শহীদ শাহ জামাল
আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
শহীদ শাহ জামাল, ৫ ডিসেম্বর ১৯৮৯ সালে ঢাকার উত্তর যাত্রাবাড়ীতে জন্ম নেওয়া এক প্রতিভাবান তরুণ। যিনি লেখাপড়া, ইসলামী সংস্কৃতি ও সংগঠনী চেতনা সব ক্ষেত্রেই নিজের উজ্জ্বল উপস্থিতি রেখে গেছেন। দাখিল–আলিম থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত, তিনি কোরআন-সুন্নাহভিত্তিক আদর্শ নিয়ে বেড়ে উঠা এক নিবেদিতপ্রাণ ছাত্রনেতা। সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গান, আবৃত্তি ও অভিনয়ে ছিলেন স্বপ্রতিভ; আর সংগঠনের কাজে তিনি ছিলেন দায়িত্বশীল, সাহসী ও অটল।
২০১৩ সালের ৯ অক্টোবর ফকিরাপুলে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে আহত হওয়ার পর কয়েকদিন মৃত্যুপথযাত্রা শেষে ১২ অক্টোবর তিনি শাহাদাত বরণ করেন। তাঁর জীবন এক তরুণের স্বপ্ন, আদর্শ আর সংগ্রামী বিশ্বাসের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে আজও স্মরণীয়।
২০১৩ সালের ৯ অক্টোবর ফকিরাপুলে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে আহত হওয়ার পর কয়েকদিন মৃত্যুপথযাত্রা শেষে ১২ অক্টোবর তিনি শাহাদাত বরণ করেন। তাঁর জীবন এক তরুণের স্বপ্ন, আদর্শ আর সংগ্রামী বিশ্বাসের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে আজও স্মরণীয়।
🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ
শহীদ শাহ জামাল
ঢাকা-৮
শহীদের পরিচিতি
শহীদ শাহ জামাল ঢাকা মহানগরীর উত্তর যাত্রাবাড়ীতে জন্মগ্রহণ করেন। এগারো ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন দশম, তিনি লেখাপড়ার পাশাপাশি কালচারাল অঙ্গনেও কাজ করতেন। ইসলামী সঙ্গীত, অভিনয়, আবৃত্তি ইত্যাদি সকল বিভাগে তার পদচারনা ছিল। তিনি সর্বদা ইসলামকে বিজয় করার জন্য সাংগঠনিক কাজ নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকতেন।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে যান
৯ অক্টোবর ২০১৩ তারিখ সকালে বাসা থেকে সাংগঠনিক কাজের উদ্দ্যেশে রওয়ানা হয়। সন্ধা ৭ টায় ফকিরাপুলে বিক্ষোভ কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করে প্রতিপক্ষের আক্রমণে গুরুতর আহত হন। আহত অবস্থায় তিনি ইসলামিয়া জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। এরপর তাকে ইবনে সিনা হাসপাতালে পাঠানো হয়। অবস্থার অবনতি হলে রাত ২ টায় তাকে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে নেয়া হয়। ১১ অক্টোবর ২০১৩ তারিখ দুপুর ১২ টায় তাকে এলিফ্যান্ট রোডস্থ জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। ১২ অক্টোবর ২০১৩ সকাল ৯ টায় তিনি শাহাদাত বরণ করেন।
শাহাদাতের পূর্বের বিভিন্ন ঘটনা
শহীদ শাহ জামাল সব সময় মিছিলসহ সকল প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করতেন এবং নেতৃত্ব দিতেন। তিনি তার ভাই এবং দায়িত্বশীলদেরকে মাঝে মাঝে বলতেন আমি শহীদ হয়ে যাব এবং আমার সকল সম্পত্তির ৬০% সংগঠনকে দান করে দিব। সর্বদা হাস্যোজ্জ্বল থাকতেন। বন্ধুমহল থেকে এলাকার সকল মানুষ তাকে খুবই ভালবাসতেন। হৃদয়ে শাহাদাতের তামান্না নিয়ে সিজদায় আল্লাহর কাছে কান্না-কাটি করতেন।
