয়ে প্রিয়, সচ্চরিত্রবান, খোদাভীরু ও সুযোগ্য সন্তান হাওয়াটাই কি তাঁর অপরাধ? আল-কুরআনের দিকে ছাত্রদেরকে আহ্বান করাই কি তাঁর অপরাধ?
কয়জন বাবা এমন সন্তানের জনক হতে পারেন? কিন্তু সৌভাগ্যবান বাবা হয়েও অকালে সেই সন্তানের কফিন কাঁধে নিতে হলো আমাকে। ছোটকাল থেকেই সে অন্যের কল্যাণে সময় দিতো, মিথ্যাকে প্রশ্রয় দিতো না, সবসময় সত্যকে ভালোবাসতো, বই পড়ার প্রতি তার ছিল নেশা, সময়ের মূল্য দিতে জানত, সময়ের কাজ সময়েই করত।'
শহীদের মা:
'আজ আমার পারভেজ যদি থাকত আমার বুকের সমস্ত শূন্যতা পূরণ হয়ে যেত। তোমরা বল কি অপরাধ ছিলআমার পারভেজের? সে কি কোনো মানুষের ক্ষতি করেছিল? কেন তারা আমার বুকের ধনকে নির্মমভাবে হত্যা করল?"
শহীদের ভাই:
'আমাদের পায়ের নিচের মাটি থেকে মাথার উপরের আসমান পর্যন্ত সকল ক্ষমতাসীন পদে আজ ইসলাম বিরোধীরা অবস্থান করছে। তবে ভয় পাওয়ার কিছু নেই, আসমানের ওপর যিনি আছেন তিনি আমাদের পক্ষে।'
ড. মোবারক হোসাইন
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ড. মোবারক হোসাইন বলেন- শহীদ ইবনুল ইসলাম পারভেজ। একটি প্রেরণার নাম। একটি আন্দোলনের নাম। যাঁর অসাধারণ মেধা, অতুলনীয় অনুপম চরিত্র, কথামালা, অমায়িক ব্যবহার, পরোপকারী মনোভাব আর আল্লাহভীরু মানসিকতা আমাদের প্রেরণার উৎস। কিন্তু প্রভুর প্রেমে পাগল দ্বীনের পথে এ মুজাহিদ দুনিয়ার এ ক্ষুদ্র স্বার্থে নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ থেকে ছিলেন অনেক দূরে। বাড়ি গেলেই সবার সাথে দেখা সাক্ষাৎ করতেন, খোঁজ-খবর নিতেন, সালাম বিনিময় করে তাদের পারিবারিক কুশলাদি জানতেন। নামাজে ডাকতেন, আর দরদভরা মন নিয়ে মানুষকে ইসলামের কথা বোঝাতেন।
শহীদের মিছিলে এক অগ্রসেনানী শহীদ ইবনুল ইসলাম পারভেজ। সতের দিন অবস্থায় নিষ্ঠুর নির্যাতন করে পা-ভেঙে দেয়ার পর বর্বর পুলিশ দুই জুলাই রাতে বন্দুকযুদ্ধের নামে গুলি করে হত্যা করে ঝিনাইদহ শহরের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সহকারি সাহিত্য সম্পাদক ইবনুল ইসলাম পারভেজকে।
এক নজরে শহীদ ইবনুল ইসলাম পারভেজ
নাম: ইবনুল ইসলাম পারভেজ
জনন্ম তারিখ: ১৮-০৮-১৯৮৬
পিতা: জাহাঙ্গীর হোসেন
মাতা: সুরাইয়া খাতুন
ভাই-বোনের সংখ্যা: তিন ভাইয়ের মধ্যে দ্বিতীয়
বর্তমান ঠিকানা: আদর্শ পাড়া, ঝিনাইদহ
স্থায়ী ঠিকানা: মনোহরপুর, শৈলকুপা, ঝিনাইদহ
লেখাপড়া: অনার্স, মাস্টার্স, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, কেসি কলেজ
শাহাদাতের তারিখ: ০২-০৭-২০১৬
শাহাদাতের স্থান: পোড়াহাটি, ঝিনাইদহ
কবরস্থান: ঝিনাইদহ পৌর কবরস্থান
সাংগঠনিক মান: সদস্য, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির
শহীদের শখ: ভ্রমণ করা
সর্বশেষ দায়িত্ব: কেন্দ্রীয় সহকারি সাহিত্য সম্পাদক ছিলেন
ব্যক্তিগত পরিচয়:
