হোম / আওয়ামী দুঃশাসনে শহীদ / শহীদ মোঃ মশিউর রহমান
শহীদ মোঃ মশিউর রহমান

শহীদ মোঃ মশিউর রহমান

আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

২৮শে ফেব্রুয়ারি' ২০১৩। ঘটনাস্থল শহীদের নিজ বাড়ি থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার। বেশ কয়েক দিন আগ থেকে মুফাস্সিরে কুরআন মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর কথিত মামলার রায় হবার ঘোষণায় এলাকায় ব্যাপক গুঞ্জরণ চলছে। সেদিনের মিছিলের খবর পেয়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে শতশত লোক দলবেঁধে স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে কেউ রিক্সা, কেউ বাইসাইকেল, মোটর সাইকেলে আবার কেউবা নসিমনে করে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। তেমনি খবর পেয়ে শহীদ মশিউর রহমান বাইসাইকেলযোগে সকাল ৭টায় মিঠাপুকুর যান। সেখানে প্রায় ৫০ হাজার এলাকাবাসীর সাথে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।
সালাতুজ জোহরের প্রায় আধাঘন্টা পরে হাজার হাজার জনতার শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ মিছিলে পুলিশ-বিজিবি নির্বিচারে শত-শত রাউন্ড টিয়ার শেল ও গুলি বর্ষণ করতে থাকে। সাথে সরকারি দলের লোকেরাও উসকানি দিতে থাকে। ঘটনাস্থলেই ৫ জন শহীদ হয়, মশিউর রহমান তাদের একজন।
বেলা ২.৩০ মিনিটে গুলিবিদ্ধ হবার সাথে সাথে তিনি শাহাদাত বরণ করেন। এরপর তার লাশ তার সাথীরা পাশের একটি বাড়িতে নিয়ে যায়। দরিদ্র পিতামাতা সেদিন আলুখেতে কাজ করছিলেন, মা কিভাবে টের পেয়ে যান। অজ্ঞান হয়ে ক্ষেতেই লুটিয়ে পড়েন। ভ্যানে করে তাকে আনা হয় বাড়িতে; অপরদিকে মাগরিবের একটু আগে মশিউর এর লাশ বাড়িতে নিয়ে এলে তৈরি হয় এক হৃদয়বিদারক প্রেক্ষাপট অতঃপর নামাজের পর তার জানাজা শেষে পরিবারের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। একটি জাতীয় দৈনিক আমার দেশ ২ মার্চ, ২০১৩, লিখে। মিঠাপুকুর উপজেলা শিবিরের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমানের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে শোকের মাতম। তার মা বার বার বুক চাপড়িয়ে আর্তনাদ করতে করতে মূর্ছা যাচ্ছেন। কখনও কখনও জ্ঞানই ফিরছে না তার। এলাকাবাসী জানিয়েছেন, মশিউর ছিলেন ওই এলাকার মধ্যে সবচাইতে ভদ্র ও মেধাবী ছাত্র। মশিউরের বাবা আনোয়ার হোসেন জানান, তার ছেলের কোনো অন্যায় ছিল না। তারা আমার ছেলেকে গুলি করে হত্যা করেছে। আমি এর বিচার চাই।

🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ

"মা তোমার হাত পা ধরি, মা, তুমি আমাকে বেহালাল খাবার খাওয়াবে না।
মা বলেন, অই আল্লাহর অলি আছিল।"
১. শহীদের পরিচিতি
রংপুর মিঠাপুকুরের ইসলামপুর গ্রামের এক নবীন ইসলামী রেনেসাঁর রাহবার ছিলেন শহীদ মোঃ মশিউর রহমান। ১৯৯৭ সালে জন্ম নেয়া মাত্র ১৫ বছরের এই কিশোর ছিল পিতা-মাতার দুই সন্তানের মধ্যে ১ম। দরিদ্র পিতামাতা কোন রকমে সংসার চালানো ও সন্তানদের বড় করার স্বপ্ন দেখেছিলেন। অনেক কষ্টে দুই সন্তানকে ভর্তি করেছিলেন স্কুলে লেখাপড়া শিখিয়ে অনেক অনেক বড় করে তুলবেন, এই আশায়। শহীদ মশিউর পড়াশোনার পাশাপাশি দ্বীনি কাজেও ব্যস্ত ছিলেন। ওদিকে টিউশনি করে নিজের খরচ নিজে জোগাড় করা এবং ছোট ভাইকেও সহযোগিতা করতেন। এভাবে পড়াশোনার পাশাপাশি দ্বীনি কাজের মাধ্যমে এলাকার মানুষের প্রিয়পাত্র হয়েছিলেন। শাহাদাতকালীন সময় তিনি একাদশ শ্রেণীর ছাত্র ছিলেন।
২. যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
২৮শে ফেব্রুয়ারি' ২০১৩। ঘটনাস্থল শহীদের নিজ বাড়ি থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার। বেশ কয়েক দিন আগ থেকে মুফাস্সিরে কুরআন মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর কথিত মামলার রায় হবার ঘোষণায় এলাকায় ব্যাপক গুঞ্জরণ চলছে। সেদিনের মিছিলের খবর পেয়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে শতশত লোক দলবেঁধে স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে কেউ রিক্সা, কেউ বাইসাইকেল, মোটর সাইকেলে আবার কেউবা নসিমনে করে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। তেমনি খবর পেয়ে শহীদ মশিউর রহমান বাইসাইকেলযোগে সকাল ৭টায় মিঠাপুকুর যান। সেখানে প্রায় ৫০ হাজার এলাকাবাসীর সাথে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।
সালাতুজ জোহরের প্রায় আধাঘন্টা পরে হাজার হাজার জনতার শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ মিছিলে পুলিশ-বিজিবি নির্বিচারে শত-শত রাউন্ড টিয়ার শেল ও গুলি বর্ষণ করতে থাকে। সাথে সরকারি দলের লোকেরাও উসকানি দিতে থাকে। ঘটনাস্থলেই ৫ জন শহীদ হয়, মশিউর রহমান তাদের একজন।
বেলা ২.৩০ মিনিটে গুলিবিদ্ধ হবার সাথে সাথে তিনি শাহাদাত বরণ করেন। এরপর তার লাশ তার সাথীরা পাশের একটি বাড়িতে নিয়ে যায়। দরিদ্র পিতামাতা সেদিন আলুখেতে কাজ করছিলেন, মা কিভাবে টের পেয়ে যান। অজ্ঞান হয়ে ক্ষেতেই লুটিয়ে পড়েন। ভ্যানে করে তাকে আনা হয় বাড়িতে; অপরদিকে মাগরিবের একটু আগে মশিউর এর লাশ বাড়িতে নিয়ে এলে তৈরি হয় এক হৃদয়বিদারক প্রেক্ষাপট অতঃপর নামাজের পর তার জানাজা শেষে পরিবারের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। একটি জাতীয় দৈনিক আমার দেশ ২ মার্চ, ২০১৩, লিখে। মিঠাপুকুর উপজেলা শিবিরের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমানের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে শোকের মাতম। তার মা বার বার বুক চাপড়িয়ে আর্তনাদ করতে করতে মূর্ছা যাচ্ছেন। কখনও কখনও জ্ঞানই ফিরছে না তার। এলাকাবাসী জানিয়েছেন, মশিউর ছিলেন ওই এলাকার মধ্যে সবচাইতে ভদ্র ও মেধাবী ছাত্র। মশিউরের বাবা আনোয়ার হোসেন জানান, তার ছেলের কোনো অন্যায় ছিল না। তারা আমার ছেলেকে গুলি করে হত্যা করেছে। আমি এর বিচার চাই।
৩. শাহাদাতের পূর্বের বিভিন্ন ঘটনা
