শহীদ মো: ফিরোজ ইসলাম
আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ তারিখে আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায়ের প্রতিবাদে গড়েয়ার তৌহিদি জনতার পাশাপাশি হাজার হাজার সাধারণ জনতা স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিক্ষোভ মিছিলে যোগদান করেন। মিছিল শুরু হলে পুলিশ ও বিজিবি যৌথভাবে মিছিলে হামলা করে। তারা মিছিলে নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে মো: ফিরোজ ইসলাম গুলিতে লুটিয়ে পড়েন। তার ঘাড়ে গুলি লেগে দাঁত ভেঙে মুখ দিয়ে বের হয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই তিনি শাহাদাতের অমিয় সুধা পান করেন।
১ মার্চ বাদ আসর বিকেল ৫ টায় গড়েয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে শহীদের জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাযার নামাজে ইমামতি করেন সর্বজন শ্রদ্ধেয় মাওলানা আবু সাঈদ। জানাযায় প্রায় ২০/২৫ হাজার লোক উপস্থিত হয়। রাজনৈতিকভাবে কোন দলের সাথে সক্রিয় ছিলেন না।
১ মার্চ বাদ আসর বিকেল ৫ টায় গড়েয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে শহীদের জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাযার নামাজে ইমামতি করেন সর্বজন শ্রদ্ধেয় মাওলানা আবু সাঈদ। জানাযায় প্রায় ২০/২৫ হাজার লোক উপস্থিত হয়। রাজনৈতিকভাবে কোন দলের সাথে সক্রিয় ছিলেন না।
🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ
"তার বিয়ের জন্য কন্যা দেখা হয়েছে, পছন্দও হয়েছে। পরের দিন শুক্রবার কন্যা পক্ষ আসবে সব ঠিক থাকলে ঐদিনই বিয়ের ডেট চূড়ান্ত হবে। বাড়িতে ছোট-বড় সবার ভেতর বিয়ের সেই মধুর আমেজ কাজ করছে। কিন্তু কি হলো; এক প্রলয়ঙ্করী ঝড়ে সব ওলটপালট হয়ে গেল। হলুদ আর মেহেদির স্বপ্ন-ছবি ভেসে গেল রক্তের প্লাবনে।"
১. শহীদের পরিচিতি
শহীদ মো: ফিরোজ ইসলাম ঠাকুরগাঁও জেলা সদরের চোঙ্গাখাতা গ্রামে ১৯৮৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন পিতা রবিউল ইসলাম ও মাতা ফেরদৌসি বেগমের তিন ছেলে সন্তানের মধ্যে প্রথম সন্তান। ফিরোজ অর্থনৈতিক টানাপড়েনের কারণে এসএসসিও সমান্ত করতে পারেননি। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কাজকর্ম করতেন। এক পর্যায়ে গড়েয়া বাজারে একটি ইলেকট্রনিক্সের ব্যবসা শুরু করেন। পিতা-মাতাও তাদের তিন ছেলেকে নিয়ে স্বপ্নের জাল বুনতে শুরু করেন। কিন্তু ঘাতকের বুলেটের আঘাতে মুহূর্তেই ধূলিসাৎ হয়ে যায় পিতা-মাতার সে স্বপ্ন।
২. যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ তারিখে আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায়ের প্রতিবাদে গড়েয়ার তৌহিদি জনতার পাশাপাশি হাজার হাজার সাধারণ জনতা স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিক্ষোভ মিছিলে যোগদান করেন। মিছিল শুরু হলে পুলিশ ও বিজিবি যৌথভাবে মিছিলে হামলা করে। তারা মিছিলে নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে মো: ফিরোজ ইসলাম গুলিতে লুটিয়ে পড়েন। তার ঘাড়ে গুলি লেগে দাঁত ভেঙে মুখ দিয়ে বের হয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই তিনি শাহাদাতের অমিয় সুধা পান করেন।
