হোম / আওয়ামী দুঃশাসনে শহীদ / শহীদ আবু তালেব
শহীদ আবু তালেব

শহীদ আবু তালেব

আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

গত ১১ এপ্রিল ২০১৩ ইং তারিখে পঞ্চগড় জেলার অন্তর্গত বোদা উপজেলার বদেশ্বরী সরকার পাড়া গ্রামে আনুমানিক সকাল ৮ টায় একটি ধর্মনিরপেক্ষ বাম রাজনৈতিক দলের কিছু সংখ্যক উচ্ছৃংখল নেতাকর্মীর হাতে একই গ্রামের মো: আবু তালেব মারাক্তক ভাবে আহত হন। আহত অবস্থায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৩ এপ্রিল ২০১৩ ইং তারিখে বিকাল ৪.৩০ ঘটিকায় আল্লাহর সান্নিধ্যে চলে যান।

🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ

১. শহীদের পরিচিতি
শহীদ মো: আবু তালেব পঞ্চগড় জেলার বোদা থানার বদেশ্বরী সরকার পাড়ায় ১৯৭৭ সালে জন্যগ্রহণ করেন। পিতা মো: সাদেক আলী ও মাতা আয়শা বেগম-এর দরিদ্র পরিবারে তিনি ছিলেন একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যাক্তি। দিনমজুরি করে যে আয় হতো তা দিয়ে তিনি সংসার চালাতেন। তিনি বিবাহিত তার স্ত্রী জয়তুন, ছেলে মো: জাহিদ হোসেন, মেয়ে মোছা: লাজিনা বেগম, এবং মোছা: তানজিনা বেগমকে নিয়েই সুখেই ছিলেন।
২. যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
গত ১১ এপ্রিল ২০১৩ ইং তারিখে পঞ্চগড় জেলার অন্তর্গত বোদা উপজেলার বদেশ্বরী সরকার পাড়া গ্রামে আনুমানিক সকাল ৮ টায় একটি ধর্মনিরপেক্ষ বাম রাজনৈতিক দলের কিছু সংখ্যক উচ্ছৃংখল নেতাকর্মীর হাতে একই গ্রামের মো: আবু তালেব মারাক্তক ভাবে আহত হন। আহত অবস্থায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৩ এপ্রিল ২০১৩ ইং তারিখে বিকাল ৪.৩০ ঘটিকায় আল্লাহর সান্নিধ্যে চলে যান।
৩. শাহাদাতের পূর্বের বিভিন্ন ঘটনা
শাহাদাতের পূর্বে ইসলামপ্রিয় এই মানুষটিকে ইসলামবিরোধী শক্তি নানাভাবে হুমকি-ধমকী ও হত্যা করার ভয় দেখিয়ে আসছিল। কিন্তু তিনি ইসলামের পথে অবিচল ছিলেন।
৪. সামগ্রীক ঘটনার বিবরণ
বর্তমানে বাংলাদেশে একটি ধর্মনিরপেক্ষ ইসলামবিদ্বেষী রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় রয়েছে। তারা চায় ইসলামী আন্দোলন ও ইসলামী নেতৃত্বকে খতম করে দিতে। এজন্য তারা জেল, জুলুম, হত্যা, গুম ইত্যাদির মাধ্যমে ইসলামের অনুসারীদেরকে নিশ্চিহ্ন করতে চায়। এর প্রতিবাদে দেশের তৌহিদী জনতা প্রতিবাদী হয়ে ওঠে এবং গত ১১ এপ্রিল ২০১৩ তারিখে সারা দেশে হরতাল আহবান করে। হরতালকে সফল করে কারারুদ্ধ ইসলামী নেতৃবৃন্দকে মুক্ত করার জন্য সেদিন বেশ কয়েকজন সঙ্গী সাথি নিয়ে আবু তালেব বাড়ি থেকে মিছিলের উদ্দেশ্যে বের হন। ইসলামের অপশক্তির নেতা-কর্মীরা এটা সহ্য করতে না পেরে লাঠি, লোহার রড ও বল্লম নিয়ে আবু তালেব ও তার সঙ্গীদের উপর হায়েনার মত ঝাপিয়ে পড়ে। এতে আবু তালেবসহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। আহত অবস্থায় তাদেরকে হাসপাতালে নেয়া হয়।৫. শহীদের আপন জনদের কথা
ইসলামের নিবেদীতপ্রাণ মো: আবু তালেব আল্লাহর ডাকে সাড়া দিলেন। আল্লাহ তায়ালা যেন তাকে বেহেস্ত দান করেন এ কামনা করছেন শহীদের আপনজন। পাশাপাশি শহীদের অসহায় শিশু সন্তান ও পরিবারের চলার জন্য আর্থিক সাহায্যের জন্য আকুল আবেদন করছেন।
৬. ব্যক্তিগত প্রোফাই
নাম: শহীদ আবু তালেব (১০১)
পেশা: দিনমজুর।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ২০.১১.১৯৭৭
বয়স ৩৬ বছর
আহত হওয়ার তারিখ: ১১.০৪.২০১৩
শাহাদাতের তারিখ: ১৩.০৪.২০১৩ বিকাল আনুমানিক ৪.৩০ টায়। স্থান: হাসপাতালে। দাফন করা হয়: পারিবারিক গোরস্থানে।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম-বদেশ্বরী সরকার পাড়া, ইউনিয়ন-বড়শ্বসী, ডাকঘর-বগদুলঝুলা, থানা-বোদা, জেলা-পঞ্চগড়।
পিতা: মো: সাদেক আলী, দিন মজুর।
মাতা: আয়শা বেগম, বয়স প্রায় ৬৫ বছর, গৃহিণনী।
বাড়ী-ঘর ও সম্পদের অবস্থা: বাড়ীর চারপাশে দেয়াল ও উপরে টিন সেড। চাষাবাদের কোন জমিন নেই। উপার্জন করার কেউ নেই।
স্ত্রী ও সন্তানদের বিবরণ: স্ত্রী: জয়তুন। ছেলে: মো: জাহিদ হোসেন, মেয়ে: মোছা: লাজিনা বেগম, মোছা: তানজিনা বেগম।
ভাই-বোনের বিবরণ। ভাই: মো: ইসমাইল হোসেন, কৃষক, মো: আলম হোসেন, কৃষক, মো: রমজান আলী, কৃষক, মো: মোবারক হোসেন, কৃষক, মো: আইনুল হক, কৃষক, বোন: মোছা: সাজেদা বেগম, গৃহিণী, মোছা: রাশিদা বেগম, গৃহিণী, মোছা: শাহিদা বেগম, গৃহিণী, ভাই: মো: মোমিনুল ইসলাম।

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