শহীদ হাফেজ মনসুর আহমেদ প্রধানীয়া
আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
শহীদ হাফেজ মনসুর আহমেদ প্রধানীয়ার জন্ম ৩১ জানুয়ারি ১৯৮৮ চাঁদপুর জেলায়। ছোটবেলা থেকেই ছিলেন বিনয়ী, পরোপকারী ও ধর্মপ্রাণ এক মেধাবী তরুণ। পবিত্র কোরআনের হাফেজ হিসেবে শিক্ষা জীবনে ধারাবাহিক সফলতা অর্জন করে তিনি পরে ঢাকায় সিটি ইউনিভার্সিটিতে আইন বিভাগে পড়াশোনা শুরু করেন। ইসলামী আদর্শের প্রতি গভীর অনুরাগ তাকে সংগঠনী কাজ ও ন্যায়বিচারের পথে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে নিয়ে যায়। ২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’-তে অংশ নিয়ে মালিবাগ এলাকায় পুলিশের গুলিতে তিনি শাহাদাত বরণ করেন। তাঁর জীবন ও আদর্শ আজও সংগ্রাম, নিষ্ঠা ও ত্যাগের এক অনুপ্রেরণাদায়ী প্রতীক।
🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ
শহীদ হাফেজ মনসুর আহমেদ প্রধানীয়া
ঢাকা- 9
শহীদ হাফেজ মনসুর আহমেদ প্রধানীয়া ছোটবেলা থেকেই ছিলেন অনন্য বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। তিনি তাঁর আন্তরে শহীদী মৃত্যুর তামান্না লালন করতেন। ২০১৩ সালের সেই উত্তপ্ত দিনগুলিতে মা তাকে বেশি বেশি বাইরে যেতে, সাংগঠনিক কাজে যেতে বারণ করতেন। মাকে তিনি বলতেন, 'আমি তো চাই শহীদি মৃত্যু। আল্লাহর দীনের পথে যখন ডাক আসে তখন ঘরে বসে থাকা যায় না। আমরা তো আল্লাহর পথেই সবাইকে ডাকি।'
জন্ম: ৩১ জানুয়ারি, ১৯৮৮ শাহাদাতবরণ: ২৯ ডিসেম্বর, ২০১৩
শহীদের পরিচিতি
চাঁদপুর জেলার সদর থানার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের নুরুল্লাহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন শহীদ মনসুর আহমেদ প্রধানীয়া। তাঁর পিতা একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আবদুর রাজ্জাক প্রধানীয়া। মা নূরনাহার বেগম। সাত ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন পঞ্চম। পিতার ইন্তেকালের পর মায়ের সিদ্ধান্তক্রমে তাঁকে চাঁদপুর শহরে বড় বোনের বাসায় পাঠানো হয় লেখাপড়া করার জন্য। নিজগ্রাম নুরুল্লাহপুরের পাঠ চুকিয়ে তিনি চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী জামিয়া মাদানীয়া আশরাফুল উলুম থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে পবিত্র কোরআনের হেফজ সম্পন্ন করেন। এরপর বিষ্ণুদি সিনিয়র আলিম মাদরাসা থেকে ২০১০ সালে দাখিল এবং ২০১২ সালে আলিম পরীক্ষায় কৃতকার্য হয়ে ঢাকায় আইন পড়াশুনা শুরু করেন। তিনি সিটি ইউনিভাসিটিতে আইন বিভাগে ভর্তি হন। শাহাদাতের সময় তিনি দ্বিতীয় সেমিষ্টারের ছাত্র ছিলেন।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে যান
২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর ছিলো ১৮ দলীয় জোট কর্তৃক ঘোষিত 'মার্চ ফর ডেমোক্রেসি'। ঢাকা শহরের মালিবাগ এলাকায় বাদ যোহর বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। এই মিছিলের প্রথম সারিতে ছিলেন হাফেজ মনসুর আহমদ। মিছিল শুরু হতে না হতেই পুলিশ অতর্কিতে হামলা ও গুলিবর্ষণ শুরু করে। গুলিবিদ্ধ হন হাফেজ মনসুর। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
