শহীদ এম.এম জহুরুল ইসলাম
আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবির ঝিনাইদহ জেলা শাখার সাবেক সেক্রেটারী জনাব আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন- এক জান্নাতি গোলাপ আমার পরম শ্রদ্ধেয় দায়িত্বশীল শহিদ জহুরুল ইসলামকে নিয়ে স্মৃতিচারণ মূলক লেখা লিখতে হবে তা কখনো কল্পনাও করিনি। একান্ত স্নেহভাজন জেলা সভাপতি ইসমাইল ভাইয়ের অনুরোধে এ প্রচেষ্টা। জহুরুল ভাইয়ের সাথে আমার প্রথম পরিচয় কবে তা আজ আমার স্মরণ নেই। তবে ভাইয়ের সাথে আমার ঘনিষ্ঠতা মূলত আমি যখন জেলা অফিস সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করি তখন থেকে। জেলা ও শহর শাখার মেস একই জায়গায় হওয়ায় এবং জহুরুল ভাই শহর শাখার সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করার কারণে বিভিন্ন বিষয়ে আমাদের মধ্যে আলোচনা হত। ভাইয়ের সাথে আমার নিবিড় পরিচয় ওমেলামেশার সুযোগ হয় ২০০৯ সেশনের ষান্মাসিকে জেলা শাখার নতুন সেটআপ অনুষ্ঠানে। সেখানে জহুরুল ইসলাম ভাই কে সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয় ও আমাকে জেলা সেক্রেটারি হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়। মূলত তখন থেকেই ভাইয়ের সাথে গভীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দীর্ঘ ছয়টি মাস একসাথে কাজ করার সুযোগ আমার হয়েছিল। আজ নিজেকে খুব অপরাধী মনে হয়।
🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ
শহীদ এম এম জহুরুল ইসলাম ঝিনাইদহ জেলার ওয়াপদা কলোনী পাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। শাহাদাত কালে তাঁর বয়স ছিল বত্রিশ বছর। তাঁর পিতার নাম মোঃ শমসের আলী মোল্লা। পাঁচ ভাই এক বোনের সংসারে তিনি সবার বড়। শহীদ জহুরুল ইসলাম বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রুকন এবং জামায়াতের ঝিনাইদহ শহর শাখার আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে যান:
বৃহত্তর আন্দোলনের শহর শাখার আমীর হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে শহর শাখার এক কর্মীর মাধ্যমে পুলিশ প্রশাসন এস এম জহুরুল ইসলামকে কৌশলে ডেকে নিয়ে আসে। গ্রেফতার করে অপরিচিত স্থানে নিয়ে যায়। তৎকালীন প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ করা হলেও কোনভাবেই তারা গ্রেফতারের বিষয়টি স্বীকার করেনি। পবিত্র হজ্বের মৌসুমে ঈদের ছুটিতে যখন বিভিন্ন জন বাসায় আসতে থাকে তখন ভায়ের মোবাইল ফোন থেকে প্রশাসন কৌশলে ঈদ শুভেচ্ছা পাঠাতে থাকে। ভায়ের গ্রেফতারের বিষয়টি অজানা ছিল আমাদের। শহীদ ডা. তারেক হাসান সজীবকে জহুরুল ইসলামের মোবাইল থেকে পাঠানো SMS পেয়ে তাঁর সাথে দেখা করার জন্য রওনা হলে তাঁকেও পুলিশ প্রশাসন কৌশলে গ্রেফতার করে। এভাবে চলতে থাকে বেশ কিছুদিন। ২০১৬ সালের ২৫ শে অক্টোবর মধ্য রাতে ঝিনাইদহের ভুটিয়ারগাতী এলাকায় বাইপাসের পার্শ্বে তথাকথিত ক্রস ফায়ারের নামে দু'জনকে নির্মমভাবে গুলি চালিয়ে হত্যা করে। প্রিয় ভাই শাহাদাতের অমীয় সুধা পান করে পাড়ি জমায় নাফেরার দেশে।
কেমন ছিলেন শহীদ এম, এম জহুরুল ইসলাম
