শহীদ মোঃ ইদ্রিস আলী
আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
মোঃ ইদ্রিস আলী পেশায় ছিলেন আলিয়া মাদরাসার শিক্ষক। তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রুকন এবং উপজেলা কর্মপরিষদ সদস্য ছিলেন।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে যান:
৪ আগস্ট ২০১৬, মাগরিবের নামাজের সময় রামচন্দ্রপুর বাজার থেকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নিয়ে যায়। ১২ আগস্ট অপহরণের ৮দিন পর নির্মম নির্যাতনের চিহ্ন সহ ক্ষত-বিক্ষত লাশ রাস্তার উপর পাওয়া যায়।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে যান:
৪ আগস্ট ২০১৬, মাগরিবের নামাজের সময় রামচন্দ্রপুর বাজার থেকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নিয়ে যায়। ১২ আগস্ট অপহরণের ৮দিন পর নির্মম নির্যাতনের চিহ্ন সহ ক্ষত-বিক্ষত লাশ রাস্তার উপর পাওয়া যায়।
🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ
শহীদ মোঃ ইদ্রিস আলী ১৯৬৮ সালের পহেলা ফেব্রুয়ারি ঝিনাইদহ জেলার হরিণাকুণ্ড থানাধীন রঘুনাথপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মোঃ কাউসার আলী এবং মাতার নাম মৃত আলতারন নেসা। তিন কন্যা ও এক পুত্রের জনক শহীদ মোঃ ইদ্রিস আলী পেশায় ছিলেন আলিয়া মাদরাসার শিক্ষক। তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রুকন এবং উপজেলা কর্মপরিষদ সদস্য ছিলেন।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে যান:
৪ আগস্ট ২০১৬, মাগরিবের নামাজের সময় রামচন্দ্রপুর বাজার থেকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নিয়ে যায়। ১২ আগস্ট অপহরণের ৮দিন পর নির্মম নির্যাতনের চিহ্ন সহ ক্ষত-বিক্ষত লাশ রাস্তার উপর পাওয়া যায়।
সামগ্রিক বিবরণ:
হরিণাকুণ্ড উপজেলা জামায়াতের আমির মোঃ বাবুল হোসেন বলেন- ২০০৬ সালের ২০ মে, আমার পারিবারিক একটি সমস্যার সমাধান কল্পে প্রথম পরিচয় হয় আল্লাহর এ প্রিয় বান্দার সাথে। তারপর থেকে নিয়মিত একসাথে চলাফেরার কারণে আত্মীয় সম্পর্ক না থাকলেও ব্যক্তি ও দ্বীনি সম্পর্ক হয়ে ওঠে গভীর থেকে গভীরতর। এসময় আমি ছিলাম ছাত্র আন্দোলনের দায়িত্বশীল। ২০০৮ সালের জুলাই মাসে আমার ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পর মাওলানা ইদরীস আলী (পান্না) ভাই আবেগঘন পরিবেশে বললেন বাবুল খুব কম সময়ে রুকন হতে হবে। আমি বললাম ভাই কতদিন সময় দিবেন। ভাই বললেন, এর ফয়ছালা আল্লাহর সাথে করতে হবে। আল্লাহর রহমতে ২০০৮ সালের ১৭ নভেম্বর আমার রুকনিয়াতের শপথ হয়। সে শপথের পর