কেমন ছিলেন শহীদ হাফেজ মনসুর আহমদ
ছোটবেলা থেকে তিনি ছিলেন অসম্ভব বিনয়ী। নামাজ আদায়ে তিনি কখনো বিন্দুমাত্র কসুর করতেন না। যে কোন পরিস্থিতিতে তিনি নামাজ আদায় করে নিতেন। ইসলামী আন্দোলনের প্রতি সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও নিষ্ঠা ছিলো তাঁর। তিনি দশম শ্রেণিতে থাকা অবস্থায় ছাত্রশিবিরে যোগদান করেন। ২০১০ সালে সাথী শপথ গ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন মাদরাসা সভাপতি এবং চাঁদপুর থেকে ঢাকা যাওয়ার আগে থানা শাখার শিক্ষা সম্পাদক। ঢাকায় যাওয়ার পর তাকে দায়িত্ব দেয়া হয় বিমানবন্দর থানার ৩৬ নং ওয়ার্ড সভাপতির।
সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
রোড ফর ডেমোক্রেসি কর্মসূচির অংশ হিসেবে যোহরের নামাজের পর মালিবাগ মোড় থেকে মিছিল শুরু হয়। পুলিশ গুলিবর্ষণ শুরু করলে বহুসংখ্যক বিক্ষোভকারী গুলিবিদ্ধ হয়। হাফেজ মনসুর আহমদ শাহাদাতবরণ করেন। তাঁর লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে নিজ গ্রাম নুরুল্লাপুরে নিয়ে আসা হয় ২ টা ৩০ মিনিটে। সন্ধ্যা ৭ টায় শহীদ পরিবারের দান করা ভূমিতে গড়ে ওঠা মাদরাসার মাঠে হাজার হাজার মানুষের অংশগ্রহণে তাঁর নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। জানাযার পর তাঁকে চাঁদপুর মুন্সিরহাট বাজার জামে মসজিদ সংলগ্ন কবরস্থানে বাবার কবরের পাশে দাফন করা হয়।
শহীদের আপনজনদের কথা
শহীদের মা নুরুননাহার বেগম জানান, 'ওই সময় দেশে খুব উত্তপ্ত পরিস্থিতি। আমি ছেলেকে বললাম বাবা এত সব কাজ-কর্মে যাইয়ো না। কখন কোন বিপদ হয়। ছেলে আমাকে বলল, মা আমার স্বপ্ন হচ্ছে শাহাদাতের মৃত্যু। আমরা ভালো কাজে দেশের কাজে বের হই। এতে যদি শহীদ হতে হয় তাহলে তাই হবে। ছেলের এমন কথা শুনে কোনো জবাব দিতে পারিনি। ছেলে আমার আল্লাহর পথে শহীদ হয়ে গেছে।" শহীদের পিঠাপিঠি বড় ভাই মানযুর আহমদ বলেন, আমার ছোটভাইয়ের সঙ্গে আমি ছোটবেলা থেকে একসাথে পড়ালেখা করে আসছি। পাশাপাশি আমরা ক্রিকেটও খেলতাম। আমি যেমন ভালো খেলতাম সেও ভালো খেলতো। তাঁর সাথে আমার এত স্মৃতি বর্ণনা করে শেষ করা কষ্টকর। শহীদের বড় ভগ্নিপতি মোহাম্মদ রকীবুল ইসলাম ভুট্টো বলেন, ছোটবেলা থেকেই তাঁর সঙ্গে আমার গভীর সম্পর্ক। আমি যখন তাঁর বড় বোনকে বিয়ে করি তখন ওর বয়স ৩/৪ বছর। আমি কখনোই কল্পনা করিনি ও এভাবে শহীদ হয়ে যাবে। ও আমাকে ইসলামী আন্দোলনের সমর্থক ও পৃষ্ঠপোষক বানিয়েছে। ওকে দেখেছি কোন অবস্থাতেই নামাজ ছাড়তো না। যে কোনো পরিস্থিতিতে সময় থাকতেই ও নামাজ আদায় করে নিতো।
ব্যক্তিগত তথ্য
তিনি ছিলেন পবিত্র কোরআনের হাফেজ। বড় উকিল হওয়ার ইচ্ছা ছিলো হাফেজ মনসুর আহমদের। এ উদ্দেশ্যে তিনি লন্ডনে যাওয়ারও মনস্থির করেছিলেন। খেলাধূলায়ও তিনি ছিলেন অসাধারণ। আন্তঃস্কুল ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় তিনি জেলা পর্যায়ে সেমি ফাইনাল খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন এবং ওই খেলায় ম্যান অব দ্যা ম্যাচ হয়েছিলেন।
