শহীদ শামীম মাহমুদ
আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
২মার্চ ২০১৬। সাদা পোশাকে পুলিশ তাঁকে তুলে নেয়ার ২১ দিন পর ১৩ই এপ্রিল ২০১৬ ভোরে কপালে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় যশোর থেকে শামীমের মৃতদেহ উদ্ধার
🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ
শহীদ শামীম মাহমুদ ১৯৯৩ সালের ১৫ জানুয়ারি ঝিনাইদহ জেলাধীন কালীগঞ্জ পৌরসভার ব্র্যাকপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মাওলানা মোঃ রুহুল আমিন এবং মাতার নাম মোছাঃ শিউলি আক্তার। তিনি ঝিনাইদহ সরকারী কেসি কলেজে অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাথী এবং কালিগঞ্জ পৌর সাংগঠনিক থানার প্রকাশনা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করতেন।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে যান:
২মার্চ ২০১৬। সাদা পোশাকে পুলিশ তাঁকে তুলে নেয়ার ২১ দিন পর ১৩ই এপ্রিল ২০১৬ ভোরে কপালে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় যশোর থেকে শামীমের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।
সামগ্রিক বিবরণ:
২মার্চ ২০১৬। মাহতাব উদ্দিন ডিগ্রি কলেজের পূর্বগেটে সন্ধ্যার সময় শহীদ শামীম ভাই পত্রিকা পড়ছিলেন। এমতাবস্থায় ৪জন কথিত পুলিশ সাদা পোশাকে তাঁকে তুলে নিয়ে যায়। ২১ দিন জম থাকার পর ১৩ই এপ্রিল ২০১৬ ভোরে কপালে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় যশোর মাইজ দিয়া বাওড় সংলগ্ন বিরাম শ্মশানের পুকুর পাড় শামীমের মৃত দেহ পড়েছিলো শহীদ আবুজর-এর সাথে।
আপনজনদের কথা:
শহীদ শামীম মাহমুদের গর্বিত পিতা মাওলানা মোঃ রুহুল আমিন বলেন- রক্ত ঝরা পথের এক দুর্দান্ত সাথী শহীদ শামীম। বাস্তব বড় সত্য। বাস্তবের এই নিষ্ঠুর আঘাতে তছনছ হয়ে যায় মানুষের স্বপ্ন। ভরাডুবি হয় তার জীবন প্রদীপের কিন্তু কেন? কি অপরাধে তাদের নিবাস হয় ভূতলে। যারা জীবনটাকে মহান আল্লাহর আমানত হিসেবে গ্রহণ করেছে, যারা বিচার দিবসকে বিশ্বাস করে, যারা ধরাকে ক্ষণস্থায়ী জীবনের সঙ্গী করে তারাই শুধু হতে চায় হেরার পথিক বদর, ওহুদ খন্দকের সাথী। ওরাই শুধু আবু জেহেলের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে কালেমার পতাকা উড্ডীন করতে চায়। শহীদ শামীম ছিলো এমনই একজন। শহীদ শামীম সদালাপী, স্বল্পভাষী পড়ালেখা কঠোর মনোযোগী ছিলো। কারো সাথে দেখা হলে হাসিমুখে সালাম বিনিময় করত। অপরের প্রয়োজনে সর্বদা নিয়োজিত থাকত। পরিচিত বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন কাউকে হেঁটে যেতে দেখলে মোটর সাইকেল গন্তব্যে পৌঁছে দিত।প্রত্যেকটি মিছিলের প্রথমে থাকতো। আন্দোলন-সংগ্রামে কখনও পিছপা হয়নি। আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী সাহেবের বিচারের নামে প্রহসনের প্রতিবাদে সারা বাংলা যখন উত্তাল হয়ে ওঠে সর্বস্তরের জনগণ যখন তীব্রভাবে ফুঁসে ওঠে, তাতে শামীম সার্বিকভাবে শরিক ছিল। ঐ সময়েই শামীম শাহাদাতের তামান্না বুকে লালন করেছিলো।
