হোম / আওয়ামী দুঃশাসনে শহীদ / শহীদ সাইফুল ইসলাম মামুন
শহীদ সাইফুল ইসলাম মামুন

শহীদ সাইফুল ইসলাম মামুন

আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

সাইফুল ইসলাম মামুনকে গত ৩ই জুলাই ঝিনাইদহের মেস থেকে গ্রেফতার করা হয়। যিনি ঝিনাইদহ শহর শাখার সাবেক সাথী ও সাবেক থানা অর্থসম্পাদক ছিলেন। কিন্তু বরাবরের মতই তাঁকে গ্রেফতার কথা অস্বীকার করে পুলিশ। সাইফুল ইসলামসহ গ্রেপ্তার হওয়া আরও চার জনের সন্ধানের দাবীতে সংগঠন ও পরিবারের পক্ষ থেকে বিবৃতি প্রদান করা হয়। পুলিশ এদের মধ্য থেকে দুই জনকে স্বীকারোক্তির নাটক সাজিয়ে গত ১৭ জুলাই আদালতে হাজির করে। পুলিশ তাঁদের দীর্ঘদিন আটক রেখে সংখ্যালঘু হত্যার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী আদায়ের জন্য নির্মম নির্যাতন চালায়। শতনির্যাতনের পরেও মিথ্যা স্বীকারোক্তি দিতে অস্বীকার করলে ১৬ দিন গুম রাখার পর পরিকল্পিতভাবে সাইফুল ইসলামকে বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে ১৯/০৭/২০১৬ তারিখ রাতের আঁধারে হত্যা করেছে পুলিশ।

🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ

ব্যক্তিগত পরিচয়।
শহীদ সাইফুল ইসলাম মামুন নম্র, ভদ্র ও শান্ত প্রকৃতির লোক ছিলেন। তিনি ১৯৯০ সালের ০২ ফেব্রুয়ারি ঝিনাইদহ জেলাধীন শৈলকূপা থানাধীন মুচড়া পাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা লুৎফর রহমান এবং মাতা রোকেয়া বেগমের সাত সন্তানের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। ব্যাপক মেধার অধিকারী ছিলেন তিনি। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স পাস করেন। সাইফুল ভাই সর্বশেষ ভাটি অঞ্চলের সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তাঁর আচরণে সবাই মুগ্ধ হতেন। পড়ালেখা ও কোচিং কেন্দ্রিক তাঁর আগ্রহ ছিল বেশি। শহীদ সাইফুল ইসলাম ঝিনাইদহ শহরের পবহাটির একটি ছাত্রাবাসে থাকতেন। চাকুরি করে পিতামাতার সেবা করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু আওয়ামী পুলিশ তাকে সেই স্বপ্ন পূরণ করতে দেয়নি।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে যান:
সাইফুল ইসলাম মামুনকে গত ৩ই জুলাই ঝিনাইদহের মেস থেকে গ্রেফতার করা হয়। যিনি ঝিনাইদহ শহর শাখার সাবেক সাথী ও সাবেক থানা অর্থসম্পাদক ছিলেন। কিন্তু বরাবরের মতই তাঁকে গ্রেফতার কথা অস্বীকার করে পুলিশ। সাইফুল ইসলামসহ গ্রেপ্তার হওয়া আরও চার জনের সন্ধানের দাবীতে সংগঠন ও পরিবারের পক্ষ থেকে বিবৃতি প্রদান করা হয়। পুলিশ এদের মধ্য থেকে দুই জনকে স্বীকারোক্তির নাটক সাজিয়ে গত ১৭ জুলাই আদালতে হাজির করে। পুলিশ তাঁদের দীর্ঘদিন আটক রেখে সংখ্যালঘু হত্যার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী আদায়ের জন্য নির্মম নির্যাতন চালায়। শতনির্যাতনের পরেও মিথ্যা স্বীকারোক্তি দিতে অস্বীকার করলে ১৬ দিন গুম রাখার পর পরিকল্পিতভাবে সাইফুল ইসলামকে বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে ১৯/০৭/২০১৬ তারিখ রাতের আঁধারে হত্যা করেছে পুলিশ।
সামগ্রিক বিবরণ:
শহীদ সাইফুল ইসলাম ঝিনাইদহ শহরের পবহাটির একটি ছাত্রাবাসে থাকতেন। চাকুরি করে পিতামাতার সেবা করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু আওয়ামী পুলিশ তাকে সেই স্বপ্ন পূরণ করতে দেয়নি। এ মেস থেকে দশ/বার জনকে কোনো কারণ ছাড়াই পুলিশ গ্রেপ্তার করে। থানা থেকে সবাইকে ছেড়ে দিলেও সাইফুলকে ছেড়ে দেয়নি। পরদিন তাঁর পিতা থানায় তার সাথে দেখা করে কথা বলে। একটু পর খাবার নিয়ে এসে দেখে সাইফুল আর থানায় নেই। প্রথমে পুলিশ গ্রেপ্তারের কথা স্বীকার করলেও পরদিন গ্রেপ্তারের কথা অস্বীকার করে। তাঁর পিতা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে কথা বলে আশ্বাস পেয়েছিলেন যে সাইফুলকে ছেড়ে দেওয়া হবে, কিন্তু সেই আশা বাস্তবে রূপ নেয়নি।
২০১৬ সালের ৩ জুলাই ১৯ জুলাই পর্যন্ত গুম করে সংখ্যালঘু হত্যার মিথ্যা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নিতে ব্যর্থ হয়ে নির্মম নির্যাতন করে শহরের মধুপুর নামক স্থানে পুলিশ তাঁকে ক্রসফায়ারে হত্যা করে। একটি নিরাপরাধ, মেধাবী মুখ রক্তে রঞ্জিত হয়। মৃত্যু ঘটে একটি প্রস্ফুটিত গোলাপের।
আপনজনদের কথা:
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের ঝিনাইদহ শহর শাখার সাবেক সভাপতি আবু সাঈদ বলেন- তারা মূলত সাইফুলকে হত্যা করেনি। ইসলামী আন্দোলনের এক আদর্শকে হত্যা করেছে। কোরআনের একনিষ্ঠ একজন সেবককে হত্যা করে ঝিনাইদহে ইসলামী আন্দেলনের গতিকে থামিয়ে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু সেটা তারা পারবে না। কারণ আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেছেন- 'তারা মুখের ফুৎকারে আল্লাহর নূরকে নিভিয়ে দিতে চায় কিন্তু আল্লাহ তার নূরকে পূর্ণ করবেন যদিও কাফেররা তা অপছন্দ করে।' (সুরা আস সফ-৮) শহীদ সাইফুল ইসলামের অসমাপ্ত কাজ করার জন্য তার সাথীরা শপথ গ্রহণ করেছে। আল্লাহ তাঁকে জান্নাতের উঁচু মাকাম দান করুন। আমিন
এক নজরে শহীদ সাইফুল ইসলাম মামুন
নাম: সাইফুল ইসলাম মামুন
জন্ম তারিখ: ০২-০২-১৯৯০
পিতা: লুৎফর রহমান
মাতা: রোকেয়া বেগম
ভাই-বোন: সাত ভাই-বোনের মধ্যে দ্বিতীয়
বর্তমান ঠিকানা: মুচড়া পাড়া, পুটিমারী, ফুলহরি, শৈলকুপা, ঝিনাইদহ
স্থায়ী ঠিকানা: মুচড়া পাড়া, পুটিমারী, ফুলহরি, শৈলকুপা, ঝিনাইদহ
লেখাপড়া: অনার্স, মাস্টার্স (আরবি সাহিত্য), ইবি
শাহাদতের তারিখ: ১৯-০৭-২০১৬
শাহাদতের স্থান: তেঁতুলতলা, ঝিনাইদহ
কবরস্থান: পুটিমারী পারিবারিক কবরস্থান
সাংগঠনিক মান: সাথী, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির
শহীদের শখ: বই পড়া

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