গণমাধ্যমে শাহাদাতের খবর
"ঢাকায় পুলিশের গুলিতে নিহত শিবির নেতা হাফেজ মনসুর আহমদ-এর বাড়ী চাঁদপুরে, আইন বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি নেয়া সম্ভব হলো না ঢাকায় নিহত মনসুরের" শিরোনামে খবরতরঙ্গ ডটকমের এক সংবাদে বলা হয়-
আইন বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি নেয়া সম্ভব হলো না ঢাকায় নিহত মনসুরের। রবিবার ঢাকায় পুলিশের গুলিতে নিহত হাফেজ মনসুর আহমদ এর গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর সদর উপজেলার নুরুল্লাহপুর গ্রামে। চাঁদপুর শহরের ব্যাংক কলোনী আবাসিক এলাকায় বড় ভগ্নিপতি রফিকুল ইসলাম ভুট্টোর বাসায় থেকে বিষ্ণুদী ইসলামীয়া আলিম মাদরাসা থেকে দাখিল ও আলিম পাশ করে।
সে এ বছর ঢাকা সিটি ইউনির্ভাসিটিতে এলএলবি ১ম বর্ষে ভর্তি হয়। ৪ ভাই ও ৩ বোনের মধ্যে মনসুর ৬৪। বড় ভাই ফয়েজ আহমদ প্রবাসে চাকুরি করেন। দ্বিতীয় ভাই মানজুর আহমদ ঢাকায় ব্যবসা করেন। ৪র্থ ভাই মারুফ আহমদ ঢাকায় প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করছে। ৩ বোন সকলে বিবাহিতা। পিতা আঃ রাজ্জাক প্রধানিয়া ইন্তেকাল করেছেন। মা জীবিত। ছাত্রজীবনে চাঁদপুরে পড়ালেখা করাকালীন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাথে জড়িত হয়। মুত্যুর আগ পর্যন্ত হাফেজ মনসুর আহমদ ঢাকা বিমান বন্দর থানার অধিন একটি ওয়ার্ডের ছাত্রশিবিরের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।
রবিবার ২৯ ডিসেম্বর ২০১৩, ১৮ দলীয় জোটের মার্চ ফর ডেমোক্রেসি প্রোগ্রামে ঢাকার মালিবাগে পুলিশের গুলিতে নিহত হন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত শহীদের কফিন ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে আনার চেষ্টা চলছে। "গণতন্ত্রের অভিযাত্রায় প্রথম শহীদ চাঁদপুরের মনসুর" শিরোনামে বি এম হান্নান লিখেছেন- দেশ বাঁচাতে, মানুষ বাঁচাতে ভোটাধিকার রক্ষায় গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে 'গণতন্ত্রের অভিযাত্রায়' প্রথম শহীদ হয়েছে। চাঁদপুরের মনসুর প্রধানিয়া। পুলিশের গুলিতে নিহত মনসুর প্রধানিয়া চাঁদপুর সদর উপজেলার নুরুল্লাপুরের মৃত আবদুর রাজ্জাকের ছেলে। বিএনপি'র চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার 'মার্চ ফর ডেমোক্রেসি' গণতন্ত্রের অভিযাত্রা সফল করতে গেলে পুলিশের গুলিতে সে নির্মমভাবে প্রাণ হারায়। তার মৃত্যুর সংবাদ চাঁদপুরে আসলে পুরো এলাকায় শোকের মাতম ছড়িয়ে পড়ে। নিহত মানছুরের পিতা ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা। '৭১ সালে সশস্ত্র পাকিস্তানি বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করে আবদুর রাজ্জাক প্রাণ হারান। দিয়ে গেছেন স্বাধীন দেশ। সে দেশেই তার নিরস্ত্র সন্তান নিরাপত্তা পায়নি পুলিশের কাছে। রক্ষক হয়ে ভক্ষকের দায়িত্ব পালন করলেন রাজ্জাকের স্বাধীন করা দেশের পুলিশ। প্রকাশ্য নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করল তার ছেলে মনসুরকে। মানছুরের