শহীদ মো: মনির হোসেন
আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ তারিখে আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায়ের প্রতিবাদে গড়েয়ার তৌহিদি জনতার পাশাপাশি হাজার হাজার সাধারণ জনতা স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিক্ষোভ মিছিলে যোগদান করেন। মিছিল শুরু হলে পুলিশ ও বিজিবি যৌথভাবে মিছিলে হামলা করে। তারা মিছিলে নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে মো: মনির হোসেন গুলিতে আহত হয়ে লুটিয়ে পড়েন। তার পেটে, বুকে এবং পায়ে তিনটি গুলি লাগে। এ অবস্থায় তিনি গমক্ষেতে পড়ে যান। তার বড় জ্যাঠা তাকে খুঁজে পান। বেশ কিছুক্ষণ পর তাকে মোটরসাইকেলে করে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানকার কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ
"মা মনিজা বেগম ৩৫ বছরের এক গৃহবধূ। একমাত্র ছেলের চিন্তায় কেঁপে উঠলো তার বুক। কোন অর্গল কিংবা মাতৃস্নেহের জিঞ্জিরেও বাঁধতে পারলেন না, বাছাকে। পিছু পিছু গিয়ে আর্তস্বরে কেঁদে বলে উঠলেন, 'বাবা যাসনে, তোর কিছু হলে আমি বাঁচবো না। কিন্তু হৈ চৈ এর মাঝে সে কি শুনলো তার ক্ষীণ আর্তনাদ? বরং ঝড়ের উদ্যমে বেরিয়ে যেতে যেতে হঠাৎ বজ্রপাতের মতো মনির বলে গেল, 'সাঈদীর জন্য শহীদ হব।' বাবা-মায়ের স্বপ্ন ছিল এবার নতুন বৌ আনবেন। সে স্বপ্নে বিভোর হয়ে অনেক কষ্টে ছেলের জন্য নতুন ঘর করেছিলেন। আজ সে ঘর খাঁ খাঁঃ সেখানে কে থাকবে?"
১. শহীদের পরিচিতি
পিতা-মাতার তিন সন্তানের মধ্যে প্রথম সন্তান হিসেবে শহীদ মো: মনির হোসেন ঠাকুরগাঁও জেলা সদরের গোপালপুর গ্রামে ১৯৯৩ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন দরিদ্র পিতা-মাতার একমাত্র ছেলে সন্তান। এক ভাই ও দুই বোনের সংসারে দরিদ্র পিতা-মাতা কোন রকমে সন্তানের মুখে দুটো খাবার তুলে দিতে ব্যস্ত ছিলেন। পারেননি কোন পড়ালেখার ব্যবস্থা করতে। কিশোর শহীদ মোঃ মনির হোসেন গড়েয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা থেকে ৫ম শ্রেণী পড়ার পরে আর পড়া-লেখা চালিয়ে যেতে পারেননি। শারীরিক সামর্থ্যবান হওয়ার পর থেকে পিতার সহযোগী হিসেবে ক্ষেতে-খামারে কাজ করাই ছিল তার পেশা। পরিবারের সহযোগিতার জন্যে তিনি পিকআপ ভ্যান গাড়ির হেল্পার হিসাবে কাজ করতেন।
২. যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ তারিখে আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায়ের প্রতিবাদে গড়েয়ার তৌহিদি জনতার পাশাপাশি হাজার হাজার সাধারণ জনতা স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিক্ষোভ মিছিলে যোগদান করেন। মিছিল শুরু হলে পুলিশ ও বিজিবি যৌথভাবে মিছিলে হামলা করে। তারা মিছিলে নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে মো: মনির হোসেন গুলিতে আহত হয়ে লুটিয়ে পড়েন। তার পেটে, বুকে এবং পায়ে তিনটি গুলি লাগে। এ অবস্থায় তিনি গমক্ষেতে পড়ে যান। তার বড় জ্যাঠা তাকে খুঁজে পান। বেশ কিছুক্ষণ পর তাকে মোটরসাইকেলে করে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানকার কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
১ মার্চ বাদ আসর বিকেল ৫টায় গড়েয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে শহীদ ফিরোজ, মনির এবং রুবেল এই তিন শহীদের জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাযার নামাজে ইমামতি করেন সর্বজন শ্রদ্ধেয় মাওলানা আবু সাঈদ। জানাযায় প্রায় ২০-২৫ হাজার লোক উপস্থিত হয়। ৩. সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায়ের প্রতিবাদে তাৎক্ষণিকভাবে নয়া গড়েয়া হাটে ঠাকুরগাঁও উপজেলার জনসাধারণ বিক্ষোভ মিছিল বের করে।
এদিকে গড়েয়া ইউনিয়নের স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি আশরাফুল আলম মানিক ও তার ছোট ভাই যুবলীগ নেতা যাদু মিয়া, পিতা: মৃত তাজিম উদ্দীন থানা পুলিশকে খবর দেয় যে, এলাকার জনসাধারণ হিন্দুদের বাসা-বাড়িতে, দোকান-ঘর ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করছে। এরূপ মিথ্যা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে জনতার ওপর এলোপাতাড়ি রাবার বুলেট ও গুলি নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে পুলিশ বিজিবিকে খবর দেয়। পরবর্তীতে বিজিবি ও পুলিশের যৌথ গুলিতে তাৎক্ষণিক ৪ জন এবং ৪ মার্চ ও ১৪ মার্চ ২০১৩ তারিখে আরো ২ জন শহীদ হন।
জাতীয় সংবাদমাধমে এ ব্যাপারে ব্যাপক প্রতিবেদন আসে; যেমন, দৈনিক আমার দেশ ১ মার্চ, ২০১৩ লিখে; ঠাকুরগাঁওয়ে নিহত ৭: ফাঁসির রায় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই ঠাকুরগাঁওয়ে বিক্ষুব্ধ জনতার মিছিলে নির্বিচারে গুলি চালালে ৭ জন নিহত হয়েছেন। এতে মহিলাসহ গুলিবিদ্ধ হয় অন্তত ২০ জন। এছাড়াও আরও অর্ধশতাধিক আহত হয়েছে। গতকাল সকাল থেকেই এলাকায় কয়েক হাজার সাঈদীভক্ত জড়ো হতে থাকেন। রায় ঘোষণার পর পরই ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা গড়েয়ায় বিক্ষুব্ধ জনতা ব্যাপক বিক্ষোভ, ভাঙচুর ও রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের নামে পুলিশ রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এতে জনগণ আরও বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। ঘটনাস্থলে বিজিবি ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এ সময় উত্তেজিত জনতার ওপর পুলিশ ও বিজিবি ব্রাশফায়ার শুরু করে। এতে ঘটনাস্থলেই নিরঞ্জন (২০), রুবেল (১৮), দায়মুল (২১), সুমন (২০), ফিরোজ (১৯) নামে ৪ জন নিহত হয়। মনির (১৮) কে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে নিলে সেখানে তার মৃত্যু হয়। সংঘর্ষে এ সময় মহিলাসহ আরও প্রায় ২৫ জন গুলিবিদ্ধ হয়, আহত হয় আরও অর্ধশতাধিক।
আহতদের অনেককেই ঠাকুরগাঁওসহ রংপুর ও দিনাজপুর মেডিক্যালে পাঠানো হয়েছে। এদের মধ্যে দুলাল ইসলামের (২০) অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালের সার্জারি চিকিৎসক সুপেন্দ্রনাথ রায়। প্রায় ২ ঘণ্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষের একপর্যায়ে পুলিশ ও বিজিবি পিছু হটতে বাধ্য হয়। পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে এলাকার বিভিন্ন স্থানে পড়ে থাকা নিহতদের লাশ ও আহতদের উদ্ধার করে গ্রামবাসী। পুলিশের গুলিতে মহিলাসহ বেশ কয়েকজন গ্রামবাসীও গুলিবিদ্ধ হয়েছে বলে জানা গেছে। হঠাৎ এতগুলো তাজা প্রাণ ঝরে যাওয়ায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহতদের বাড়ি বাড়ি নেমে আসে কান্নার রোল।
সাপ্তাহিক সোনার বাংলা, ৮ মার্চ, ২০১৩ জানাজার নামাজ নিয়ে একটি রিপোর্ট ছাপে। যার শিরোনাম ছিল, 'ঠাকুরগাঁওয়ে নিহতদের জানাজায় জনতার ঢল'
ঠাকুরগাঁও। গড়েয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে শহীদদের জানাজায় মানুষের ঢল