সামগ্রীক ঘটনার বিবরণ
জামালের ছাত্রজীবনের অনেকটা সময় কেটেছে ঐতিহ্যবাহী দীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তা'মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসায়। জামালের দুই ভাই শাহ কামাল ও শাহ ওয়ালিদও তার সাথেই পড়তো। তিন ভাই ২০০৮ সালে এই মাদরাসা থেকে দাখিল পাস করে। একাডেমিক পড়ালেখার পাশাপাশি শাহ জামাল সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে মেতে থাকতেন। মঞ্চে তিনি ছিলেন স্বপ্রতিভ। গান-অভিনয়ে মাতিয়ে রাখতেন দর্শকদের। জামাল আলিম পাস করে নারায়ণগঞ্জের মিজমিজি পাইনাদী ফাযিল মাদরাসা থেকে। শাহাদাতের পূর্ব পর্যন্ত জামাল পাঞ্জাব টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করতো। ফ্যাশন ডিজাইনে তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত ছিল সে।
জামালের বাবা শাহজালাল একজন সফল ব্যবসায়ী। পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলনের সামনের সারির একজন। পারিবারিকভাবেই তাই জামালের ইসলামী আন্দোলনের সাথে পরিচয় ছিল। ২০০২ সালে কর্মী হবার সময় থেকেই তার চিন্তা ছিল- কী করে সংগঠনের মজলুম ভাইদের রক্ষা করা যায়। কী করে এই জমীনে ইসলামী আন্দোলনকে প্রতিষ্ঠা করা যায়।
২০০৬ সালের ৬ অক্টোবর, সাথী শপথ নিয়ে ইসলামী আন্দোলনের পথচলায় নিজেকে আরো বেগবান করে জামাল। ২৮ অক্টোবর, পল্টনে যখন জামায়াত-শিবিরের সভাস্থলে লগি-বৈঠা নিয়ে অতর্কিতে হামলা চালায় আওয়ামী ক্যাডাররা, সেদিনও কিশোর জামাল সে ময়দানে ভূমিকা রেখেছিল।
শাহ জামালের চিন্তায় সংগঠন ছিল অনেক ওপরে। ২০১২ সালে সদস্য হবার পর থেকে তার দায়িত্ববোধ আরো বেড়ে যায়। প্রতিটি সময়ই সে সংগঠনের কাজকে অগ্রাধিকার দিত। নিজের যা কিছু আছে, তার ওপর সংগঠনের বড় অধিকার আছে বলে মনে করতেন।
তিনি ডায়রিতে লিখেছেন, 'আমি শাহ জামাল। সুস্থ-সুন্দরভাবে চিন্তা ও গবেষণা করে বলছি। আমি উত্তরাধিকার সূত্রে যে সম্পদ পাব, সেটা যে বছরই হোক না কেন, আমার ভাগের সম্পদের ঘাট ভাগ হবে আল্লাহর পথে। আর বাকি ৪০ ভাগ হবে ভাই-বোনদের। এটাই আমার অছিয়ত। এটাই আমার সিদ্ধান্ত।' অবশেষে একদিন এলো জামালের সেই প্রিয় মুহূর্ত। ৯ অক্টোবর ২০১৩ ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভকর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে। এ সময় সে মারাত্মকভাবে আহত হয়। আহত জামাল নিজে রিক্সাযোগে ইসলামিয়া জেনারেল হাসপাতালে যায়। সেখান থেকে রাত ২ টার দিকে তাকে ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে এলিফ্যান্ট রোড জেনারেল হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলে। তিনদিন আইসিইউতে থাকার পর ১২ অক্টোবর সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে জামাল শাহাদাতের পেয়ালা পান করে। শাহ জামাল, যার কর্মচাঞ্চল্য তাকে আর দশজনের থেকে আলাদা, তার সুঠাম দেহটি স্থবির হয়ে যায়। সে স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে পাড়ি জমায় খোদার পথে। সে তাঁর প্রিয় সংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ১৭৯তম শহীদ।