শহীদ ইবনুল ইসলাম পারভেজ ১৯৮৬ সালের ১৮ আগস্ট ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা থানাধীন মনোহরপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম জাহাঙ্গীর হোসেন এবং মাতার নাম সুরাইয়া খাতুন। তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। কেসি কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স এবং মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। শহীদ ইবনুল ইসলাম পারভেজ বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের সদস্য ছিলেন। তিনি সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহকারী সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে যান:
১৬ ই জুন ২০১৬ পবিত্র মাহে রমজানের শেষ দিন। রাত্র আনুমানিক ২.৩০, ঢাকার মোহাম্মাদপুর মোহাম্মাদীয়া সোসাইটির হাউজিং ৯নং রোডের ১১নং বাসার ৬ষ্ঠ তলা থেকে ঝিনাইদহের প্রশাসন স্থানীয় আদাবর থানার সহযোগিতায় ইবনুল ইসলাম পারভেজ, আনিসুর রহমান, এনামুল হককে গ্রেফতার করে। সতের জুন তাদের পরিবার স্থানীয় থানা ও ঢাকায় আদাবর থানা এবং ডিবি কার্যালয়ে খোঁজ নেন। আদাবর থানা বিষয়টির কারণ স্পষ্ট বলতে অস্বীকৃতি জানান। ছেলেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না মর্মে থানায় জিডি করতে গেলে পুলিশ জিডি গ্রহণ করেনি। সতের জুন ছাত্র শিবিরের পক্ষ থেকে তাদের সন্ধান দাবী করে বিবৃতি প্রদান করা হয়। একই দাবীতে ২১জুন সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচিও পালন করা হয়। পরিবার নিরুপায় হয়ে ছেলেকে ফিরে পেতে সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন। গত ১৩জুন, ২০১৬ শিবির নেতা শহিদ আল মাহমুদকে ঝিনাইদহ শহরের বদনপুর গ্রাম থেকে গ্রেপ্তারের সময় উপস্থিত জনতা তাদের মধ্য থেকে এসআই আমিনুর ও এসআই উজ্জ্বলকে চিনতে পারে। অন্যদিকে রাজধানীতে গ্রেপ্তার হওয়া ৩জনের মধ্যে 'এনামুল' হককে হাজির করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের বিষয়টির প্রমাণ দিয়েছে। তবুও পুলিশ তাঁদেরকে দীর্ঘদিন আটক রেখে নলডাঙ্গা সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দিরের পুরোহিত আনন্দ গোপাল গাগুলীনন্দ হত্যার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী আদায়ের জন্য নির্মম নির্যাতন চালায়। শত নির্যাতনের পরেও মিথ্যা স্বীকারোক্তি দিতে অস্বীকার করলে তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে। শহীদ আনিসুর রহমানকে পুলিশ।০১-০৭-২০১৬ ইং তারিখ রাতে ঝিনাইদহের তেঁতুল বাড়ীয়া নামক স্থানে কথিত বন্দুক যুদ্ধের নামে গুলি করে হত্যা করে।
ইবনুল ইসলাম পারভেজকে পুলিশ ০২-০৭-২০১৬ ইং তারিখ রাতে ঝিনাইদহের পোড়াহাটি নামক স্থানে কথিত বন্দুকযুদ্ধের নামে গুলি করে হত্যা করে।
কেমন ছিলেন শহীদ ইবনুল ইসলাম পারভেজ
শহীদ ইবনুল ইসলাম পারভেজ। একটি প্রেরণার নাম। একটি আন্দোলনের নাম। যাঁর অসাধারণ মেধা, অতুলনীয় অনুপম চরিত্র, কথামালা, অমায়িক ব্যবহার, পরোপকারী মনোভাব আর আল্লাহভীরু মানসিকতা আমাদের প্রেরণার উৎস। কিন্তু প্রভুর প্রেমে পাগল দ্বীনের পথে এ মুজাহিদ দুনিয়ার এ ক্ষুদ্র স্বার্থে নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ থেকে ছিলেন অনেক দূরে।
বাড়ি গেলেই সবার সাথে দেখা সাক্ষাৎ করতেন, খোঁজ-খবর নিতেন, সালাম বিনিময় করে তাদের পারিবারিক কুশলাদি জানতেন। নামাজে ডাকতেন, আর দরদভরা মন নিয়ে মানুষকে ইসলামের কথা বোঝাতেন।