ভাই আমাকে বুকে ধরে দীর্ঘ সময় কেঁদেছিলেন আবেগ আর আনন্দে বলেছিলেন আল্লাহ আমাদের ৭নং রঘুনাথপুর ইউনিয়নে একজন শিক্ষিত লোকের সমাবেশ ঘটালেন। কিছুক্ষণ পর ইউনিয়ন বায়তুলমাল সম্পাদক হিসেবে আমার নাম ঘোষণা করা হল। ভাইকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য নমিনি ঘোষণা করা হয়। শুরু হলো দ্বীনি দায়িত্ব পালন ও সমাজ সেবার কাজ দুর্বার গতিতে। এসময় থেকেই একসাথে চলাফেরা ও খাওয়া দাওয়া। হয়ে গেলাম দুজন দুজনের পরিবারের সদস্য স্বরূপ। কালের পরিক্রমাই শুরু হলো ২০১১ সালে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। সংগঠনের সিদ্ধান্ত মোতাবেক আমাকে করা হল প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ও নির্বাচনী বায়তুল মাল সম্পাদক। জুন মাসে নির্বাচন। শেষ হল নির্বাচন। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েও পেশী শক্তির কাছে হেরে গেলাম। এদিন এশার নামাজের পর রঘুনাথপুর জামে মসজিদে আমরা একত্রিত হলাম। আমিসহ অন্তত দেড় হাজার মানুষ কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন। ভাই উঠে দাঁড়িয়ে বললেন ভাইয়েরা কষ্ট পাওয়ার কিছু নেই। আমরা কেবল দ্বীনি দায়িত্ব পালন করার জন্য আদিষ্ট হয়েছিলাম। আল্লাহ হয়তো আমাদের কবুল করেননি, কিন্তু জনগণ যে আমাদের এত ভালবাসে তা আগে কখনো ভাবিনি। আল্লাহ আমাদের সকল তৎপরতা কবুল করুক। আমিন বলে সকলকে বিদায় দিলেন।
এরপর ২০১৬ সালের চার আগস্ট আমি গাজীপুর বিষয় ভিত্তিক (ইংরজি) শিক্ষক প্রশিক্ষণে ছিলাম। ভাই ফোন দিলেন মাগরীবের কিছু আগে, বললেন বাবুল প্রশিক্ষণ শালার বাইরে যাবে না। ঢাকার পরিবেশ খুব খারাপ উল্লেখ্য হলি-আর্টিজানের ঘটনা তখন ঘটেছিল। ভাই বললেন এলাকার পরিবেশও খারাপ, তোমার-আমার দিকে বাতিলদের তীক্ষ্ণ নজর। ওরা ভাবে আমরা ময়দান থেকে বিদায় হলে জামায়াত নেতৃত্ব শূন্য হয়ে যাবে। ভাই সম্ভবত ১০-১২ মিনিট আমার সাথে কথা বললেন। এর পর মাগরীব নামাজ শেষে। ক্যান্টিনে খাবার খেতে গেলাম, এসময় শহীদের বড় মেয়ে মাহফুজা ফোন করল- কাকা আব্বার ফোন বন্ধ, তাকে পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর আর জীবিত পাওয়া গেল না। আট দিন পর ১২ আগস্ট ভোর ৪.৩০ এ সময় একজন ফোন করে জানলাম ভাইকে ডিজিটাল এক্সিডেন্ট এর মাধ্যমে মৃত্যুর কথা। কত নির্মমভাবে ভাইকে শহীদ করা হয়েছে। যে হাত দিয়ে মানুষকে আল্লাহর দাসত্বের দিকে ডাকত সে হাত ওরা ক্ষত-বিক্ষত করে দিয়েছিল। শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষতচিহ্ন। কানের পাশে ছোট ছিদ্র অন্যদিকে ভেদ করেনি এটা কিসের চিহ্ন? গুলি। আহ! আরো কত নির্যাতন।