১ মার্চ বাদ আসর বিকেল ৫ টায় গড়েয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে শহীদের জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাযার নামাজে ইমামতি করেন সর্বজন শ্রদ্ধেয় মাওলানা আবু সাঈদ। জানাযায় প্রায় ২০/২৫ হাজার লোক উপস্থিত হয়। রাজনৈতিকভাবে কোন দলের সাথে সক্রিয় ছিলেন না।
৩. সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায়ের প্রতিবাদে তাৎক্ষণিকভাবে নয়া গড়েয়া হাটে ঠাকুরগাঁও উপজেলার জনসাধারণ বিক্ষোভ মিছিল বের করে।
এদিকে গড়েয়া ইউনিয়নের স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি আশরাফুল আলম মানিক ও তার ছোট ভাই যুবলীগ নেতা যাদু মিয়া, পিতা: মৃত তাজিম উদ্দীন থানা পুলিশকে খবর দেয় যে, এলাকার জনসাধারণ হিন্দুদের বাসা-বাড়িতে, দোকান-ঘর ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করছে। এরূপ মিথ্যা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে জনতার ওপর এলোপাতাড়ি রাবার বুলেট ও গুলি নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে পুলিশ বিজিবিকে খবর দেয়। পরবর্তীতে বিজিবি ও পুলিশের যৌথ গুলিতে তাৎক্ষণিকভাবে ৩ জন, ১ ঘণ্টা পরে ১ জন, ০৪.০৩.২০১৩ তারিখে ১ জন এবং ১৪.০৩.২০১৩ তারিখে আরো ১ জন মারা যায়।
জাতীয় সংবাদমাধমে এ ব্যাপারে ব্যাপক প্রতিবেদন আসে; যেমন, দৈনিক আমার দেশ ১ মার্চ, ২০১৩ লিখে: ঠাকুরগাঁওয়ে নিহত ৭: ফাঁসির রায় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই ঠাকুরগাঁওয়ে বিক্ষুব্ধ জনতার মিছিলে
নির্বিচারে গুলি চালালে ৭ জন নিহত হয়েছেন। এতে মহিলাসহ গুলিবিদ্ধ হয় অন্তত ২০ জন। এছাড়াও আরও অর্ধশতাধিক আহত হয়েছে। গতকাল সকাল থেকেই এলাকায় কয়েক হাজার সাঈদীভক্ত জড়ো হতে থাকেন। রায় ঘোষণার পর পরই ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা গড়েয়ায় বিক্ষুব্ধ জনতা ব্যাপক বিক্ষোভ, ভাঙচুর ও রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের নামে পুলিশ রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এতে জনগণ আরও বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। ঘটনাস্থলে বিজিবি ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এ সময় উত্তেজিত জনতার ওপর পুলিশ ও বিজিবি ব্রাশফায়ার শুরু করে। এতে ঘটনাস্থলেই নিরঞ্জন (২০), রুবেল (১৮), দায়মুল (২১), সুমন (২০), ফিরোজ (১৯) নামে ৪ জন নিহত হয়। মনির (১৮) নামের অপর একজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে নিলে সেখানে তার মৃত্যু হয়। সংঘর্ষে এ সময় মহিলাসহ আরও প্রায় ২৫ জন গুলিবিদ্ধ হয়, আহত হয় আরও