শহীদ মশিউর শাহাদাতের আগে মাঝে-মাঝে বলতেন "আমি শহীদ হবো শহীদের মর্যাদা আল্লাহর কাছে অনেক বেশি। দাদীকে বলতেন "শহীদেরা মৃত্যুবরণ করে না, তারা জীবিত থাকে কিন্তু মানুষ তা বোঝে না।" শিক্ষককে বলতেন, 'ভয় করে লাভ নেই স্যার, দরকার হলে আমরা শহীদ হয়ে যাব।' তিনি যেন জেনে বুঝেই শাহাদাতের প্রস্তুতি নিচ্ছেলেন। মাকে বোঝাতেন 'যদি মরি আমাকে পিঁপড়াও খাবে না।'-পশু পাখি জানার আগে আপনি জানবেন, আম্মা। মা মোর্শেদা বেগম বলেন, আমি কখনও বাধা দেই নাই। আগের রাতে 'হৃদয়ের সব আবেগ উজাড় করে মশিউর জনম দুঃখিনী মায়ের কাছে বললেন, 'আম্মা আমার জন্য দোয়া করবেন, আর আমার জানের আপত্তি করবেন না'। ঘটনার দিন সকালে মনমরা আম্মার কাছ থেকে বিদায় নিলেন, 'মা আমি গেলাম'। আর মাটাও কেমন, গেরস্থ মুজিবুর তাকে বলেছিলেন,-বাধা দিলে না মায়ের উত্তর 'বাধা দিলেতো জিহাদ করতে পারবে না।' ৫-৬ দিন আগ হতে শহীদ মশিউর -'ইন্নাল্লাহা মা ছাবেরিন..' বারবার পড়তেন। যেন ঈমানের অগ্নিপরীক্ষা এলে সর্বোচ্চ ধৈর্য ধরতে পারেন, এই জন্যই কি?
মির্জাপুর উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক বলেন, ছেলেটি ৬ষ্ঠ থেকে এসএসসি পর্যন্ত আমাদের ছাত্র ছিল। আচার ব্যবহার কী বলবো ভাষা নেই। শাহাদাতের আগেরদিন একটি দোকানদারের পাওনা ৫০ টাকা খুব গুরুত্ব দিয়ে ফেরৎ দিয়েছেলেন।
সাইফুল ইসলাম, এলাকার ইউপি চেয়ারম্যান ক্যান্ডিডেট ছিলেন। তিনি কেঁদে কেঁদে বললেন, 'তার ১০/১১ বছরের ছেলেটি মশিউরের নাম শুনলেই হাউ মাউ করে কাদৈ সে প্রায়ই ওর সাথে দেখা করতো, কিশোরকণ্ঠ দিত। পিতামাতার চেয়েও মশিউরকে সে বেশি ভালবাসতো। আমরা এলাকার বিশাল কিছু হারালাম।'
শহীদ মশিউর রহমান অত্যন্ত সহজ-সরল জীবন যাপন করতেন। সংসারে সহযোগিতা করার জন্য তিনি মুরগি পালন করতেন। শাহাদাতের ৩/৪ দিন আগে ১ রিম কাগজ কিনে ছোট ভাইকে দিয়ে বলেছিলেন, তোমাকে মানুষ হতে হবে।' বৃদ্ধা দাদীর নামাজের পূর্বে তায়াম্মুম করানো এমনকি তার পায়খানা পরিস্কার পর্যন্ত করতো। তিনি এতটা আমানতদার ছিলেন যে, বাবা পাশের পুকুরে গোছল করতে গিয়ে একটি মাছ ধরে আনেন। বাড়ি এসে মশিউর আম্মাকে বলেন মাছ কোঠে পাইলো? সব জানার পর বলেন- 'এ মাছ খাইলে পায়খানা খাওয়া হইবে।' প্রায়ই বলতেন 'মা তোমার হাত-পা ধরি মা তুমি আমাকে বেহালাল খাবার খাওয়াবে না।' মা তাই আজ কেদে কেঁদে বলেন ছেলেটা আল্লাহর অলি আছিল। সারা বাংলাদেশ খুঁজে এমন ছেলে পাবে না।
শাহাদাতের দিন দিবাগত রাতে মা কেঁদে কেঁদে কখন ঘুমিয়ে পড়েছেন। শেষরাতে স্বপ্নে দেখছেন মশিউর এসেছে-আবেগ দিয়ে বলছে, আম্মা! আব্বা যেন নিয়মিত নামাজ পড়ে। দাদীকে তায়াম্মুম করে নামাজ পড়তে বলবেন। আর আপনি কানছেন ক্যানো? আপনাকে না বলেছিলাম 'আম্মা আমার জন্য দোয়া করবেন, আর আমার জানের আপত্তি করবেন না, আমি ভাল আছি।'বর্তমান বাড়ি-ঘরের অবস্থা: ১টি টিনের ঘর, ১টি রান্না ঘর, ১টি টিউবওয়েল, ১টি টয়লেট, ৮ শতাংশ ভিটা বাড়ি, অন্য কোন জমিজমা নাই। পরিবারের আয়ের উৎস ও পরিমাণ: বাবার দিনমজুরি।
৪. ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: শহীদ মোঃ মশিউর রহমান (০০৫)। মির্জাপুর ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণীর ছাত্র।
শাহাদাতের সময় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির-এর সাথী এবং মিঠাপুকুর--থানার সেক্রেটারি ছিলেন।
জন্ম তারিখ: ১৯৯৭ সালে, বয়স: ১৬ বছর।
আহত হওয়ার তারিখ: ২৮ ফেব্রুয়ারি-২০১৩। আহতের ধরন ও পরবর্তী অবস্থা: পিঠে গুলিবিদ্ধ হয়।
শাহাদাতের তারিখ: ২৮ ফেব্রুয়ারি-১৩, আনুমানিক বিকাল ৫টা।
জানাজায় ইমামতি করেন জনাব অধ্যক্ষ মাওলানা মিজানুর রহমান, উপস্থিত ছিলেন কয়েক হাজার মুসল্লি।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: ইসলামপুর, ডাকঘর: দেউলপাড়া। ইউনিয়ন: ১৬ নং বৈরাতী-উপজেলা: মিঠাপুকুর, জেলা: রংপুর।
পিতা: মোঃ আনোয়ার হোসেন- ৪২ বছর, দিনমজুর।
মাতা: মোর্শেদা বেগম-৩৫ গৃহিণী
ভাই-বোনের বিবরণ: শহীদ মোঃ মশিউর রহমান, মোঃ মুস্তাফিজুর রহমান, ৮ম শ্রেণি, মির্জাপুর উচ্চবিদ্যালয়।

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