গণমাধ্যমে শাহাদাতের খবর
ঝিনাইদহে নিখোঁজ জামায়াত নেতার লাশ এবং বন্দুকযুদ্ধে ডাকাত নিহত শিরোনামে গণমাধ্যমে নিম্মোক্ত খবর প্রচারিত হয়- ঝিনাইদহের শৈলকুপা থেকে গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর নিখোঁজ মাদ্রাসা শিক্ষক ইদ্রিস আলী পান্নার লাশ মিলেছে জেলার হরিণাকুণ্ডু উপজেলার জোড়াপুকুরিয়া গ্রামে। রঘুনাথপুর গ্রামের গোলাম কওছার আলী মন্ডলের ছেলে পান্না হরিণাকুন্ডুর উপজেলার রঘুনাথপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারী ছিলেন। এদিকে একই দিন হরিণাকুন্ডুর ফলসি গ্রামে শহিদুল ইসলার পচা নামে এক সন্ত্রাসী র্যাবের সাথে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। নিহত শহিদুল হরিণাকুণ্ডু উপজেলার পারদখলপুর গ্রামের মৃত তোরাপ আলীর ছেলে। শুক্রবার ভোরে এ দুই জনের লাশ উদ্ধার করে হরিণাকুণ্ডু থানায় আনা হয়। হরিণাকুণ্ডু থানার ওসি মাহাতাব উদ্দীন জানান, শুক্রবার ভোরে হরিনাকুণ্ডু পৌরসভা এলাকার জোড়া পুকুরিয়া মাঠে জামায়াত নেতা ইদ্রিস আলীর লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। নিহত ইদ্রিস আলী পান্নার বিরুদ্ধে নাশকতাসহ ৮/৯টি মামলা রয়েছে। তিনি শিক্ষকতার পাশাপাশি মুসলীম বিবাহ ও তালাক রেজিস্টার ছিলেন। এছাড়া শৈলকুপা উপজেলার মহিষাগাড়ি জামে মসজিদের ইমামতিও করতেন তিনি। গত ৪ আগস্ট থেকে সে নিখোঁজ ছিলেন। ওসির দাবী পান্না হুজুর সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। এদিকে নিখোঁজ হওয়ার পর গত ৯ আগস্ট ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন তার স্ত্রী মোছাঃ বেগম ইদ্রিস। তিনি সাংবাদিক সম্মেলনে তার স্বামীকে পুলিশ পরিচয়ে সাদাপোশাকের লোকজন তুলে নিয়ে যাওয়ার কথা জানান। সাংবাদিক সম্মেলনে বলা হয়েছিলো, গত ৪ আগস্ট রাত ৮টার দিকে শৈলকুপার রামচন্দ্রপুর বাজার থেকে কাপড় স্ত্রী করে মোটরসাইকেল যোগে বাড়ি ফিরছিলেন। ইদ্রিস আলী রামচন্দ্রপুর পুলিশ ফাঁড়ির সামনে পৌঁছালে ৩/৪ জনের সাদা পোশাকের পিস্তল ও ওয়ারলেসধারী লোক তাকে তুলে নিয়ে যায়। স্বামীকে ক্রসফায়ারে হত্যার আশংকা করেন স্ত্রী। শুক্রবার লাশ উদ্ধারের পর ঝিনাইদহ হাসপাতাল মর্গে পান্নার ছেলে ফরহাদ, ভাই আব্দুল মান্নান, ভগ্নিপতি মহিউদ্দীনসহ তার স্বজনরা অভিযোগ করেন, পুলিশ বিশেষ কায়দায় হত্যা করে এখন সড়ক দুর্ঘটনার নাটক সাজাচ্ছে। তাদের প্রশ্ন সাদা পোশাকের লোকজন তুলে নিয়ে যাওয়ার পর নিখোঁজ একজন মানুষ কিভাবে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান?