শহীদের মিছিলে এক অগ্রসেনানী শহীদ ইবনুল ইসলাম পারভেজ। সতেরো দিন গুম অবস্থায় নিষ্ঠুর নির্যাতন করে পা-ভেঙে দেয়ার পর বর্বর পুলিশ দুই জুলাই রাতে বন্দুকযুদ্ধের নামে গুলি করে হত্যা করে ঝিনাইদহ শহরের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সহকারি সাহিত্য সম্পাদক ইবনুল ইসলাম পারভেজকে।
২০১৬ সালের ২ জুলাই তিনি এই মিছিলে যোগ দেন। সেদিন ইসলামী আন্দোলনের ইতিহাসে রক্ত দিয়ে লিখে গেছেন প্রিয় নামটি শহীদ ইবনুল ইসলাম পারভেজ। চলে গেছেন জান্নাতে তাঁর প্রভুর সন্নিকটে। জীবন-মৃত্যুর মালিক আল্লাহ এবং মৃত্যুর ফয়সালা আসমানে হয়, জমিনে নয়। আল্লাহ এরশাদ করেন, কোনো আত্মার মৃত্যু হয় না আল্লাহর নির্দেশ ছাড়া যা তার জন্য লিপিবদ্ধ। (সূরা আলে ইমরান: ১৪৫) আর শহীদ হিসেবে যদি আল্লাহ মৃত্যু নির্ধারণ করে থাকেন; তাহলে কারো সাধ্য নেই মৃত্যুকে ঠেকানোর।
সামগ্রিক বিবরণ
ক্রসফায়ারের ধারাবাহিক নাটকের অংশ হিশেবে গত ১৬ জুন রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মোহাম্মদিয়া হাউজিং সোসাইটির ৯ নম্বর রোডের ১১ নম্বর বাসার ৬ তলা থেকে সাদা পোশাকের লোকজন তুলে নিয়ে যায় পারভেজ ভাইকে। তার সাথে এনামুল হক, শহীদ আল মাহমুদ ও আনিছুর রহমানসহ তিনজনকে নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের সবাইকে ঝিনাইদহে নিয়ে যাওয়া হয় এবং নির্মম নির্যাতন করে। এর মধ্যে শহর শাখার ছাত্রকল্যাণ সম্পাদককে ৫ দিন গুম করে রাখার পর ২১ তারিখে তাকে ১৬৪ ধারায় মিথ্যা স্বীকারোক্তি দিয়ে আদালতে হাজির করে। তার ওপর অকথ্য নির্যাতন করে ১৬৪ ধারা মিথ্যা স্বীকারোক্তি আদায় করেছে। তার শরীরে এমন কোনো জায়গা নেই যা নির্যাতন করা হয়নি। হাত-পায়ের নখ উপড়ানো হয়েছে। কোমর পর্যন্ত মাটির নিচে গেড়ে দিয়ে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়েছে। তাকে বলা হয়েছে, ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে কোনো ব্যতিক্রম করলে রিমান্ডে নিয়ে কী করা হবে তা তো বুঝতে পারছিস। তা না হলে আগে যেভাবে ক্রসফায়ারে হত্যা করা হয়েছে তোকেও তাই করা হবে। এভাবে একই কায়দায় সবাইকে বর্বর এবং নির্মম নির্যাতন করা হয়। শহীদ আল মাহমুদ ও আনিছুর রহমানকে ১ জুলাই ভোরে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার তেঁতুলবাড়িয়া গ্রামের মাঠে ও পারভেজ ভাইকে ২ জুলাই রাতে সদর উপজেলার পোড়াহাটী ইউনিয়নের মধুপুর কবরস্থানের পাশে তিনজনকে গুলি করে হত্যা করে। তাদেরকে শুধু পরিকল্পিত হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি, তাদেরকে দিয়ে আবার উল্টা ১টি পিস্তল, ৩ রাউন্ড গুলি, একটি ছোরা, ৩টি রামদা ও একটি চাপাতি উদ্ধারের নাটক সাজিয়েছে। একইভাবে বর্ধর পুলিশ প্রশাসন আটজনকে দিয়ে বন্দুকযুদ্ধের নামে ক্রসফায়ারের নাটক সাজিয়েছে।