অর্ধশতাধিক। আহতদের অনেককেই ঠাকুরগাঁওসহ রংপুর ও দিনাজপুর মেডিক্যালে পাঠানো হয়েছে। এদের মধ্যে দুলাল ইসলামের (২০) অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালের সার্জারি চিকিৎসক সুপেন্দ্রনাথ রায়। প্রায় ২ ঘণ্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষের একপর্যায়ে পুলিশ ও বিজিবি পিছু হটতে বাধ্য হয়। পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে এলাকার বিভিন্ন স্থানে পড়ে থাকা নিহতদের লাশ ও আহতদের উদ্ধার করে গ্রামবাসী। পুলিশের গুলিতে মহিলাসহ বেশ কয়েকজন গ্রামবাসীও গুলিবিদ্ধ হয়েছে বলে জানা গেছে। হঠাৎ এতগুলো তাজা প্রাণ ঝরে যাওয়ায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহতদের বাড়ি বাড়ি নেমে আসে কান্নার রোল।
সাপ্তাহিক সোনার বাংলা, ৮ মার্চ, ২০১৩ জানাজার নামাজ নিয়ে একটি রিপোর্ট ছাপে। যার শিরোনাম। 'ঠাকুরগাঁওয়ে নিহতদের জানাজায় জনতার ঢল'
ঠাকুরগাঁও: গড়েয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে শহীদদের জানাজায় মানুষের ঢল
মাওলানা সাঈদীকে ফাঁসির রায়ের প্রতিবাদে ঠাকুরগাঁওয়ে বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশ ও বিজিবির গুলিতে নিহতদের জানাজা নামাজে জনতার ঢল নামে। গত শুক্রবার বিকেলে নিহতদের ময়না তদন্ত শেষে লাশ এলাকায় পৌঁছলে সেখানে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বিকেল ৫টায় গড়েয়া কেন্দ্রীয় ঈদগা ময়দানে এক এক করে নিহতদের লাশ জানাজার জন্য আনা হয়। কিন্তু জনতা বাড়তে থাকলে সেখানে জায়গার সংকুলান না হওয়ায় পরে লাশ নিয়ে যাওয়া হয় গড়েয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে। সেখানে হাজার হাজার মুসল্লির অংশগ্রহণে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
৪. হলুদ আর মেহেদির স্বপ্ন-ছবি ভেসে গেল রক্তের প্লাবনে
২৮ ফেব্রুয়ারি ছিল বৃহস্পতিবার। বিকাল সাড়ে তিনটায় মাত্র ১৫/১৬ দিন আগে কেনা বাজাজ পালসার মোটরসাইকেল নিয়ে দোকান থেকে বাসায় এসেছে ২৪ বছরের টগবগে তরুণ ফিরোজ। আবার বাজারের দিকে হৈচৈ শুনে দেখার জন্য গেলো। তার বিয়ের জন্য কন্যা দেখা হয়েছে, পছন্দও হয়েছে পরের দিন শুক্রবার কন্যা পক্ষ আসবে। সব ঠিক থাকলে ঐদিনই বিয়ের ডেট চূড়ান্ত হবে। বাড়িতে ছোট-বড় সবার ভেতর বিয়ের সেই মধুর আমেজ কাজ করছে। কিন্তু কি হলো এক প্রলয়ঙ্করী ঝড়ে সব ওলটপালট হয়ে গেল। হলুদ আর মেহেদির স্বপ্ন-ছবি ভেসে গেল রক্তের প্লাবনে। মায়ের আর্তি বাড়িতে যুদ্ধ লেগেছে দেশে যুদ্ধ লাগবে। মানুষের প্রতি তার প্রচণ্ড ভালবাসা ছিল। ধনীদের কাছ থেকে টাকা লোন করে অসহায় দরিদ্রদের ধার দিত। মানুষের সমস্যা সমাধানে সর্বদা ব্যস্ত থাকতো। এমনকি বাজারে ব্যবসায়ী হিসেবে ক্রেতাদের সাথে হাসতে হাসতে কথা বলতো।
৪. বর্তমান বাড়ি-ঘরের অবস্থা
নিজস্ব জাগায় বাড়ি আছে। টিন ও পাকা বাড়ি। চাষাবাদের জমি আছে। টিভি শোরুম আছে।