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবির ঝিনাইদহ জেলা শাখার সাবেক সেক্রেটারী জনাব আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন- এক জান্নাতি গোলাপ আমার পরম শ্রদ্ধেয় দায়িত্বশীল শহিদ জহুরুল ইসলামকে নিয়ে স্মৃতিচারণ মূলক লেখা লিখতে হবে তা কখনো কল্পনাও করিনি। একান্ত স্নেহভাজন জেলা সভাপতি ইসমাইল ভাইয়ের অনুরোধে এ প্রচেষ্টা। জহুরুল ভাইয়ের সাথে আমার প্রথম পরিচয় কবে তা আজ আমার স্মরণ নেই। তবে ভাইয়ের সাথে আমার ঘনিষ্ঠতা মূলত আমি যখন জেলা অফিস সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করি তখন থেকে। জেলা ও শহর শাখার মেস একই জায়গায় হওয়ায় এবং জহুরুল ভাই শহর শাখার সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করার কারণে বিভিন্ন বিষয়ে আমাদের মধ্যে আলোচনা হত। ভাইয়ের সাথে আমার নিবিড় পরিচয় ওমেলামেশার সুযোগ হয় ২০০৯ সেশনের ষান্মাসিকে জেলা শাখার নতুন সেটআপ অনুষ্ঠানে। সেখানে জহুরুল ইসলাম ভাই কে সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয় ও আমাকে জেলা সেক্রেটারি হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়। মূলত তখন থেকেই ভাইয়ের সাথে গভীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দীর্ঘ ছয়টি মাস একসাথে কাজ করার সুযোগ আমার হয়েছিল। আজ নিজেকে খুব অপরাধী মনে হয়।
দায়িত্বশীলদের যতটুকু আনুগত্য করার দরকার ছিল তা মনে হয় করতে পারিনি। হয়তো মনের অজান্তেই অনেক অপরাধ করে ফেলেছি। ভাই আজ আর আমাদের মাঝে নেই, মাফ চাওয়ার সুযোগও পাচ্ছি না, আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ভাই কে শহিদের কাতারে উচ্চতর স্থানে সম্মানিত করবেন, আজকের দিনে অন্তর থেকে এ কামনা। (সাথে সাথে মনে মনে একটু ছোট আশার দরখাস্ত রাখবো সেই মহা বিচারের দিনে, মহাবিপদের সময় যখন কোন সহায় থাকবে না, যেখানে শহীদের বিশেষ মর্যাদা দান করা হবে, আমাদের শহীদ ভাইয়েরা যদি কোন ফাঁক ফোকরে একটু আমাদেরকে স্মরণ করেন, এই আশাবাদ পোষণ করি ও আমাদের সকল অক্ষমতা কে ক্ষমা করে দিন।)
জহুরুল ভাইয়ের সাথে মেশার সুবাদে আমরা আন্দাজ করতাম ভাই অনেক বড় মানের দায়িত্বশীল ও অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাবে। কিন্তু এটা কখনো আন্দাজ করতে পারিনি তিনি আল্লাহর এত প্রিয় গোলাম হয়ে সাত সকালে দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে চলে যাবেন। আজ একটি বিষয় খুবই মনে পড়ছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নোমানী ভাই শহীদ হওয়ার পর আমরা প্রায় জহুরুল ভাইয়ের সাথে মজা করতাম কারণ জহুরুল ভাইয়ের চেহারার সাথে নোমানী ভাইয়ের চেহারার অনেক মিল ছিল। জহুরুল ভাই প্রায় বলত আমি নোমানী ভাইয়ের মায়ের সাথে দেখা করবো ও কবর জিয়ারত করবো। কিন্তু আল্লাহর কি ইচ্ছা দুজনকেই আল্লাহ শহীদি মর্যাদা দান করলেন। পরে জানা সম্ভব হয়নি, ভাই নোমানী ভাইয়ের বাসায় গিয়েছিল কিনা। বিষয়টি ভাবলে আজ খুবই কষ্ট পাই। কে জানতো এক শহীদের কবর জিয়ারত করতে অন্য শহীদ ব্যাকুল। এটাই মনে হয় ইসলামী আন্দোলনের বৈশিষ্ট্য। জহুরুল ভাই যে কত উদার ও বড় মানের দায়িত্বশীল ছিলেন তা বলে বুঝানো সম্ভব নয়। নতুন সেটআপ-এর পর ভাই আমাকে শহরের বিভিন্ন ভিআইপি শুভাকাংঙ্গী/সুধীদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন যদিও আমরা কাজ করতাম জেলা শাখায়। আমাকে শহরের অদূরে গ্রামে পুরাতন জমিদার বাড়ি ও গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ঘুরতে নিয়ে গিয়েছিলেন। আজও সেই জমিদার বাড়ি আছে, কিন্তু শ্রদ্ধেয় জহুরুল ভাই আজ আর আমাদের মাঝে নেই। ভাইয়ের দায়িত্ব অনুভূতি ছিল অসম্ভব খোদাভীতিতে ভরপুর। আমরা অনেক সময় বিভিন্ন এলাকায় সফরে যেতে গড়িমসি করলেও ভাইয়ের অনুপ্রেরণা ও তৎপরতায় আমাদের সেই ভাব কখন যে কেটে যেত তা বুঝতেই পারতাম না। আমি খুবই কাছ থেকে দেখেছি, তিনি কিভাবে জেলার প্রতিটি এলাকায় পর্যাপ্ত সফর করে সংগঠনের প্রাণ ফিরিয়ে এনেছিলেন। সংগঠনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইতিবাচক ফলাফল আসতে শুরু করে। একটি বিষয় এখনও আমাকে কষ্ট দেয় ২০১১ সালে আমি তখন ঢাকায় একটি স্কুলে চাকরি করি। জহুরুল ভাই শহর শাখার সভাপতি। সম্ভবত পবিত্র রমজান মাস চলছিল, ঈদের দু'একদিন আগের কথা। বর্তমান ঝিনাইদহ ইসলামী ব্যাংকের নিচে তখন স্বপ্ন সুপার শপ ছিল। আমি ভাইয়ের জন্য ওই জায়গায় অপেক্ষা করছিলাম। ভাই আমার সাথে দেখা করতে আসলেন। আমি তাকে ছোট্ট একটি আতর উপহার দিয়েছিলাম। ভাই যে কি খুশি হয়েছিলো তা না দেখলে বুঝানো যাবে না। তিনি আমাকে বলেছিলেন মামুন ভাই, আমি তো আপনার জন্য কিছু আনিনি-আমি বলেছিলাম আপনাদের দোয়াই আমার জন্য যথেষ্ঠ। আমি ঢাকায় থাকাতে জহুরুল ভাইয়ের সাথে ফোনে কথা হত। দেশের পরিস্থিতি খারাপ হলে শেষ দিকে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। কি এক মায়াবী হাসি সব সময় জহুরুল ভাইয়ের মুখে লেগেই থাকতো। কথা বললেই মুচকি হাসি দিতেন, বিনয়ের সাথে বলতেন কেমন আছেন। আজ সেই হাসিটা বারবার খুঁজে ফিরছি। হয়তো আর কখনো শুনতে পাবো না, মামুন ভাই কেমন আছেন? অল্পতে জনশক্তিকে ম্যানেজ করার অসাধারণ ক্ষমতা ছিল ভাইয়ের মধ্যে। তিনি ছিলেন একজন পরিপক্ক দায়িত্বশীল। পরবর্তীতে খুবই কম সময়ের মধ্যে শহর জামায়াতের আমীরের দায়িত্ব পালনের মাধ্যমেযা প্রমাণিত হয়েছে। শ্রদ্ধেয় জহুরুল ভাই আপনি আমাদের মাঝে নেই কিন্তু আপনি আছেন আমাদের প্রতিটি কর্মের অনুপ্রেরণায়। সবসময় আপনাকে অনুভব করি, আপনার সেই হাসি মুখের চাঁদ মাখা মায়াবি চাহনি।
আমরা আপনার শাহাদাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা কামনা করছি। আর্তনাদের সাথে মহান মালিকের সমীপে। আজ বারবার দোলা দিচ্ছে ২০১৩ সালের আম পাকার সময়ের কথা। শ্রদ্ধেয় জহুরুল ভাইকে সামান্য খেদমত করার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল। জহুরুল ভাই, ইবির তৎকালীন সভাপতি আসাদুল্লাহ ভাই, জেলা সভাপতি ইবনে শাহাদাত ভাই, কালীগঞ্জ সভাপতি সহ বেশ কয়েকজন ভাই আমাদের গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলো। দুপুরে খাওয়া দাওয়ায় অনেক মজা করেছিলাম। আমি বাড়িতে নতুন ডাইনিং টেবিল বানিয়েছিলাম, ওই দিনই ভাইদের মাধ্যমে উদ্বোধন হয়। আজও আমার সেই টেবিলটা আছে। কিন্তু সেই প্রাণবন্ত সদ্য হাসি খুশি মাখা মায়াবি মুখটা আজ আর আমাদের মাঝে নেই। কে জানতো আমাদের ওই আড্ডায় জীবন্ত শহীদ ছিলেন। কে জানতো আমরা একজন জীবন্ত শহীদের সাথে চলাফেরা করতাম। হায়। আফসোস, আজ কোথায় সেই আমাদের শ্রদ্ধেয় জহুরুল ভাই। এ রকম অসংখ্য স্মৃতি জড়িয়ে