অপরাধ ছিল সে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনে শরিক হয়েছিল। যে গণতন্ত্র কেড়ে নিয়েছিল পাকিস্তানিরা। আজ যখন স্বাধীন বাংলাদেশে গণতন্ত্র বিপন্ন। কেড়ে নেয়া হচ্ছে ভোটের অধিকার, তেমনি সময়েই ঘরে বসে থাকতে পারেননি বনানী বেসরকারি সিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের আইন বিভাগের মেধাবি ছাত্র মনসুর প্রধানিয়া। আজ সে তার পিতার স্বাধীন করা দেশে লাশ হয়ে চলে গেলেন না ফেরার দেশে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠীরা তাৎক্ষণিক জানিয়েছিল মনসুর ছিল ছাত্রশিবিরের সাথী। মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান হিসেবে সে ছিল অত্যন্ত বিনয়ী। গতকাল ২৯ ডিসেম্বর ২০১৩ পর্যন্ত মনসুর ছিল হাস্যোজ্জল। ঢাকার মালিবাগের রেলক্রসে পুলিশের গুলির পর এখন শুধুই স্মৃতি। তার রাজপথের মৃত্যু এখন জানান দিচ্ছে গণতন্ত্রিকামী জনতা এগিয়ে আসো। পৃথিবীতে কোন রক্তই বৃথা যায় না। শীঘ্রই ফিরে আসবে তার পিতার যুদ্ধ করা স্বাধীন দেশের গণতন্ত্র। যার জন্য '৭১ সালে ৩০ লাখ মানুষ হাসিমুখে জীবন দিয়েছিল। উল্লেখ্য, চাঁদপুর সদর উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের নুরুল্লাপুর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মৃত আবদুর রাজ্জাকের ৪ ছেলে ৩ মেয়ের মধ্যে ৬ষ্ঠ ছিল মনসুর প্রধানিয়া। রোববার ঢাকায় পুলিশের গুলিতে নিহত হয় মনসুর। তার মৃত্যুতে এখন শোকে পাথর হয়ে পড়েছে তার পরিবারের সদস্যসহ পুরো এলাকাবাসী। তাদের সকলের দাবি আর চাই না রক্ত, চাই শান্তি। সে চাঁদপুর শহরের ব্যাংক কলোনী আবাসিক এলাকায় বড় ভগ্নিপতি রফিকুল ইসলাম ভুট্টোর বাসায় থাকতেন। বিষ্ণুদী ইসলামিয়া আলিম মাদরাসা থেকে দাখিল ও আলিম পাস করে। সে এ বছর ঢাকা সিটি ইউনির্ভাসিটিতে এলএলবি ১ম বর্ষে ভর্তি হয়। বড় ভাই ফয়েজ আহমদ প্রবাসে চাকরি করেন। দ্বিতীয় ভাই মানজুর আহমদ ঢাকায় ব্যবসা করেন। ৪র্থ ভাই মারুফ আহমদ ঢাকায় প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করছেন। ৩ বোন সকলে বিবাহিতা। নিহত মনসুর ছাত্রজীবনে চাঁদপুরে পড়ালেখা করার সময় ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাথে জড়িত হয়। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত হাফেজ মনসুর আহমদ ঢাকা বিমান বন্দর থানার একটি ওয়ার্ডের ছাত্রশিবিরের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।
ভাই-বোনদের বিবরণ
১। রাশিদা বেগম-গৃহিণী।
২। ফেরদৌসী বেগম- গৃহিণী।
৩। খালেদা আক্তার লুবনা-গৃহিণী।
৪। ফয়েজ আহমদ- কাতার প্রবাসী।
৫। মানজুর আহমদ- ঢাকায় বসবাস করেন।
৬। মারুফ আহমেদ- কাতার প্রবাসী।
এক নজরে শহীদ হাফেজ মনসুর আহমেদ প্রধানীয়া
নাম: হাফেজ মনসুর আহমেদ প্রধানীয়া
পিতা: বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আবদুর রাজ্জাক প্রধানীয়া
মাতা: নূরনাহার বেগম
জনন্ম: ৩১ জানুয়ারি, ১৯৮৮
ঠিকানা: গ্রাম: নুরুল্লাহপুর, ইউনিয়ন: বিষ্ণুপুর, থানা: সদর, জেলা: চাঁদপুর।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: সিটি ইউনিভার্সিটি, ঢাকা। বিষয়- আইন, ২য় সেমিস্টার