৫. ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: শহীদ মোঃ ফিরোজ ইসলাম।
পেশা: ব্যবসা, নিজস্ব টিভি শো-রুম।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ১৩ মার্চ ১৯৮৯।
আহত হওয়ার তারিখ: ২৮ ফেব্রুয়ারি'১৩।
শাহাদাতের তারিখ: ২৮ ফেব্রুয়ারি'১৩,।
দাফন করা হয়: ঈদগা সংলগ্ন গড়েয়া পারিবারিক কবরস্থান।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: চোঙ্গাখাতা, ডাকঘর: নয়া গড়েয়া হাট, ইউনিয়ন: ১৩ নং গড়েয়া, উপজেলা: ঠাকুরগাঁও, জেলা: ঠাকুরগাঁও।
পিতা: মোঃ রবিউল ইসলাম।
বয়স: ৪৫ বছর, পেশা শ্রমিক এবং ছেলের ব্যবসায় সাহায্য করেন।
মাতা: ফেরদৌসি বেগম, ৩৬ বছর, গৃহিণী।
ভাই-বোনের বিবরণ: শহীদ মো: ফিরোজ ইসলাম, মো: ফায়েজ ইসলাম-বয়স-২০, গড়েয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মো: ফেরদৌস ইসলাম বয়স-১১, ৫ম শ্রেণি, জুয়েল প্রি-ক্যাডেট স্কুল।
১. শহীদের পরিচিতি
শহীদ মো: ফিরোজ ইসলাম ঠাকুরগাঁও জেলা সদরের চোঙ্গাখাতা গ্রামে ১৯৮৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন পিতা রবিউল ইসলাম ও মাতা ফেরদৌসি বেগমের তিন ছেলে সন্তানের মধ্যে প্রথম সন্তান। ফিরোজ অর্থনৈতিক টানাপড়েনের কারণে এসএসসিও সমান্ত করতে পারেননি। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কাজকর্ম করতেন। এক পর্যায়ে গড়েয়া বাজারে একটি ইলেকট্রনিক্সের ব্যবসা শুরু করেন। পিতা-মাতাও তাদের তিন ছেলেকে নিয়ে স্বপ্নের জাল বুনতে শুরু করেন। কিন্তু ঘাতকের বুলেটের আঘাতে মুহূর্তেই ধূলিসাৎ হয়ে যায় পিতা-মাতার সে স্বপ্ন।
২. যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ তারিখে আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায়ের প্রতিবাদে গড়েয়ার তৌহিদি জনতার পাশাপাশি হাজার হাজার সাধারণ জনতা স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিক্ষোভ মিছিলে যোগদান করেন। মিছিল শুরু হলে পুলিশ ও বিজিবি যৌথভাবে মিছিলে হামলা করে। তারা মিছিলে নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে মো: ফিরোজ ইসলাম গুলিতে লুটিয়ে পড়েন। তার ঘাড়ে গুলি লেগে দাঁত ভেঙে মুখ দিয়ে বের হয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই তিনি শাহাদাতের অমিয় সুধা পান করেন।
১ মার্চ বাদ আসর বিকেল ৫ টায় গড়েয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে শহীদের জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাযার নামাজে ইমামতি করেন সর্বজন শ্রদ্ধেয় মাওলানা আবু সাঈদ। জানাযায় প্রায় ২০/২৫ হাজার লোক উপস্থিত হয়। রাজনৈতিকভাবে কোন দলের সাথে সক্রিয় ছিলেন না।
৩. সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায়ের প্রতিবাদে তাৎক্ষণিকভাবে নয়া গড়েয়া হাটে ঠাকুরগাঁও উপজেলার জনসাধারণ বিক্ষোভ মিছিল বের করে।