মাওলানা সাঈদীকে ফাঁসির রায়ের প্রতিবাদে ঠাকুরগাঁওয়ে বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশ ও বিজিবির গুলিতে নিহতদের জানাজা নামাজে জনতার ঢল নামে। গত শুক্রবার বিকেলে নিহতদের ময়না তদন্ত শেষে লাশ এলাকায় পৌঁছলে সেখানে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বিকেল ৫টায় গড়েয়া কেন্দ্রীয় ঈদগা ময়দানে এক এক করে নিহতদের লাশ জানাজার জন্য আনা হয়। কিন্তু জনতা বাড়তে থাকলে সেখানে জায়গার সংকুলান না হওয়ায় পরে লাশ নিয়ে যাওয়া হয় গড়েয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে। সেখানে হাজার হাজার মুসল্লির অংশগ্রহণে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। ৪. বাবা-মায়ের স্বপ্ন ছিল এবার নতুন বৌ আনবেন
মনির টিভি দেখছিলেন ২৮ তারিখের অন্যায় রায় তিনি মেনে নিতে পারছিলেন না। হঠাৎ কানে আসল মিছিলের আওয়াজ। আর কে পায় তাকে, দিলেন ছুট। মা মনিজা বেগম মাত্র ৩৫ বছরের এক গৃহবধূ। একমাত্র ছেলের চিন্তায় কেঁপে উঠলো তার বুক। কোন অর্গল দিয়ে বা মাতৃস্নেহের জিঞ্জিরেও বাঁধতে পারলেন না, বাছা কে। পিছুপিছু গিয়ে কেঁদে ফেললেন। আর্তস্বরে বলে উঠলেন, 'বাবা যাসনে, তোর কিছু হলে আমি বাঁচবো না। কিন্তু হৈ চৈ এর মাঝে সে কি শুনলো তার ক্ষীণ আর্তনাদ? বরং ঝড়ের উদ্যমে বেরিয়ে যেতে যেতে হঠাৎ বজ্রপাতের মতো মনির বলে গেলেন, 'সাঈদীর জন্য শহীদ হব।' বাবা-মায়ের স্বপ্ন ছিল এবার নতুন বৌ আনবেন। সে স্বপ্নে বিভোর হয়ে অনেক কষ্টে ছেলের জন্য নতুন ঘর করেছিলেন। আজ সে ঘর খাঁ খাঁ; সেখানে কে থাকবে।
৪. বর্তমান বাড়ি-ঘরের অবস্থা
বাঁশের বেড়া ও টিনের চাল দিয়ে দুটি ঘর। মাত্র ২ শতাংশ জমি আছে। টিউবওয়েল ও টয়লেট নেই।
৫. ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: শহীদ মোঃ মনির হোসেন। পেশা: পিকআপ ভ্যানগাড়ির হেল্পার।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ২৭ জানুয়ারি ১৯৯৩। আহত হওয়ার তারিখ: ২৮ ফেব্রুয়ারি' ১৩।
শাহাদাতের তারিখ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ দাফন ঈদগা সংলগ্ন গড়েয়া পারিবারিক কবরস্থান।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: গড়েয়া, গোপালপুর, ডাকঘর: গড়েয়া, ইউনিয়ন: ১৩ নং গড়েয়া, উপজেলা: ঠাকুরগাঁও সদর, জেলা: ঠাকুরগাঁও।
পিতা: মোঃ মুমিনুল ইসলাম-শুকুর। বয়স: ৪৫ বছর, পেশা দিনমজুর।
মাতা: মনিজা বেগম, ৩৫ বছর, গৃহিণী।
ভাই-বোনের বিবরণ: শহীদ মোঃ মনির হোসেন,। মোছা: মোমিনা-বয়স-১৪, ৬ষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত। মোছা: বুনা-বয়স-১২, ৪র্থ শ্রেণি।
১. শহীদের পরিচিতি
পিতা-মাতার তিন সন্তানের মধ্যে প্রথম সন্তান হিসেবে শহীদ মো: মনির হোসেন ঠাকুরগাঁও জেলা সদরের গোপালপুর গ্রামে ১৯৯৩ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন দরিদ্র পিতা-মাতার একমাত্র ছেলে সন্তান। এক ভাই ও দুই বোনের সংসারে দরিদ্র পিতা-মাতা কোন রকমে সন্তানের মুখে দুটো খাবার তুলে দিতে ব্যস্ত ছিলেন। পারেননি কোন পড়ালেখার ব্যবস্থা করতে। কিশোর শহীদ মোঃ মনির হোসেন গড়েয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা থেকে ৫ম শ্রেণী পড়ার পরে আর পড়া-লেখা চালিয়ে যেতে পারেননি। শারীরিক সামর্থ্যবান হওয়ার পর থেকে পিতার সহযোগী হিসেবে ক্ষেতে-খামারে কাজ করাই ছিল তার পেশা। পরিবারের সহযোগিতার জন্যে তিনি পিকআপ ভ্যান গাড়ির হেল্পার হিসাবে কাজ করতেন।
২. যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ তারিখে আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায়ের প্রতিবাদে গড়েয়ার তৌহিদি জনতার পাশাপাশি হাজার হাজার সাধারণ জনতা স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিক্ষোভ মিছিলে যোগদান করেন। মিছিল শুরু হলে পুলিশ ও বিজিবি যৌথভাবে মিছিলে হামলা করে। তারা মিছিলে নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে মো: মনির হোসেন গুলিতে আহত হয়ে লুটিয়ে পড়েন। তার পেটে, বুকে এবং পায়ে তিনটি গুলি লাগে। এ অবস্থায় তিনি গমক্ষেতে পড়ে যান। তার বড় জ্যাঠা তাকে খুঁজে পান। বেশ কিছুক্ষণ পর তাকে মোটরসাইকেলে করে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানকার কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
১ মার্চ বাদ আসর বিকেল ৫টায় গড়েয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে শহীদ ফিরোজ, মনির এবং রুবেল এই তিন শহীদের জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাযার নামাজে ইমামতি করেন সর্বজন শ্রদ্ধেয় মাওলানা আবু সাঈদ। জানাযায় প্রায় ২০-২৫ হাজার লোক উপস্থিত হয়। ৩. সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায়ের প্রতিবাদে তাৎক্ষণিকভাবে নয়া গড়েয়া হাটে ঠাকুরগাঁও উপজেলার জনসাধারণ বিক্ষোভ মিছিল বের করে।
এদিকে গড়েয়া ইউনিয়নের স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি আশরাফুল আলম মানিক ও তার ছোট ভাই যুবলীগ নেতা যাদু মিয়া, পিতা: মৃত তাজিম উদ্দীন থানা পুলিশকে খবর দেয় যে, এলাকার জনসাধারণ হিন্দুদের বাসা-বাড়িতে, দোকান-ঘর ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করছে। এরূপ মিথ্যা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে জনতার ওপর এলোপাতাড়ি রাবার বুলেট ও গুলি নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে পুলিশ বিজিবিকে খবর দেয়। পরবর্তীতে বিজিবি ও পুলিশের যৌথ গুলিতে তাৎক্ষণিক ৪ জন এবং ৪ মার্চ ও ১৪ মার্চ ২০১৩ তারিখে আরো ২ জন শহীদ হন।
জাতীয় সংবাদমাধমে এ ব্যাপারে ব্যাপক প্রতিবেদন আসে; যেমন, দৈনিক আমার দেশ ১ মার্চ, ২০১৩ লিখে; ঠাকুরগাঁওয়ে নিহত ৭: ফাঁসির রায় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই ঠাকুরগাঁওয়ে বিক্ষুব্ধ জনতার মিছিলে নির্বিচারে গুলি চালালে ৭ জন নিহত হয়েছেন। এতে মহিলাসহ গুলিবিদ্ধ হয় অন্তত ২০ জন। এছাড়াও আরও অর্ধশতাধিক আহত হয়েছে। গতকাল সকাল থেকেই এলাকায় কয়েক হাজার সাঈদীভক্ত জড়ো হতে থাকেন। রায় ঘোষণার পর পরই ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা গড়েয়ায় বিক্ষুব্ধ জনতা ব্যাপক বিক্ষোভ, ভাঙচুর ও রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের নামে পুলিশ রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এতে জনগণ আরও বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। ঘটনাস্থলে বিজিবি ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এ সময় উত্তেজিত জনতার ওপর পুলিশ ও বিজিবি ব্রাশফায়ার শুরু করে। এতে ঘটনাস্থলেই নিরঞ্জন (২০), রুবেল (১৮), দায়মুল (২১), সুমন (২০), ফিরোজ (১৯) নামে ৪ জন নিহত হয়। মনির (১৮) কে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে নিলে সেখানে তার মৃত্যু হয়। সংঘর্ষে এ সময় মহিলাসহ আরও প্রায় ২৫ জন গুলিবিদ্ধ হয়, আহত হয় আরও অর্ধশতাধিক।