সাংগঠনিক মান:
ইসলামী ছাত্রশিবিরের সদস্য এবং ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের থানা বায়তুলমাল সম্পাদক ছিলেন।
শহীদের আপন জনদের কথা
পিতা: আল্লাহ আমার বাগানের শ্রেষ্ঠ ফুলটা বেছে নিলেন। আমরা গর্বিত যে আমরা শহীদের পরিবার পরিজন
হতে পেরেছি।
মাতা। হে আল্লাহ আপনার কাছে বিনীত প্রার্থনা করি আপনি শাহ জামালকে শহীদ হিসেবে কবুল করুন এবং তাকে শাহাদাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করুন। আমীন।
বোন: হে আমার রব তুমি দয়া করে আমাদের ছোট সোনা ভাইটিকে শহীদ হিসেবে কবুল কর। সে সর্বদা দীনের পথে অটল ও অবিচল থকতো।
ভাই বোনদের বিবরণ
১. জলী বিনতে জালাল, গৃহিণী, বি.এ
২. শাহনাজ বিনতে জালাল, ব্যবসায়ী, বি.এ
৩. শাহিনুর বিনতে জালাল, কর্মী, মহিলা জামায়াত
৪. শাহ মওদূদী, ব্যবসায়ী, আই.এ
৫. মাহমুদা বিনতে জালাল, চাকরীজিবী, সদস্যা, বি.এস.সি
৬. মাজেদা বিনতে জালাল, চাকরীজিবী, এম.এ
৭. মুহসীনা বিনতে জালাল, গৃহীণী, শূরা কর্ম পরিষদ সদস্যা, এম.এ
৮. আতিয়া বিনতে জালাল, অগ্রসর কর্মী, কামিল
৯. শাহ কামাল, সদস্য প্রার্থী, বি.এস.সি ৩য় বর্ষ
১০. শাহ জামাল, সদস্য, বি.এস.সি ৩য় বর্ষ শহীদ
১১. শাহ ওয়ালিদ, কর্মী, বি.এ অনার্স
এক নজরে শহীদ শাহ জামাল
শহীদের নাম: শাহ জামাল
পিতার নাম: মোঃ শাহ জালাল, বয়স ও পেশা- বয়স ৬৬ বছর, ব্যবসায়ী।
মাতার নাম: বিলকিস বেগম, বয়স ৫৬ বছর, গৃহিণী
জন্ম তারিখ: ০৫,১২, ১৯৮৯
অধ্যয়ন/পেশা: ছাত্র, Punjab Textil University, ফ্যাশন ডিজাইন, ৩য় বর্ষ।
আহত হওয়ার তারিখ: ০৯.১০.২০১৩, সন্ধা ৭ টা
আহতের ধরন ও পরবর্তী অবস্থা: দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে মারাত্মক আহত, হার্টে সমস্যা হয়। এবং দুইবার ব্রেন স্ট্রোক করেন
শাহাদাতের তারিখ ও সময়: ১২/১০/২০১৩, সকাল ৯টা
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: উত্তর, ডাকঘর: যাত্রাবাড়ি, থানা- গেণ্ডারিয়া, জেলা- ঢাকা
ঢাকা-৮
শহীদের পরিচিতি
শহীদ শাহ জামাল ঢাকা মহানগরীর উত্তর যাত্রাবাড়ীতে জন্মগ্রহণ করেন। এগারো ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন দশম, তিনি লেখাপড়ার পাশাপাশি কালচারাল অঙ্গনেও কাজ করতেন। ইসলামী সঙ্গীত, অভিনয়, আবৃত্তি ইত্যাদি সকল বিভাগে তার পদচারনা ছিল। তিনি সর্বদা ইসলামকে বিজয় করার জন্য সাংগঠনিক কাজ নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকতেন।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে যান