সকলের ধারণা ছিলো পারভেজকে হয়তো কোন ঘটনার সাথে জড়িয়ে হত্যা করবে না। কারণ সে ছিলো সকল মানুষের প্রিয়পাত্র। প্রশাসন হতে শুরু করে সকলের সাথে ছিলো তাঁর নিবিড় সম্পর্ক। এ সময় মানুষের মনে আর এক অজানা আতঙ্ক বিরাজ করতে লাগলো পারভেজকে কি আমরা আবার দেখতে পাব! এর কয়েকদিন পর আর একটা লাশের খবর আসলো। এটা হয়তো পারভেজ ভাইয়ের লাশ হবে। সত্যিই নির্মম-নিষ্ঠুর মানুষগুলো নির্মমভাবে নির্যাতন করে হত্যা করেছে। একটা নিষ্পাপ মানুষকে কিভাবে আর একজন মানুষ হত্যা করতে পারে। জাহেলিয়াতের চরম অন্ধকার যুগেও এভাবে কোন মানুষকে তারা হত্যা করতো না। ওহুদের ময়দানে সাইয়েদ শুহাদা হযরত আমীর হামজার বুক ফেড়ে কলিজা চিবিয়ে খেয়েছিলো হিন্দা, তেমনিভাবে পারভেজকে হত্যা করে তার দুইটা চোখ শত্রুরা তুলে নিয়েছিলো, শরীরে অসংখ্য নির্যাতনের চিহ্ন। এভাবেই সকল মানুষের প্রিয়পাত্র নিষ্পাপ মানুষ ইবনুল ইসলামকে হত্যা করা হয়েছিলো।
মোঃ হাবিবুর রহমান লিখেছেন- ঢাকা থেকে যখন নিশ্চিত হলাম এটা পারভেজের লাশ। তখন আর নিজেকে সামলাতে পারলাম না, ঢাকা থেকে ঝিনাইদহের উদ্দেশ্যে রওনা হলাম শহীদ পারভেজের শেষ চেহারাটা দেখার জন্য। সে দৃশ্য বর্ণনা করার মতো নয়, সুন্দর সুঠাম দেহের শরীরে সে সময় হাড় আর চামড়া ছাড়া কিছুই ছিলো না। রোজার মাস ছিলো। পনের দিন নিখোঁজ ছিলো। এ পনের দিন তারা পারভেজকে সেহরি ও ইফতার কিছুই খেতে দেয়নি। না খেয়ে শরীরের চামড়া হাড়ের সাথে মিশে গিয়েছিলো। শুধু তাই নয়, তার হাতের নখগুলো উপড়ে ফেলা হয়েছে। চোখ দুটো নিষ্ঠুরভাবে তুলে নেওয়া হয়েছে। পারভেজের সাথে যে আচরণ করা হয়েছে জাহেলী যুগের কাফেররা এভাবে অত্যাচার করে কোন মানুষকে হত্যা করেছে বলে ইতিহাস থেকে জানা যায় না। এ দৃশ্য দেখে নিজেকে আর ধরে রাখতে পারলাম না, আমার যে ভাইটিকে কোনদিন কেউ নখের আঁচড় পর্যন্ত দেয়নি, আজ সেই নিষ্পাপ মানুষটাকে নির্মমভাবে তারা হত্যা করেছে। এরা মানুষ নয় বরং পশু, তারচেয়েও নিকৃষ্ট। মনুষ্যত্বহীন জানোয়ার নরপশুরাই এভাবে মানুষকে হত্যা করতে পারে। শহীদ পারভেজের জানাজা হবে বিকাল ৫টায় আলিয়া মাদ্রাসার মাঠে। সেই জানাযায়ও শহীদের সাথীদের অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হয়নি। আমি যখন শহীদ পারভেজের বাসায় কফিনের কাছে অবস্থান করছিলাম তখন আমাকে বলা হলো, ভাই আপনার জানাজায় থাকার দরকার নেই, আমরা পারভেজ ভাইকে হারিয়েছি আপনাকে হারাতে চাই না। তখন ঝিনাইদহের অবস্থা এমন ছিলো, যেই নিখোঁজ হয়ে যাচ্ছিলো সেই লাশ হয়ে মাঠের কোন এক প্রান্তে পড়ে থাকছিলো। সবার পীড়াপিড়িতে আমি শহীদ পারভেজের জানাজায় অংশগ্রহণ না করেই মনে অনেক কষ্ট নিয়ে চলে আসলাম। এভাবেই একজন শহীদকে বিদায় জানাতে হলো।
আপনজনদের কথা
শহীদের পিতার অনুভূতি:
বাবা হিসেবে তাঁর দিকে যখন তাকিয়ে দেখতাম, তখন পবিত্র ও সুখময় এক আত্মিক অনুভূতিতে হৃদয়টা আমার জুড়িয়ে যেতো। চোখ দুটো ভবিষ্যতের সুন্দর স্বপ্নে ভরে উঠতো। কী যে মায়াবী তাঁর ঐ পবিত্র চেহারা। কত যে সম্ভাবনা ছিল তাঁর মাঝে। কিন্তু ওরা বাঁচতে দিল না আমার পারভেজকে। কী অপরাধ ছিল তাঁর? বাবার সবচেয়ে প্রিয়, সচ্চরিত্রবান, খোদাভীরু ও সুযোগ্য সন্তান হাওয়াটাই কি তাঁর অপরাধ? আল-কুরআনের দিকে ছাত্রদেরকে আহ্বান করাই কি তাঁর অপরাধ?