আছে জহুরুল ভাইয়ের সাথে। আজ অনেক স্মৃতি মনে করতে পারছি না। আজ জহুরুল ভাই আমাদের মাঝে নেই। তিনি আজ শহীদ। আসলে কী তিনি আমাদের মাঝে নেই? আমার মনে হয় বিষয়টি তা না, আসলে শহীদরা মরে না তারা জীবিত আল্লাহ পাকের দ্বীপ্ত ঘোষণা- আর যারা আলাহর রাস্তায় নিহত হয়, তাদের মৃত বলো না বরং তারা জীবিত, কিন্তু তোমরা তা বোঝো না। (সুরা বাক্বারা: ১৫৪) আজ আমরা শারীরিকভাবে জীবিত কিন্তু আমার মনে হয় শহীদরা আত্মীকভাবে জীবিত। তাদের এ আত্মা কখনো মরে না। একদিন এ পৃথিবীর কেউ আমাদের স্মরণ করবে না। কিন্তু আল্লাহর কুদরতে শহীদরা বেঁচে থাকবে কিয়ামত পর্যন্ত শ্রদ্ধা ও ভালবাসার পাত্র হিসেবে প্রতিটি মুমিনের অন্তরে। বেঁচে থাকাই তো জীবন না। জীবন তো শুরু হয় মরণের মাধ্যমে। দুনিয়ার পরীক্ষায়, আমাদের ফলাফল আখিরাতে কি হবে তা আমরা জানি না কিন্তু শহীদরা তো আল্লাহর ঘোষণা অনুযায়ী চূড়ান্ত সফলতা লাভ করবে। এ দুদিনের জিন্দেগীকে দলিত মথিত করে শহীদরা সেই চরম ও পরম পাওয়ার জান্নাত খরিদ করেছে জীবনের বিনিময়ে। আজ শহীদরাই জীবিত আর জীবিতরাই মৃত এটাই বাস্তবতা। আসুন আমরা শহীদদের অসমাপ্ত কাজ নিজেদের জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখি। তাহলেই তাদের আত্মত্যাগ সার্থক হবে। আন্দোলনের প্রতিটি কর্মীর একমাত্র স্বপ্ন হওয়া উচিত, শহীদের রেখে যাওয়া অসমাপ্ত কাজ জীবন বাজি রেখে এগিয়ে নেওয়া। ওরা মুখের ফুৎকারে ইসলামের বাতিকে নিভিয়ে দিতে চায় কিন্তু আল্লাহর ওয়াদা ভিন্ন। ওরা পারবে না, ওরা 'বদরে' পারেনি, 'ওহুদ' 'খব্দক' কোথায়ও পারেনি। ওরা পারবে না, ওরা নিক্ষিপ্ত হবে জাহান্নামের নিকৃষ্টতম স্থানে। আমাদের কোন পরাজয় নেই আমরা কখনো হারতে শিখিনি। ওরা আমাদের হাত, পা, চোখ, নখ উপড়ে ফেলেছে কিন্তু আমাদের ইমানকে ধ্বংস করতে পারেনি। আমরা জীবন বিলিয়ে দিয়েছি কিন্তু বাতিলের কাছে মাথা নত করতে শিখিনি। সুতরাং আমাদের রুখবার সাধ্য কারো নেই। ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের প্রতিটি রক্তের ফোঁটা হচ্ছে এক একটি পারমাণবিক বোমার চাইতেও শক্তিশালী অস্ত্র যা বাতিলের সকল ষড়যন্ত্রকে ধূলিস্যাত করে ইসলামের বিজয়কে ছিনিয়ে আনবে। আমরা নিজেদেরকে শহীদের যোগ্য উত্তরসূরী রূপে প্রস্তুত করে বাতিলের সকল বাধাকে মোকাবেলা করে ইসলামকে এ জমিনে কায়েম করবো এটাই হোক শহীদের রক্তের জন্য আমাদের শ্রেষ্ঠ উপহার। আজ যারা আমাদের ভাইদেরকে শহীদ করেছে। তাঁরা কি একটু ভেবে দেখে না। যে তারা কতদিন বাঁচবে। যে সব প্রশাসনের ভাইয়েরা ইচ্ছা বা প্রলুব্ধ হয়ে এ কাজ করেছেন মনে রাখবেন আপনারা কখনো স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারবেন না। আপনাদেরকে দুনিয়া ও আখিরাতে অবশ্যই দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে। আমার ভাইদের অপরাধ কি ছিল? কেন তাঁদের জীবন দিতে হলো? আছে কোন উত্তর আপনাদের কাছে? জানি নেই। সামান্য স্বার্থে কিভাবে আপনারা পশুর মত কাজ করতে পারেন। তবে একটি কারণে আপনাদেরকে ধন্যবাদ দেওয়া যায়। আপনারা আমাদের শহীদ ভাইদেরকে দুনিয়া ও আখিরাতে চরম সম্মানিত ও মর্যাদাবান হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন এবং এ পৃথিবীতেতাঁদেরকে অমর করে দিয়েছেন। এটাই হোক আমাদের সান্ত্বনা। আমরা তোমাদের সকল রক্ত চক্ষুকে উপেক্ষা করে ইসলামের জন্য জীবন বাজি রেখে এগিয়ে যাবো বাধাহীন গতিতে আল্লাহর সন্তুষ্টির প্রত্যয়ে। 'আমাদের শহীদেরা সবচেয়ে বড় সম্পদ, রেখে গেছে দ্বিধাহীন সোজা রাজপথ'।