৯ অক্টোবর ২০১৩ তারিখ সকালে বাসা থেকে সাংগঠনিক কাজের উদ্দ্যেশে রওয়ানা হয়। সন্ধা ৭ টায় ফকিরাপুলে বিক্ষোভ কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করে প্রতিপক্ষের আক্রমণে গুরুতর আহত হন। আহত অবস্থায় তিনি ইসলামিয়া জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। এরপর তাকে ইবনে সিনা হাসপাতালে পাঠানো হয়। অবস্থার অবনতি হলে রাত ২ টায় তাকে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে নেয়া হয়। ১১ অক্টোবর ২০১৩ তারিখ দুপুর ১২ টায় তাকে এলিফ্যান্ট রোডস্থ জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। ১২ অক্টোবর ২০১৩ সকাল ৯ টায় তিনি শাহাদাত বরণ করেন।
শাহাদাতের পূর্বের বিভিন্ন ঘটনা
শহীদ শাহ জামাল সব সময় মিছিলসহ সকল প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করতেন এবং নেতৃত্ব দিতেন। তিনি তার ভাই এবং দায়িত্বশীলদেরকে মাঝে মাঝে বলতেন আমি শহীদ হয়ে যাব এবং আমার সকল সম্পত্তির ৬০% সংগঠনকে দান করে দিব। সর্বদা হাস্যোজ্জ্বল থাকতেন। বন্ধুমহল থেকে এলাকার সকল মানুষ তাকে খুবই ভালবাসতেন। হৃদয়ে শাহাদাতের তামান্না নিয়ে সিজদায় আল্লাহর কাছে কান্না-কাটি করতেন।
সামগ্রীক ঘটনার বিবরণ
জামালের ছাত্রজীবনের অনেকটা সময় কেটেছে ঐতিহ্যবাহী দীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তা'মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসায়। জামালের দুই ভাই শাহ কামাল ও শাহ ওয়ালিদও তার সাথেই পড়তো। তিন ভাই ২০০৮ সালে এই মাদরাসা থেকে দাখিল পাস করে। একাডেমিক পড়ালেখার পাশাপাশি শাহ জামাল সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে মেতে থাকতেন। মঞ্চে তিনি ছিলেন স্বপ্রতিভ। গান-অভিনয়ে মাতিয়ে রাখতেন দর্শকদের। জামাল আলিম পাস করে নারায়ণগঞ্জের মিজমিজি পাইনাদী ফাযিল মাদরাসা থেকে। শাহাদাতের পূর্ব পর্যন্ত জামাল পাঞ্জাব টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করতো। ফ্যাশন ডিজাইনে তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত ছিল সে।
জামালের বাবা শাহজালাল একজন সফল ব্যবসায়ী। পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলনের সামনের সারির একজন। পারিবারিকভাবেই তাই জামালের ইসলামী আন্দোলনের সাথে পরিচয় ছিল। ২০০২ সালে কর্মী হবার সময় থেকেই তার চিন্তা ছিল- কী করে সংগঠনের মজলুম ভাইদের রক্ষা করা যায়। কী করে এই জমীনে ইসলামী আন্দোলনকে প্রতিষ্ঠা করা যায়।
২০০৬ সালের ৬ অক্টোবর, সাথী শপথ নিয়ে ইসলামী আন্দোলনের পথচলায় নিজেকে আরো বেগবান করে জামাল। ২৮ অক্টোবর, পল্টনে যখন জামায়াত-শিবিরের সভাস্থলে লগি-বৈঠা নিয়ে অতর্কিতে হামলা চালায় আওয়ামী ক্যাডাররা, সেদিনও কিশোর জামাল সে ময়দানে ভূমিকা রেখেছিল।
শাহ জামালের চিন্তায় সংগঠন ছিল অনেক ওপরে। ২০১২ সালে সদস্য হবার পর থেকে তার দায়িত্ববোধ আরো বেড়ে যায়। প্রতিটি সময়ই সে সংগঠনের কাজকে অগ্রাধিকার দিত। নিজের যা কিছু আছে, তার ওপর সংগঠনের বড় অধিকার আছে বলে মনে করতেন।