এদিকে গড়েয়া ইউনিয়নের স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি আশরাফুল আলম মানিক ও তার ছোট ভাই যুবলীগ নেতা যাদু মিয়া, পিতা: মৃত তাজিম উদ্দীন থানা পুলিশকে খবর দেয় যে, এলাকার জনসাধারণ হিন্দুদের বাসা-বাড়িতে, দোকান-ঘর ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করছে। এরূপ মিথ্যা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে জনতার ওপর এলোপাতাড়ি রাবার বুলেট ও গুলি নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে পুলিশ বিজিবিকে খবর দেয়। পরবর্তীতে বিজিবি ও পুলিশের যৌথ গুলিতে তাৎক্ষণিকভাবে ৩ জন, ১ ঘণ্টা পরে ১ জন, ০৪.০৩.২০১৩ তারিখে ১ জন এবং ১৪.০৩.২০১৩ তারিখে আরো ১ জন মারা যায়।
জাতীয় সংবাদমাধমে এ ব্যাপারে ব্যাপক প্রতিবেদন আসে; যেমন, দৈনিক আমার দেশ ১ মার্চ, ২০১৩ লিখে: ঠাকুরগাঁওয়ে নিহত ৭: ফাঁসির রায় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই ঠাকুরগাঁওয়ে বিক্ষুব্ধ জনতার মিছিলে
নির্বিচারে গুলি চালালে ৭ জন নিহত হয়েছেন। এতে মহিলাসহ গুলিবিদ্ধ হয় অন্তত ২০ জন। এছাড়াও আরও অর্ধশতাধিক আহত হয়েছে। গতকাল সকাল থেকেই এলাকায় কয়েক হাজার সাঈদীভক্ত জড়ো হতে থাকেন। রায় ঘোষণার পর পরই ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা গড়েয়ায় বিক্ষুব্ধ জনতা ব্যাপক বিক্ষোভ, ভাঙচুর ও রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের নামে পুলিশ রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এতে জনগণ আরও বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। ঘটনাস্থলে বিজিবি ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এ সময় উত্তেজিত জনতার ওপর পুলিশ ও বিজিবি ব্রাশফায়ার শুরু করে। এতে ঘটনাস্থলেই নিরঞ্জন (২০), রুবেল (১৮), দায়মুল (২১), সুমন (২০), ফিরোজ (১৯) নামে ৪ জন নিহত হয়। মনির (১৮) নামের অপর একজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে নিলে সেখানে তার মৃত্যু হয়। সংঘর্ষে এ সময় মহিলাসহ আরও প্রায় ২৫ জন গুলিবিদ্ধ হয়, আহত হয় আরও অর্ধশতাধিক। আহতদের অনেককেই ঠাকুরগাঁওসহ রংপুর ও দিনাজপুর মেডিক্যালে পাঠানো হয়েছে। এদের মধ্যে দুলাল ইসলামের (২০) অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালের সার্জারি চিকিৎসক সুপেন্দ্রনাথ রায়। প্রায় ২ ঘণ্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষের একপর্যায়ে পুলিশ ও বিজিবি পিছু হটতে বাধ্য হয়। পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে এলাকার বিভিন্ন স্থানে পড়ে থাকা নিহতদের লাশ ও আহতদের উদ্ধার করে গ্রামবাসী। পুলিশের গুলিতে মহিলাসহ বেশ কয়েকজন গ্রামবাসীও গুলিবিদ্ধ হয়েছে বলে জানা গেছে। হঠাৎ এতগুলো তাজা প্রাণ ঝরে যাওয়ায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহতদের বাড়ি বাড়ি নেমে আসে কান্নার রোল।
সাপ্তাহিক সোনার বাংলা, ৮ মার্চ, ২০১৩ জানাজার নামাজ নিয়ে একটি রিপোর্ট ছাপে। যার শিরোনাম। 'ঠাকুরগাঁওয়ে নিহতদের জানাজায় জনতার ঢল'