এক নজরে শহীদ এম.এম জহুরুল ইসলাম
নাম: এম.এম জহুরুল ইসলাম
পিতার নাম: মোঃ শমসের আলী মোল্লা
জন্ম তারিখ: ৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৬
ঠিকানা: ওয়াপদা কলোনীপাড়া, ঝিনাইদহ
ভাই-বোন: পাঁচ ভাই, এক বোন
সন্তান: সদ্য বিবাহিত
শিক্ষাগত যোগ্যতা: বি.এ অনার্স, এম,এ
পেশা: চাকুরি ও ব্যবসা
সাংগঠনিক মান: রুকন
সর্বশেষ দায়িত্ব: শহর আমীর, ঝিনাইদহ পৌরসভা, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী
শাহাদাতের তারিখ: ২৫-১০-২০১৬
শাহাদাতের স্থান: ভুটিয়ারগাতী নজির আহমদ সড়ক বাইপাস মোড় ঝিনাইদহ
কিভাবে শহীদ হয়েছে: কথিত বন্দুকযুদ্ধে
শহীদের কবর: ঝিনাইদহ পৌর কবরস্থান।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে যান:
বৃহত্তর আন্দোলনের শহর শাখার আমীর হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে শহর শাখার এক কর্মীর মাধ্যমে পুলিশ প্রশাসন এস এম জহুরুল ইসলামকে কৌশলে ডেকে নিয়ে আসে। গ্রেফতার করে অপরিচিত স্থানে নিয়ে যায়। তৎকালীন প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ করা হলেও কোনভাবেই তারা গ্রেফতারের বিষয়টি স্বীকার করেনি। পবিত্র হজ্বের মৌসুমে ঈদের ছুটিতে যখন বিভিন্ন জন বাসায় আসতে থাকে তখন ভায়ের মোবাইল ফোন থেকে প্রশাসন কৌশলে ঈদ শুভেচ্ছা পাঠাতে থাকে। ভায়ের গ্রেফতারের বিষয়টি অজানা ছিল আমাদের। শহীদ ডা. তারেক হাসান সজীবকে জহুরুল ইসলামের মোবাইল থেকে পাঠানো SMS পেয়ে তাঁর সাথে দেখা করার জন্য রওনা হলে তাঁকেও পুলিশ প্রশাসন কৌশলে গ্রেফতার করে। এভাবে চলতে থাকে বেশ কিছুদিন। ২০১৬ সালের ২৫ শে অক্টোবর মধ্য রাতে ঝিনাইদহের ভুটিয়ারগাতী এলাকায় বাইপাসের পার্শ্বে তথাকথিত ক্রস ফায়ারের নামে দু'জনকে নির্মমভাবে গুলি চালিয়ে হত্যা করে। প্রিয় ভাই শাহাদাতের অমীয় সুধা পান করে পাড়ি জমায় নাফেরার দেশে।
কেমন ছিলেন শহীদ এম, এম জহুরুল ইসলাম
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবির ঝিনাইদহ জেলা শাখার সাবেক সেক্রেটারী জনাব আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন- এক জান্নাতি গোলাপ আমার পরম শ্রদ্ধেয় দায়িত্বশীল শহিদ জহুরুল ইসলামকে নিয়ে স্মৃতিচারণ মূলক লেখা লিখতে হবে তা কখনো কল্পনাও করিনি। একান্ত স্নেহভাজন জেলা সভাপতি ইসমাইল ভাইয়ের অনুরোধে এ প্রচেষ্টা। জহুরুল ভাইয়ের সাথে আমার প্রথম পরিচয় কবে তা আজ আমার স্মরণ নেই। তবে ভাইয়ের সাথে আমার ঘনিষ্ঠতা মূলত আমি যখন জেলা অফিস সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করি তখন থেকে। জেলা ও শহর শাখার মেস একই জায়গায় হওয়ায় এবং জহুরুল ভাই শহর শাখার সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করার কারণে বিভিন্ন বিষয়ে আমাদের মধ্যে আলোচনা হত। ভাইয়ের সাথে আমার নিবিড় পরিচয় ওমেলামেশার সুযোগ হয় ২০০৯ সেশনের ষান্মাসিকে জেলা শাখার নতুন সেটআপ অনুষ্ঠানে। সেখানে জহুরুল ইসলাম ভাই কে সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয় ও আমাকে জেলা সেক্রেটারি হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়। মূলত তখন থেকেই ভাইয়ের সাথে গভীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দীর্ঘ ছয়টি মাস একসাথে কাজ করার সুযোগ আমার হয়েছিল। আজ নিজেকে খুব অপরাধী মনে হয়।