তিনি ডায়রিতে লিখেছেন, 'আমি শাহ জামাল। সুস্থ-সুন্দরভাবে চিন্তা ও গবেষণা করে বলছি। আমি উত্তরাধিকার সূত্রে যে সম্পদ পাব, সেটা যে বছরই হোক না কেন, আমার ভাগের সম্পদের ঘাট ভাগ হবে আল্লাহর পথে। আর বাকি ৪০ ভাগ হবে ভাই-বোনদের। এটাই আমার অছিয়ত। এটাই আমার সিদ্ধান্ত।' অবশেষে একদিন এলো জামালের সেই প্রিয় মুহূর্ত। ৯ অক্টোবর ২০১৩ ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভকর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে। এ সময় সে মারাত্মকভাবে আহত হয়। আহত জামাল নিজে রিক্সাযোগে ইসলামিয়া জেনারেল হাসপাতালে যায়। সেখান থেকে রাত ২ টার দিকে তাকে ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে এলিফ্যান্ট রোড জেনারেল হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলে। তিনদিন আইসিইউতে থাকার পর ১২ অক্টোবর সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে জামাল শাহাদাতের পেয়ালা পান করে। শাহ জামাল, যার কর্মচাঞ্চল্য তাকে আর দশজনের থেকে আলাদা, তার সুঠাম দেহটি স্থবির হয়ে যায়। সে স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে পাড়ি জমায় খোদার পথে। সে তাঁর প্রিয় সংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ১৭৯তম শহীদ।
সাংগঠনিক মান:
ইসলামী ছাত্রশিবিরের সদস্য এবং ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের থানা বায়তুলমাল সম্পাদক ছিলেন।
শহীদের আপন জনদের কথা
পিতা: আল্লাহ আমার বাগানের শ্রেষ্ঠ ফুলটা বেছে নিলেন। আমরা গর্বিত যে আমরা শহীদের পরিবার পরিজন
হতে পেরেছি।
মাতা। হে আল্লাহ আপনার কাছে বিনীত প্রার্থনা করি আপনি শাহ জামালকে শহীদ হিসেবে কবুল করুন এবং তাকে শাহাদাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করুন। আমীন।
বোন: হে আমার রব তুমি দয়া করে আমাদের ছোট সোনা ভাইটিকে শহীদ হিসেবে কবুল কর। সে সর্বদা দীনের পথে অটল ও অবিচল থকতো।
ভাই বোনদের বিবরণ
১. জলী বিনতে জালাল, গৃহিণী, বি.এ
২. শাহনাজ বিনতে জালাল, ব্যবসায়ী, বি.এ
৩. শাহিনুর বিনতে জালাল, কর্মী, মহিলা জামায়াত
৪. শাহ মওদূদী, ব্যবসায়ী, আই.এ
৫. মাহমুদা বিনতে জালাল, চাকরীজিবী, সদস্যা, বি.এস.সি
৬. মাজেদা বিনতে জালাল, চাকরীজিবী, এম.এ
৭. মুহসীনা বিনতে জালাল, গৃহীণী, শূরা কর্ম পরিষদ সদস্যা, এম.এ
৮. আতিয়া বিনতে জালাল, অগ্রসর কর্মী, কামিল
৯. শাহ কামাল, সদস্য প্রার্থী, বি.এস.সি ৩য় বর্ষ
১০. শাহ জামাল, সদস্য, বি.এস.সি ৩য় বর্ষ শহীদ
১১. শাহ ওয়ালিদ, কর্মী, বি.এ অনার্স
এক নজরে শহীদ শাহ জামাল
শহীদের নাম: শাহ জামাল
পিতার নাম: মোঃ শাহ জালাল, বয়স ও পেশা- বয়স ৬৬ বছর, ব্যবসায়ী।
মাতার নাম: বিলকিস বেগম, বয়স ৫৬ বছর, গৃহিণী
জন্ম তারিখ: ০৫,১২, ১৯৮৯
অধ্যয়ন/পেশা: ছাত্র, Punjab Textil University, ফ্যাশন ডিজাইন, ৩য় বর্ষ।
আহত হওয়ার তারিখ: ০৯.১০.২০১৩, সন্ধা ৭ টা
আহতের ধরন ও পরবর্তী অবস্থা: দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে মারাত্মক আহত, হার্টে সমস্যা হয়। এবং দুইবার ব্রেন স্ট্রোক করেন
শাহাদাতের তারিখ ও সময়: ১২/১০/২০১৩, সকাল ৯টা
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: উত্তর, ডাকঘর: যাত্রাবাড়ি, থানা- গেণ্ডারিয়া, জেলা- ঢাকা
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