২০১৩ সালের ভোটার বিহীন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে প্রতিহত করার জন্য শামীম ব্যাপকভাবে আন্দোলনে অংশ নেয়। সে সময় জনৈক এস. আই বাড়িতে এসে পা থেকে মাথা পর্যন্ত চামড়া তুলে ফেলার হুমকি দেয়। ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে একবার গ্রেফতার হয়। ২০১৬ সালের ২৪ মার্চ সাদা পোশাক পরিহিত চারজন পুলিশ নামধারী সদস্য মাহাতাব উদ্দিন কলেজের পূর্বগেইট থেকে ধরে নিয়ে যায়। দীর্ঘ ২১ দিন গুম রেখে ২০১৬ এর ১৩ এপ্রিল কপালে গুলি করে শামীমকে শহীদ করে দেয়। কেন শামীম মাহমুদ এভাবে শহীদ হলো সেকি ধর্ষক ছিলো? মাদক চোরাকারবারী ছিল, নাকি ছিনতাইকারী বা জুয়াড়ী ছিলো? জানি-ঘাতকরা জবাব দিতে পারবে না। কিন্তু মহান আল্লাহর আদালতে তোমাদের একদিন জবাব দিতেই হবে। শত শত শহীদের রক্তে রঞ্জিত ধরা একদিন তোমাদের ভার বইতে চাইবে না। তোমরা কখনও ক্ষমা পাবে না।
এক নজরে শহীদ শামীম মাহমুদ
নাম: শামীম মাহমুদ
জন্ম তারিখ: ১৫-০১-১৯৯৩
পিতার নাম: মোঃ রুহুল আমীন
মাতার নাম: মোছাঃ শিউলি আক্তার
ভাইবোন: দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে প্রথম
পিতার পেশা: শিক্ষক
মাতার পেশা: গৃহিণী
স্থায়ী ঠিকানা: কালীগঞ্জ পৌরসভা ব্রাকপাড়া, ঝিনাইদহ
বর্তমান ঠিকানা: ঐ
সর্বশেষ লেখাপড়া: অনার্স ৩য় বর্ষ, সরকারি কে.সি কলেজ, ঝিনাইদহ
সাংগঠনিক মান: সাথী
সর্বশেষ দায়িত্ব: প্রকাশনা সম্পাদক, কালিগঞ্জ পৌর সাংগঠনিক থানা শাখা
পেশাগত লক্ষ্য: সরকারি চাকুরি
শাহাদাতের স্থান: যশোর মাইজদিয়া বাওড় সংলগ্ন বিরাম শ্মশানের পুকুর পাড়
শহীদ হওয়ার তারিখ: ১৩-০৪-২০১৬
আঘাতের ধরন: কপালে গুলি
যাদের আঘাতে শহীদ: পুলিশ পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া সন্ত্রসী।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে যান:
২মার্চ ২০১৬। সাদা পোশাকে পুলিশ তাঁকে তুলে নেয়ার ২১ দিন পর ১৩ই এপ্রিল ২০১৬ ভোরে কপালে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় যশোর থেকে শামীমের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।
সামগ্রিক বিবরণ:
২মার্চ ২০১৬। মাহতাব উদ্দিন ডিগ্রি কলেজের পূর্বগেটে সন্ধ্যার সময় শহীদ শামীম ভাই পত্রিকা পড়ছিলেন। এমতাবস্থায় ৪জন কথিত পুলিশ সাদা পোশাকে তাঁকে তুলে নিয়ে যায়। ২১ দিন জম থাকার পর ১৩ই এপ্রিল ২০১৬ ভোরে কপালে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় যশোর মাইজ দিয়া বাওড় সংলগ্ন বিরাম শ্মশানের পুকুর পাড় শামীমের মৃত দেহ পড়েছিলো শহীদ আবুজর-এর সাথে।
আপনজনদের কথা:
শহীদ শামীম মাহমুদের গর্বিত পিতা মাওলানা মোঃ রুহুল আমিন বলেন- রক্ত ঝরা পথের এক দুর্দান্ত সাথী শহীদ শামীম। বাস্তব বড় সত্য। বাস্তবের এই নিষ্ঠুর আঘাতে তছনছ হয়ে যায় মানুষের স্বপ্ন। ভরাডুবি হয় তার জীবন প্রদীপের কিন্তু কেন? কি অপরাধে তাদের নিবাস হয় ভূতলে। যারা জীবনটাকে মহান আল্লাহর আমানত হিসেবে গ্রহণ করেছে, যারা বিচার দিবসকে বিশ্বাস করে, যারা ধরাকে ক্ষণস্থায়ী জীবনের সঙ্গী করে তারাই শুধু হতে চায় হেরার পথিক বদর, ওহুদ খন্দকের সাথী। ওরাই শুধু আবু জেহেলের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে কালেমার পতাকা উড্ডীন করতে চায়। শহীদ শামীম ছিলো এমনই একজন। শহীদ শামীম সদালাপী, স্বল্পভাষী পড়ালেখা কঠোর মনোযোগী ছিলো। কারো সাথে দেখা হলে হাসিমুখে সালাম বিনিময় করত। অপরের প্রয়োজনে সর্বদা নিয়োজিত থাকত। পরিচিত বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন কাউকে হেঁটে যেতে দেখলে মোটর সাইকেল গন্তব্যে পৌঁছে দিত।প্রত্যেকটি মিছিলের প্রথমে থাকতো। আন্দোলন-সংগ্রামে কখনও পিছপা হয়নি। আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী সাহেবের বিচারের নামে প্রহসনের প্রতিবাদে সারা বাংলা যখন উত্তাল হয়ে ওঠে সর্বস্তরের জনগণ যখন তীব্রভাবে ফুঁসে ওঠে, তাতে শামীম সার্বিকভাবে শরিক ছিল। ঐ সময়েই শামীম শাহাদাতের তামান্না বুকে লালন করেছিলো।
২০১৩ সালের ভোটার বিহীন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে প্রতিহত করার জন্য শামীম ব্যাপকভাবে আন্দোলনে অংশ নেয়। সে সময় জনৈক এস. আই বাড়িতে এসে পা থেকে মাথা পর্যন্ত চামড়া তুলে ফেলার হুমকি দেয়। ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে একবার গ্রেফতার হয়। ২০১৬ সালের ২৪ মার্চ সাদা পোশাক পরিহিত চারজন পুলিশ নামধারী সদস্য মাহাতাব উদ্দিন কলেজের পূর্বগেইট থেকে ধরে নিয়ে যায়। দীর্ঘ ২১ দিন গুম রেখে ২০১৬ এর ১৩ এপ্রিল কপালে গুলি করে শামীমকে শহীদ করে দেয়। কেন শামীম মাহমুদ এভাবে শহীদ হলো সেকি ধর্ষক ছিলো? মাদক চোরাকারবারী ছিল, নাকি ছিনতাইকারী বা জুয়াড়ী ছিলো? জানি-ঘাতকরা জবাব দিতে পারবে না। কিন্তু মহান আল্লাহর আদালতে তোমাদের একদিন জবাব দিতেই হবে। শত শত শহীদের রক্তে রঞ্জিত ধরা একদিন তোমাদের ভার বইতে চাইবে না। তোমরা কখনও ক্ষমা পাবে না।
এক নজরে শহীদ শামীম মাহমুদ
নাম: শামীম মাহমুদ
জন্ম তারিখ: ১৫-০১-১৯৯৩
পিতার নাম: মোঃ রুহুল আমীন
মাতার নাম: মোছাঃ শিউলি আক্তার
ভাইবোন: দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে প্রথম
পিতার পেশা: শিক্ষক
মাতার পেশা: গৃহিণী
স্থায়ী ঠিকানা: কালীগঞ্জ পৌরসভা ব্রাকপাড়া, ঝিনাইদহ
বর্তমান ঠিকানা: ঐ
সর্বশেষ লেখাপড়া: অনার্স ৩য় বর্ষ, সরকারি কে.সি কলেজ, ঝিনাইদহ
সাংগঠনিক মান: সাথী
সর্বশেষ দায়িত্ব: প্রকাশনা সম্পাদক, কালিগঞ্জ পৌর সাংগঠনিক থানা শাখা
পেশাগত লক্ষ্য: সরকারি চাকুরি
শাহাদাতের স্থান: যশোর মাইজদিয়া বাওড় সংলগ্ন বিরাম শ্মশানের পুকুর পাড়
শহীদ হওয়ার তারিখ: ১৩-০৪-২০১৬
আঘাতের ধরন: কপালে গুলি
যাদের আঘাতে শহীদ: পুলিশ পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া সন্ত্রসী।
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