দায়িত্বশীলদের যতটুকু আনুগত্য করার দরকার ছিল তা মনে হয় করতে পারিনি। হয়তো মনের অজান্তেই অনেক অপরাধ করে ফেলেছি। ভাই আজ আর আমাদের মাঝে নেই, মাফ চাওয়ার সুযোগও পাচ্ছি না, আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ভাই কে শহিদের কাতারে উচ্চতর স্থানে সম্মানিত করবেন, আজকের দিনে অন্তর থেকে এ কামনা। (সাথে সাথে মনে মনে একটু ছোট আশার দরখাস্ত রাখবো সেই মহা বিচারের দিনে, মহাবিপদের সময় যখন কোন সহায় থাকবে না, যেখানে শহীদের বিশেষ মর্যাদা দান করা হবে, আমাদের শহীদ ভাইয়েরা যদি কোন ফাঁক ফোকরে একটু আমাদেরকে স্মরণ করেন, এই আশাবাদ পোষণ করি ও আমাদের সকল অক্ষমতা কে ক্ষমা করে দিন।)
জহুরুল ভাইয়ের সাথে মেশার সুবাদে আমরা আন্দাজ করতাম ভাই অনেক বড় মানের দায়িত্বশীল ও অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাবে। কিন্তু এটা কখনো আন্দাজ করতে পারিনি তিনি আল্লাহর এত প্রিয় গোলাম হয়ে সাত সকালে দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে চলে যাবেন। আজ একটি বিষয় খুবই মনে পড়ছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নোমানী ভাই শহীদ হওয়ার পর আমরা প্রায় জহুরুল ভাইয়ের সাথে মজা করতাম কারণ জহুরুল ভাইয়ের চেহারার সাথে নোমানী ভাইয়ের চেহারার অনেক মিল ছিল। জহুরুল ভাই প্রায় বলত আমি নোমানী ভাইয়ের মায়ের সাথে দেখা করবো ও কবর জিয়ারত করবো। কিন্তু আল্লাহর কি ইচ্ছা দুজনকেই আল্লাহ শহীদি মর্যাদা দান করলেন। পরে জানা সম্ভব হয়নি, ভাই নোমানী ভাইয়ের বাসায় গিয়েছিল কিনা। বিষয়টি ভাবলে আজ খুবই কষ্ট পাই। কে জানতো এক শহীদের কবর জিয়ারত করতে অন্য শহীদ ব্যাকুল। এটাই মনে হয় ইসলামী আন্দোলনের বৈশিষ্ট্য। জহুরুল ভাই যে কত উদার ও বড় মানের দায়িত্বশীল ছিলেন তা বলে বুঝানো সম্ভব নয়। নতুন সেটআপ-এর পর ভাই আমাকে শহরের বিভিন্ন ভিআইপি শুভাকাংঙ্গী/সুধীদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন যদিও আমরা কাজ করতাম জেলা শাখায়। আমাকে শহরের অদূরে গ্রামে পুরাতন জমিদার বাড়ি ও গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ঘুরতে নিয়ে গিয়েছিলেন। আজও সেই জমিদার বাড়ি আছে, কিন্তু শ্রদ্ধেয় জহুরুল ভাই আজ আর আমাদের মাঝে নেই। ভাইয়ের দায়িত্ব অনুভূতি ছিল অসম্ভব খোদাভীতিতে ভরপুর। আমরা অনেক সময় বিভিন্ন এলাকায় সফরে যেতে গড়িমসি করলেও ভাইয়ের অনুপ্রেরণা ও তৎপরতায় আমাদের সেই ভাব কখন যে কেটে যেত তা বুঝতেই পারতাম না। আমি খুবই কাছ থেকে দেখেছি, তিনি কিভাবে জেলার প্রতিটি এলাকায় পর্যাপ্ত সফর করে সংগঠনের প্রাণ ফিরিয়ে এনেছিলেন। সংগঠনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইতিবাচক ফলাফল আসতে শুরু করে। একটি বিষয় এখনও আমাকে কষ্ট দেয় ২০১১ সালে আমি তখন ঢাকায় একটি স্কুলে চাকরি করি। জহুরুল ভাই শহর শাখার সভাপতি। সম্ভবত পবিত্র রমজান মাস চলছিল, ঈদের দু'একদিন আগের কথা। বর্তমান