কয়জন বাবা এমন সন্তানের জনক হতে পারেন? কিন্তু সৌভাগ্যবান বাবা হয়েও অকালে সেই সন্তানের কফিন কাঁধে নিতে হলো আমাকে। ছোটকাল থেকেই সে অন্যের কল্যাণে সময় দিতো, মিথ্যাকে প্রশ্রয় দিতো না, সবসময় সত্যকে ভালোবাসতো, বই পড়ার প্রতি তার ছিল নেশা, সময়ের মূল্য দিতে জানত, সময়ের কাজ সময়েই করত।'
শহীদের মা:
'আজ আমার পারভেজ যদি থাকত আমার বুকের সমস্ত শূন্যতা পূরণ হয়ে যেত। তোমরা বল কি অপরাধ ছিলআমার পারভেজের? সে কি কোনো মানুষের ক্ষতি করেছিল? কেন তারা আমার বুকের ধনকে নির্মমভাবে হত্যা করল?"
শহীদের ভাই:
'আমাদের পায়ের নিচের মাটি থেকে মাথার উপরের আসমান পর্যন্ত সকল ক্ষমতাসীন পদে আজ ইসলাম বিরোধীরা অবস্থান করছে। তবে ভয় পাওয়ার কিছু নেই, আসমানের ওপর যিনি আছেন তিনি আমাদের পক্ষে।'
ড. মোবারক হোসাইন
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ড. মোবারক হোসাইন বলেন- শহীদ ইবনুল ইসলাম পারভেজ। একটি প্রেরণার নাম। একটি আন্দোলনের নাম। যাঁর অসাধারণ মেধা, অতুলনীয় অনুপম চরিত্র, কথামালা, অমায়িক ব্যবহার, পরোপকারী মনোভাব আর আল্লাহভীরু মানসিকতা আমাদের প্রেরণার উৎস। কিন্তু প্রভুর প্রেমে পাগল দ্বীনের পথে এ মুজাহিদ দুনিয়ার এ ক্ষুদ্র স্বার্থে নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ থেকে ছিলেন অনেক দূরে। বাড়ি গেলেই সবার সাথে দেখা সাক্ষাৎ করতেন, খোঁজ-খবর নিতেন, সালাম বিনিময় করে তাদের পারিবারিক কুশলাদি জানতেন। নামাজে ডাকতেন, আর দরদভরা মন নিয়ে মানুষকে ইসলামের কথা বোঝাতেন।
শহীদের মিছিলে এক অগ্রসেনানী শহীদ ইবনুল ইসলাম পারভেজ। সতের দিন অবস্থায় নিষ্ঠুর নির্যাতন করে পা-ভেঙে দেয়ার পর বর্বর পুলিশ দুই জুলাই রাতে বন্দুকযুদ্ধের নামে গুলি করে হত্যা করে ঝিনাইদহ শহরের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সহকারি সাহিত্য সম্পাদক ইবনুল ইসলাম পারভেজকে।
এক নজরে শহীদ ইবনুল ইসলাম পারভেজ
নাম: ইবনুল ইসলাম পারভেজ
জনন্ম তারিখ: ১৮-০৮-১৯৮৬
পিতা: জাহাঙ্গীর হোসেন
মাতা: সুরাইয়া খাতুন
ভাই-বোনের সংখ্যা: তিন ভাইয়ের মধ্যে দ্বিতীয়
বর্তমান ঠিকানা: আদর্শ পাড়া, ঝিনাইদহ
স্থায়ী ঠিকানা: মনোহরপুর, শৈলকুপা, ঝিনাইদহ
লেখাপড়া: অনার্স, মাস্টার্স, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, কেসি কলেজ
শাহাদাতের তারিখ: ০২-০৭-২০১৬
শাহাদাতের স্থান: পোড়াহাটি, ঝিনাইদহ
কবরস্থান: ঝিনাইদহ পৌর কবরস্থান
সাংগঠনিক মান: সদস্য, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির
শহীদের শখ: ভ্রমণ করা
সর্বশেষ দায়িত্ব: কেন্দ্রীয় সহকারি সাহিত্য সম্পাদক ছিলেন
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍
🔍
🔍
🔍