ঠাকুরগাঁও: গড়েয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে শহীদদের জানাজায় মানুষের ঢল
মাওলানা সাঈদীকে ফাঁসির রায়ের প্রতিবাদে ঠাকুরগাঁওয়ে বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশ ও বিজিবির গুলিতে নিহতদের জানাজা নামাজে জনতার ঢল নামে। গত শুক্রবার বিকেলে নিহতদের ময়না তদন্ত শেষে লাশ এলাকায় পৌঁছলে সেখানে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বিকেল ৫টায় গড়েয়া কেন্দ্রীয় ঈদগা ময়দানে এক এক করে নিহতদের লাশ জানাজার জন্য আনা হয়। কিন্তু জনতা বাড়তে থাকলে সেখানে জায়গার সংকুলান না হওয়ায় পরে লাশ নিয়ে যাওয়া হয় গড়েয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে। সেখানে হাজার হাজার মুসল্লির অংশগ্রহণে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
৪. হলুদ আর মেহেদির স্বপ্ন-ছবি ভেসে গেল রক্তের প্লাবনে
২৮ ফেব্রুয়ারি ছিল বৃহস্পতিবার। বিকাল সাড়ে তিনটায় মাত্র ১৫/১৬ দিন আগে কেনা বাজাজ পালসার মোটরসাইকেল নিয়ে দোকান থেকে বাসায় এসেছে ২৪ বছরের টগবগে তরুণ ফিরোজ। আবার বাজারের দিকে হৈচৈ শুনে দেখার জন্য গেলো। তার বিয়ের জন্য কন্যা দেখা হয়েছে, পছন্দও হয়েছে পরের দিন শুক্রবার কন্যা পক্ষ আসবে। সব ঠিক থাকলে ঐদিনই বিয়ের ডেট চূড়ান্ত হবে। বাড়িতে ছোট-বড় সবার ভেতর বিয়ের সেই মধুর আমেজ কাজ করছে। কিন্তু কি হলো এক প্রলয়ঙ্করী ঝড়ে সব ওলটপালট হয়ে গেল। হলুদ আর মেহেদির স্বপ্ন-ছবি ভেসে গেল রক্তের প্লাবনে। মায়ের আর্তি বাড়িতে যুদ্ধ লেগেছে দেশে যুদ্ধ লাগবে। মানুষের প্রতি তার প্রচণ্ড ভালবাসা ছিল। ধনীদের কাছ থেকে টাকা লোন করে অসহায় দরিদ্রদের ধার দিত। মানুষের সমস্যা সমাধানে সর্বদা ব্যস্ত থাকতো। এমনকি বাজারে ব্যবসায়ী হিসেবে ক্রেতাদের সাথে হাসতে হাসতে কথা বলতো।
৪. বর্তমান বাড়ি-ঘরের অবস্থা
নিজস্ব জাগায় বাড়ি আছে। টিন ও পাকা বাড়ি। চাষাবাদের জমি আছে। টিভি শোরুম আছে।
৫. ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: শহীদ মোঃ ফিরোজ ইসলাম।
পেশা: ব্যবসা, নিজস্ব টিভি শো-রুম।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ১৩ মার্চ ১৯৮৯।
আহত হওয়ার তারিখ: ২৮ ফেব্রুয়ারি'১৩।
শাহাদাতের তারিখ: ২৮ ফেব্রুয়ারি'১৩,।
দাফন করা হয়: ঈদগা সংলগ্ন গড়েয়া পারিবারিক কবরস্থান।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: চোঙ্গাখাতা, ডাকঘর: নয়া গড়েয়া হাট, ইউনিয়ন: ১৩ নং গড়েয়া, উপজেলা: ঠাকুরগাঁও, জেলা: ঠাকুরগাঁও।
পিতা: মোঃ রবিউল ইসলাম।
বয়স: ৪৫ বছর, পেশা শ্রমিক এবং ছেলের ব্যবসায় সাহায্য করেন।
মাতা: ফেরদৌসি বেগম, ৩৬ বছর, গৃহিণী।
ভাই-বোনের বিবরণ: শহীদ মো: ফিরোজ ইসলাম, মো: ফায়েজ ইসলাম-বয়স-২০, গড়েয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মো: ফেরদৌস ইসলাম বয়স-১১, ৫ম শ্রেণি, জুয়েল প্রি-ক্যাডেট স্কুল।
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