ঝিনাইদহ ইসলামী ব্যাংকের নিচে তখন স্বপ্ন সুপার শপ ছিল। আমি ভাইয়ের জন্য ওই জায়গায় অপেক্ষা করছিলাম। ভাই আমার সাথে দেখা করতে আসলেন। আমি তাকে ছোট্ট একটি আতর উপহার দিয়েছিলাম। ভাই যে কি খুশি হয়েছিলো তা না দেখলে বুঝানো যাবে না। তিনি আমাকে বলেছিলেন মামুন ভাই, আমি তো আপনার জন্য কিছু আনিনি-আমি বলেছিলাম আপনাদের দোয়াই আমার জন্য যথেষ্ঠ। আমি ঢাকায় থাকাতে জহুরুল ভাইয়ের সাথে ফোনে কথা হত। দেশের পরিস্থিতি খারাপ হলে শেষ দিকে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। কি এক মায়াবী হাসি সব সময় জহুরুল ভাইয়ের মুখে লেগেই থাকতো। কথা বললেই মুচকি হাসি দিতেন, বিনয়ের সাথে বলতেন কেমন আছেন। আজ সেই হাসিটা বারবার খুঁজে ফিরছি। হয়তো আর কখনো শুনতে পাবো না, মামুন ভাই কেমন আছেন? অল্পতে জনশক্তিকে ম্যানেজ করার অসাধারণ ক্ষমতা ছিল ভাইয়ের মধ্যে। তিনি ছিলেন একজন পরিপক্ক দায়িত্বশীল। পরবর্তীতে খুবই কম সময়ের মধ্যে শহর জামায়াতের আমীরের দায়িত্ব পালনের মাধ্যমেযা প্রমাণিত হয়েছে। শ্রদ্ধেয় জহুরুল ভাই আপনি আমাদের মাঝে নেই কিন্তু আপনি আছেন আমাদের প্রতিটি কর্মের অনুপ্রেরণায়। সবসময় আপনাকে অনুভব করি, আপনার সেই হাসি মুখের চাঁদ মাখা মায়াবি চাহনি।
আমরা আপনার শাহাদাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা কামনা করছি। আর্তনাদের সাথে মহান মালিকের সমীপে। আজ বারবার দোলা দিচ্ছে ২০১৩ সালের আম পাকার সময়ের কথা। শ্রদ্ধেয় জহুরুল ভাইকে সামান্য খেদমত করার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল। জহুরুল ভাই, ইবির তৎকালীন সভাপতি আসাদুল্লাহ ভাই, জেলা সভাপতি ইবনে শাহাদাত ভাই, কালীগঞ্জ সভাপতি সহ বেশ কয়েকজন ভাই আমাদের গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলো। দুপুরে খাওয়া দাওয়ায় অনেক মজা করেছিলাম। আমি বাড়িতে নতুন ডাইনিং টেবিল বানিয়েছিলাম, ওই দিনই ভাইদের মাধ্যমে উদ্বোধন হয়। আজও আমার সেই টেবিলটা আছে। কিন্তু সেই প্রাণবন্ত সদ্য হাসি খুশি মাখা মায়াবি মুখটা আজ আর আমাদের মাঝে নেই। কে জানতো আমাদের ওই আড্ডায় জীবন্ত শহীদ ছিলেন। কে জানতো আমরা একজন জীবন্ত শহীদের সাথে চলাফেরা করতাম। হায়। আফসোস, আজ কোথায় সেই আমাদের শ্রদ্ধেয় জহুরুল ভাই। এ রকম অসংখ্য স্মৃতি জড়িয়ে আছে জহুরুল ভাইয়ের সাথে। আজ অনেক স্মৃতি মনে করতে পারছি না। আজ জহুরুল ভাই আমাদের মাঝে নেই। তিনি আজ শহীদ। আসলে কী তিনি আমাদের মাঝে নেই? আমার মনে হয় বিষয়টি তা না, আসলে শহীদরা মরে না তারা জীবিত আল্লাহ পাকের দ্বীপ্ত ঘোষণা- আর যারা আলাহর রাস্তায় নিহত হয়, তাদের মৃত বলো না বরং তারা জীবিত, কিন্তু তোমরা তা বোঝো না। (সুরা বাক্বারা: ১৫৪) আজ আমরা শারীরিকভাবে জীবিত কিন্তু আমার মনে হয় শহীদরা আত্মীকভাবে জীবিত। তাদের এ আত্মা কখনো মরে না। একদিন এ পৃথিবীর কেউ আমাদের স্মরণ করবে না। কিন্তু আল্লাহর কুদরতে শহীদরা বেঁচে থাকবে কিয়ামত পর্যন্ত শ্রদ্ধা ও ভালবাসার পাত্র হিসেবে প্রতিটি মুমিনের অন্তরে। বেঁচে থাকাই তো জীবন না। জীবন তো শুরু হয় মরণের মাধ্যমে। দুনিয়ার পরীক্ষায়, আমাদের ফলাফল আখিরাতে কি হবে তা আমরা জানি না কিন্তু শহীদরা তো আল্লাহর ঘোষণা অনুযায়ী চূড়ান্ত সফলতা লাভ করবে। এ দুদিনের