আহতদের অনেককেই ঠাকুরগাঁওসহ রংপুর ও দিনাজপুর মেডিক্যালে পাঠানো হয়েছে। এদের মধ্যে দুলাল ইসলামের (২০) অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালের সার্জারি চিকিৎসক সুপেন্দ্রনাথ রায়। প্রায় ২ ঘণ্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষের একপর্যায়ে পুলিশ ও বিজিবি পিছু হটতে বাধ্য হয়। পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে এলাকার বিভিন্ন স্থানে পড়ে থাকা নিহতদের লাশ ও আহতদের উদ্ধার করে গ্রামবাসী। পুলিশের গুলিতে মহিলাসহ বেশ কয়েকজন গ্রামবাসীও গুলিবিদ্ধ হয়েছে বলে জানা গেছে। হঠাৎ এতগুলো তাজা প্রাণ ঝরে যাওয়ায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহতদের বাড়ি বাড়ি নেমে আসে কান্নার রোল।
সাপ্তাহিক সোনার বাংলা, ৮ মার্চ, ২০১৩ জানাজার নামাজ নিয়ে একটি রিপোর্ট ছাপে। যার শিরোনাম ছিল, 'ঠাকুরগাঁওয়ে নিহতদের জানাজায় জনতার ঢল'
ঠাকুরগাঁও। গড়েয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে শহীদদের জানাজায় মানুষের ঢল
মাওলানা সাঈদীকে ফাঁসির রায়ের প্রতিবাদে ঠাকুরগাঁওয়ে বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশ ও বিজিবির গুলিতে নিহতদের জানাজা নামাজে জনতার ঢল নামে। গত শুক্রবার বিকেলে নিহতদের ময়না তদন্ত শেষে লাশ এলাকায় পৌঁছলে সেখানে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বিকেল ৫টায় গড়েয়া কেন্দ্রীয় ঈদগা ময়দানে এক এক করে নিহতদের লাশ জানাজার জন্য আনা হয়। কিন্তু জনতা বাড়তে থাকলে সেখানে জায়গার সংকুলান না হওয়ায় পরে লাশ নিয়ে যাওয়া হয় গড়েয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে। সেখানে হাজার হাজার মুসল্লির অংশগ্রহণে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। ৪. বাবা-মায়ের স্বপ্ন ছিল এবার নতুন বৌ আনবেন
মনির টিভি দেখছিলেন ২৮ তারিখের অন্যায় রায় তিনি মেনে নিতে পারছিলেন না। হঠাৎ কানে আসল মিছিলের আওয়াজ। আর কে পায় তাকে, দিলেন ছুট। মা মনিজা বেগম মাত্র ৩৫ বছরের এক গৃহবধূ। একমাত্র ছেলের চিন্তায় কেঁপে উঠলো তার বুক। কোন অর্গল দিয়ে বা মাতৃস্নেহের জিঞ্জিরেও বাঁধতে পারলেন না, বাছা কে। পিছুপিছু গিয়ে কেঁদে ফেললেন। আর্তস্বরে বলে উঠলেন, 'বাবা যাসনে, তোর কিছু হলে আমি বাঁচবো না। কিন্তু হৈ চৈ এর মাঝে সে কি শুনলো তার ক্ষীণ আর্তনাদ? বরং ঝড়ের উদ্যমে বেরিয়ে যেতে যেতে হঠাৎ বজ্রপাতের মতো মনির বলে গেলেন, 'সাঈদীর জন্য শহীদ হব।' বাবা-মায়ের স্বপ্ন ছিল এবার নতুন বৌ আনবেন। সে স্বপ্নে বিভোর হয়ে অনেক কষ্টে ছেলের জন্য নতুন ঘর করেছিলেন। আজ সে ঘর খাঁ খাঁ; সেখানে কে থাকবে।
৪. বর্তমান বাড়ি-ঘরের অবস্থা
বাঁশের বেড়া ও টিনের চাল দিয়ে দুটি ঘর। মাত্র ২ শতাংশ জমি আছে। টিউবওয়েল ও টয়লেট নেই।
৫. ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: শহীদ মোঃ মনির হোসেন। পেশা: পিকআপ ভ্যানগাড়ির হেল্পার।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ২৭ জানুয়ারি ১৯৯৩। আহত হওয়ার তারিখ: ২৮ ফেব্রুয়ারি' ১৩।
শাহাদাতের তারিখ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ দাফন ঈদগা সংলগ্ন গড়েয়া পারিবারিক কবরস্থান।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: গড়েয়া, গোপালপুর, ডাকঘর: গড়েয়া, ইউনিয়ন: ১৩ নং গড়েয়া, উপজেলা: ঠাকুরগাঁও সদর, জেলা: ঠাকুরগাঁও।
পিতা: মোঃ মুমিনুল ইসলাম-শুকুর। বয়স: ৪৫ বছর, পেশা দিনমজুর।
মাতা: মনিজা বেগম, ৩৫ বছর, গৃহিণী।
ভাই-বোনের বিবরণ: শহীদ মোঃ মনির হোসেন,। মোছা: মোমিনা-বয়স-১৪, ৬ষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত। মোছা: বুনা-বয়স-১২, ৪র্থ শ্রেণি।
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