ভাই-বোনের সংখ্যা: সাত ভাই-বোনের মধ্যে পঞ্চম
সাংগঠনিক মান: সাথী
দায়িত্ব: ৩২ নং ওয়ার্ড সভাপতি, বিমানবন্দর থানা, ঢাকা
কিভাবে শহীদ হলেন: মার্চ ফর ডেমোক্রেসি প্রোগ্রামে ঢাকার মালিবাগে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন
কাদের দ্বারা শহীদ: পুলিশ
শাহাদাতের তারিখ: ২৯ ডিসেম্বর, ২০১৩
ঢাকা- 9
শহীদ হাফেজ মনসুর আহমেদ প্রধানীয়া ছোটবেলা থেকেই ছিলেন অনন্য বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। তিনি তাঁর আন্তরে শহীদী মৃত্যুর তামান্না লালন করতেন। ২০১৩ সালের সেই উত্তপ্ত দিনগুলিতে মা তাকে বেশি বেশি বাইরে যেতে, সাংগঠনিক কাজে যেতে বারণ করতেন। মাকে তিনি বলতেন, 'আমি তো চাই শহীদি মৃত্যু। আল্লাহর দীনের পথে যখন ডাক আসে তখন ঘরে বসে থাকা যায় না। আমরা তো আল্লাহর পথেই সবাইকে ডাকি।'
জন্ম: ৩১ জানুয়ারি, ১৯৮৮ শাহাদাতবরণ: ২৯ ডিসেম্বর, ২০১৩
শহীদের পরিচিতি
চাঁদপুর জেলার সদর থানার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের নুরুল্লাহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন শহীদ মনসুর আহমেদ প্রধানীয়া। তাঁর পিতা একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আবদুর রাজ্জাক প্রধানীয়া। মা নূরনাহার বেগম। সাত ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন পঞ্চম। পিতার ইন্তেকালের পর মায়ের সিদ্ধান্তক্রমে তাঁকে চাঁদপুর শহরে বড় বোনের বাসায় পাঠানো হয় লেখাপড়া করার জন্য। নিজগ্রাম নুরুল্লাহপুরের পাঠ চুকিয়ে তিনি চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী জামিয়া মাদানীয়া আশরাফুল উলুম থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে পবিত্র কোরআনের হেফজ সম্পন্ন করেন। এরপর বিষ্ণুদি সিনিয়র আলিম মাদরাসা থেকে ২০১০ সালে দাখিল এবং ২০১২ সালে আলিম পরীক্ষায় কৃতকার্য হয়ে ঢাকায় আইন পড়াশুনা শুরু করেন। তিনি সিটি ইউনিভাসিটিতে আইন বিভাগে ভর্তি হন। শাহাদাতের সময় তিনি দ্বিতীয় সেমিষ্টারের ছাত্র ছিলেন।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে যান
২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর ছিলো ১৮ দলীয় জোট কর্তৃক ঘোষিত 'মার্চ ফর ডেমোক্রেসি'। ঢাকা শহরের মালিবাগ এলাকায় বাদ যোহর বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। এই মিছিলের প্রথম সারিতে ছিলেন হাফেজ মনসুর আহমদ। মিছিল শুরু হতে না হতেই পুলিশ অতর্কিতে হামলা ও গুলিবর্ষণ শুরু করে। গুলিবিদ্ধ হন হাফেজ মনসুর। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
কেমন ছিলেন শহীদ হাফেজ মনসুর আহমদ
ছোটবেলা থেকে তিনি ছিলেন অসম্ভব বিনয়ী। নামাজ আদায়ে তিনি কখনো বিন্দুমাত্র কসুর করতেন না। যে কোন পরিস্থিতিতে তিনি নামাজ আদায় করে নিতেন। ইসলামী আন্দোলনের প্রতি সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও নিষ্ঠা ছিলো তাঁর। তিনি দশম শ্রেণিতে থাকা অবস্থায় ছাত্রশিবিরে যোগদান করেন। ২০১০ সালে সাথী শপথ গ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন মাদরাসা সভাপতি এবং চাঁদপুর থেকে ঢাকা যাওয়ার আগে থানা শাখার শিক্ষা সম্পাদক। ঢাকায় যাওয়ার পর তাকে দায়িত্ব দেয়া হয় বিমানবন্দর থানার ৩৬ নং ওয়ার্ড সভাপতির।
সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
রোড ফর ডেমোক্রেসি কর্মসূচির অংশ হিসেবে যোহরের নামাজের পর মালিবাগ মোড় থেকে মিছিল শুরু হয়। পুলিশ গুলিবর্ষণ শুরু করলে বহুসংখ্যক বিক্ষোভকারী গুলিবিদ্ধ হয়। হাফেজ মনসুর আহমদ শাহাদাতবরণ করেন। তাঁর লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে নিজ গ্রাম নুরুল্লাপুরে নিয়ে আসা হয় ২ টা ৩০ মিনিটে। সন্ধ্যা ৭ টায় শহীদ পরিবারের দান করা ভূমিতে গড়ে ওঠা মাদরাসার মাঠে হাজার হাজার মানুষের অংশগ্রহণে তাঁর নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। জানাযার পর তাঁকে চাঁদপুর মুন্সিরহাট বাজার জামে মসজিদ সংলগ্ন কবরস্থানে বাবার কবরের পাশে দাফন করা হয়।
শহীদের আপনজনদের কথা
শহীদের মা নুরুননাহার বেগম জানান, 'ওই সময় দেশে খুব উত্তপ্ত পরিস্থিতি। আমি ছেলেকে বললাম বাবা এত সব কাজ-কর্মে যাইয়ো না। কখন কোন বিপদ হয়। ছেলে আমাকে বলল, মা আমার স্বপ্ন হচ্ছে শাহাদাতের মৃত্যু। আমরা ভালো কাজে দেশের কাজে বের হই। এতে যদি শহীদ হতে হয় তাহলে তাই হবে। ছেলের এমন কথা শুনে কোনো জবাব দিতে পারিনি। ছেলে আমার আল্লাহর পথে শহীদ হয়ে গেছে।" শহীদের পিঠাপিঠি বড় ভাই মানযুর আহমদ বলেন, আমার ছোটভাইয়ের সঙ্গে আমি ছোটবেলা থেকে একসাথে পড়ালেখা করে আসছি। পাশাপাশি আমরা ক্রিকেটও খেলতাম। আমি যেমন ভালো খেলতাম সেও ভালো খেলতো। তাঁর সাথে আমার এত স্মৃতি বর্ণনা করে শেষ করা কষ্টকর। শহীদের বড় ভগ্নিপতি মোহাম্মদ রকীবুল ইসলাম ভুট্টো বলেন, ছোটবেলা থেকেই তাঁর সঙ্গে আমার গভীর সম্পর্ক। আমি যখন তাঁর বড় বোনকে বিয়ে করি তখন ওর বয়স ৩/৪ বছর। আমি কখনোই কল্পনা করিনি ও এভাবে শহীদ হয়ে যাবে। ও আমাকে ইসলামী আন্দোলনের সমর্থক ও পৃষ্ঠপোষক বানিয়েছে। ওকে দেখেছি কোন অবস্থাতেই নামাজ ছাড়তো না। যে কোনো পরিস্থিতিতে সময় থাকতেই ও নামাজ আদায় করে নিতো।
ব্যক্তিগত তথ্য
তিনি ছিলেন পবিত্র কোরআনের হাফেজ। বড় উকিল হওয়ার ইচ্ছা ছিলো হাফেজ মনসুর আহমদের। এ উদ্দেশ্যে তিনি লন্ডনে যাওয়ারও মনস্থির করেছিলেন। খেলাধূলায়ও তিনি ছিলেন অসাধারণ। আন্তঃস্কুল ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় তিনি জেলা পর্যায়ে সেমি ফাইনাল খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন এবং ওই খেলায় ম্যান অব দ্যা ম্যাচ হয়েছিলেন।
গণমাধ্যমে শাহাদাতের খবর
"ঢাকায় পুলিশের গুলিতে নিহত শিবির নেতা হাফেজ মনসুর আহমদ-এর বাড়ী চাঁদপুরে, আইন বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি নেয়া সম্ভব হলো না ঢাকায় নিহত মনসুরের" শিরোনামে খবরতরঙ্গ ডটকমের এক সংবাদে বলা হয়-