জিন্দেগীকে দলিত মথিত করে শহীদরা সেই চরম ও পরম পাওয়ার জান্নাত খরিদ করেছে জীবনের বিনিময়ে। আজ শহীদরাই জীবিত আর জীবিতরাই মৃত এটাই বাস্তবতা। আসুন আমরা শহীদদের অসমাপ্ত কাজ নিজেদের জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখি। তাহলেই তাদের আত্মত্যাগ সার্থক হবে। আন্দোলনের প্রতিটি কর্মীর একমাত্র স্বপ্ন হওয়া উচিত, শহীদের রেখে যাওয়া অসমাপ্ত কাজ জীবন বাজি রেখে এগিয়ে নেওয়া। ওরা মুখের ফুৎকারে ইসলামের বাতিকে নিভিয়ে দিতে চায় কিন্তু আল্লাহর ওয়াদা ভিন্ন। ওরা পারবে না, ওরা 'বদরে' পারেনি, 'ওহুদ' 'খব্দক' কোথায়ও পারেনি। ওরা পারবে না, ওরা নিক্ষিপ্ত হবে জাহান্নামের নিকৃষ্টতম স্থানে। আমাদের কোন পরাজয় নেই আমরা কখনো হারতে শিখিনি। ওরা আমাদের হাত, পা, চোখ, নখ উপড়ে ফেলেছে কিন্তু আমাদের ইমানকে ধ্বংস করতে পারেনি। আমরা জীবন বিলিয়ে দিয়েছি কিন্তু বাতিলের কাছে মাথা নত করতে শিখিনি। সুতরাং আমাদের রুখবার সাধ্য কারো নেই। ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের প্রতিটি রক্তের ফোঁটা হচ্ছে এক একটি পারমাণবিক বোমার চাইতেও শক্তিশালী অস্ত্র যা বাতিলের সকল ষড়যন্ত্রকে ধূলিস্যাত করে ইসলামের বিজয়কে ছিনিয়ে আনবে। আমরা নিজেদেরকে শহীদের যোগ্য উত্তরসূরী রূপে প্রস্তুত করে বাতিলের সকল বাধাকে মোকাবেলা করে ইসলামকে এ জমিনে কায়েম করবো এটাই হোক শহীদের রক্তের জন্য আমাদের শ্রেষ্ঠ উপহার। আজ যারা আমাদের ভাইদেরকে শহীদ করেছে। তাঁরা কি একটু ভেবে দেখে না। যে তারা কতদিন বাঁচবে। যে সব প্রশাসনের ভাইয়েরা ইচ্ছা বা প্রলুব্ধ হয়ে এ কাজ করেছেন মনে রাখবেন আপনারা কখনো স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারবেন না। আপনাদেরকে দুনিয়া ও আখিরাতে অবশ্যই দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে। আমার ভাইদের অপরাধ কি ছিল? কেন তাঁদের জীবন দিতে হলো? আছে কোন উত্তর আপনাদের কাছে? জানি নেই। সামান্য স্বার্থে কিভাবে আপনারা পশুর মত কাজ করতে পারেন। তবে একটি কারণে আপনাদেরকে ধন্যবাদ দেওয়া যায়। আপনারা আমাদের শহীদ ভাইদেরকে দুনিয়া ও আখিরাতে চরম সম্মানিত ও মর্যাদাবান হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন এবং এ পৃথিবীতেতাঁদেরকে অমর করে দিয়েছেন। এটাই হোক আমাদের সান্ত্বনা। আমরা তোমাদের সকল রক্ত চক্ষুকে উপেক্ষা করে ইসলামের জন্য জীবন বাজি রেখে এগিয়ে যাবো বাধাহীন গতিতে আল্লাহর সন্তুষ্টির প্রত্যয়ে। 'আমাদের শহীদেরা সবচেয়ে বড় সম্পদ, রেখে গেছে দ্বিধাহীন সোজা রাজপথ'।
এক নজরে শহীদ এম.এম জহুরুল ইসলাম
নাম: এম.এম জহুরুল ইসলাম
পিতার নাম: মোঃ শমসের আলী মোল্লা
জন্ম তারিখ: ৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৬
ঠিকানা: ওয়াপদা কলোনীপাড়া, ঝিনাইদহ
ভাই-বোন: পাঁচ ভাই, এক বোন
সন্তান: সদ্য বিবাহিত
শিক্ষাগত যোগ্যতা: বি.এ অনার্স, এম,এ
পেশা: চাকুরি ও ব্যবসা
সাংগঠনিক মান: রুকন
সর্বশেষ দায়িত্ব: শহর আমীর, ঝিনাইদহ পৌরসভা, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী
শাহাদাতের তারিখ: ২৫-১০-২০১৬
শাহাদাতের স্থান: ভুটিয়ারগাতী নজির আহমদ সড়ক বাইপাস মোড় ঝিনাইদহ
কিভাবে শহীদ হয়েছে: কথিত বন্দুকযুদ্ধে
শহীদের কবর: ঝিনাইদহ পৌর কবরস্থান।