এক নজরে শহীদ মো. ইদ্রিস আলী
শহীদের নাম: মোঃ ইদ্রিস আলী
জন্ম তারিখ: ০১-০২-১৯৬৮
পিতার নাম: মোঃ কাওসার আলী
মাতার নাম: মৃত আলতারন নেচা
বয়স: ৪৮ বছর
ঠিকানা: রঘুনাথপুর, রামচন্দ্রপুর, হরিনাকুণ্ড, ঝিনাইদহ
ভাই-বোন: আট জনের মধ্যে তৃতীয়
সন্তানাদি: তিন মেয়ে, এক ছেলে
শিক্ষাগত যোগ্যতা: কামিল
পেশা: মাদরাসার শিক্ষক (আলিয়া এম.পি.ও)
শহীদের শখ/ইচ্ছা: শাহাদাত বরণ
সাংগঠনিক মান: রুকন
সর্বশেষ দায়িত্ব: উপজেলা কর্মপরিষদ সদস্য ও ইউপি চেয়ারম্যান (নমিনি)
শাহাদাতের তারিখ: ১২-০৮-২০১৬
শাহাদাতের স্থান: হরিনাকুণ্ডু ঝিনাইদহ সড়কের দমদমার মাঠ সংলগ্ন রাস্তার পাশে
শহীদের কবর: পারিবারিক কবরস্থান রঘুনাথপুর
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে যান:
৪ আগস্ট ২০১৬, মাগরিবের নামাজের সময় রামচন্দ্রপুর বাজার থেকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নিয়ে যায়। ১২ আগস্ট অপহরণের ৮দিন পর নির্মম নির্যাতনের চিহ্ন সহ ক্ষত-বিক্ষত লাশ রাস্তার উপর পাওয়া যায়।
সামগ্রিক বিবরণ:
হরিণাকুণ্ড উপজেলা জামায়াতের আমির মোঃ বাবুল হোসেন বলেন- ২০০৬ সালের ২০ মে, আমার পারিবারিক একটি সমস্যার সমাধান কল্পে প্রথম পরিচয় হয় আল্লাহর এ প্রিয় বান্দার সাথে। তারপর থেকে নিয়মিত একসাথে চলাফেরার কারণে আত্মীয় সম্পর্ক না থাকলেও ব্যক্তি ও দ্বীনি সম্পর্ক হয়ে ওঠে গভীর থেকে গভীরতর। এসময় আমি ছিলাম ছাত্র আন্দোলনের দায়িত্বশীল। ২০০৮ সালের জুলাই মাসে আমার ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পর মাওলানা ইদরীস আলী (পান্না) ভাই আবেগঘন পরিবেশে বললেন বাবুল খুব কম সময়ে রুকন হতে হবে। আমি বললাম ভাই কতদিন সময় দিবেন। ভাই বললেন, এর ফয়ছালা আল্লাহর সাথে করতে হবে। আল্লাহর রহমতে ২০০৮ সালের ১৭ নভেম্বর আমার রুকনিয়াতের শপথ হয়। সে শপথের পর ভাই আমাকে বুকে ধরে দীর্ঘ সময় কেঁদেছিলেন আবেগ আর আনন্দে বলেছিলেন আল্লাহ আমাদের ৭নং রঘুনাথপুর ইউনিয়নে একজন শিক্ষিত লোকের সমাবেশ ঘটালেন। কিছুক্ষণ পর ইউনিয়ন বায়তুলমাল সম্পাদক হিসেবে আমার নাম ঘোষণা করা হল। ভাইকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য নমিনি ঘোষণা করা হয়। শুরু হলো দ্বীনি দায়িত্ব পালন ও সমাজ সেবার কাজ দুর্বার গতিতে। এসময় থেকেই একসাথে চলাফেরা ও খাওয়া দাওয়া। হয়ে গেলাম দুজন দুজনের পরিবারের সদস্য স্বরূপ। কালের পরিক্রমাই শুরু হলো ২০১১ সালে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। সংগঠনের সিদ্ধান্ত মোতাবেক আমাকে করা হল প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ও নির্বাচনী বায়তুল মাল সম্পাদক। জুন মাসে নির্বাচন। শেষ হল নির্বাচন। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েও পেশী শক্তির কাছে হেরে গেলাম। এদিন এশার নামাজের পর রঘুনাথপুর জামে মসজিদে আমরা একত্রিত হলাম। আমিসহ অন্তত দেড় হাজার মানুষ কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন। ভাই উঠে দাঁড়িয়ে বললেন ভাইয়েরা কষ্ট পাওয়ার কিছু নেই। আমরা কেবল দ্বীনি দায়িত্ব পালন করার জন্য আদিষ্ট হয়েছিলাম। আল্লাহ হয়তো আমাদের কবুল করেননি, কিন্তু জনগণ যে আমাদের এত ভালবাসে তা আগে কখনো ভাবিনি। আল্লাহ আমাদের সকল তৎপরতা কবুল করুক। আমিন বলে সকলকে বিদায় দিলেন।
এরপর ২০১৬ সালের চার আগস্ট আমি গাজীপুর বিষয় ভিত্তিক (ইংরজি) শিক্ষক প্রশিক্ষণে ছিলাম। ভাই ফোন দিলেন মাগরীবের কিছু আগে, বললেন বাবুল প্রশিক্ষণ শালার বাইরে যাবে না। ঢাকার পরিবেশ খুব খারাপ উল্লেখ্য হলি-আর্টিজানের ঘটনা তখন ঘটেছিল। ভাই বললেন এলাকার পরিবেশও খারাপ, তোমার-আমার দিকে বাতিলদের তীক্ষ্ণ নজর। ওরা ভাবে আমরা ময়দান থেকে বিদায় হলে জামায়াত নেতৃত্ব শূন্য হয়ে যাবে। ভাই সম্ভবত ১০-১২ মিনিট আমার সাথে কথা বললেন। এর পর মাগরীব নামাজ শেষে। ক্যান্টিনে খাবার খেতে গেলাম, এসময় শহীদের বড় মেয়ে মাহফুজা ফোন করল- কাকা আব্বার ফোন বন্ধ, তাকে পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর আর জীবিত পাওয়া গেল না। আট দিন পর ১২ আগস্ট ভোর ৪.৩০ এ সময় একজন ফোন করে জানলাম ভাইকে ডিজিটাল এক্সিডেন্ট এর মাধ্যমে মৃত্যুর কথা। কত নির্মমভাবে ভাইকে শহীদ করা হয়েছে। যে হাত দিয়ে মানুষকে আল্লাহর দাসত্বের দিকে ডাকত সে হাত ওরা ক্ষত-বিক্ষত করে দিয়েছিল। শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষতচিহ্ন। কানের পাশে ছোট ছিদ্র অন্যদিকে ভেদ করেনি এটা কিসের চিহ্ন? গুলি। আহ! আরো কত নির্যাতন।
গণমাধ্যমে শাহাদাতের খবর
ঝিনাইদহে নিখোঁজ জামায়াত নেতার লাশ এবং বন্দুকযুদ্ধে ডাকাত নিহত শিরোনামে গণমাধ্যমে নিম্মোক্ত খবর প্রচারিত হয়- ঝিনাইদহের শৈলকুপা থেকে গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর নিখোঁজ মাদ্রাসা শিক্ষক ইদ্রিস আলী পান্নার লাশ মিলেছে জেলার হরিণাকুণ্ডু উপজেলার জোড়াপুকুরিয়া গ্রামে। রঘুনাথপুর গ্রামের গোলাম কওছার আলী মন্ডলের ছেলে পান্না হরিণাকুন্ডুর উপজেলার রঘুনাথপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারী ছিলেন। এদিকে একই দিন হরিণাকুন্ডুর ফলসি গ্রামে শহিদুল ইসলার পচা নামে এক সন্ত্রাসী র্যাবের