আইন বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি নেয়া সম্ভব হলো না ঢাকায় নিহত মনসুরের। রবিবার ঢাকায় পুলিশের গুলিতে নিহত হাফেজ মনসুর আহমদ এর গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর সদর উপজেলার নুরুল্লাহপুর গ্রামে। চাঁদপুর শহরের ব্যাংক কলোনী আবাসিক এলাকায় বড় ভগ্নিপতি রফিকুল ইসলাম ভুট্টোর বাসায় থেকে বিষ্ণুদী ইসলামীয়া আলিম মাদরাসা থেকে দাখিল ও আলিম পাশ করে।
সে এ বছর ঢাকা সিটি ইউনির্ভাসিটিতে এলএলবি ১ম বর্ষে ভর্তি হয়। ৪ ভাই ও ৩ বোনের মধ্যে মনসুর ৬৪। বড় ভাই ফয়েজ আহমদ প্রবাসে চাকুরি করেন। দ্বিতীয় ভাই মানজুর আহমদ ঢাকায় ব্যবসা করেন। ৪র্থ ভাই মারুফ আহমদ ঢাকায় প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করছে। ৩ বোন সকলে বিবাহিতা। পিতা আঃ রাজ্জাক প্রধানিয়া ইন্তেকাল করেছেন। মা জীবিত। ছাত্রজীবনে চাঁদপুরে পড়ালেখা করাকালীন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাথে জড়িত হয়। মুত্যুর আগ পর্যন্ত হাফেজ মনসুর আহমদ ঢাকা বিমান বন্দর থানার অধিন একটি ওয়ার্ডের ছাত্রশিবিরের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।
রবিবার ২৯ ডিসেম্বর ২০১৩, ১৮ দলীয় জোটের মার্চ ফর ডেমোক্রেসি প্রোগ্রামে ঢাকার মালিবাগে পুলিশের গুলিতে নিহত হন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত শহীদের কফিন ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে আনার চেষ্টা চলছে। "গণতন্ত্রের অভিযাত্রায় প্রথম শহীদ চাঁদপুরের মনসুর" শিরোনামে বি এম হান্নান লিখেছেন- দেশ বাঁচাতে, মানুষ বাঁচাতে ভোটাধিকার রক্ষায় গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে 'গণতন্ত্রের অভিযাত্রায়' প্রথম শহীদ হয়েছে। চাঁদপুরের মনসুর প্রধানিয়া। পুলিশের গুলিতে নিহত মনসুর প্রধানিয়া চাঁদপুর সদর উপজেলার নুরুল্লাপুরের মৃত আবদুর রাজ্জাকের ছেলে। বিএনপি'র চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার 'মার্চ ফর ডেমোক্রেসি' গণতন্ত্রের অভিযাত্রা সফল করতে গেলে পুলিশের গুলিতে সে নির্মমভাবে প্রাণ হারায়। তার মৃত্যুর সংবাদ চাঁদপুরে আসলে পুরো এলাকায় শোকের মাতম ছড়িয়ে পড়ে। নিহত মানছুরের পিতা ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা। '৭১ সালে সশস্ত্র পাকিস্তানি বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করে আবদুর রাজ্জাক প্রাণ হারান। দিয়ে গেছেন স্বাধীন দেশ। সে দেশেই তার নিরস্ত্র সন্তান নিরাপত্তা পায়নি পুলিশের কাছে। রক্ষক হয়ে ভক্ষকের দায়িত্ব পালন করলেন রাজ্জাকের স্বাধীন করা দেশের পুলিশ। প্রকাশ্য নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করল তার ছেলে মনসুরকে। মানছুরের অপরাধ ছিল সে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনে শরিক হয়েছিল। যে গণতন্ত্র কেড়ে নিয়েছিল পাকিস্তানিরা। আজ যখন স্বাধীন বাংলাদেশে গণতন্ত্র বিপন্ন। কেড়ে নেয়া হচ্ছে ভোটের অধিকার, তেমনি সময়েই ঘরে বসে থাকতে পারেননি বনানী বেসরকারি সিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের আইন বিভাগের মেধাবি ছাত্র মনসুর প্রধানিয়া। আজ সে তার পিতার স্বাধীন করা দেশে লাশ হয়ে চলে গেলেন না ফেরার