সাথে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। নিহত শহিদুল হরিণাকুণ্ডু উপজেলার পারদখলপুর গ্রামের মৃত তোরাপ আলীর ছেলে। শুক্রবার ভোরে এ দুই জনের লাশ উদ্ধার করে হরিণাকুণ্ডু থানায় আনা হয়। হরিণাকুণ্ডু থানার ওসি মাহাতাব উদ্দীন জানান, শুক্রবার ভোরে হরিনাকুণ্ডু পৌরসভা এলাকার জোড়া পুকুরিয়া মাঠে জামায়াত নেতা ইদ্রিস আলীর লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। নিহত ইদ্রিস আলী পান্নার বিরুদ্ধে নাশকতাসহ ৮/৯টি মামলা রয়েছে। তিনি শিক্ষকতার পাশাপাশি মুসলীম বিবাহ ও তালাক রেজিস্টার ছিলেন। এছাড়া শৈলকুপা উপজেলার মহিষাগাড়ি জামে মসজিদের ইমামতিও করতেন তিনি। গত ৪ আগস্ট থেকে সে নিখোঁজ ছিলেন। ওসির দাবী পান্না হুজুর সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। এদিকে নিখোঁজ হওয়ার পর গত ৯ আগস্ট ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন তার স্ত্রী মোছাঃ বেগম ইদ্রিস। তিনি সাংবাদিক সম্মেলনে তার স্বামীকে পুলিশ পরিচয়ে সাদাপোশাকের লোকজন তুলে নিয়ে যাওয়ার কথা জানান। সাংবাদিক সম্মেলনে বলা হয়েছিলো, গত ৪ আগস্ট রাত ৮টার দিকে শৈলকুপার রামচন্দ্রপুর বাজার থেকে কাপড় স্ত্রী করে মোটরসাইকেল যোগে বাড়ি ফিরছিলেন। ইদ্রিস আলী রামচন্দ্রপুর পুলিশ ফাঁড়ির সামনে পৌঁছালে ৩/৪ জনের সাদা পোশাকের পিস্তল ও ওয়ারলেসধারী লোক তাকে তুলে নিয়ে যায়। স্বামীকে ক্রসফায়ারে হত্যার আশংকা করেন স্ত্রী। শুক্রবার লাশ উদ্ধারের পর ঝিনাইদহ হাসপাতাল মর্গে পান্নার ছেলে ফরহাদ, ভাই আব্দুল মান্নান, ভগ্নিপতি মহিউদ্দীনসহ তার স্বজনরা অভিযোগ করেন, পুলিশ বিশেষ কায়দায় হত্যা করে এখন সড়ক দুর্ঘটনার নাটক সাজাচ্ছে। তাদের প্রশ্ন সাদা পোশাকের লোকজন তুলে নিয়ে যাওয়ার পর নিখোঁজ একজন মানুষ কিভাবে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান?
এক নজরে শহীদ মো. ইদ্রিস আলী
শহীদের নাম: মোঃ ইদ্রিস আলী
জন্ম তারিখ: ০১-০২-১৯৬৮
পিতার নাম: মোঃ কাওসার আলী
মাতার নাম: মৃত আলতারন নেচা
বয়স: ৪৮ বছর
ঠিকানা: রঘুনাথপুর, রামচন্দ্রপুর, হরিনাকুণ্ড, ঝিনাইদহ
ভাই-বোন: আট জনের মধ্যে তৃতীয়
সন্তানাদি: তিন মেয়ে, এক ছেলে
শিক্ষাগত যোগ্যতা: কামিল
পেশা: মাদরাসার শিক্ষক (আলিয়া এম.পি.ও)
শহীদের শখ/ইচ্ছা: শাহাদাত বরণ
সাংগঠনিক মান: রুকন
সর্বশেষ দায়িত্ব: উপজেলা কর্মপরিষদ সদস্য ও ইউপি চেয়ারম্যান (নমিনি)
শাহাদাতের তারিখ: ১২-০৮-২০১৬
শাহাদাতের স্থান: হরিনাকুণ্ডু ঝিনাইদহ সড়কের দমদমার মাঠ সংলগ্ন রাস্তার পাশে
শহীদের কবর: পারিবারিক কবরস্থান রঘুনাথপুর