দেশে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠীরা তাৎক্ষণিক জানিয়েছিল মনসুর ছিল ছাত্রশিবিরের সাথী। মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান হিসেবে সে ছিল অত্যন্ত বিনয়ী। গতকাল ২৯ ডিসেম্বর ২০১৩ পর্যন্ত মনসুর ছিল হাস্যোজ্জল। ঢাকার মালিবাগের রেলক্রসে পুলিশের গুলির পর এখন শুধুই স্মৃতি। তার রাজপথের মৃত্যু এখন জানান দিচ্ছে গণতন্ত্রিকামী জনতা এগিয়ে আসো। পৃথিবীতে কোন রক্তই বৃথা যায় না। শীঘ্রই ফিরে আসবে তার পিতার যুদ্ধ করা স্বাধীন দেশের গণতন্ত্র। যার জন্য '৭১ সালে ৩০ লাখ মানুষ হাসিমুখে জীবন দিয়েছিল। উল্লেখ্য, চাঁদপুর সদর উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের নুরুল্লাপুর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মৃত আবদুর রাজ্জাকের ৪ ছেলে ৩ মেয়ের মধ্যে ৬ষ্ঠ ছিল মনসুর প্রধানিয়া। রোববার ঢাকায় পুলিশের গুলিতে নিহত হয় মনসুর। তার মৃত্যুতে এখন শোকে পাথর হয়ে পড়েছে তার পরিবারের সদস্যসহ পুরো এলাকাবাসী। তাদের সকলের দাবি আর চাই না রক্ত, চাই শান্তি। সে চাঁদপুর শহরের ব্যাংক কলোনী আবাসিক এলাকায় বড় ভগ্নিপতি রফিকুল ইসলাম ভুট্টোর বাসায় থাকতেন। বিষ্ণুদী ইসলামিয়া আলিম মাদরাসা থেকে দাখিল ও আলিম পাস করে। সে এ বছর ঢাকা সিটি ইউনির্ভাসিটিতে এলএলবি ১ম বর্ষে ভর্তি হয়। বড় ভাই ফয়েজ আহমদ প্রবাসে চাকরি করেন। দ্বিতীয় ভাই মানজুর আহমদ ঢাকায় ব্যবসা করেন। ৪র্থ ভাই মারুফ আহমদ ঢাকায় প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করছেন। ৩ বোন সকলে বিবাহিতা। নিহত মনসুর ছাত্রজীবনে চাঁদপুরে পড়ালেখা করার সময় ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাথে জড়িত হয়। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত হাফেজ মনসুর আহমদ ঢাকা বিমান বন্দর থানার একটি ওয়ার্ডের ছাত্রশিবিরের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।
ভাই-বোনদের বিবরণ
১। রাশিদা বেগম-গৃহিণী।
২। ফেরদৌসী বেগম- গৃহিণী।
৩। খালেদা আক্তার লুবনা-গৃহিণী।
৪। ফয়েজ আহমদ- কাতার প্রবাসী।
৫। মানজুর আহমদ- ঢাকায় বসবাস করেন।
৬। মারুফ আহমেদ- কাতার প্রবাসী।
এক নজরে শহীদ হাফেজ মনসুর আহমেদ প্রধানীয়া
নাম: হাফেজ মনসুর আহমেদ প্রধানীয়া
পিতা: বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আবদুর রাজ্জাক প্রধানীয়া
মাতা: নূরনাহার বেগম
জনন্ম: ৩১ জানুয়ারি, ১৯৮৮
ঠিকানা: গ্রাম: নুরুল্লাহপুর, ইউনিয়ন: বিষ্ণুপুর, থানা: সদর, জেলা: চাঁদপুর।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: সিটি ইউনিভার্সিটি, ঢাকা। বিষয়- আইন, ২য় সেমিস্টার
ভাই-বোনের সংখ্যা: সাত ভাই-বোনের মধ্যে পঞ্চম
সাংগঠনিক মান: সাথী
দায়িত্ব: ৩২ নং ওয়ার্ড সভাপতি, বিমানবন্দর থানা, ঢাকা
কিভাবে শহীদ হলেন: মার্চ ফর ডেমোক্রেসি প্রোগ্রামে ঢাকার মালিবাগে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন
কাদের দ্বারা শহীদ: পুলিশ
শাহাদাতের তারিখ: ২৯ ডিসেম্বর, ২০১৩
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍
🔍